জোড়া পায়রাদের গল্প

ক্যাডেট কলেজের ছয়টি বছর (অত্যাবশ্যকীয়) এবং তারপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বছর (ঐচ্ছিক বলা যেতে পারে) এবং তারপর বেকার জীবনের বিগত একটি বছর (আমার ঠিক জানা নেই) সর্বমোট ১১টি বছরে এই অভাগার কপালে প্রেম জুটল না। “তবে চোখের দেখায় প্রেম হয়ে গেলে শ’খানেক প্রেম ইতমধ্যেই আমার হয়ে গিয়েছে” (কোন এক বাংলা নাটকের কোন এক পর্বে এই ডায়ালগটা শুনেছিলাম। উদ্ধৃতি না দিয়ে পারলাম না।)। অনেকেই নজর কেড়েছিল, অনেকেই ঘুমও হারাম করে দিয়েছিল কিন্তু বিধিবাম, ওই নজর কাড়া আর ঘুম হারাম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ঠিক শেষ রক্ষা হয় নি। যাই হোক দুঃখের কথা আরেকদিন। এখন লিখতে বসেছি আমার জ়োড়া পায়রা বন্ধুদের গল্প।

বিঃদ্রঃ লেখাতে অনেক বন্ধুর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হতে পারে। আশা করি তারা মনে কিছু নিবেন না। তবে এইটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তাদের কে নিয়ে মানহানিকর কিছু লেখা হবে না।

আমার বিমান বাহিনীর বন্ধু মাহমুদ (১৯২১ – মকক) চট্রগ্রামে কর্মরত। বেশ কয়েকদিন আগেই গিয়েছিলাম ঘুরতে। কথায় কথায় উঠে এল তার প্রেমিকার কথা। থাকে খুলনা। এত দূরে থেকেও তাদের বন্ধন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার মধ্যে একটি বিষয় আমার বেশ মজা লেগেছিল। মাঝে মাঝেই মাহমুদের ফ্লাইং রুট খুলনার উপরে থাকে। সময় মত ফ্লাই করার ঠিক আগ মূহুর্তে প্রেমিকার কাছে একটি ছোট এস,এম,এস চলে যায় “After 45 minutes”। প্রেমিকাটিও ঠিক ৪৫ মিনিট পরেই বিমানের গর্জন শুনতে পায় এবং আকাশের পানে তাকিয়ে উড়তে থাকা AN-32 বিমানটির দিকে তাকিয়ে ভাবে ওটাতেই আছে মাহমুদ। একেবারে ভিন্নধর্মী রোমান্স – অবাক ভালোবাসা। :hatsoff:

আরেক বন্ধু অমিত (১৯১৬ – মকক) প্রেমিকার সাথে মুঠোফোনে রীতিমত শার্দুল সিং। ফোনে এই গর্জে উঠছে এই চোখ রগরাচ্ছে। একটি জায়গায় এই শার্দুল সিং তার ছোটভাই বেড়ালে রূপান্তরীত হয়। প্রেমিকার সামনে ‘সিগারেট’ নামটির উচ্চারনই যথেষ্ট। বেশি কিছু না। কথা বন্ধ, ঝগড়া, মুখ দেখা বন্ধ এবং আরো অনেক কিছু। যথারীতি মুঠোফোনে বেশ ভাব গাম্ভীর্য ধরে ফোন রেখে দেবার কিছুক্ষণ পরেই আবার প্রেমিকার ফোন। শার্দুল সিং তখন শুনি এবং দেখি কারণ ছাড়াই মিঁয়াও মিঁয়াও করে। চোখের পলকে এরকম পরিবর্তন দেখে হেসেই ফেললাম।

শাকেরীন (১৯৪৮ – মকক) + মাশা – এই শক্তপোক্ত প্রেম কাহিনী এই ব্লগের অনেকেই হয়ত জানেন। বিবাহের আগেই তাদের ভালোবাসার এই অমর গাঁথা এক ডজন বছর পার করে এসেছে। ক্যাডেট কলেজ জীবন শুরু করবার কিছু আগে (যদি ভুল না করে থাকি। তবে ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন) থেকেই তাদের ক্যারিয়ার শুরু যা আজ অব্দি অম্লান। তাদের ভালোবাসার পাগলামির (এবং ক্ষেত্র বিশেষে ছাগলামির) বর্ণনা দিতে শুরু করলে আমি ঘুমিয়ে যাব এবং ব্লগ লিখতে থাকার সময় ঘুমিয়ে পরার অপরাধে আজীবন :frontroll: ইস্যু হয়ে যাবে আমার নামে। তাই আসুন সবাই মিলে তাদের দুজনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি।

বলা হয়েছে জ্ঞ্যান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশে ভ্রমন কর আর আমার বন্ধু মারুফ (১৯৫৯ – মকক) প্রেমিকার দেখা মিলবার আশায় অতটা সুদূর না হলেও ঢাকা হতে দিনাজপুর ভ্রমন করেছিল বেশ কয়েক মাস আগে। (কাহিনী একটু পরিবর্তিত)। আর তার সাথে সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলাম আমি, মঞ্জুর (১৯৩১), অমিত (১৯১৬)। আমি কিন্তু তাকে কটাক্ষ করছি না। তার এই প্রেমের টানেই আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল রংপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত (ফাহিম – ১৯৫৮) এবং আশরাফুল (১৯১৭) এর আতিথেয়তা গ্রহণ করবার এবং চমৎকার একটু ভ্রমনের অভিজ্ঞতা অর্জন করবার। ধন্যবাদ মারুফকে। :thumbup:

জোড়া পায়রা ব্যাচে আরো আছে কোন সন্দেহ নাই। কিছু জোড়া ইতমধ্যে ফেভিকল দিয়ে মজবুতও করে নিয়েছে তাদের বন্ধন। কিন্তু সব জোড়াদের চোখ ছানাবড়া করা কাহিনী আপাদত মাথায় আসছে না। ভবিষ্যতে মনে আসলে আবার লিখে ফেলব। :-B

২,১৫৬ বার দেখা হয়েছে

২৮ টি মন্তব্য : “জোড়া পায়রাদের গল্প”

    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      মাহমুদ ভাই আপাদত বেকার। ব্র্যাক থেকে ল' তে গ্র্যাজুয়েশান শেষ করলাম গত বছর জুনে। তারপর গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সনদ পরীক্ষা দিলাম আপাদত রেজাল্টের জন্য বসে আছি।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  1. 😀 😀 😀 অনেক তো পীরিত হইলো......এইবার জোড়া পায়রাদের বিয়া কইরা ফালাইতে কন,টাইম মাত্র ৩ সেকেন্ড 😀 😀 😀
    অটঃ আদনান হোসেন ভাইয়ের বিয়ার পরে আর বিবাহ খাওয়া হয় নাই,ক্যাডেট জাতি তাই অভুক্ত :(( :((

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      পাইলট আমার কাহিনী বলা শুরু করলে সি, সি, বি থেইকা অবিলম্বে আমারে বহিস্কার করা হবে অপ্রীতিকর, অশালীন, অশ্লীল ব্লগ লেখার জন্য... ;;;


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

        আরে না,কেউ কিছু কইলে সাথে সাথে মাস্ফ্যু ভাইর শেল্টার নিমু!
        আর মাস্ফ্যু ভাই,আপনি একদিন কইছিলেন যে ফাক আপ মাইরা আপনার কাছে আসলে আপনি দেইখা নিবেন কেডা কি কয়?(ওই কেডার মধ্যে কিন্তু সিনিয়ররা পড়ে না)...মনে আছে তো?
        তাহলে মেকু,তুমি তোমার ভান্ডার খুইলা কাহিনী বলা শুরু কর

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।