ডায়েরীর পাতা থেকে উদ্ধার করা জঞ্জাল – ৯

২৩ জানুয়ারী ২০০৪, শুক্রবার, রাত ১১:১৫
ইদানিং মাঝে মাঝেই ‘স্মৃতি ভারাক্রান্ত’ হয়ে যাই আগের চেয়ে। কারণটা নিতান্তই পরিস্কার। কলেজে আছি আর মোটে ৩ মাস বা তার কিছু বেশী। বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায় মনের অজান্তেই বিগত ৬ বছরের স্মৃতি মনে করার ব্যর্থ চেষ্টায় নিবিষ্ট থাকি। অথচ সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ঘন্টা বাজাচ্ছে। ক্লাস সেভেন, এইট, নাইন, টেন, ইলেভেন এবং শেষে টুয়েলভ। অনেক কিছুই মনে করে হেসে উঠছি কিন্তু শেষে এসে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। চলে যাব!? এই কষ্ট রাখব কোথায়?! কলেজের অথরিটি হয়ত অনেক বিরক্তিকর কিন্তু যেসব মানুষ বিগত ছয় বছর বড় করে তুলেছে আমাদের – হাউস বেয়ারার, ডাইনিং হল বেয়ারার, খেলার মাঠের কর্মচারী – এদের ফেলে চলে যাওয়াটা অতটা সহজ হবার কথা নয়। বলা বাহুল্য আর বাকি ২৫০টি ক্যাডেট, তাদেরই বা ছেড়ে যাব সেটা চিন্তা করতেই ইচ্ছা করছে না। আর যে ৫০টি প্রাণ একসাথে দিন শুরু করেছিল তাদের সাথে আর রাত জেগে আড্ডা, পিটির সময় আড্ডা, ডাইনিং হলে আড্ডা, ক্লাসে বসে আড্ডা, প্রেপ টাইমে আড্ডা, গেমস টাইমে আড্ডা, ৬টা বছর তো মনে হচ্ছে আড্ডা মেরেই গেল, তাদের ছেড়ে???!!! নাহ নিজেই নিজের মনটা খারাপ করলাম এসব চিন্তা করে। আর লিখব না।

০৩ মার্চ ২০০৪, বুধবার
বিকালের গেমসে টাইমের গল্প
মার্চ অফ হবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই। চিরাচরিত সি.এইচ.এম সজল স্টাফ নাই আজকে। সেকেন্ড সিনিয়র রউফ স্টাফ ভারপ্রাপ্ত সি.এইচ.এম। মার্চ অফ করার আগে কারণ ছাড়াই (ঊনাদের কখনোও কোন কারণ দরকার ছিল কিনা সেটাও ভেবে দেখবার বিষয়) বক্‌বক্‌ শুরু করলেন।

রউফ স্টাফ, “যার যার নাম বলা হবে তারা সেইসব গেমসে চলে যাবে। ক্লাস এইট…ক্যাডেট আশরাফ, ক্যাডেট মুস্তাফিজ, ক্যাডেট……অনেক্ষণ পরে ভলিবল। ক্লাস নাইন…ক্যাডেট ইকরাম, ক্যাডেট…”
বিরক্ত ধরে যাচ্ছে সবার। ৩০০ ক্যাডেটের নাম কি বলে শেষ করে চাচ্ছে নাকি। ক্লাস টেন এর মাঝামাঝি পর্যায়ে রউফ স্টাফ। বিশাল লিস্ট ধরে পড়তে পড়তে হঠাত সামনে তাকিয়ে দেখে সামনে বলতে গেলে কেউ নাই। যে যার মত গেমসে চলে গিয়েছে। জুনিয়ার গুলোও সিনিয়ারের পেছনে পেছনে। রউফ স্টাফের চিৎকার এবং হুইসেল…”এই দাড়াও, এখনো বাকি আছে…আমার শেষ হয় নাই…দাড়াও…” কে শোনে কার কথা…

আর কিছু কি আছে আজকের দিনের লেখবার মত। মনে হয় না। আজকে রেখে দেয়া যাক…

১,০২৩ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “ডায়েরীর পাতা থেকে উদ্ধার করা জঞ্জাল – ৯”

  1. জিনাত (২০০২-২০০৮)

    লেখার প্রথম অংশটা পড়ে কলেজের লাস্ট দিনগুলোর কথা মনে পড়লো ভাইয়া ।তবে কলেজে থাকতে যতটা না কলেজ থেকে বের হওয়ার পর আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি কি হারিয়েছি

    জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    হ্যা আপু। এটা মোটামুটি সবার ক্ষেত্রেই হয়। বের হবার পর বোঝা যায় কি ছেড়ে আসলাম।


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  3. Nasim (03-09)

    "বিশাল লিস্ট ধরে পড়তে পড়তে হঠাত সামনে তাকিয়ে দেখে সামনে বলতে গেলে কেউ নাই। যে যার মত গেমসে চলে গিয়েছে। জুনিয়ার গুলোও সিনিয়ারের পেছনে পেছনে। রউফ স্টাফের চিৎকার এবং হুইসেল…”এই দাড়াও, এখনো বাকি আছে…আমার শেষ হয় নাই…দাড়াও…” কে শোনে কার কথা…" 😛 😛

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।