শুভ জন্মদিন লাবলু ভাই

আমার যখন জন্মই হয়নি তার আগেই ভাইয়া ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়া শেষ করে বেরিয়ে গেছেন। শুধু আমার নয়, এই ব্লগের প্রায় সবার চেয়ে তিনি এরকমই বড়। কিন্তু তাতে কি ! আমাদের সাথে তার বন্ধুত্ব হতে একটুও দেরি হয়নি। ক্যাডেট কলেজে পড়ার এই এক মজা। নিজের ক্লাসমেটরা তো অবশ্যই , বড় ভাই, ছোটো ভাইরাও কেমন নিমেষে আপন হয়ে যান। সে যে কোন কলেজের , যে কোন ব্যাচেরই হোক না কেন।
লাবলু ভাইকে আমি প্রথম দেখি প্রথম-আলো অফিসে। তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। ক্লাস ভালো লাগে না। টিএসসি আর কলাভবনে আড্ডা দিয়ে সময় পার করি। আর একটু বেশি আড্ডা দিতে মন চাইলে চলে যাই কারওয়ানবাজার প্রথম-আলো অফিসে মোস্তফা মামুন ভাইয়ের কাছে। মামুন ভাই তখন প্রথম-আলোর স্পোর্টস রিপোর্টার। মামুন ভাইয়ের প্যাকেট থেকে সিগারেট আর নিচের চায়ের দোকানের চা খেতে খেতে আড্ডা দেই সময় ভুলে।
এমনই একদিন প্রথম আলো অফিসে কোনায় রিসিপসন রুমে বসে মামুন ভাইয়ের সাথে আড্ডা মারছি , করিডোর দিয়ে একজন বেশ গুরুগম্ভীর চেহারার ভদ্রলোক হেঁটে গেলেন। মামুন ভাই দেখিয়ে বললেন, উনাকে চিনো নাকি? এক নজর দেখার আগেই ভদ্রলোক ভিতরে চলে গেলেন। আমি মাথা নাড়লাম। মামুন ভাই বললেন, ‘সানাউল্লাহ লাবলু , লাবলু ভাই, এক্স-ফৌজিয়ান। আমাদের বার্তা সম্পাদক।’

ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়েছি তখনো বেশি দিন হয় নি। কোথাও এক্স-ক্যাডেট কোন বড় ভাই দেখলে আগে তার দিকে মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকি। ভাবি, ইনিও এক সময় আমার মতো ছিলেন। আমার মতোন ইনিও হাফপ্যান্ট পড়ে ভোর বেলায় দৌড়াতেন, পিটি-প্যারেড করতেন, কলেজের গাছের ডাব চুরি করতেন আর কলেজ পালিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন !! বেশ মজা লাগে ভাবতে। সত্যি বলতে কি, লাবলু ভাইকে প্রথম দেখে এই রকম ভাবতে গিয়ে আরো বেশি মজা লাগছিলো। এই রকম ভাব-গম্ভীর একজন মানুষের জীবনেও যে আমাদের মতো কিছু মজার গল্প আছে তা ঠিক বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিলো না।

তার অনেকদিন পরের কথা। সিসিবিতে টুকটাক লেখা শুরু করেছি। অনেকের সাথে টুকটাক আলাপও হয়েছে। এমন সময় জিহাদ অন্য ব্লগ থেকে এক ভাইয়াকে একদিন ধরে নিয়ে এলো। ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯ নাম নিয়ে উনি ধুমাধুম বেশ কিছু চমৎকার লেখা দিয়ে ফেললেন। গল্পও সব কলেজের তাই শুরুতেই মজা পেয়ে গেলাম। আমি পড়ি আর ভাবি ইস, এই ইউনিক ক্যাডেট নাম্বারটা কার ! বেশি দিন লাগলো না। প্রোফাইলে গিয়ে দেখি নাম লেখা সানাউল্লাহ। ফৌজদারহাট, (৭৪-৮০)। খাইছে এতো দেখি বিরাট সিনিয়র।তারপর ঝট করে মনে পড়লো আচ্ছা এই সানাউল্লাহ ভাই কি সেই সানাউল্লাহ লাবলু ভাই? কয়েক বছর আগে যাকে আমি প্রথম আলো অফিসে একনজর দেখেছিলাম। ধারনা সত্যি হলো। আমার কেনো জানি মন্তব্য করতেই ভয় ভয় লাগতে লাগলো।

কিন্তু আস্তে আস্তে সেই ভয় কেটে গেলো যখন জানলাম যতোই সিনিয়র হোন, আমাদের মতোই কলেজে তার সময় কেঁটেছে হাউজের পাশের পাহাড় চূড়ায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে, কলেজের চাপাতি নামক রুটিতে তারও আমাদের মতোই বিতৃষ্ণা ছিলো। গভীর রাতেও তারাও আমাদের মতোই খেজুরের রস চুরি করে অ্যাডভেঞ্চার করতেন। ক্যাম্পাসে কোন এক স্যারের মেয়ে যখন সাইকেল চালিয়ে বেড়াতেন তখন প্যাডেলে এক একটা চাপ দেয়ার সাথে সাথে তার হৃদয়ও আমাদের মতোই গুড়িয়ে খান খান হয়ে যেতো। মুগ্ধ হলাম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাদের সাহসিকতার গল্প শুনে। শ্রদ্ধায় মাথা নত হলো। গর্বে বুক ফুলে উঠলো। আর সবচেয়ে বড় কথা বরফ গলে গেলো। বাইরে তিনি যতোই রাশভারী, বড় সাংবাদিক, রেডিও স্টেশনের প্রধান হন, এখানে আমাদের কাছে হয়ে গেলেন শুধুই লাবলু ভাই।

হুটহাট তাই এখন তার কাছে যে কোন আবদার করে ফেলা যায়। ধুমধাম বলে দেয়া যায় ‘ভাইয়া, সবাই একসাথে আড্ডা দিচ্ছি , আসতে হবে।’ ভাইয়াও চলে আসেন বেকারের দামী কেক নিয়ে। বয়স ভুলে জমিয়ে আড্ডা দেন। আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনি আর ভাবি এই নাহলে ক্যাডেট কলেজের বড় ভাই ! ক্যাডেট কলেজে পড়ার জন্য গর্বে আবারো বুক ফুলে যায়।

আজ আমাদের সবার প্রিয় সেই লাবলু ভাইয়ের জন্মদিন।
সিসিবির সবার পক্ষ থেকে লাবলু ভাইয়ের জন্য তাই অনেক অনেক শুভ কামনা।

আরো অনেক অনেকদিন বেঁচে থাকুন ভাইয়া। আপনার কাজ হউক আমাদের জন্য অনুপ্রেরনা।
আর আমাদের জন্য শুভকামনা দিন যেনো সবাই আপনার মতো হতে পারি।

হেপি বার্থ ডে টু লাবলু ভাই।

৪,২৭৬ বার দেখা হয়েছে

৫১ টি মন্তব্য : “শুভ জন্মদিন লাবলু ভাই”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    একজন এত বড় মাপের মানুষ হয়েও সানা ভাই আমাদের মত চুনোপুটিদের সাথে যেভাবে মেশেন-বাইরের কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবেনা।বাইরে অসম্ভব রাশভারী হিসেবে খ্যাত ও ভয় উদ্রেগকারী এই মানুষটি আমাদের এত কাছের মানুষ-ভাবতেই অবাক লাগে।

    আমার ছেলেমেয়ে যখন ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে বের হবে,তখন তাদেরকে নিয়ে হয়ে সিসিবি আড্ডায় তাদের সানা চাচ্চুর গল্প শুনব-এই প্রত্যাশায়-
    শুভ জন্মদিন সানাউল্লাহ ভাই!

    জবাব দিন
  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    এইডা কি? আমারে তো লজ্জায় ফালাইয়া দিলা? জন্মদিন এইভাবে কেউ চাউর করে? কেক খাইতে চাও খাওয়ামু। তাই বইলা এইভাবে? ইলেকশনের পর চইলা আইসো। ~x( ~x( ~x(


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  3. তৌফিক (৯৬-০২)

    লাভলু ভাই, নাকি লাবলু ভাই?? 😕

    ভ বা ব, যাই হোন না কেন সশস্ত্র সালাম :salute: সহ জন্মদিনের শুভেচ্ছা গ্রহন করেন। :party:

    আমার কেকটা যেহেতু খাইতে আসতে পারপো না, ম্যাস্ফুকে দিয়ে দিয়েন আমার ভাগটা। বেচারা খেতে ভালোবাসে। 🙂

    জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    সেদিনের গেট-টু-গ্যাদারে সানা ভাই রুমে ঢোকার আগ পর্যন্ত খুব টেনশনে ছিলাম...এত সিনিয়র ভাই...কি জানি কি হয়... :-B
    রুমে হাসি মুখে ঢুক্তে দেখেই সকল টেনশনের ভিত নড়ে গেল...আর যখন আলাপ শুরু হল...তখন তো সব অনিশ্চয়তা লজ্জা পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালালো... 😀

    মাসরুফের মতন 'বেলজ্জাহীনভাবে' বলব না আমার ছেলে মেয়ে যখন... 🙁
    তবে এটুকু বলব, আমাদের এই 'পারিবারিক বন্ধন' যেন অটুট থাকে আগামী অনেক অনেক বছর পর্যন্ত... :thumbup:

    সানাউল্লাহ্‌ ভাই, শুভ জন্মদিন!!! :party:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  5. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ক্যাডেট কলেজের বড়ভাই বলেই হয়তো রাশভারী সানাউল্লাহ ভাই আমাদের সবার প্রিয় লাবলু ভাই হয়ে আমাদেরই মতো শিশুতোষ মজায় দুষ্টুমীতে মেতে উঠেন একসাথে, কিংবা অবলীলায় আমাদের পিরা ভাষায় কথা বলে যান 🙂

    সানাউল্লাহ ভাইকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ইলেকশনের পর আসতেছি বস্ এক্কেবারে সিউর।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  6. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমি প্রথম লাবলু ভাইকে দেখি সিসিবির ১ম জন্মদিনের আড্ডায়। আমি ওনাকে দেখেই বলি আরে আমি তো ইনাকে আগে দেখছি। কোথায় দেখছি তা আজও মনে করতে পারি নাই।
    ভাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্মদিনে। ভাই আমিও কেক খেতে চাই।

    জবাব দিন
  7. রকিব (০১-০৭)

    সানাউল্লাহ ভাইয়ের জন্মদিন,
    শুভেচ্ছা-সালাম নিন। :party: :party: :party:

    (আসলে নির্বাচনের প্রভাবমুক্ত হইতে পারি নাই এখনো)


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
    • তৌফিক (৯৬-০২)

      ফয়েজ ভাই, সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর কোন বইয়ে জানি বলছিলেন, জন্মদিনে উৎসব করার কোন কারণ নাই। বাকিটা বুইঝা লন।

      তবে, আমাদের বদ্দা লাবলু ভাই অবশ্যই অনেকদিন বাঁচবেন। কিবোর্ডের প্রয়োজন তখন ফুরাবে। ভয়েজ রিকগনিশন সিস্টেম দিয়া ব্লগিং করবেন। বিজয় আর অভ্রের ঝামেলা থাকবে না।

      জবাব দিন
  8. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    কামরুল তোর এই অংশের বর্ণনা দুর্দান্ত হয়েছে

    কিন্তু আস্তে আস্তে সেই ভয় কেটে গেলো যখন জানলাম যতোই সিনিয়র হোন, আমাদের মতোই কলেজে তার সময় কেঁটেছে হাউজের পাশের পাহাড় চূড়ায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে, কলেজের চাপাতি নামক রুটিতে তারও আমাদের মতোই বিতৃষ্ণা ছিলো। গভীর রাতেও তারাও আমাদের মতোই খেজুরের রস চুরি করে অ্যাডভেঞ্চার করতেন। ক্যাম্পাসে কোন এক স্যারের মেয়ে যখন সাইকেল চালিয়ে বেড়াতেন তখন প্যাডেলে এক একটা চাপ দেয়ার সাথে সাথে তার হৃদয়ও আমাদের মতোই গুড়িয়ে খান খান হয়ে যেতো। মুগ্ধ হলাম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাদের সাহসিকতার গল্প শুনে। শ্রদ্ধায় মাথা নত হলো। গর্বে বুক ফুলে উঠলো। আর সবচেয়ে বড় কথা বরফ গলে গেলো। বাইরে তিনি যতোই রাশভারী, বড় সাংবাদিক, রেডিও স্টেশনের প্রধান হন, এখানে আমাদের কাছে হয়ে গেলেন শুধুই লাবলু ভাই।


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  9. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের মাঝে সেদিন যেমন করে আপনি আড্ডা দিলেন আপনার প্রতিষ্ঠানের যে কোন কথাব্ন্ধু নির্ঘাত টাসকি খেত।
    এমন গুরুগম্ভীর মানুষ এমন ছেলেমানুষের মত কেমন করে হয়ে যায়? কি তার গল্প চয়ন, কি তার বাকশৈলী কিঙবা মন্তব্যেই কি তার দ্যুতি.....

    এমন দ্যুতি ছড়াতে থাকুন চিরদিন
    শুভ জন্মদিন লাবলু ভাই :guitar:


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  10. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    শুভ জন্মদিন লাবলু ভাই :salute: :salute: :salute:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  11. আমি সেদিন খুব ভয়ে ছিলাম, কামরুল ভাই আর কাইউম ভাই খুব ভয় দেখাচ্ছিল, বিশাল রাশভারী একজন মানুষ, গম্ভীর, খুব বেশি কথা বলেন না, যার সামনে অনেক বাঘা লোক ও কেঁচো হয়ে যায়।
    সেদিন কামরুল ভাইয়ের বাসার রাস্তা খুব খারাপ থাকায় সবাই আরো চিন্তায় পড়ে গেল, লাবলু ভাই এরকম রাস্তা দিয়ে আসতে চাইবেন কিনা এই কথাও যেন কার মুখে শুনছিলাম।

    এই রাশভারী মানুষটা এসেই কিছুক্ষণের মাঝেই সবাইকে আপন করে নিলেন। আড্ডায় মিশে গেলেন আমাদের সবার সাথে। এর চেয়ে অনেক সুন্দর করে কামরুল ভাই লেইখা ফেলছে।

    লাবলু ভাই, হেপি বাড্ডে। খেখ দিয়া খুক্ষাপো


    জবাব দিন
  12. আহ্সান (৮৮-৯৪)
    বাইরে তিনি যতোই রাশভারী, বড় সাংবাদিক, রেডিও স্টেশনের প্রধান হন, এখানে আমাদের কাছে হয়ে গেলেন শুধুই লাবলু ভাই।

    সানাউল্লাহ ভাই,
    ঠিক বোঝাতে পারবোনা আপনি আমাদের কতখানি...


    শুভ জন্মদিন ভাইয়া।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।