বিসিবি, তুমি শুনতে পাচ্ছো কি??!

১।

সবাই যখন টেস্ট খেলছে আমরা এখনও বসে
ক্রিকেটাররা আছে নেট প্র্যাকটিসে, বিসিবি আঙ্গুল চোষে!

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ছাড়া এই মুহূর্তে বাকি সব ক’টি টেস্ট-খেলা দেশ ক্রিকেটের আসল ফরম্যাট অর্থাৎ টেস্ট খেলা নিয়ে ব্যস্ত। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান, ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও বেশিদিন বসে থাকবে না, আগামী মাসে তাদের কিউদের বিরুদ্ধে খেলার সূচী রয়েছে। অথচ আমরা সেই হাজার বছর আগে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট খেলার পর থেকে টেস্ট খেলা থেকে দূরে রয়েছি।

এফটিপি অনুযায়ী আগস্ট মাসে ভারতের সাথে একটি টেস্ট খেলার কথা ছিল। তবে, সেটা অনেকটা মরীচিকার মতন সময়ের সাথে সাথে একই দূরত্বে অবস্থান করছে। অক্টোবরে ইংল্যান্ডে আগমনও নিরাপত্তাজনিত কারণে হুমকির মুখে। ফলে, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেও টেস্ট খেলার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অথচ, টি-২০ বিশ্বকাপের পর প্রায় সব ক’টি দেশই দু’টি করে সিরিজ খেলেছে/খেলার পথে রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে দোষ কার? আইসিসি’র? বিসিবি’র? নাকি মোড়ল দেশগুলোর? আমাদের বর্তমান নিরাপত্তা সংকট?

উত্তর হচ্ছে উপরের সব ক’টি।
তবে, বাকি কারণগুলোর উপর আমাদের তেমন প্রভাব না থাকায় ঘুরে-ফিরে সব দোষ নির্দ্বিধায় বিসিবি’কেই দেয়া যায়। খেলোয়াড়গণ যে দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেটের মধ্যে নেই- এটা নিয়ে তাদের মধ্যে কোন ভাবান্তরই দেখা যাচ্ছে না। টেস্ট তো দূরের কথা আমাদের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট কবে হবে সেটাও কেউ জানে না। আমরা যদি টেস্ট খেলার সুযোগ পেতামও ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাসের দৈন্যদশার কারণে পারফরমেন্স কেমন হত- তা সহজেই অনুমেয়!

বর্তমান এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান) প্রতিটি বোর্ডের শক্তিমত্তা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার উপর বেশি নির্ভরশীল। আমাদের বোর্ড আছে শুধুমাত্র নিজেদের আখের গোছানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রদর্শনে ব্যস্ত। ক্রিকেট নিয়ে অতটা ভাববার সময় কোথায়? পেঁয়াজের খোসার মতন দেশীয় ক্রিকেট বিভিন্ন স্তর তৈরি এবং উল্টো-পাল্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তারা বরং বেশি উৎসাহী! এভাবে ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন কীভাবে হবে?

২।
সময় হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও ‘স্টিক এন্ড ক্যারোট’ অর্থাৎ কাজের অগ্রগতির উপর নির্ভর করে পুরস্কার বা তিরস্কার প্রদান করার। প্রস্তাব করছি বোর্ডের যারা সিরিজ/টুর্নামেন্টের দায়িত্বে আছে, তাদেরকে কমিশন ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হোক। অর্থাৎ, আমরা একাধিক এজেন্ট/লবি নিয়োগ করবো যারা অন্য দেশকে কনভিন্স করে সিরিজ/টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করতে পারবে- সে লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট শতকরা অংশ পাবে। টাকা তো ওরা এমনিতেও খাবে…এখন থেকে না হয় হালাল করেই খেল!!

শাস্তির ব্যাপারটিও সেরকম হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন সিরিজ/টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করতে না পারলে সেই এজেন্ট/লবি শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ ব্যাপারে চীনের একটি কোম্পানির উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। সম্প্রতি কোম্পানিটির যেসব সেলস কর্মী টার্গেট পূরণ করতে না পারে নি তাদেরকে প্রচণ্ড তিতা করলা খেতে বাধ্য করেছে! (ছবি দ্রষ্টব্য!) বলছি না যে আমাদের দেশেও ‘করলা সিস্টেম’ চালু করতে হবে। তবে কিছুটা জবাবদিহিতা তো চালু করাই উচিত, তাই না?
Capture

৩।

এর বাইরে আরও একটি কাজ করা যায়। আমাদের টেস্ট স্ট্যাটাসটি অন্য কোন দেশকে আমরা ভাড়াও দিতে পারি। প্রতি সিরিজের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাড়া নিয়ে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তানের মত দেশকে ভাড়া দিতে পারলে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও হয়ত কামিয়ে নিতে পারব। সবচেয়ে বড় কথা, এতে করে স্ট্যাটাসটা কারও না কারও তো কাজে লাগল!
Untitled

এভাবে দিনের পর দিন আমাদের স্ট্যাটাস পড়ে থাকলে তাতে এতটাই ধুলো জমে যাবে দেখা যাবে সেটা পরিষ্কার করার জন্য বিসিবি’র লোক নিয়োগ করতে হচ্ছে।

আচ্ছা! এটা বিসিবি’র ইচ্ছাকৃত কোন চাল নয় তো?
জনৈক ছোট ছোট হাতের বিশাল ক্ষমতাবান কর্মকর্তার জন্য আরেকটি পদ বাড়াবার ধান্ধা নয় তো??

কে জানে?

৫ টি মন্তব্য : “বিসিবি, তুমি শুনতে পাচ্ছো কি??!”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ক্রিকেট সহ সব খেলাধূলার পিছনেই রাজনীতি জড়িত।
    যেহেতু টেষ্ট স্ট্যাটাস আমাদের কোন কাজেই আসছে না সেহেতু আমাদের উচিত স্ট্যাটাস ছাড়া দেশগুলার সাথে ক্রিকেট খেলা। ওদের আমাদের দেশে নিয়ে আসা, ওদের দেশে খেলতে যাওয়া।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  2. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    উপভোগ্য রম্য রচনা।
    ক্রিকেটে উন্নতি করতে হলে টেস্ট খেলার বিকল্প নেই। যে করেই হোক, এর ব্যাবস্থা করতেই হবে। বড় কোন দলের সাথে না হলেও, ছোট দলগুলোর সাথেই।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।