বিশ্বকাপ…প্রেডিকশন…পল…আমার বিড়াল!!

এবারের বিশ্বকাপে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা, বিতর্ক ছাপিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে সাইকিক অক্টোপাস পলের কেরামতি। একের পর এক নির্ভুল ভবিষ্যতবাণী করে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হালের বিখ্যাত জ্যোতিষীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে সে।

পলের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত বা অনুপ্রাণিত যাই বলুন না কেন, আমিও আমার বিড়াল কিটি’র উপর হালকার উপর ঝাপসা দিয়ে এক পরীক্ষা চালিয়েছিলাম। যখনকার কথা বলছি তখন ছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড। কিটির সামনে উরুগুয়ে এবং ঘানা’র পতাকার উপর ওর প্রিয় খাবার দুধ রেখে দিলাম। একই রকমের বাটি হবার কারনে বাটি-প্রীতি জনিত পরীক্ষা ত্রুটি হবার কোন সম্ভাবনা ছিল না।

সবই ঠিক ছিল, কিন্তু ঐ যে কথায় বলে না ‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি…’ ইয়ে, উপমাটা মনে হয় ঠিক হল না। কি যে এক সমস্যা হয়েছে, অনেক দিন বাংলায় লেখালেখি না করার কারনে আজকাল ঠিকমতন উপমাও দিতে পারি না…অথচ একটা সময় ছিল, যখন…

এই যা, মূল আলোচনা থেকে আজাইরা টপিকে চলে গিয়েছিলাম।

যা বলছিলাম, বিড়ালের আবার ভব্যতা জ্ঞান কি? কিটি করল কি, কোন বাটির দুধ তো খেলই না উলটো আগের বেলার কিছু খাবার শরীর থেকে বের করে দিল! তাও একেবারে উরুগুয়ের পতাকার সামনে। আমি রেগে উঠতে গিয়ে হঠাৎ করে হেসে ফেললাম। ব্যাটা কি করে বুঝলো ওটা উরুগুয়ে’র পতাকা??? তাহলে কি নামকরণের স্বার্থকতা প্রমান করার জন্যই ও…!!!

কথায় আছে ‘পরাজয়ে ডরে না বীর’। আমার নামের মধ্যে শুধু বীর না, কবীর আছে…তো আমিও ডরালাম না…এবার আর্জেন্টিনা এবং জার্মানীর পতাকা দিয়ে আবার পরীক্ষা চালালাম…কিন্তু ফলাফল আসলো একই। এবার ব্যাটা অনেক সময় নিয়ে কসরত করে জার্মানীর পতাকার সামনে টুক করে হাগু করে দিল…রাগে দুঃখে অপমানে শোকে ক্ষোভে হতাশায় আমি আরেকটু হলেই থাবড়া মেরে ওর কান ফাটিয়ে দিচ্ছিলাম। অবশ্য এমন কিছু করলাম না… যাই হোক, শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে আমি আমার গবেষণাকর্ম ত্যাগ করলাম।

ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা শেষ হয়ে গেল। চরম নাটকীয় খেলা শেষে উরুগুয়ে ঘানাকে টাই-ব্রেকারে হারিয়ে সেমিতে চলে গেল। আর জার্মানী হেসেখেলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে উঠে গেল শেষ চার এ।

বিদ্যুৎ চমকের মতন আমার মাথায় জটিল এক চিন্তা খেলে গেল। তাহলে কি কিটি’র ইয়ের মধ্যেই সব জাদু? জলবাবা পল থেকে হাগু বাবা কিটি??? অসম্ভব কি!

ঘটনার সম্ভাব্যতা প্রমানের জন্য সেমি’র দুই খেলা নিয়ে কিটি’র উপর আবার পরীক্ষা চালালাম। এবার ফলাফল এল নেদারল্যান্ড এবং স্পেন। ফলাফল দেখেই নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন ওর পারফরমেন্স এর কথা!

আজকে ১১ তারিখের ফাইনাল নিয়ে আবার ওর উপর পরীক্ষা চালালাম। কিন্তু বিধি বাম! কিটি অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও কোন ফলাফল দিতে পারল না। এর দুটো কারন হতে পারে-এক, বিড়ালের বাচ্চার ভাব বাড়ছে অথবা দুই, ওর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে…!!!
এখনো সামনে দুটো দিন আছে। এর মধ্যে ও নিশ্চয়ই অন্ততঃ একবার হলেও ইয়ে করবে। আমার নিজের জন্যও ফলাফল জানা অনেক জরুরী। ‘ক্যাস্ট্রল ওয়ার্ল্ড কাপ প্রেডিকশন’ এ আমার অবস্থান ভালো করার এটাই শেষ সুযোগ। কোন মতে যদি দশের মধ্যে আসতে পারি…

ইশ! আরো আগে থেকেই যদি আমি হাগুবাবা বিড়ালের কেরামতি বুঝতে পারতাম! তাহলে মাদ্রিদে গিয়ে বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়া সহ রিয়ালের ম্যাচ বার্নব্যুতে বসে দেখতে পারতাম…ইশ!!!

ভাল কথা, আমি কোন প্রকার ভিডিও বা ছবি তুলিনি। সুতরাং কেউ প্লিজ তাগাদা দিয়ে কোন কমেন্ট করবেন না। বিখ্যাত হবার অনেক জ্বালা, বিখ্যাত বিড়ালের মালিক হওয়া নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশি বিড়ম্বনার…

সবাই ভাল থাকুন।

পুনশ্চঃ ভবিষ্যৎ বানীর সাথে পা’এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানি না। সেক্ষেত্রে আমি যদি কোন প্রেডিকশন করি সেটা খেটে যাবার সম্ভাবনা কিটি’র অর্ধেক এবং পল এর চার ভাগের একভাগ…(ব্লগের পুরনো সদস্যরা আশা করি কোন ডাউট দেবেন না…!!)

আমি আশা করি এবার স্পেনই জিতবে। বিশ্বফুটবলকে ওরা এত দিয়েছে, চ্যাম্পিয়নশীপ ওরা ডিজার্ভ করে।

অন্য খেলাটিতে অনেক আক্রমন-প্রতি আক্রমন হলেও গোল মনে হয় কম হবে। জার্মানীর ক্লোসা, মুলার এবং উরুগুয়ের ফোরলান, সুয়ারেজ…এরা সবাই গোল্ডেন বুট এর আশায় বারবার গোল বরাবর শট নেবে এবং কিছুটা হলেও স্বার্থপরতা দেখাবে। তবে শেষ পর্যন্ত জার্মানীর-ই জেতা উচিৎ।

২,২১১ বার দেখা হয়েছে

২৮ টি মন্তব্য : “বিশ্বকাপ…প্রেডিকশন…পল…আমার বিড়াল!!”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    তোর বিড়ালটাকে বেশি করে খাওয়ায়ে দে, নাইলে তাড়াতাড়ি খেলার সম্ভাব্য ফলাফল পাওয়ার আশা করাটা বোকামি হবে 😉

    সেক্ষেত্রে আমি যদি কোন প্রেডিকশন করি সেটা খেটে যাবার সম্ভাবনা কিটি’র অর্ধেক এবং পল এর চার ভাগের একভাগ...

    ইয়ে, কিটি কি হুলো বিড়াল না মাদী বিড়াল জানতে মন চায়! তাইলে সম্ভাব্যতার ব্যাপারটা আমার হিসেব করে দেখা যেত! ;;;

    জবাব দিন
  2. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    ব্রাজিল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় ৬০ % জনগনই মনে হয় বিশ্বকাপ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। এই বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ করে যারা মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিল, চা’এর কাপ থেকে শুরু করে অন্তর্জালে বসে কি বোর্ডে ঝড় তুলত, তাদের অনেকেই এখন একেবারে ঝিম মেরে বসে গেছেন।
    কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছে যারা এখন খুশীতে ডগমগ করছেন, এবং সন্দেহ নাই, ইতিমধ্যে বিশাল একখানা ব্লগ লিখে ড্রাফট হিসেবে ঝুলিয়ে রেখেছেন আর অপেক্ষায় আছেন যে কখন সবাইকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সেটা পোস্টাবেন। যেই টিমকে অনেকে গোনাতেই ধরে নি, সেই টিমের জার্সি বিশ্বকাপের ২ সপ্তাহ আগে থেকে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আর বিশ্বকাপ নিয়ে একটা সিরিজও শুরু করে সেটা অসমাপ্ত অবস্থায় এখন তার লকারে ঝুলছে। কারনটা নিঃশ্চয়ই ফাইনালের অপেক্ষা !
    বিশ্বকাপ নিয়ে এত গবেষনা, এত রিভিউ, এত প্রেডিকশন এত মাতামতি করে সবাই যখন নিরব দর্শক হয়ে বসে আছেন সেখানে
    শেষ হাসি কি তবে আকাশ’দাই হাসবেন ?

    জবাব দিন
  3. এহসান (৮৯-৯৫)

    আমি তো প্রেডিকশন গে টা খেলি নাই। আমি খালি সাধারণ ফ্যান্টাসী ফুটবল খেলছি। এখন আহসান আকাশ আর আকাটুস্কি কিংবা সিক্স ও ক্লক এই দুইটা আছে। আর নক আউট ফাইনালে আছে কিংকং।

    দুই ফ্যান্টাসী সম্রাট তানভীর আর ফায়ারহাউজ হাসান ফ্লপ মারসে। কাম্রুল হাসান মিয়ারে সেমিফাইনালে কাত করে ফেলছি। দেখা যাক ফাইনালে ৯ পয়েন্টের কি হয়। কিন্তু সবার দল্গুলো এখন একই রকম।

    পল কিংবা বিড়ালের মল কোনোটাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনারে বাচাতে পারলো না। এন্টি ব্রাজিল কিংবা এন্টি আর্জেন্টিনা হিসেবে এম্নিতে বিশ্বকাপটা ভালোই গেলো। তার উপর আবার হল্যান্ড আর টরেস ফাইনালে।
    আমার মনে হইতেসে 'ডিরিক কূট'ই শেষ হাসি হাসবে।

    অফ টপিকঃ ডার্ক কাঊট, কায়েট, কালের কন্ঠের কেউট কিংবা প্রথম আলোর কিউট... কোনটা ঠিক????

    জবাব দিন
  4. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    ভবিষ্যৎ বানীর সাথে পা’এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানি না। সেক্ষেত্রে আমি যদি কোন প্রেডিকশন করি সেটা খেটে যাবার সম্ভাবনা কিটি’র অর্ধেক এবং পল এর চার ভাগের একভাগ…

    ইয়ে,আমার হিসাবে তো আপনার প্রেডিকশন ভগ্নাংশে আসতেছে...দুর ম্যাথে আমি ক্যান যে এত্ত খারাপ... ;;;

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।