খেলাঘর

খেলাঘর
অনিন্দ্য ইমতিয়াজ
(………………………………………… this is dedicated to all cadets of 53rd batch of fcc)

আমি কোন বিতর্ক করতে আসিনি,
আসিনি কোন উপদেশ দিতে
শুধু একটি গল্প বলতে এসেছি,
শুধু একটি গল্প।
নাহ! এ কোন ইতিহাস নয়,
রূপকথা? তাও নয়,
শুধুই গল্প, শুধুই কল্পনা –
“একটা ঘর ছিল, খেলাঘর,
খেলার জন্য কিছু পুতুল, সুতো আরও কত কি!
পুতুলগুলো যেন ঠিক লজ্জাবতীর পাতা,
একে অন্যকে আড়াল করে ফেলত পরম মায়ায়
যেন কেউ ছুঁতে না পারে।
কী অদ্ভুত না? কি দারুন!
ওদের আবার মায়া? কি অদ্ভুত!
কিন্তু ক’দিন আগেও ওরা একদম আলাদা ছিল,
নিজের মত , খেয়ালের ছলে ,
দিক-বেদিক ঘুরে বেড়িয়ে কতই না দিন কেটেছে,
কখনও বেদুইন মনে হবে, কখনও মনে হতে পারে-
পিপাসার্ত পথিক।
কি বিচিত্র!
কিন্তু আজ ওদের দেখলে কে বলবে যে ওরা আলাদা?
কোন সুতোয় বাঁধা ওরা? কে জানে?
দিন যায়, রাত যায়, কিন্তু সুঁতো আড় ছেঁড়েনা;
কত টান পড়ে, কত পুরোন হয়,
তবুও ছিঁড়ে যায় না।
একসময় ওরা পঞ্চাশটা ছিল,
কালের ঘড়িতে ভেঙ্গে ভেঙ্গে
হারিয়ে গেছে নয়টি পুতুল,
কিন্তু সুঁতো ছিঁড়ে যায়নি,
ওদের দেখলে ঠিক বোঝা যায়।
কিন্তু আজব ব্যাপার কি জান?
ওরা কেউ এক নয়,
না কথায়, না চলায়, না চেহারায়,
কিন্তু মনের মিল বিস্তরই বটে,
ওরা একসাথে ঘুরে বেড়ায়-
কখনও প্রখর রোদে, কখনও প্রবল বর্ষায়,
কখনও বিরাট মালভূমিতে, অন্ধকার রাতের সাথে,
আবার কখনও বিরাট নির্ঘুম পূর্ণিমায়।
ওদের দিকে সর্বগ্রাসী প্রকৃতিও অবাক হয়ে বলে-
‘ এ’কি বিদ্রুপ, না’কি উপহাস? ’
পরক্ষনেই নিজেকে সান্তনা দেয় এই ভেবে-
‘ওরা অবুঝ। ওদের ক্ষমাই প্রাপ্য’
কিন্তু তবুও ওরা এক,
একসাথেই হাসে, একসাথেই কাঁদে।
স্বপ্ন দেখে নিজে এবং অন্যদেরও দেখায়।
কী অদ্ভুত!
মাটির পুতুল!
চুপিচুপি নিজেরাই হারিয়ে যায় নিজেদের মাঝে-
সবার থেকে লুকিয়ে।
হায়! বিধাতার বিধি-
যতটাই হাসি, ঠিক ততটুকুই ফিরে পেতে হবে অশ্রুরূপে।
যখন এই সুঁতো ছিঁড়ে যাবে,
সেদিন কি হবে?
হয়ত ওরা আবার ছড়িয়ে পড়বে বেদুইনের মত,
আবার হয়ে পড়বে পিপাসার্ত পথিক,
কিন্তু এ মনের বাঁধন কি ছিঁড়ে যাবে, কখনও?
এও কি সম্ভব??
কে জানে এর উত্তর?
এই খেলাঘর যার, হয়তো তিনিই বলতে পারেন-
পুতুলগুলোর গন্তব্য কোথায়? কোথায়?
হাজার হোক মাটিরই পুতুল।।
৮৮৬ বার দেখা হয়েছে

৩ টি মন্তব্য : “খেলাঘর”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।