টুশকির ছোট ভাই পুশকি (খুশকি – ১)

সায়েদের টুশকি গুলো যখন পড়ি তখন নিজের জীবনের অনেক ঘটনা মনে পড়ে যায় আমার। কিন্তু ওর মতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে বা উপস্থাপন করতে পারিনা। আজ কয়েকটা ঘটনা একসাথে মনে পড়ায় ভাবলাম একটু চেষ্টা করে দেখিনা। টুশকি না পারি, এর কাছাকাছি কিছুটা যদি পারি তাতে দোষ কি সবার সাথে শেয়ার করতে? কিন্তু নামকরন নিয়ে আবার পড়লাম বিপদে। নতুন নাম দেয়াটাও একটা কঠিন কাজ হয়ে দাড়ালো আমার জন্য, তাই টুশকির সাথে মিল রেখে এর নাম দিলাম ‘পুশকি’

১। ক্যাডেট কলেজের একটা ঘটনা। আমাদের ব্যাচে একজন ক্যাডেট ছিল যার নিক নেইম ছিল এ টু জেড (A to Z)। অর্থাৎ ইংরেজী অক্ষর A থেকে শুরু করে Z পর্যন্ত সব অক্ষর দিয়ে তার একটা করে মোট ২৬ টা নিক নেইম ছিল। অবশ্য এছাড়াও তার আরো অসংখ্য নিক নেইম ছিল যার সঠিক সংখ্যা কেউ বলতে পারবে না। ছেলেটা খুব সহজ সরল ও একটু বোকা টাইপের ছিল বলে সবাই তার সাথে খুব দুষ্টামি করত। একদিন সে ক্লাসে টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল। আমাদের আরেক বন্ধু দুষ্টামি করে তার ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য একটার পর একটা বিভিন্ন সাইজের জিনিস ছুড়ে মারতে লাগল। কোন কিছুতেই কাজ না হওয়াতে শেষে সে বিরক্ত হয়ে বড় সাইজের আস্ত একটা ডিকশনারী তার মাথায় ছুড়ে মারল। মাথায় লেগে ডিকশনারীটা মাটিতে পড়ল। ধুম করে বিকট একটা শব্দও হলো। এবার অবশ্য কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গল। চোখ কচলাতে কচলাতে সে টেবিল থেকে মাথা তুলে তাকিয়ে দেখল তার সামনে টেবিলের উপরে একটা ছোট সাইজের চক পড়ে আছে (নিচে মাটিতে কিন্তু তখনো ডিকশনারীটা পড়ে ছিল)। সে তখন বিরক্ত হয়ে বললঃ
আমাকে এইমাত্র চক দিয়ে ঢিল মারল কে রে? বলেই সে একটা হাই তুলে আবার ‘যেমন ছিলে’ পজিশনে চলে গেল… মানে আবারো ঘুমিয়ে পড়ল।

আমার এই বন্ধুটি কে? তা হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে, কিন্তু এখানে নাম বলা যাবেনা, খবরদার 😡

২। সাভার ক্যান্ট এ থাকতে একদিন সন্ধ্যায় এক কালচারাল প্রোগ্রামের ঘটনা। ওখানে একটা আইটেম ছিল সিনিয়র অফিসারদের লটারী অনুযায়ী ষ্টেজে উঠে কিছু একটা পারফর্ম করে দেখাতে হবে। তো সেখানে আমার সিওর নাম উচ্চারিত হওয়ায় তাকে বাধ্য হয়ে ষ্টেজে উঠতে হলো। তার ভাগ্যে উঠল জোকস বলতে হবে। কিন্তু উনি ছিলেন গম্ভীর মানুষ, একদম জোকস বলতে পারতেন না। অগ্যতা কি আর করবেন, কিছু একটা তো করে ষ্টেজ থেকে নামতে হবে। তাই তিনি বললেনঃ “আমি একটা প্রশ্ন করবঃ “বলুন তো ব ঔকার বৌ, আর ব এর পাশে উ বউ এর মধ্যে কি পার্থক্য?”

সবাই তখন মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু করল। এর কি উত্তর হতে পারে অনেকের মাঝে গুঞ্জন শুরু হলো। কেউ কেউ এর মাঝে এডাল্ট কিছু ভাবার ও চেষ্টা করে ফেলল, মুখ টিপে হাসল, কিন্তু কেউ উত্তর দিতে পারল না। শেষে তিনি উত্তর দিলেনঃ
“ব ঔকার বৌ হলো ব এর উপরে যেভাবে একটা ঘোমটা আছে মানে ঘোমটা দেয়া বা গৃহিনী বধু, আর ব এর পাশে উ বউ হলো ঘোমটা ছাড়া মানে চাকুরীজীবি বধু।”

সাথে সাথে অট্টহাসিতে হল রুম ফেটে পড়ল। সবাই তুমুল হাততালি দিয়ে আমার সিওর জোকসের তারিফ করতে লাগল। কিন্তু ওদিকে সিও ভাবীর দাঁত, মুখ ও চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। বুঝতেই পারছেন, সিও ভাবী ছিল ব এর পাশে উ বউ মানে চাকুরীজীবি বধু। নিজের পায়ে যে নিজে কুড়াল মেরেছেন এটা ততক্ষনে সিও টের পেয়ে গেছেন। ভয়ে ভয়ে তিনি ষ্টেজ থেকে নেমে আসলেন।

এই ঘটনার পর বেশ কিছুদিন সিও কে বেশ বিমর্ষ অবস্থায় অফিসে আসতে এবং অফিস টাইম শেষ হবার পরও ওভারটাইম টাইপ অফিসে বসে থাকতে দেখা যেত।

৩। এবার আমার নিজের ঘটনা বলি। ক্লাস ফোরে পড়ি তখন। সবার সাথে গ্রামের নানা বাড়ি বেড়াতে গেলাম। দুপুরে খাবারের পর বিকেলে আমার নানার ভাই অর্থাৎ আমার মায়ের চাচার ঘরে প্রথম বারের মতো গেলাম। আমার ঐ নানী ছিলেন খুব মোটা মহিলা। ঐ বয়সে আমার তখন ধারনা ছিল যে, শুধুমাত্র গর্ভবতী হলেই মেয়ে মানুষ মোটা হয়। তার মানে এই নানী গর্ভবতী।

যাই হোক, ঘরে ঢুকতেই আম্মা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন “তোমার নানী হয়, সালাম কর”। পায়ে ধরে সালাম করে উঠতে গিয়ে নানীর পেটের সাথে আমার মাথা জোরে একটা ধাক্কা খেল। আমার খুব রাগ হলো, ভাবলাম মানুষ এতো মোটা হয় কি করে, যে সালাম করে উঠতে গিয়ে মাথা লেগে যায় পেটে!!! প্রচন্ড বিরক্তি মুখে নিয়ে আমি তখন হুট করে বলে বসলাম, “নানী আপনার পেট এত বড় কেন? পেটে বাচ্চা আছে নাকি?”

নানীর চেহারাটা তখন কি হয়েছিল আমার ঠিক মনে নেই, কিন্তু আম্মার কঠিন ধমক, এবং বাসায় ফিরে জালি বেতের কঠিন পিটুনি ঠিকই মনে আছে এখনো। আজো সেই ঘটনা মনে পড়লে আপন মনে হেসে উঠি। না বুঝে সবার সামনে কি সাংঘাতিক প্রশ্নই না করেছিলাম সেই নানীকে…

৪। এবারে মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটা আমার এক কলিগের ঘটনা বলি। আমাদের সার্ভিসে বেশ কিছু মজার গালিগালাজ বা বকাঝকা প্রচলিত আছে যেগুলো প্রতিনিয়ত বা অহরহ ব্যবহত ‌হবার কারনে স্বাভাবিক কথাবার্তায় রূপান্তরিত হয়েছে। যেমনঃ “াকেন নাট”। এরই বাংলা আক্ষরিক অর্থ হিসেবে সেই কলিগ আবিস্কার করল “ োদনা বাদাম”। কথায় কথায় এটি ব্যবহার করা তার এক বদঅভ্যাসে পরিনত হলো।

কিছুদিন আগে সে একই সাথে একই সময়ে তার গার্ল ফ্রেন্ড এবং কোর্সমেটের সাথে ইয়াহু মেসেঞ্জারে চ্যাট করছিল। চ্যাটিং এর এক পর্যায়ে সে তার বন্ধুকে দুষ্টামি করে এই গালি দিতে গিয়ে ভুলে গার্ল ফ্রেন্ডের মেসেঞ্জার উইন্ডোতে “োদনা বাদাম” লিখে এন্টার (Enter) চাপ দিয়ে ফেলল। পরক্ষনেই তার মাথায় হাত। বন্ধুর মেসেজ তো ভুলে ঐ পারে গার্ল ফ্রেন্ডের কাছে চলে গিয়েছে। সর্বনাশ, এখন কি হবে, ছি!ছি! তাকে কি ভাববে মেয়েটা? পরক্ষনেই অপর পার থেকে গার্ল ফ্রেন্ডের বিস্ময় ভরা প্রশ্ন এলঃ
– কি ??? !!!
সাথে সাথে আমার সেই কলিগের মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সে তার উত্তরে পরের লাইনেই লিখলঃ
– খাইতে গেলাম
এবার আরো বিস্ময় মাখা প্রশ্নঃ
– মানে ??? ???
– মানে এইটা আমাদের ইউ এন ইস্যু একটা বাদাম, অর্থাৎ ক্যাসো নাট টাইপ আর কি। এটা খেতে খুবই মজা। আমি এখন এই বাদাম খেতে যাচ্ছি।
– (খুশি হয়ে) তাই? এই আমার জন্যও আনবে কিন্তু। আমিও োদনা বাদাম খাব।
– আচ্ছা খাওয়াব (আমার কলিগ যেন এ যাত্রায় হাফ ছেড়ে বাঁচল)
– বেশি করে আনবে কিন্তু, আমার বান্ধবীদেরকেও তাহলে োদনা বাদাম খাওয়াব…

৪,৪০৭ বার দেখা হয়েছে

৬৩ টি মন্তব্য : “টুশকির ছোট ভাই পুশকি (খুশকি – ১)”

  1. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    ভাই ৪ নম্বর টা পইরা =)) =)) =)) :pira: :pira:
    পুশকির পর ফুশকি চাই :awesome:
    আর এদ্দিনে বুঝলাম প্রায় রাতেই সি ও রাইত ১ টা ১ ১/২ টা'র দিকেও কাম ছাড়া ক্যান অফিস বইসা থাকে :khekz:

    জবাব দিন
  2. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    কবি ভাই,
    আমি ৩নম্বরটা পর্যন্ত আসতেই মিরা যাইতে নিসিলাম...
    তাইলে বুঝেন, ৪নম্বরটা শেষ করার পর আমার কি অবস্থা :))


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      আমাকে কবি বলে লজ্জা :shy: , আর আসল কবিদের অবমাননা 🙁 করিস না ভাই :no: । আমি প্যারোডি ছড়া লিখতাম বেশি, যেগুলো আসলে কবিতা না, আসলে শিশুতোষ ছড়া 😛 । সো, নো মোর কবি ভাই, ঠিক আছে?

      ৪ নম্বরটা পড়ার পর তুমি মিরা যাওয়া অবস্থা (যেটা ৩ নম্বরটা পড়ার পর হয়েছিল) থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে এই কমেন্টটা লিখতে পেরেছ... এটাই বুঝলাম :-B

      অন টপিকঃ কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ 🙂

      জবাব দিন
  3. অনেক দিন পর ক্যাডেট কলেজ ব্লগে ঢুকলাম এবং :pira: :khekz: :khekz:
    রহমান দোস্ত চালায়া যা, তরে দিয়া হবে। আমি আর সায়িদ স্যার আবার এক দেয়ালের দুই পাশে চলে আসছি। সারারাত কি বোর্ডের খটখট আবার শুনতে অইব ~x(

    জুনার মন্তব্যে পুরা টেবিল শুইধ্যা :pira: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz:

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      হুমম, ভাল ভাল

      তোর লেখার অপেক্ষায় আছি আমি। মজার মজার কিছু নামা তো তোর ঝুলি থেকে

      জুনা হইল কমেন্টে পুরাপুরি ঝুনা। সো, জুনার ঝুনা মন্তব্যে তুই না পিরলেই বরং অস্বাভাবিক ব্যাপার হইত। বাই দ্য বাই, পিরা গিয়া ব্যথা পাস নাই তো? মেডিক্যাল কাভার পাঠামু???

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।