খুশকি – ৭

প্রিন্সিপাল এসেম্বলী!! (সিসিবি ভার্সন) পর্ব ৩ এর উদ্ধৃতাংশঃ

ব্লগে ‘৯২ এর ভাইদের আনাগোনা অন্যন্য অনেক ব্যাচের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। বেশ কয়েকজন আছেন মোটামুটি চেষ্টা করেন রেগুলার থাকার জন্য। প্রথমেই আসলেন রহমান ভাই। পিকনিকে অল্পের জন্য আসতে না পারার যন্ত্রণা কিছুটা হলেও ভোলার জন্য এবার আগে থেকেই সব ম্যানেজ করে রেখেছিলেন। ব্যাপক মাঞ্জা মেরে, চুল ব্যাক ব্রাশ করে এসেছেন!
-রহমান ভাই, কেমন আছেন? বস, অনেক দিন লেখা দেন না…ব্যস্ততা বেশি নাকি??
-জুনা নাকি? আছিস কেমন? হ রে…ব্যস্ততা যাচ্ছে…সবচেয়ে বড় কথা, ইদানিং রেগুলার ‘শ্যাম্পু’ করতে হচ্ছে…বিবাহিত ফৌজিদের দুইটা হেডকোয়ার্টার-একটা অফিসিয়াল আর একটা…তো, অন্য হেড কোয়ার্টার থেকে কড়া নির্দেশ ‘ঐ সব খুশকি-মুশকি’ লেখা চলবে না…!!! ফলে ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও…বুঝিস ই তো…

জুনার এই লেখা পড়ে আবেগে ইমোশনাল হয়ে প্রচন্ড বেগ তাড়িত হলাম এবং আবার খুশকি লিখতে বসে গেলাম। তবে এবারের খুশকিতে কিন্তু ঝাল কম, লবন বেশি…

১। ক্লাস টেন এর ঘটনা। কলেজে আমাদের দুই ব্যাচ সিনিয়র কাল কুচকুচে একজন ভাই ছিলেন যার সাথে তার ব্যাচমেট সহ সব জুনিয়রদের ছিল সাপে-নেউলে সম্পর্ক। একবার অলওভারের দিন (চ্যাম্পিয়নশীপের দিন) আমরা সবাই মিলে আমাদের ঐ সিনিয়রকে এ্যাটাক করার প্ল্যান করলাম। ব্যাপারটা তিনি আগে থেকেই টের পেয়ে রুমের ছিটকিনি আটকে দিয়ে ক্যামেরা নিয়ে রেডি ছিলেন। আমাদের হাউসের আমাদের ব্যাচের সবাই যখন একসাথে এ্যাটাকে গেলাম তখন উনার কোন ব্যাচমেট উনাকে বাঁচাতে আসল না। আমরা দরজার গ্লাস ভেঙ্গে ছিটকিনি খুলে রুমে ঢুকলাম। উনাকে ফটো তোলার সময় পর্যন্ত দিলাম না। আগে থেকেই এক বালতি জিংক অক্সাইড গুলানো ছিল। উনাকে তা দিয়ে গোসল করিয়ে দেয়া হলো। যথারীতি হাউস মাষ্টারের কাছে কমপ্লেইন গেলো এবং আমাদের সবাইকে তার অফিসে ফলিন দেয়া হলো। তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেনঃ আচ্ছা বাবা, তোমরা পরিস্কার পানির বদলে এই জিংক অক্সাইডের পানি দিয়ে কেন ওর রুমটা নষ্ট করলা? উত্তরে আমাদের একজন বললঃ “স্যার, উনি শুধু দেখতেই কাল না, উনার মনটাও কাল। আমরা একটু চেষ্টা করলাম শুধু… একসাথে যদি উনার দুটাই সাদা হয়।” (পরে অবশ্য পানিশমেন্ট হিসেবে আমাদের সবাই মিলে ঐ সিনিয়রের রুম পরিস্কার করে দিতে হয়েছে, কিন্তু এজন্য কেঊ বড় ধরনের কোন পানিশমেন্ট খায়নি, ঐভাবে গোসল করাতে পেরে কিযে আনন্দ পেয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না :goragori: )

২। আমার এক জুনিয়র কলিগ ইদানীং হিন্দী “টুইষ্ট” গানের কলি “রাং দে চাক” বলে প্রায়ই চিৎকার করে গেয়ে উঠে। গত শুক্রবার রাতে আমরা চারজন কলিগ বসে কার্ড খেলছি আর ও একটা গেইম দেয়ার সাথে সাথে “রাং দে চাক, রাং দে চাক” বলে চিৎকার করে উঠল। তার ঠিক তিন মিনিটের মধ্যেই মেসওয়েটার চা নিয়ে আসল। এসে বিরক্তির সাথে বললঃ স্যার, নেন আপনাদের রং চা; এতদিন সবাই দুধ চা খাইতেন, হঠাৎ আবার রং চা শুরু করলেন ক্যান? ডায়েটিং করতেছেন ক্যান? সামনে আবার পিটি এক্সাম আছে নাকি? রং চা আনার ব্যাপারটাতে মজা পেলেও রং চা খেতে গিয়ে জুনিয়রের উপর আর ঐ হিন্দী গানের উপর মেজাজ খারাপই হচ্ছিল। 😡

৩। আমাদের ব্যাটালিয়নগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানী থাকে। যেমনঃ আলফা (এ), ব্রাভো (বি), চারলী (সি), ডেলটা (ডি), হেড কোয়ার্টার (সদর) কোম্পানী। একদিন আমি একজন সৈনিককে সে কোন কোম্পানীর জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তরে বললঃ “ডালডা কোম্পানী”। আমি একটু রসিকতা করে বললামঃ তেল, ঘি আর বাটারওয়েল কোম্পানী চিন? মন খারাপ করে সৈনিকের উত্তরঃ “স্যার, কোম্পানীর নামগুলা বাংলা কইরা দেন, ডি কোম্পানীর নাম উচ্চারণ করতে পারিনা; এইসব ইংরেজী বলার চাইতে ক, খ, গ, ঘ দিয়ে কিছু বানাই দেন, বাংলায় বলা আমাদের জন্য অনেক সহজ। আমি বললাম ঠিক আছে, তাহলে ক, খ, গ, ঘ দিয়ে কলা খাব, গান ঘাব কোম্পানী বানিয়ে দিলে সহজ হবে? এবার বেচারা আরো মন খারাপ করে বললঃ “না স্যার এর চাইতে ডালডা কোম্পানীই ভাল”।

৪। প্রতি তিনমাস পরপর আমাদের সৈনিকদের পুরাতন সামরিক দ্রব্যাদি অকেজো করার জন্য একটা বোর্ড হয় যাকে বলা হয় অকেজোকরন বোর্ড বা ইংরেজীতে কনডেমনেশন বোর্ড। একদিন আমার কোম্পানীর এক সৈনিক এসে আমাকে রিপোর্ট দিলঃ “স্যার ছয়মাস আগে কনডম লাগাইসি, এখনো কিছু আসে নাই।”

৫। এক্সারসাইজে কাঁধে বহনের জন্য আমরা দুই সাইজের/ধরনের ব্যাগ বহন করি। একটাকে বলা হয় বিগ প্যাক, আরেকটা স্মল প্যাক। এই দুটি ব্যাগের বিভিন্ন রকমের নাম প্রচলিত আছে। কেউ বলে পিট্টু, কেউ বলে ঝোলা পিট্টু, কেউ বলে চামড়ার পিট্টু ইত্যাদি ইত্যাদি (সরকারী নামঃ প্যাক-০৮ এবং হ্যাভার স্যাক)। সেদিন এক কোর্সমেটের সাথে অনেকদিন পর দেখা হলে বিয়ে করেছে কিনা জানতে চাইলে উত্তরে বললঃ “দোস্ত বিগ প্যাক তো সেই কবেই জুটাইছি, এখন সাথে একটা স্মল প্যাকও আছে।” অবশ্য ইউনিটে জয়েন করার পরপর প্রথম রুট মার্চ করার পর একটু ভয়ই পেয়েছিলাম যখন শুনলাম সিএসএম আমার রানারকে আদেশ দিচ্ছেঃ “স্যারের ঝোলা চামড়াটা খুইল্যা রাখ্‌”

৩,৬২৫ বার দেখা হয়েছে

৮২ টি মন্তব্য : “খুশকি – ৭”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    বস, আমার লেখা পড়ে আপনি আবেগে ইমোশনাল হয়ে লেখা দিয়েছেন জানতে পেরে আমি ইমোশনে আবেগতাড়িত হয়ে গেলাম... ;;) O:-)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    স্যার, কোম্পানীর নামগুলা বাংলা কইরা দেন, ডি কোম্পানীর নাম উচ্চারণ করতে পারিনা; এইসব ইংরেজী বলার চাইতে ক, খ, গ, ঘ দিয়ে কিছু বানাই দেন, বাংলায় বলা আমাদের জন্য অনেক সহজ

    আমাদের ভাষাপ্রেমিক রহমান ভাই (আমার ক্ষেত্রে মামা হবে) ইনশাআল্লাহ একদিন সিনিয়র হয়ে এইটা চালু করলে মন্দ হয়না-সহজ সরল গ্রামের সৈনিকদের কি দরকার কষ্ট করে খটমটে ইংরেজি নাম শেখার? "ক কোম্পানি","খ কোম্পানি" এইগুলার মদ্ধে একটা ভাব আছে 🙂

    “স্যার ছয়মাস আগে কনডম লাগাইসি, এখনো কিছু আসে নাই।”

    মামাগো এইগুলা কৈ থিকা পান??? =)) =)) =))
    “স্যারের ঝোলা চামড়াটা খুইল্যা রাখ্‌”-আল্লাগো ব্যাটা কয় কি!!!!মামাগো সাবধানে চাকরি কইরেন...এরা কিরাম জানি কথা কয় শুনলে ভয় লাগে...

    জবাব দিন
  3. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
    “স্যারের ঝোলা চামড়াটা খুইল্যা রাখ্‌”

    শেষ পর্যন্ত রহমান স্যারের ঝোলা চামড়াডা খুইল্যা রাখা হইছিলো কিনা জাতি জানতে চাইতাছে :grr: :grr:

    জট্টিল হইছেরে মামা!! কুনু শ্যাম্পুদিয়া এই খুশকি যাইবোনা 😉


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  4. চল চল চল
    রহমান ভাই বস
    বিজ্ঞাপণ, বিজ্ঞাপণ বিজ্ঞাপণঃ
    "Adobe Illustrator 10, Adobe Illustrator CS2 and CS3 এর কাজে কেউ এক্সপার্ট এবং এগুলো দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা থেকে থাকলে ASAP আমাকে ফোন দাও/দিন- ০১৭১৩৪৩৫৮৮১"

    স্যরি, রহমান ভাই, তবে আমার আর কোন অপশান ছিল না, কারণ আমি নিজে পোস্ট দিতে পারিনা। আর একমাত্র এই পোস্টটা-ই আজকের নতুন পোস্টগুলোর মধ্যে একমাত্র পোস্ট যেটা দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন সহ সব্বাই পড়বে, একটা মন্তব্যও বাদ যাবে না।
    কারো কাছে কোন অন্যায় করে থাকলে :frontroll:

    জবাব দিন
  5. খুশকি জটিল হইছে মামা।
    ৯২-৯৮ ব্যাচের সবাইরেই দেখি মামা ডাকতে ইচ্ছা করে।
    রহমান মামা, তাইফুর মামা, সায়েদ মামা, মইনুল মামা, কি বলেন কাইয়ুম মামা... (আর্কুনোমামার্নাম্মনেপোর্তাছেনা)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।