“দ্য ড্রিম টিম” ভার্সেস “আদার্স”

পাঠকগন, আমার এই লেখাটা মাস্ফ্যুর জোরাজুরির ফলাফল, ছোট ভাই একটা দাবী করেছে। ফেলতে পারলাম না। যা মনে আসল লিখে ফেললাম।

১৯৯৭ সালের ঘটনা। আমরা তখন ক্লাস টুয়েল্‌ভে। আই সি সি এফ এম (ফুটবল) উপলক্ষে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম। এটা ছিল আমার ২য় আই সি সি। (এর আগে ৯৬ তে গিয়েছিলাম জেসিসি তে এ্যাথলেটিক্স টিমের মেম্বার হয়ে)। আমাদের ফুটবল টিমের কম্বিনেশন টা ছিল দারুন। আহসান, মাজহার, নাফিজ, এনাম, হাসান, সরোয়ার, সাইফুল, মনসুর, আমি (আমরা ৯ জন ৯২ ব্যাচের), আনিস ও ইফতেখার বেগ (৯৩) এবং মাশফিক (৯৪)। আমাদের কোচের খুব আশা আমাদের টিমটাকে নিয়ে যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো।

নির্দিষ্ট দিনে খেলা শুরু হলো। গ্রুপ পর্যায়ে আমরা প্রথম খেলায় পিসিসির সাথে ৫-২ গোলে জিতলাম, পরেরদিন এমসিসির সাথে ২-২ গোলে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে গেলাম সেমি ফাইনালে। সেমি ফাইনালে বিসিসির সাথে ৫-১ গোলে জয়ী হয়ে সোজা চলে গেলাম ফাইনালে। তখন একটা ওভার কনফিডেন্স চলে এসেছিল যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছি। এদিকে পিসিসি এমসিসি কে হারিয়ে গ্রুপ রানারআপ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল। সেমিফাইনালে ওরা সিসিআর কে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আবার আমাদের মুখোমুখি হলো। আমরা তো মহাখুশি। গ্রুপ পর্যায়ে যাদের ৫-২ এ হারিয়েছি, তাদেরকে আবার ফেইস করা তো কোন ব্যাপারই হবেনা ভাবলাম।

যথারীতি ফাইনাল শুরু হলো। প্রথমার্ধে আমরা ২ গোল খেলাম। বিরতির সময় সবার প্রচন্ড মন খারাপ। কারো মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। জিততে হলে ৩ গোল দিতে হবে। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ৩ গোল দিয়ে আমরা কি জিততে পারব? ইতিহাসে তো এমন নজির অত্যন্ত বিরল। আমাদের সবার মনে মনে এই ভয় কাজ করছিল, কিন্তু মুখে কেউ কথা বলছিল না। এমন সময় কানে এল, পিসিসির সবাই পাশ থেকে বলাবলি করছে এবার ওরা আগের খেলাটার প্রতিশোধ নিবে। অর্থাৎ এবার পিসিসি ৫ গোল দিবে। তখনই মেজাজটা বিগড়ে গেল সবার। এত বড় কথা? দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার আগে আমরা সবাই মিলে গোল হয়ে একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেললাম, কোন ভাবেই আর গোল খাবনা, উল্টা গোল পরিশোধ করব, আমরা আমাদের ন্যাচারাল খেলা খেলব, এ্যাটাক করেই খেলব। আমি রাইট ব্যাক। আমার সাইড দিয়ে কোন বল ঢুকতে দিবনা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেললাম। যথারীতি দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলো। আমাদের খেলা গুছিয়ে উঠল। মিডফিল্ডার আহসান (আমাদের কলেজ প্রিফেক্ট) দারুন খেলতে লাগল। ওর বল কন্ট্রোল আর পাস ছিল আসাধারন। ওরই পাসে দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় আমাদের নাফিজ ১ টা গোল করে ফেলল। সবাই মিলে আনন্দ করলাম, একটু আশার আলো দেখতে থাকলাম। তার পর অনেকক্ষন ধরে কোন গোল হলো না। খেলা চলছে সমান তালে, অনেক শট গোলবারের আশেপাশে দিয়ে যায় কিন্তু গোল আর হয়না। এদিকে আমার টেনশন বাড়ছিল। প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় আহসান কয়েকজনকে কাটিয়ে নিল চমৎকার এক কিক। সেই কিক ক্রসবার ঘেসে ঢুকে গেল জালে। ২-২ এ সমতা আসায় পুরা টুর্নামেন্টের চেহারা পাল্টে গেল। খেলাও পুরা জমে উঠল। আমরা ততোক্ষনে বুঝে গিয়েছি খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। কিন্তু পিসিসি দেখি তখনো এটাকিং মুডে খেলছে। ওরা বোধহয় সত্যি সত্যি ৫ গোল দেয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। খেলা শেষ হবার ঠিক ২/৩ মিনিট আগে আমাদের আহসানের সুন্দর একটি পাস নিয়ে আনিস (৯৩-৯৯ ব্যাচ)যে কিনা পুরা টুর্নামেন্টের সেরা স্ট্রাইকার, ডি বক্সের বাহির থেকে দুর্দান্ত এক শট নিল। গুলির মতো বল কিপারকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল প্রতিপক্ষের জালে। ফল ৩-২। আমি আনন্দে দৌড়িয়ে গিয়ে সবার উপরে ঝাপিয়ে পড়লাম। তার অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে রেফারীর ফাইনাল হুইসেল। অবিশ্বাস্য, অসাধারণ, অকল্পনীয় শেষ গোলটি ছিনিয়ে আনল আমাদের বিজয়। আমরা হলাম আনবিটেন চ্যাম্পিয়ন। আমার কলেজের ইতিহাসে এই দিনটি একটি অবিস্মরণীয় দিন। এটি ছিল ১৪ বছরের ইতিহাসে আমাদের কলেজের প্রথম ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। আমাদের এই টিমের নাম হয়ে গেল “দ্য ড্রিম টিম”। এরপর চলতে থাকল বেশ কিছুদিন ধরে সংবর্ধনা, পুরস্কার আর উপহারের মেলা। প্রিন্সিপালস্‌ এ্যাসেম্বলীতে আমাদেরকে স্পেশাল ক্রেস্ট, ট্রাকস্যুট এবং আরো গিফট্‌ দেয়া হলো। এছাড়াও কুমিল্লা টাউনে নিয়ে আমাদের দেয়া হলো চাইনিজ পার্টি। (মির্জাপুর টাউনেও ফাইনালের দিন রাতে একটা তাৎক্ষনিক চাইনিজ পার্টি পেয়েছিলাম)

এর ঠিক কিছুদিন পর আমাদের ক্লাসের ক্যাডেটরা একটা ক্রিকেট ম্যাচের প্রস্তাব করল। “দ্যা ড্রিম টিম” ভার্সেস “আদার্স”। আমাদের ৯২ ব্যাচে “ড্রিম টিম” এর আমরা ছিলাম ৯ জন।(৯ জনের মধ্যে নাফিজ আর সাইফুল বাদে ৭ জনই এখন আর্মিতে আছে, নাফিজ বি এম এ থেকে চলে গিয়েছিল, এখন বাংলালিংকে আছে)। এই ৯ জন নিয়েই আমরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম “আদার্স” টিমকে। মজার বিষয় হলো এই ৯ জনের মধ্যে আমি ছিলাম একমাত্র খেলোয়াড় যে একদমই ক্রিকেট খেলতে পারতাম না।

যা হোক, নির্দিষ্ট দিনে ekএক শুক্রবার সকালে খেলা শুরু হলো। প্রতিপক্ষের সেরা দুই ওপেনার নিহাদ আর সুফি নামল। আমরা ফিল্ডিং এ। আমাকে টিম ক্যাপ্টেন আহসান দাঁড় করালো বোলারের ঠিক ১০ গজ বামে (সম্ভবতঃ সর্ট মিড অফে)। দ্বিতীয় ওভারে নিহাদ স্ট্রাইকিং এ। হঠাৎ বিদ্যুৎ বেগে বল আমার নাক বরাবর আসার কারনে নিজের অজান্তেই হাতদুটো আত্নরক্ষার তাগিদে নাকের সামনে চলে আসল। আমি বলটাকে সরাতে চেয়েছিলাম যাতে আমার মুখে না লাগে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি আমার দুহাতের মাঝে বলটি আটকে গেছে। আমি হতবম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও ভুলে গেলাম। টিম ক্যাপ্টেন সহ সবাই দৌড়ে আসল, আমাকে বাহবা জানাল। নাক বাঁচাতে গিয়ে বিপক্ষের সেরা ব্যাটস্‌ম্যানদের একজনের (নিহাদের) ক্যাচ ধরে ফেলেছি এটা বুঝতে আমার খানিকটা সময় লাগল। আমার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে আহসাল হেসে দিল। আমিও বোকার মতো হাসলাম। অতঃপর ব্যাটিং এ গিয়ে আমাদের টিম শুরুটা ভাল করলেও খেলার মাঝামাঝি পর্যায়ে পর পর বেশ কটি উইকেট পড়াতে শেষে চাপের মুখেই পড়ে গেল আমাদের “ড্রিম টিম”। আমি লাষ্ট ব্যাটস্‌ম্যান। “আল্লাহ আল্লাহ” করছিলাম, যেন আমার ব্যাটিং এ না নামতে হয় কিন্তু হায়, শেষে ধরা খেয়েই গেলাম। আমাকে নামতে হলো তাও আবার সুফির ওভারে। সুফি ছিল আমাদের ক্লাসের সেরা বোলার (অলরাউন্ডার ও)। তখন ওর লাষ্ট ওভার চলছে, শেষ ৪ বল বাকি। জিততে হলে দরকার আর ৪ রান। আমাকে সবাই পরামর্শ দিল সুফির ওভারের এই ৪ টা বল কোনভাবে পার করার জন্য। পরে আরেক ওভার আছে। এই ওভার টিকতে পারলে পরের ওভারে সহজেই ৪ রান নিয়ে জেতা যাবে।। সবার উপদেশ মতো আমি উইকেটে গিয়ে ষ্ট্যাম্প কাভার করে ব্যাটটাকে সোজা লাঠি/ঝাড়ু ধরার ষ্টাইলে শক্ত করে, ধরে থাকলাম। আমার ব্যাট ধরার ভঙ্গী দেখে অনেকেই হাসছিল। আমার জন্য সুফির প্রথম বল। সুফি বোলিং এর জন্য রান আপ নিচ্ছে, আমার হার্টবিট বাড়তে থাকল। গার্ডটা কয়েকবার চেক করলাম, ঠিক জায়গাতে আছে কিনা। এর আগে আমি কোনদিন গার্ড পড়ে খেলিনি, সেই দিনই প্রথম, সেই দিনই শেষ। সুফি বল করল। পরপর ৩ টা বল এসে আমার ব্যাটে লেগে ঝাকুনি দিয়ে জায়গায় থেমে গেল। অর্থাৎ – আমি পারিলাম, আমি সুফির বলকে আটকাইতে পারিলাম। কিন্তু আমার সারা শরীরে কাঁপুনি ধরে গেল। এত জোরে মানুষ বল করে কিভাবে? আমার মনে হচ্ছিলো, বলটা আমার ব্যাট ফুটা করে ষ্ট্যাম্পের দিকে যাবে। এবার সুফির শেষ বল। আমি তো প্রচন্ড টেনশনে তখন, এই বলটা শেষ হলেই যেন আমি বাঁচি। সুফি বল করলো, এবারের বলটার অনেক বাউন্স, একেবারে আমার নাক বরাবর আসছিল। আবারো আত্নরক্ষা করতে গিয়ে হাতসহ ব্যাট চলে আসল মুখের সামনে, আমার গ্লাভসে লাগল বলটা, আঙ্গুলে খুব ব্যথা পেলাম, বল কোন দিকে গেল দেখলামও না। গ্লাভস্‌ খুলে ব্যথায় আঙ্গুল ঝাকাচ্ছি, হঠাৎ দেখি আমার টিমের সবাই দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। বুঝলাম স্পীডের কারনে আমার গ্লাভ্‌সে লেগে বল বাউন্ডারী পার হয়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছে। ফলাফল আমরা ১ উইকেটে জয়ী।

পরবর্তীতে নিজেকে অনেক ভাল ক্রিকেটার ভাবতে শুরু করলাম। বেশ কয়েকবার চেষ্টাও করেছি খেলাটা শেখার, কিন্তু হায়, আমি আর কোনদিনও ৪ মারতে পারলাম না। খেলতে গিয়ে বার বার বোল্ড আউট হবার কারনে এ খেলাটি আমার জীবনে আর শেখাই হলোনা। আমি শুধু ক্রিকেটের দর্শক হয়েই থাকলাম।

পাঠকগন, এতক্ষনে নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন আমি কত ভাল ক্রিকেটার!!! এই ব্লগে আমার প্রথম লিখায় কমেন্টের সেঞ্চুরী হওয়ায় এবং অনেকের মন্তব্যে “আমি ডেব্যুতেই সেঞ্চুরী করে ফেলেছি” বাক্যটা বার বার দেখাতে আজ হঠাৎ করে আমার বাস্তব জীবনের সেই ক্রিকেট খেলার ঘটনা মনে পড়ে যাওয়ায় মনের অজান্তেই হাসছিলাম। ভাবলাম, আমার ক্রিকেটীয় জ্ঞানের পরিধিটা সবার সাথে একটু শেয়ার করি। একই সাথে আমার কলেজের ফুটবল সংক্রান্ত কিছু স্মৃতিচারনও হয়ে গেল। সত্যি আমাদের “ড্রিম টিম” টার কথা মনে পড়লে আমি এখনো খুবই নষ্টালজিয়া তে ভুগি। ফিরে যাই সেই ১১ বছর আগের দিনগুলোতে।

কষ্ট করে ও এত সময় নষ্ট করে আমার এই বোরিং ঘটনাগুলো পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৩,২৯৯ বার দেখা হয়েছে

৩৮ টি মন্তব্য : ““দ্য ড্রিম টিম” ভার্সেস “আদার্স””

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    মিজা পাইলাম 😀 😀 😀
    আপনি দেখি একের পর এক বাউন্ডারি মারতেই আছেন :clap: :clap: :clap:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    ভালো হইছে বন্ধু।
    আইসিসি ফুটবলের প্রিপারেশনে আমাদের পোলাপান বেশ ভালো ঘাম ঝড়াইছিল।
    অনেক ডিটেলসই মনে আছে।
    আমার জীবনে দেখা দু্ইটা ফুটবল ম্যানিয়াক 😀 হইলো নাফিজ আর আহসান।
    আহসান এখনও খেলাধুলার গন্ধ পাইলেই পাগল হয়ে যায়।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      🙂 থ্যাংকু । আমিও একনো ফুটবলের গন্ধ পাইলে পাগল হইয়া যাই বন্ধু, যদিও ইউনিটে দুইবার পা মচকাইছে 🙁 কিন্তু চোখের সামনে ফুটবল খেলতে দেখলে নিজেরে কন্ট্রোল করতে পারিনা। :no:
      নাফিজ নাকি এখনো এম আই এস টি তে ফুটবল খেলতে যায়?

      জবাব দিন
  3. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আগেরটায় সেঞ্চুরি হইছে এইবার কমপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি না কইরা কুনু থামাথামি নাই :grr:
    কে কুথায় আছেন আইসা পড়েন -ডেব্যু সেঞ্চুরিয়ান,আমাদের ব্লগের তারকা ব্যাটস্ম্যান থুক্কু ব্লগার রহমান ভাই নয়া লেখা দিছে-দলে দলে আইসা কমেন্ট দ্যান.........

    পাঠকগন, আমার এই লেখাটা মাস্ফ্যুর জোরাজুরির ফলাফল, ছোট ভাই একটা দাবী করেছে। ফেলতে পারলাম না। যা মনে আসল লিখে ফেললাম।

    ইয়ে মানে মামা,আপনের এই ভাইগ্না বড়ই লাজুক,তারে পাবলিক প্লেসে কেন শরম দিতাছেন :shy: :shy: :shy:

    আর লেখার ব্যাপারে কি আর কমু,সাধে তো আর ফ্যান হইনাই।ফুটবল ম্যাচ তো বটেই,ক্রিকেট খেলায় ব্যাট হাতে আপনের পা কাঁপাকাপি পর্যন্ত যেন দেখতে পাইতেছি-এত জীবন্ত লেখা।আর,বস,ইয়ে মানে আমিও কলেজ টীমের লাস্ট ব্যাটসম্যান ছিলাম,আপনের মত :shy:

    রহমান ভাই,লিখাটা পড়ে মন এক ছুটে আইসিসির সেই দুর্দান্ত দিনগুলোতে ছুটে গেল।অনেক অনেক ধন্যবাদ এত প্রাণবন্ত লিখার জন্য।এইটা যদি আপনের "যা মনে আসল তাই লিখে ফেলা" হয়,তাইলে চিন্তা করে লিখলে না জানি কি হবে!!!!

    হ্যাটস অফ টু ইউ,বস!

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      ওরে মাস্ফ্যু,
      গুড় টা তো মিয়া তুমিই লাগাইলা। আমি তো শীতনিদ্রা যাবার প্ল্যানে ছিলাম। এত খোচাও কেন তুমি সবাইরে? সত্যি বলতেছি, তুমি না খোচাইলে এইটা আমি লিখতাম না। 😡

      পাম খাইতে নাকি সবাই লাইক করে 🙂 , আমিও এর ব্যাতিক্রম না 😀 , দাও ভাই আরো দাও ;;) ;;) ভালই লাগছে আকাশে উড়তে O:-) O:-) , :guitar: :guitar: :awesome: :awesome:

      আমি যদি চিন্তা করে যদে লিখি তাইলে কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং হবে 😛 কারন আমি সিরিয়াস হয়ে কিছু করলে পরিনতি আরো খারাপ হয় :(( :(( । হাটু নিয়ে সিরিয়াস হওয়াতে দেখনাই কি হতে যাচ্ছিল ? 🙁 P 🙁 এইটা কি বেষ্ট প্রমাণ না??? 😛 😛

      জবাব দিন
  4. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    আমারে দিয়া এই একটা কাম অইল না...এখনো কেন জানি বলে কিক মারলে ২০ গজের বেশী যায় না :(( :(( :((
    যাই হোক,

    ১,২,৩...
    রহমান ভাই লেখা দিসে,
    তাক ধিনা ধিন ধিন।
    ৩,৪,৫...
    কমেন্ট দেন কমেন্ট দেন
    আমি ঘুমাইতে গেলাম ।

    😀 😀 😀 😀 😀

    জবাব দিন
  5. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    মির্জাপুরের ঐ সকার মীট টা তে কুমিল্লার ছাড়া আরেকটা অপরাজিত টিম আছিলো 😀 ব্যাপক প্রতিশ্রুতিশীল একট টিম নিয়া গিয়া গ্রুপ পার্টের দুইটা ম্যাচই ড্র কইরা এফ সি সি বাদ 😀 নাইলে কিন্তু তোগো খবরই আছিলো 😛 😀 তবে আহসান, আনিস নাফিজ অরা কয়টা আসলেই ড্রিমটিমের মেম্বার আছিলো :boss: ঐ আইসিসির পর অরা কয়েকটা আক্ষরিক অর্থেই বাকি সবগুলা কলেজে ফেমাস হয়ে যায়। পোলাপাইন যারা ওদের খেলা দেখছে তারা এক বাক্যে সব কয়টারে বস্ মানছে। তোগো ড্রিমটিমরে :salute: :salute:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  6. তারেক (৯৪ - ০০)

    ড্রিম টিমের কথা মনে আছে খুব ভালমতন। আনিস ভাই তো কিংবদন্তী। আহসান ভাই আর নাফিজ ভাইয়ের খেলা ভোলার কোন চান্স নাই। অস-সা-আ-আ-ধা-র-ণ!
    রহমান ভাই, কুমিল্লার লেখা কম কম লাগে। আপনি ভালমতন হাল ধরেন দেখি। আপনিই ভরসা! 🙂


    www.tareqnurulhasan.com
    www.boidweep.com

    জবাব দিন
  7. তাইফুর (৯২-৯৮)

    খোদা বক্স মির্ধা'র ভাত তো কবেই উইঠা গ্যাছে। টিমের ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রী সহ খেলার যে ধারা বর্ণনা দিলি ... ধারাভাষ্যকার বাকীদের ভাতও যায় যায়।
    কোপা সামছু। তুই তো দেখি পাচ মিনিটে এল,এম,জি ট্রেঞ্চ নামায়া ফেলছিস।

    মির্জাপুর টাউনেও ফাইনালের দিন রাতে একটা তাৎক্ষনিক চাইনিজ পার্টি পেয়েছিলাম

    মির্জাপুর টাউনে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট ?? 😮 ক্যাম্নে কি ??


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      দোস্ত, অইডা ছিল চাইনিজ স্যুপ খাওয়ার পাটি। আমাদের এ্যাডজুট্যান্ট নিয়া গেছিল খাওয়ানোর জন্য। ফুল চাইনিজ ই খাওয়াইতে চাইছিল কিন্তু তোদের মির্জাপুরে ফুল ফ্ল্যাজেড চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট নাই 😛 দেখে দুধের সাধ ঘোলেই মিটাতে হইছিল আর কি !!!

      জবাব দিন
  8. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    রহমান ভাই, সেই ফুটবল মিটে জেসিসির ইয়া লম্বা চওড়া একজন গোলকীপার ছিলেন-ফাতাহ ভাই।পরে উনি বি এম এ তে গিয়েছিলেন,কি কারণে জানি চলে আসেন(আমার কেস!)।এই ফাতাহ ভাই এথলেটিক্সে আবার হ্যামার থ্রোতে রেকর্ড করেছিলেন(প্রয়াত জাহিদ রেজা ভাই সেটা পরে ভাঙ্গেন)।এমন কাউকে মনে পড়ে??
    ৯৬ এর ক্রিকেট আর এথলেটিক্স ছিল ক্যাডেট কলেজের ইতিহাসে অন্যতম বড় মিট।পরের বছর কলেজে গিয়ে অনেক গল্প শুনছি এইটার।আর ক্লাস সেভেনের দেয়ালে অন্য কলেজের সুশীল ক্যাডেটদের হাতে আঁকা গাছের ছবিও দেখছি।
    ইয়ে মানে,গাছ তথা বৃক্ষ ডাকনামের সাথে সেই আমার প্রথম পরিচয় ও প্রেম :shy: :shy: 😡 😡

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      ঠিক বলছ, ৯৬ এর অইটা ছিল একসাথে এ্যাথলেটিক্স আর ক্রিকেট মিট। এজন্য অইটা ছিল সবচেয়ে বড় আই সি সি র আসর। আমরা ক্রিকেটে রানার আপ হইছিলাম, আর এ্যাথলেটিক্সে লাড্ডু 😛 । আমি জ্যাভলিন থ্রো করছিলাম। উল্টা দিক থেকে পুরস্কার দিলে অবশ্য একটা পাইতাম :shy: 😛 । ক্রিকেটের ট্রফিটা নিয়া অবশ্য অনেক ষ্টাইল কইরা ছবি তুলছিলাম B-) । এমন ভাব নিয়া তুলছিলাম, যেন আমিই ক্রিকেটের ট্রফিটা জিতছিলাম 😀 । ফাতাহ র হ্যামার থ্রোর কথা খুব মনে আছে 🙂 । ও আমাদের কোর্সেই ঢুকছিল। পরে আর কন্টিনিউ করে নাই। এখন কোথায় আছে জানিনা। তুমি জান?

      জবাব দিন
      • তাইফুর (৯২-৯৮)

        ভিক্টর ফাত্তাহ এম,আই,এস,টি থেকে পড়াশুনা শেষ করে বর্তমানে 'বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল'এর এডমিন অফিসার।


        পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
        মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

        জবাব দিন
      • শহীদ (১৯৯৪-২০০০)

        একটা কথা না বলে পারলাম না- ওই আইসিসি ক্রিকেট মিটে চ্যাম্পিয়ন হইছিল আরসিসি। ওটা ছিল টানা ২য় বার রাজশাহীর ক্রিকেট চ্যাম্পিয়্ন হওয়া। আর তারপর ২০০০ এ রাজশাহীতে এবং তার পরেরটাতেও চ্যাম্পিয়ন আরসিসি... আমি আবার ২০০০ এর মানে হ্যাট্ট্রিক চ্যাম্পিয়ন টিমের সদস্য :hatsoff:
        সে এক অনবদ্য অনুভূতি :awesome: :awesome: :tuski: :tuski: :awesome: :awesome:

        জবাব দিন
  9. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    আপনাদের সেবারের ফলাফলে এর পরের বার আমরা ভালো বুঝতে পারছি। সব কলেজ আমাদের সাইজ করার জন্য রেডী ছিলো।
    নাফিজ ভাই এর সাথে তখন খেলার সুযোগ হয় নাই। পরে এসে ভার্সিটি টীমে এক সাথে খেলছি।প্রায়ই এদিক ওদিক খেলার সময় নাফিজ ভাই ফোন দেয় খেলার জন্য। আমিও খেলার পাগল। তাই উনার সাথে নিয়মিত খেলা হয় ফুটবল।উনি যে কি ফুটবল পাগল ওইটা না দেখলে কেউ বুঝবে না।

    জবাব দিন
  10. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ওই তোমাদের কপাল ভাল, CCR এর আমাদের ব্যাচ কে পাও নাই। ক্যালকুলেটর নিয়া বয়ায় দিতাম কয়টা গোল খাও গুননের লাইগ্যা।

    আমি আবার হেই টিমের ক্যাপ্টেন :grr:


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      বস্‌,
      আপনার টিম তো আমরা দেখি নাই, তাই আমাদের টিমটাই ছিল আমার দৃষ্টিতে সেরা। আপনাদের সময় তো আমাদের কলেজের বয়স ছিল অনেক কম। আর ফুটবল নিয়ে সিরিয়াসনেস ও কম ছিল। আমরা ফুটবলে খুব সিরিয়াস ছিলাম। আমাদের সময় কিন্তু আমাদের গোল গুনার জন্যও ক্যালকুলেটরের দরকার পড়েছিল। মাত্র ৪ ম্যাচে ১৬ গোল দিয়েছিলাম আমরা। হয়েছিলাম "আনবিটেন চ্যাম্পিয়ন"।

      আপনার টিম এবং আপনাকেও :salute:

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।