বলধা গার্ডেন – ঢাকা

যে কোন নগর সভ্যতার অন্যতম উপাদান বাগ-বাগিচা-উদ্যান। মুঘল সাম্রাজ্যের হাত ধরে ঢাকায় বাগ-বাগিচার সূচনা হয়, যেমনঃ বাগ-ই-বাদশাহী, নবাব বাগিচা, হাজারীবাগ, বাগ-ই-মুসা, বাগ হোসেনউদ্দিন ইত্যাদি। বৃটিশ আমলেও এই ধারা অব্যাহত থাকে, রমনা এর বড় উদাহরণ। দেশের জমিদারদের পাশাপাশি ঢাকার নবাব পরিবারও এক্ষেত্রে বেশ বড় ভূমিকা রাখে। রোজ গার্ডেন, শাহবাগ উদ্যান, মতিঝিল কিংবা দিলখুশা বাগানবাড়ি সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশী অবহিত। ১৭৬৫ খ্রীঃ বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাঙলার দেওয়ানি লাভ করে রাজধানী, ‘ঢাকা’ থেকে ‘কলকাতা’য় স্থানান্তর করলে মুঘল রাজধানী ঢাকা আবারও রাজধানীর গৌরব হারায়। এরপর বুড়িগঙ্গায় অ-নে-ক পানি গড়ায়, পাল্লা দিয়ে ঢাকাও এর জৌলুশ হারায়। এই সময় শুধু শহরের লোকসংখ্যাই ৯ লক্ষ থেকে ৫২ হাজারে কমে যায়, আয়তন ১৫০ বর্গমাইল থেকে ৪ বর্গমাইলে পরিনত হয়। বৃটিশ বেনিয়াদের ভারত সাম্রাজ্যের সূর্য্য যখন পড়ন্ত বিকেলে নুয়ে পড়তে শুরু করে অর্থাৎ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পেলে পর ঢাকার বহিঃবাণিজ্য, উৎপাদিত পণ্য, আঞ্চলিক ও স্থানীয় ব্যবসাপাতি ইত্যাদির কল্যাণে প্রশাসনের আমলা, বাঙলার অন্যান্য জেলায় ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালি, ঢাকা জেলার গ্রামীণ জনপথ থেকে আসা শ্রমিক, কারিগর, দেশী-বিদেশী বেনিয়া, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও ব্যাংকাররা ঢাকার নবাব পরিবারের নেতৃত্বে নতুন করে ঢাকাকে গড়ে তোলার প্রয়াস পায়। ফলে উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা এর হারানো মর্যাদা কিছুটা ফিরে পেতে থাকলে, ক্রমেই এই নগরে আবারও ভীড় বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সামন্ত-জমিদাররাও সামাজিক আভিজাত্য বজায় রাখতে ছুটে আসে রাজধানীতে। ফলে অচিরেই তৈরী হয় তাদের এক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বলয়। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বৃটিশরা। আর সেই বৃটিশ কালচক্রের অন্ধকার ধাঁধায় নিজের গাটির পয়সা ব্যয় করে, কখন কখন নিজের নামের মহিমা কীর্তনের জন্য তারা একে একে নামকরণ করেন/গড়ে তোলেন রাস্তা-ঘাট, অবসর কেন্দ্র, বাগানবাড়ি, মহল্লা আরও কত কি! মন্দেরও ভাল থাকে – এর ফলে ঢাকাবাসী পেল রাস্তায় বাতি, প্রশস্ত রাস্তা-ঘাট, সুউচ্চ দালানকোঠা আর বলধা গার্ডেনের মত আন্তর্জাতিক মানের একটি উদ্ভিদ উদ্যান।

ঢাকা রাজধানীর গুরুত্ব হারালে স্বাভাবিক কারণেই এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও সমানতালে হ্রাস পায়। এমনকি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাসমূহ যেমনঃ উত্তর-পূর্বে নারিন্দা, ফরিদাবাদ, আলমগঞ্জ; উত্তরে ফুলবাড়িয়া, দেওয়ান বাজার, মনোহর খান বাজার এবং উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমে ঢাকেশ্বরী, আজিমপুর ও এনায়েতগঞ্জ এলাকা সম্পূর্ন জনবিরল হয়ে পড়ে। উত্তর-পূর্বের ওয়ারীও উপরে উল্লিখিত এলাকার মত জনশূণ্য হয়ে পড়ে। এই ধারা ১৮৪০ খ্রীঃ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অবস্থার উন্নতিকল্পে ১৮৩৯ খ্রীঃ ওয়ারী মৌজার ২৭ একর ‘খাস মহল’ জমি সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘জঙ্গলবাড়ি মহল’ হিসাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। তাতেও অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হলে ১৮৭৬ খ্রীঃ ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি জমিটি কিনে উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়। জমির মূল্যমান আশানুরূপ বিবেচিত না হওয়ায় ১৮৮৫ খ্রীঃ সরকার নিজেই উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এখানে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঢাকার কালেক্টর মি. ফ্রেডারিক ওয়্যার এই উদ্যোগে আগ্রহ ও অগ্রণী ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তার সম্মানে ও নামানুসারে আবাসিক এলাকাটির নাম উয়ারী/ওয়ারী হয়। বিঘা প্রতি বার্ষিক ৬ টাকা হারে রাজস্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে ও আগামী ৩ বছরের মধ্যে একটি উন্নত ধরনের পাকা বাড়ি বানানোর শর্তে ডাক্তার, উকিল, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মত পেশাজীবীদের কাছে নির্ধারিত প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রশস্ত রাস্তাঘাট, পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন পদ্ধত্তি, বৈদ্যুতিক বাতির সুবিধাসহ খোলা আঙ্গিনার একতলা-দোতলা কাঠামোর নান্দনিক বাড়িঘরের ছবির মত সাজানো এলাকাটি অচিরেই ঢাকার একটি অভিজাত এলাকা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়ারী স্থানীয়দের কাছে পুরোনো ঢাকার রাজধানী বনে যায়। সত্যিকার অর্থেই ঢাকাবাসীর স্বাস্থ্যকর স্থান/স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবে অতি অল্প সময়ে ওয়ারী সকলের মনে স্থান করে নেয়। এই ওয়ারীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ১৯০৯ খ্রীঃ বাড়িসহ একটি উদ্যান তৈরী করেন।

বলধা জমিদার বংশের প্রধান পুরুষ রাজ কিশোর রায় চৌধুরী। গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের বলধা গ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তার জমিদারী ছিল। তিনি নিঃসন্তান থাকায় তার দত্তক পুত্র হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী জমিদারীর উত্তরাধিকারী হন। তিনিও ছিলেন নিঃসন্তান। ঠিক এই সময় ১৮৮০ খ্রীঃ এক শুভক্ষণে একই জেলার বাছা গ্রামে মহিমচন্দ্র ঘোষের বাড়ি আলো করে জম্ম গ্রহণ করেন নরেন্দ্র নারায়ণ। জমিদারি দেখভাল ও সন্তানের অভাব পূরণ করার জন্য হরেন্দ্র নারায়ণ নরেন্দ্র নারায়ণকে দত্তক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন। বালক নরেন্দ্র তার ১৪ বছর বয়সকালে জমিদারবাড়িতে পদার্পণ করেন। ছোটবেলায় হরেন্দ্র নারায়ণ তাকে পুত্র স্নেহে গড়ে তোলার পাশাপশি উপযুক্ত শিক্ষাও দেন। ফলে নরেন্দ্র ইংরেজীর পাশাপাশি আরবী, ফার্সী ও সংস্কৃত অধ্যায়ন করেন। যৌবনকালে তিনি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া নিবাসী শ্রী গুহঠাকুরতার মেয়ে মৃণালিনী দেবীকে শাস্ত্র মোতাবেক বিয়ে করে ঘরে তুলে আনেন। তাদের ঘর আলো করে দু’সন্তানের জম্ম হয়। হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ঋণগ্রস্থ অবস্থায় বলধার জমিদারীর দায়িত্ব নরেন্দ্র নারায়ণের ঘাড়ে চাপিয়ে পরলোকগত হন। নিজ মেধা, পরিশ্রম ও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী থুবড়ে পড়া বলধা জমিদারী পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এই সময় তিনি প্রচুর অর্থ-বিত্তেরও অধিকারী হন। মেধাবী এই জমিদার কালে তার নানা গুনের পরিচয় রেখে যান। তিনি যেমন ছিলেন সংস্কৃতিমনা, তেমনি ছিলেন একজন সুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও নাট্যকার। তার লেখা ‘ধুমকেতু’ নাটক তার অমর কীর্তি। তিনি ঐতিহ্য সংরক্ষণের একজন অগ্রপথিক। বইয়ের প্রতি তার যে অকৃত্রিম ভালবাসা ছিল তা তার সংগ্রহে থাকা ১৩৮টি বই দেখে সহজেই বোঝা যায়।

জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধূরীর ঢাকার কাফরুল, তেজকুনিপাড়া ও ওয়ারী এলাকাতে বেশ কিছু ভূ-সম্পত্তি ছিল। অন্যান্য জমিদারদের সাথে তাল মিলিয়ে অভিজাত এলাকা ওয়ারীতে তিনি একটি বাগানবাড়ি তৈরী করেন। বাড়ির নাম দেন ‘কালচার’। এই বাগানবাড়ির সুপরিসর চত্বরে নিজ উদ্যোগে ১৯০৯ খ্রীঃ একটি বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের উদ্ভিদ উদ্যানের মধ্যে যা আজ অন্যতম প্রাচীন উদ্যান হিসাবে সকলের কাছে সুপরিচিত। সংস্কৃতিমনা জমিদার বাগানের নাম দেন ‘সাইকি’।

সাইকি

গ্রীক পুরাণের প্রেমের দেবতা কিউপিডের সুন্দরী স্ত্রী সাইকি। সাইকি অর্থ আত্মা, আমরা বাঙলায় বলি মানস। আগেই বলেছি জমিদারবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছিল বাগানটি। উঁচু পাঁচিলে ঘেরা দোতলা এই বাড়িতে নরেন্দ্র নারায়ণ কেবল অবসরই কাটাতেন না বরং তিনি এখানে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাও করতেন। ফলে অচিরেই বাগানবাড়িটি রাজধানীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে সূধীমহলে পরিচিতি লাভ করে। এখানে নিয়মিত গান-বাজনার আসর বসতে থাকে আর সংগত কারণেই অনেক গুনী মানুষের পদচারণায় সর্বদা মুখরিত থাকত এর প্রাঙ্গন।

দীর্ঘ সময় নিয়ে নরেন্দ্র নারায়ণ সাইকিকে পরম যত্নে গড়ে তোলেন। প্রাচীর ঘেরা জমিদারবাড়িসহ বাগানটির দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার। প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভিতরে ঢুকতেই হাতের দু’পাশে শাপলা ও পদ্মপুকর। পদ্মপুকুর ১২ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো। এখানে যেটি সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ে তা হল নীল, লাল, হলুদ, সাদা ও থাই-বেগুনী শাপলাসহ হরেক জাতের শাপলা। একটু সামনে এগোলেই হাতের ডানপাশে কণকসুধা, রোজ ক্যকটাস ও প্যাপিরাস গাছ। আর বায়ে ঘৃতকুমারীসহ নানাজাতের ঔষধি গাছ, পদ্ম, আমাজান পদ্ম, অর্কিড ঘর, হংসলতা ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যাবে। এর পাশেই জমিদারবাড়ি ও জাদুঘর। আগেই উল্লেখ করেছি, জমিদারবাড়িটির নাম ‘কালচার’ আর এখানে প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিগত/পারিবারিক জাদুঘরটি ‘বলধা জাদুঘর’ হিসাবে নামকরণ করা হয়। জমিদারবাড়ির নীচ তলার ৪টি কক্ষে জাদুঘরটি ১৯২৫ খ্রীঃ থেকে যাত্রা শুরু করে। নরেন্দ্র নারায়ণ জাদুঘরের জন্য সূচি-শিল্পকর্ম, পুঁতি, ধাতব মূর্তি, বিশাল ২টি কড়াই, গৃহস্থলী সামগ্রী, বই, হাতির দাঁতের ও রূপার ঝালরের কারুকর্ম, প্রবাল ও সামুদ্রিক দ্রব্যাদি, গ্রাম ও শহুরে জীবনের নমুনা, মধ্যযুগের যুদ্ধাস্ত্র ও পোষাকসহ নানান প্রাচীন নিদর্শনাদি সংগ্রহ করেছিলেন। একটি সূত্র থেকে জানলাম, তার সংগৃহীত নিদর্শনাদির সংখ্যা নাকি প্রায় ৪,০০০ মত ছিল। তবে উল্লেথ করা প্রয়োজন যে, এসব নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম ছিল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ‘ফিরাঙ্গী’ নামের ও মহীশূরের বাঘ টিপু সুলতানের ব্যবহৃত ‘তলোয়ার’ নামের তরবারি দু’টি। সিরাজের তরবারিটি তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। এ বাদে, এই বাড়ির কয়েকটি ঘর রঙমহল হিসাবে ব্যবহৃত হতো।

জাদুঘরের একটু ডানের দিকে গেলে জ্যাকুইনিয়া, শারদমল্লিকা, কন্টকলতা, গুস্তফা, হিং, শ্বেতচন্দন, সাইকাস, স্বর্ণ অশোক, সাদা ও গোলাপী ক্যামেলিয়া, রাজ অশোক, কুর্চি, ভূর্জপত্র, পাম ইত্যাদি গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এর ডান পাশেই রয়েছে ক্যাকটাস ঘর। তাছাড়া অপরাজিতা, অ্যারোপয়জন, আফ্রিকান বকুল, উদয়পদ্ম, ওলিওপ্রেগর‌্যান্স, ক্যানেঙ্গা, জিঙ্গোবাইলোবা, জবা, নাইট কুইন, নাগলিঙ্গম, নবমল্লিকা, রাজ অশোক, র‌্যাভেনিয়া, লতাচালতা গাছও রয়েছে।

১৯২৬ খ্রীঃ ১০ ফেব্রুয়ারী তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ঢাকা সফর করেন তখন ক্লান্ত শরীর জুড়াতে বলধার জমিদারবাড়িতে পদধূলি দেন। তিনি এখানকার ক্যামেলিয়া ফুল দেখে ভীষণ মুগ্ধ হন আর সৃষ্টি করেন এক অমর কবিতা ‘ক্যামেলিয়া’। কেউ কেউ বলেন, কবিতাটি তিনি এখানে বসেই লিখেছিলেন আবার কারোর ধারনা এখান থেকে ফিরে কলকাতায় বসে তা রচনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে কবিতাখানি অন্তর্ভূক্ত করে পাঠকদের দ্বারে পৌঁছে দেন। আরও পরে এই কবিতাকে উপজীব্য করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। রবি ঠাকুর নাকি এখানে অনেক বিদেশী ফুলের বাংলা নামকরণও করেছিলেন। যাহোক, ক্যামেলিয়া গাছ নরেন্দ্র নারায়ণ জাপান থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। আজও এই বাগানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ক্যামেলিয়া হাউজ। এখানে নানা জাতের ক্যামেলিয়া ফুলের গাছ রয়েছে। সাধারনত ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে ক্যামেলিয়া গাছে ফুল আসে। সে সময় এই বাগান দেখতে বেশ লাগে। পাঠকদের সুবিধার্থে ক্যামেলিয়া কবিতার চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করলামঃ

‘‘যেদিন নেমে আসব তার দু দিন আগে তনুকা বললে,
একটি জিনিস দেব আপনাকে, যাতে মনে থাকবে আমাদের কথা —
একটি ফুলের গাছ।’
এ এক উৎপাত। চুপ করে রইলেম।
তনুকা বললে, ‘দামি দুর্লভ গাছ,
এ দেশের মাটিতে অনেক যত্নে বাঁচে।’
জিগেস করলেম, ‘নামটা কী?’
সে বললে ‘ক্যামেলিয়া’।

বাগানে থাকা উদ্ভিদ রাশির মধ্যে সেঞ্চুরী প্লান্ট এখানকার সংগ্রহের এক অনবদ্য স্মারক। আমরা সবাই জানি এই গাছে এক শতাব্দীতে একবার ফুল ফোঁটে, সর্বশেষ ২০০০ খ্রীঃ ফুল ফুটেছিল। বাওবাব নামের আফ্রিকান একটি গাছ নরেন্দ্র নারায়ণ আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। জানা যায়, আদি মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণ/মমি’র জন্য এই গাছ ব্যবহার করত। আরেকটি উল্লেখ করার মত গাছ হল ভূর্জপত্র – আমাদের দেশের এটি একটি দূষ্প্রাপ্য গাছ। কাগজ আবিষ্কারের পূর্বে এই গাছের বাকলের উপর লেখালেখি করা হত। এখানে ১৬ প্রজাতির পাম গাছ আছে। সব মিলিয়ে এখানে ১টি অর্কিড ঘর, ৩টি ক্যাকটাস ঘর, ১টি পটিং ঘর, ২টি ছায়াঘর আছে। কৃত্রিম সুরঙ্গ করে সেখানে নানা জাতের ফার্ণ লাগিয়েছিলেন নরেন্দ্র নারায়ণ। সাইকিতে তিনি প্রায় ৪৫০ প্রজাতির উদ্ভিদের বিরল সম্ভার গড়ে তুলেছিলেন। বাগানের হরেক বাহারের ফুল ও শৌখিন গাছপালা বিশেষ করে ক্যকটাসের সম্ভার দেখে মুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুখে মুখে রচনা করেনঃ

‘‘কাঁটায় আমার অপরাধ আছে

দোষ নাহি মোর ফুলে।

কাঁটা থাক মোর, ওগো প্রিয়তম

ফুল তুমি নিও তুলে।”

সিবিলী

নরেন্দ্র নারায়ণ ১৯৩৬ খ্রীঃ পর্যন্ত তিল তিল করে সাইকিকে নিজ হাতে গড়ে তোলেন। কিন্তু দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদ সংগ্রহের নেশা যে তখন তার তুঙ্গে। তাই তিনি এর পরিধিকে আরো বৃদ্ধি করতে চাইলেন। কিন্তু চাইলেই ত আর সব হয়ে যায় না, এর জন্য পর্যাপ্ত জমির প্রয়োজন। তার বাড়ির উত্তর পাশেই রয়েছে লালমোহন সাহাদের বাগানবাড়ি। ২.২৫ একরের সেই বাগানবাড়ি তিনি খরিদ করে, নব উদ্যোমে নেমে পড়লেন বাগান বর্ধিতকরণের কাজে। এই বাগানের নাম রাখলেন ‘সিবিলী’ – ফ্রিজিয়ার পৌরানিক কাহিণীর উর্বরতার দেবী হিসেবে যিনি আমাদের কাছে পরিচিত। সিবিলী বাগানটি আয়তকার তবে এর উত্তর দিকের কোণার একটু অংশ কাটা। এর দৈর্ঘ্য ১৩৬ মিটার ও প্রস্থ ৭৬ মিটার।

সিবিলীতে ঢুকতেই পথের দু’ধারের সারি সারি উদয়পদ্ম আপনাকে সাদর সম্ভাষণ জানাবে। পথ ধরে সামনে এগোলেই পাবেন অ্যারোপয়জন, কাউফল, কণকচাঁপা, কণকসুধা, কপসিয়া, দেবকাঞ্চন, লতাজবা, স্কারলেট কর্ডিয়া ইত্যাদি গাছ। সামনে এগোলে হাতের বায়ে একটি জলাধার আর ডানে সূর্যঘড়ি। নরেন্দ্র নারায়ণ যখন সিবিলীর কাজ শুরু করেন তখন সেখানে ছিল একটি ডোবা ও এই সূর্যঘড়িটি। সেই ডোবাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ বিঘা জমির উপর তিনি একটি মনোরম দিঘী খনন করলেন যা আমরা আজ শঙ্খনদ নামে চিনি। শঙ্খনদ পুকুরের দু’ধারে শান বাঁধানো ঘাট রয়েছে। সেখানে নানান জাতের জলজ উদ্ভিদেরও দেখা মিলবে। পুকরের বায়ে কোণার দিকে মুচকুন্দ ও ডানে পোর্টল্যান্ডিয়া দেখতে পাবেন। দিঘীর পশ্চিম পাড়ে অ্যাম্পিথিয়েটারসহ একটি দোতলা অতিথিশালা আছে যার নাম ‘জয় হাউজ’। এর লোহার সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা যায়, সেখানে সামনের তিনদিক খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাগানের মনোরম দৃশ্য সত্যিই স্বর্গীয়।

আগেই বলেছিলাম, শঙ্খনদের বিপরীত দিকে পায়ে চলা পথের ডানপাশে আছে একটি সূর্য্য ঘড়ি। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সময় দেখা যায় এই ঘড়িতে। আনুমানিক ৫,৫০০ বছর আগে মিশরীয় ও ব্যবলনীয় সভ্যতায় প্রাকৃতিক উপায়ে সময় দেখার মাধ্যম হিসেবে সূর্য্য ঘড়ির প্রচলন শুরু হয়। সময় জানানোর পাশাপাশি বাগানের শোভাবর্ধনেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এসেই যখন পড়লেন, আপনার ঘড়ির সময়টিও না হয় মিলিয়ে দেখলেন।

সিবিলীতে আরও যে সমস্ত গাছ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ অশোক (রাজ, স্বর্ণ), আফ্রিকান টিউলিপ (রদ্র পলাশ), আমাজন লিলি, ইয়ক্কা, এলাচি ফুল, কদম, কণকসুধা, ক্যানেঙ্গা, ক্যামেলিয়া, কৃষ্ণ বট, কেয়া, গড়শিঙ্গা, চালতা, ছায়াতরু, ঝুমকো লতা, নীল শাপলা, পাথিফুল, পান্থপাদম, পারুল, মাধবী, লুকলুকি, শতমূলী, সাদা অপরাজিতা ইত্যাদি। এছাড়া এখানে সব মিলে ১টি ক্যামেলিয়া ঘর, ১টি অর্কিড ঘর ও ১টি চারাগাছের ভান্ডার/ঘর আছে।

বলধা গার্ডেন

আমরা জানলাম যে, নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী তার বাড়ির দু’টি অংশে বাগান করেছিলেন। বাগানদ্বয়ের মাঝখান দিয়ে সোজা যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটা – নবাব স্ট্রীট। এই দু’অংশেরই একটি করে নামও তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বাগানের নাম তিনি ‘বলধা গার্ডেন’ দেননি। যেহেতু তিনি বলধার জমিদার ছিলেন সেহেতু এক সময় বাগান দুটিকে একত্রে ‘বলধা গার্ডেন’ নামে ডাকা হতে থাকে। দু’টি বাগানের মোট জমির পরিমান ৩.৮ একর। সাইকি অংশটি সিবিলী থেকে ছোট। এখানে ৮৭টি উদ্ভিদ পরিবারভূক্ত, ৩৩৯টি জেনারের ৬৭২ প্রজাতির, প্রায় ২৫,০০০ গাছের নমুনা আছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ করে এখানে রোপন করা হয়। প্রায় ৫০টি দেশ থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকা, জাপান, জাভা, আফ্রিকা, মাদাগাসকার, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া উল্লেখযোগ্য।

সংগৃহীত এইসব গাছসমূহকে মোট ৭টি বিভাগে ভাগ করা যায়, যেমনঃ অর্কিড, ক্যাকটাস, গ্রীনহাউজের গাছপালা, জলজ, গোলাপ, শিলালগ্ন প্রজাতি ও দেওয়াল লতা, বৃক্ষশালা ও বিবিধ। এখানে অবস্থিত উল্লেখযোগ্য গাছের একটি তালিকা আগ্রহী পাঠকদের জন্য নিম্নে প্রদত্ত হলঃ

অক্রকারপাস ঘৃতকাঞ্চন বুদ্ধ নারিকেল
অঞ্জন চালতা ব্রণস ফেলসিয়া
অশোক (রাজ, স্বর্ণ) জুঁই বহেরা
আফ্রিকান টিউলিপ (রদ্র পলাশ) জাভা আপেল ভেউয়া
আমাজন লিলি জামরুল ভূর্জপত্র
ইয়ক্কা ঝুমকো লতা ম্যগনোলিয়া
এ্যামহাস্টিয়া টিউলিপ মাধবী
এলাচি ফুল টগর মহুয়া
উভারিয়া ট্যাবুইবিয়া রাংগা
ওলিয়া ডেরিস রুপেলিয়া
কোকো তেঁতুল (মিষ্টি) রাবার
কাঁঠাল তাল গাছ লুকলুকি
কর্ডিয়া ধূপগাছ লতাজবা
কদম নাগলিঙ্গম শতমূলী
কণকচাপা নীলপদ্ম শারদমল্লিকা
কণকসুধা নীলমনিলতা সোনালী বাঁশ
ক্যানেঙ্গা নীল শাপলা সুপারী
ক্যান্ডল পাথিফুল সফেদা
ক্যামেলিয়া পজোকার্পাস সাদা অপরাজিতা
কামরাঙ্গা পোর্টল্যান্ডিয়া সাদা শিমুল
কর্পূর প্যাপিরাস স্যালিক্স
কৃষ্ণবট পারুল হরিতকি
কেয়া ফণিমনসা হলুদ শাপলা
খেঁজুর বাওবাব হিং
গড়শিঙ্গা ব্রাউনিয়া
ঘৃতকুমারী বোতল পাম

বর্তমানে এখানে ৯৫০টি দূর্লভ প্রজাতির গাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৩০০ টি গাছ অতি বিরল প্রজাতি হিসাবে স্বীকৃত। এছাড়াও ৭০ প্রজাতির ক্যকটাস, ২০০ প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। গোলাপের বাহারী সমাহারের কারণে গোলাপ বাগানটি এক সময় উপমহাদেশে বিখ্যাত ছিল। আরো আছে লতা, গুল্ম, শোভাবর্ধক গাছগাছালি ও ঔষধি গাছের সম্ভার। এখানে এমন অনেক গাছ আছে যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। ভিনদেশী/বিচিত্র প্রজাতির গাছের সংগ্রহের তালিকা বিবেচনায় নিলে সম্ভবত বলধা গার্ডেন দেশের সবচেয়ে সম্মৃদ্ধ উদ্যান।

সাইকি অংশটিতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। শুধু গবেষকরা গবেষণার কাজে এখানে প্রবেশের অনুমতি পান কারণ এখানে এমন কিছু সংবেদনশীল গাছ আছে যা মানুষের সমাগম/চলাচলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। সিবিলী অংশ দর্শণার্থীদের জন্য উম্মুক্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখান থেকে অনেক দূষ্প্রাপ্য গাছ ইতিমধ্যেই হারিয়ে গেছে। এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ ছিল। এখন অনেকগুলো নেই। বাওবাব, সুপার পাইন কিংবা প্যাপিরাস গাছটি আর এখানে দেখা যাবে না। রুদ্র পলাশ গাছটি কয়েক বছর আগে ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে। জীবণচক্র পূর্ণ করায় শতবর্ষী সুগার পাম গাছটি মরে গেছে। চন্দন গাছের একমাত্র গাছটিও যাব যাব অবস্থা। আর এসব হারিয়ে যাবেই না বা কেনো? গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে নামফলক লাগালে গাছের যে ক্ষতি হয় তা ত একটা অবুঝ শিশুও বোঝে, হয়ত আমরা বড়রা তা বুঝি না! আসলে ১৯৪০ খ্রীঃ নরেন্দ্র নারায়ণের একমাত্র ছেলে নৃপেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ‘কালচার’-এ যেদিন নিজ শয়নকক্ষে খুন হন, মুলতঃ সেদিন থেকেই রুদ্ধ হয়ে যায় বাগানের সামনে চলার পথ।

১৩ আগষ্ট ১৯৪৩ খ্রীঃ নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী পুত্র শোক ও বার্ধক্যজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হন। তিনি ও তার ছেলে উভয়ই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সিবিলী অংশে। জয় হাউজ ও শঙ্খনিধি পুকুরের সামনে পায়ে চলা পথের ডান পাশে নরেন্দ্র নারায়ণের সমাধি আর পুকুরের বায়ে নৃপেন্দ্র নারায়ণের সমাধি দেখতে পাবেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নরেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যুর পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে বলধা গার্ডেন। ক্ষণিকের তরে থমকে যায় এর গতি। এরপর অমিতলাল আচার্যের উপর বর্তায় বাগানের দেখভালের দায়িত্ব। তাতেও রক্ষা হয় না, শুরু হয় বাগানের করূণ পরিনতি। যদিও এই সময় কলকাতা হাই কোর্ট একটি ট্রাস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাগান দেখভালের দায়িত্ব নেয় তবুও ১৯৪৭ খ্রীঃ দেশভাগের পর বাগানের অবক্ষয় ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। বাগানটি প্রায় পরিত্যাক্ত হয়ে যাবার উপক্রম হলে ১৯৫১ খ্রীঃ থেকে ১৯৬২ খ্রীঃ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার কোর্ট অব ওয়ার্ডসকে তত্ত্বাবধানের জন্য নিয়োগ করে। অবশ্য নরেন্দ্র নারায়ণ বাগান ও জাদুঘরের জন্য নিজ এস্টেটের আয় থেকে সকল ব্যয় বহন করার জন্য উইল করে গিয়েছিলেন। তবুও অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ১৯৬২ খ্রীঃ নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর নাতি পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট বাগানটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

‘বলধা জাদুঘর’টি বেশ সম্মৃদ্ধ ছিল বলেই মনে হয়। তবে নরেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যূর পর সম্ভবতঃ বেশ কিছু নিদর্শন বেহাত হয়ে যায়। তারপরও যা কিছু বাকী ছিল সে সবের প্রায় ২,০০০ নিদর্শন তার পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তীকালে নিমতলী দেউড়িতে অবস্থিত ঢাকা জাদুঘর (বর্তমানে শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর) এ হস্তান্তর করা হয়। পাঠাগারের বই, জর্ণাল, পত্র-পত্রিকাগুলো জাতীয় জাদুঘরের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাগার ও কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থগারে হস্তান্তর করা হয়।

বলধা গার্ডেনের সাথে রোজ গার্ডেনকে নিয়ে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। আমরা আমাদের আলোচনা থেকে জানতে পারলাম যে, সেকালে নরেন্দ্র নারায়ণের বাগানবাড়িতে নানা সাংস্কৃতিক আসর বসত। আয়োজন থাকত নানা অনুষ্ঠানের, জলসারও ব্যবস্থা ছিল। আশে পাশে জমিদার ও গণ্যমান্যরা সেখানে প্রায়শঃ যোগ দিতেন। এমনই এক সন্ধ্যায় জমিদার ও ঢাকার ধনী ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস আমন্ত্রণ ছাড়াই আসরে যোগ দিতে চলে আসেন এখানে। কিন্তু তিনি নিম্ন বর্ণের/ছোট জাতের এই ধুয়া তুলে তাকে বাড়ির ভিতর ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়। রাগে-অভিমানে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন আর এই অপমানের শোধ তুলতেই টিকাটুলীতে নির্মাণ করেন ‘রোজ গার্ডেন’। বোধ করি ঋষিকেশ মহাশয় জমিদারবাড়ির ছাদের গায়ে উৎকীর্ণ `Aesthetic and Aristocratic Association’ লেখার মর্ম সচেতনভাবেই উপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

বর্তমান হালচাল

গার্ডেনটি এখন বন বিভাগের মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের স্যাটেলাইট ইউনিট হিসাবে সংরক্ষিত। বন বিভাগের উদ্যেগে গোলাপসহ নতুন কিছু গাছ এখানে লাগানো হয়েছে। আর এখান থেকে বেশ কিছু গাছের কলম বা চারা মিরপুর বোটানিকেল গার্ডেনে স্থানান্তর করা হয়েছে/হচ্ছে। গাছ-গাছালি ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে থাকা জীব-কীট/বাদুর আর পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুখর থাকা উদ্যানটি জনমনে যে প্রশান্তি এনে দিত তা আজ আর আগের মত নেই। নানা ধরনের অসুবিধা, সমস্যা আর সঙ্কটে পড়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই উদ্যানটি। এখানে তার কিছু নমুনা উপস্থাপন করা হলঃ

বর্তমানে বাগানে মারাত্মক পানির সঙ্কট চলছে। ফলে বাগানের উদ্ভিদরাজি ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন গাছে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া যাচ্ছে না তেমনি শঙ্খনদের পানি পরিবর্তন না করায় পানির রঙ বিবর্ণ ও দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যে আনুমানিক ১৫০ টি গাছ পানির অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে, পানির গভীর নলকূপ বসানোর জন্য বলধা গার্ডেন কতৃপক্ষ ঢাকা ওয়াসাকে ১২০০ বর্গফুট জায়গা দেয়। নলকূপ সাইকি অংশে বসানোও হয়েছে। তবুও সমস্যার কোন আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

বাগানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সঞ্চালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়েছে। এতে গাছগুলোর সালোক-সংশ্লেষে নাভিশ্বাস উঠছে। এমনকি সূর্য্য ঘড়িটি আলোর অভাবে সময় নির্দেশ করতে পারছে না। চারিদিকে সুউচ্চ ভবনের দাম্ভিক উপস্থিতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ব্যাস্ত নগরের ভারী বাতাস, সংলগ্ন উড়াল সেতু ইত্যাদি এসবের মূল কারণ। তাছাড়া রাস্তা উঁচু করার ফলে বৃষ্টির পানি বাগানে প্রবেশ করা, পানি নিষ্কাশনের অপব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্নতা, অপর্যাপ্ত পরিচর্যা, দূর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অদূরদর্শীতা, অযত্ন আর অবহেলা – এসবই এই উদ্যানের অপার্থিব নির্জনতাকে স্থবির করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পয়ঃ-নিষ্কাশনের পানি নাকি বাগানে প্রবেশ করে অনেক গাছের মৃত্যূর কারণ হয়েছে। অথচ আমরা জানি, ১৯১৯ খ্রীঃ ওয়ারীতে ঢাকার প্রথম পয়ঃ-নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ের ছাত্রদের জন্য এই বাগান একটি জীবন্ত গবেষণাগার। কারো কারো মতে এটি উদ্ভিদের জীবন্ত অভিধানও বটে। এক সময় সনাতন ধর্মীয়রা এখানে আসতেন পূজা দিতে ও ফুল সংগ্রহ করতে। কেউ বা আসতেন প্রাতঃ ভ্রমণের জন্য, শরীর চর্চার জন্য। জানা যায়, বলধা গার্ডেনের সব সংগ্রহের উৎস, পরিচয়, পরিচর্যার পদ্ধতি, গুণাগুণ ইত্যাদি খুটিনাটি সব লিপিবদ্ধ ছিল – কোথায় সেসব?

বলধা গার্ডেন শুধু আমাদের ঐতিহ্যই নয় বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকা শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোন দেশের ভূখন্ডের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা উচিৎ। দেখা যাচ্ছে, জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দেশের মোট বনভূমির পরিমান শতকরা ১৩ ভাগ আর বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী ১৭ শতাংশ। মানব বসবাসযোগ্য পৃথিবী রক্ষায় প্রকৃতি ও পরিবেশ কি ভূমিকা রাখে তা এখানকার আলোচনার বিষয় নয়। তবে এটা আমাদের সকলকে মানতেই হবে যে, বনভূমি ধ্বংস নয় বরং সর্বান্তকরণে রক্ষা করাই হবে প্রধান বিবেচ্য। দেশের বিভিন্ন উদ্ভিদ উদ্যানও মোট বনভূমি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। যা আছে তা ত নষ্ট করা যাবেই না বরং কিভাবে পরিমান বাড়ানো যায় সে দিকে নজর দিতে হবে – এই যখন অবস্থা তখন বলধা গার্ডেনের মত সম্মৃদ্ধ একটি বাগান রক্ষায় আর কোন উদ্দেশ্যর প্রয়োজন আছে কি?

ওয়ারী বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন। নারিন্দা রোড – লালমোহন সাহা স্ট্রীট দিয়ে ঢুকলেই হাতের বায়ে নারিন্দা খ্রীষ্টান গোরস্থান আর ডানে বলধা গার্ডেন। নবাব স্ট্রীট বলধা গার্ডেনকে দু’ভাগে বিচ্ছিন্ন করে লারমিনি স্ট্রীটের দিকে চলে গেছে। অভিজাত এলাকা হিসাবে উথান হলেও কালের পরিক্রমায় ওয়ারী আর বলধা গার্ডেন সমার্থক হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক উদ্যানটি আজ আমাদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। যে ব্যক্তিগত আগ্রহ আর পরিশ্রমে বাগানটি তৈরী হয়েছিল, সময়ের সে দায় মিটেছে শতবর্ষ আগে। এখন তা রক্ষার দায় আমাদের সকলের। এই উদ্যানের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে অনেক বিখ্যাত মানুষের অস্তিত্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনকেও এখানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৮ খ্রীঃ অমর্ত্য সেন নিজ হাতে ‘রাজ অশোক’ নামের একটি গাছের চারা এখানে রোপন করেন।

বলধা গার্ডেন নিয়ে সুশীল সমাজ আজ সত্যিকার অর্থেই ভীষণ উদ্বিগ্ন। ফেব্রুয়ারীর বইমেলাতেও বিদগ্ধ আলোচকেরা এর ঐতিহাসিক পটভূমি, গুরুত্ব, মূল্যায়ন, সংরক্ষণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সকলের দৃষ্টি আকর্ষনের চেস্টা করে চলেছেন। দৈনিক পত্রিকাসহ সকল গণ-মাধ্যমও তাদের সাধ্যমত প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। সরকারও চুপচাপ বসে নেই, সীমিত সম্পদ দিয়ে যথাসাধ্য তত্বাবধানে ত্রূটি নেই। তবুও দিন দিন নির্জীব, ক্ষয়, ধ্বংসের দিকে কেনো অমূল্য বাগানটি ধাবিত হচ্ছে? তার কারণ, আমাদের সাধারন জনগনের অসচেতনতা, নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতি, উদাসীনতা। আমরা প্রত্যেকেই যদি একটু আন্তরিক হই তাহলে শুধু বলধা গার্ডেন নয়, তাবৎ দেশটার চেহারাই বদলে যাবে।

বলধা গার্ডেনকে আন্তরিকভাবে যত্ন করে পরিপাটিভাবে রক্ষা করলে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক একটি বাগান আগামী দিনের স্মারক হয়ে থাকবে, তেমনি পর্যটকদের জন্যও হবে একটি আকর্ষনীয় স্থান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হবে জীবন্ত এক উদ্ভিদ গবেষণাগার। সকল স্তরের উদ্ভিদবিদ্যা ছাত্রদের জন্য এটি হবে প্রাকৃতিক পাঠাগার। প্রতিটি গাছের খুটিনাটি থেকে শুরু করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। সেই সাথে গাছের পরিচিতি নির্দেশকগুলো আধুনিক ও তথ্যসম্মৃদ্ধ করা যেতে পারে। সকল ঋতুতে দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাচ্ছন্দে বাগানে বেড়াতে পারে (বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকা, কাদা-মাটি) সেদিকে খেয়াল রেখে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়নের বলধা গ্রামে বলধা জমিদারবাড়ি ধ্বংস হয়েছে অনেককাল আগেই। এখন এই বাগানটিও ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নরেন্দ্র নারায়ণের কলকাতা ও দার্জিলিং এ ২টি করে, লখনৌ ও পুরীতে ১টি করে ও ঢাকার তেজগাঁওয়ের ‘নিফম হাউজ’ নামের আরেকটি বাগানবাড়ি ছিল। কে জানে সে সবের আজ কি দশা!!! হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই, হারাতে বসেছি আরও কিছু। তবুও চোখের সামনে এমন ক্ষয় মেনে নেই কি করে? বলধা গার্ডেন পরিচালনা করার জন্য নিজের এস্টেটের আয় উইল করে দেবার পরও শেষ রক্ষা কি হবে?

নরেন্দ্র নারায়ণের সমাধির এপিটাফে লেখা আছে “দাঁড়াও পথিকবর, আমাকে একটি ফুল দিয়ে যাও, বিদায়” … ভীরু মন – তাই সংশয় জাগে, আসছে দিনে, নিবেদন করার মত একটি ফুলও কি আর ফুটবে তার বাগানে!!!

২৫ আগষ্ট ২০২০/ঢাকা-১২৩০

mamun.380@gmail.com

তথ্যসূত্রঃ

বই

১. ৬৪ জেলা ভ্রমণ, লিয়াকত হোসেন খোকন, অনিন্দ্য প্রকাশ, ফেব্রূয়ারী ২০০৭ খ্রীঃ, পৃঃ ৪৯/৫৭/

২. ঐতিহাসিক ঢাকা মহানগরীঃ বিবর্তন ও সম্ভাবনা, সম্পাদনাঃ ইফতিখার-উল-আউয়াল, ডিসেম্বর ২০০৩ খ্রীঃ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, পৃt ৪৪৫/৪৪৮/৫৪২/৫৪৩/৫৪৫/

৩. গ্রাফোসম্যানের ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা, সম্পাদনা ড. ছন্দশ্রী পাল, প্রথম সংস্করণ একুশে বইমেলা, ফেব্রূয়ারী ২০০৬ খ্রীঃ, গ্রাফোসম্যানের, পৃঃ ৩৫/

৪. ঢাকা অভিধান, খন্দকার মাহমুদুল হাসান, ফেব্রূয়ারী ২০১৪ খ্রীঃ, ঐতিহ্য, পৃt ১০২/২৭৩/৩৩০/

৫. ঢাকা ইতিহাস ও ঐতিহ্য, এ কে এম শাহনাওয়াজ, প্রথম প্রকাশ ফেব্রূয়ারী ২০১৮ খ্রীঃ, নভেল পাবলিশিং হাউজ, পৃঃ ৪২/

৬. ঢাকা ইতিহাস ও নগর জীবন ১৮৪০-১৯২১, শরীফ উদ্দিন আহমেদ, ফেব্রূয়ারী ২০০১ খ্রীঃ, একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লিমিটেড ঢাকা, পৃt ১৪৮/১৫৬-১৫৭/৩০৮/

৭. ঢাকা পুরান, মীজানুর রহমান, জানুয়ারী ২০১১ খ্রীঃ, প্রথমা, পৃt ৩৫/

৮. ঢাকাঃস্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসীর মামুন, ১৯৯৩ খ্রীঃ, অনন্যা, পৃঃ ২৩৩/

৯. ঢাকার প্রথম, মুনতাসীর মামুন, ফেব্রূয়ারী ২০১৭ খ্রীঃ, সুবর্ণ, পৃঃ ৭৭/

১০. ঢাকার প্রাচীন নিদর্শন, স্যর চার্লস ড’য়েলী ভাষান্তরঃ শাহ মুহাম্মদ নাজমুল আলম, দ্বিতীয় মুদ্রণঃ জুন ২০০৪ খ্রীঃ, একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লিমিটেড ঢাকা, পৃঃ ৩১/৩৩/

১১. পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ফেব্রূয়ারী ২০০৭ খ্রীঃ, মাওলা ব্রাদার্স, পৃঃ ৬৫/

১২. পর্যটন নগরী ঢাকা, কাজী জিলহাজ, ফেব্রূয়ারী ২০১৪ খ্রীঃ, ন্যাশনাল পাবলিকেশন, পৃঃ ১০৪/

১৩. DHAKA A record of Its Changing Fortunes, Ahmad Hasan Dani, Editor Abdul Momin Chowdhury, Third Revised Edition 2009 AD, Asiatic Society of Bangladesh, পৃঃ ১০১/১৭৯/২০৮-২১০/২১১/

১৪. DHAKA PAST PRESENT FUTURE, Editor Sharif Uddin Ahmed, Second Edition 2009 AD, Asiatic Society of Bangladesh, পৃঃ ৬৫/৬৮/

পত্র-পত্রিকা

১. বলধা গার্ডেনে এক চক্কর, দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগষ্ট ২০০২ খ্রীঃ

২. ঐতিহ্যের পুরান ঢাকা, দৈনিক প্রথম আলো, ০৮ এপ্রিল ২০০৩ খ্রীঃ

৩. ছুটির দিনের ডাকা কোথায় কেখন কি দেখবন, প্রণয় পলিকার্প রোজারিও, দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ অক্টোবর ২০০৪ খ্রীঃ

৪. ঢাকার ৯৩টি স্থাপনা ও সাত এলাকা সংরক্ষিত ঘোষণা, কয়েকটি নষ্ট করা হয়েছে, কিছু বেদখল, অরূপ দত্ত ও ওয়াসেক বিল্লাহ, দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ মার্চ ২০০৯ খ্রীঃ

৫. বলধা গার্ডেন হারাচ্ছে আপন বৈশিষ্ট্য, দৈনিক ইত্তেফাক, ২৮ জুন ২০১২ খ্রীঃ

৬. দেশজুড়ে যা দেখার আছে, দৈনিক যুগান্তর, ১০ আগষ্ট ২০১২ খ্রীঃ

৭. বাংলাদেশের সর্বাধিক দর্শনীয় স্থানের নামের তালিকাঃ আপনার প্রিয়তে নিতেই হবে, বিডিনিউজ২৪.কম, ১১ আগষ্ট ২০১২ খ্রীঃ

৮. রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত বলধা গার্ডেনে, দীপংকর চন্দ, সচলায়তন, ২৯ অক্টোবর ২০১৪ খ্রীঃ

৯. বলধা গার্ডেন, শাদরুল আবেদীন, এটিএন টাইমস, ২৯ জুলাই ২০১৬ খ্রীঃ

১০. ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলধা গার্ডেন, মনি আচার্য্য, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ১৬ মে ২০১৭ খ্রীঃ

১১. ঢাকার উপকন্ঠ ছিল ওয়ারী, মুসা আহমেদ, দৈনিক প্রথম আলো, ০২ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীঃ

১২. বলধা জমিদারবাড়ি – গাজীপুর, সাফায়েত, ট্যুর টুডে বাংলাদেশ, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীঃ

১৩. বলধা গার্ডেনের দুষ্প্রাপ্য গাছ রক্ষার আহ্বান, দৈনিক প্রথম আলো, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীঃ

১৪. বলধা গার্ডেন ও নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর উপর সেমিনার, গাজী মুনছুর আজিজ, আলোকিত বাংলাদেশ, ০৫ মার্চ ২০১৮ খ্রীঃ

১৫. নানা সমস্যায় বলধা গার্ডেন, দৈনিক যুগান্তর, ০২ জুলাই ২০১৮ খ্রীঃ

১৬. কবিগুরুর ‘ক্যামেলিয়া’র জম্মঘর বলধা গার্ডেন, সারাবাংলা, এস এম মুন্না, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীঃ

১৭. বলধা গার্ডেনের গাছ বাঁচাতে হবে, দেশ রূপান্তর, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীঃ

১৮. বলধা আমাদের ঐতিহ্য, দৈনিক প্রথম আলো, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীঃ

১৯. ফুল ও দূর্লভ বৃক্ষে ভর্তি ঐতিহাসিক বলধা গার্ডেন, মুহাম্মদ নুরে আলম, ৩০ জুন ২০১৯ খ্রীঃ

২০. হুমকির মুখে বলধা গার্ডেন, মো, আব্দুল আলীম

উম্মুক্ত তথ্যভান্ডার

১. উইকিপিডিয়া

২. বাংলাপিডিয়া

৬ টি মন্তব্য : “বলধা গার্ডেন – ঢাকা”

  1. রেজা (২০০২-২০০৮)

    চমৎকার লেখা। দীর্ঘ বিরতির পর আপনার লেখা পেলাম। আমি ট্যাবে ওপেন করে রাখছি, পড়ব, পড়ব বলে। শেষে এখন মাত্র শেষ করলাম। ব্রিটিশ বেনিয়ারা রাজধানী ঢাকা থেকে না সরালে যে কি হত! তাও কলকাত্তার বাবুদের যদি একটু মাটিতে পা পড়ে। বাঙ্গালদের মনে হয় সবকালে দেমাগ, ঠমক একটু কম। ভালো থাকবেন, আব্দুল্লাহ ভাই।


    বিবেক হচ্ছে অ্যানালগ ঘড়ি, খালি টিক টিক করে।

    জবাব দিন
    • কাজী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন (১৯৮৫-১৯৯১)

      অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য এবং সেই সাথে বোনাস হিসাবে পাওয়া গেল তোমার সুন্দর মতামত। বৃটিশ বেনিয়ারা আমাদের ঢাকার তথাকথিত এলিট/নবাবদের নিয়ে আপামর জনগনকে কেবল শোষন করেছে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে আমরা কেবল বিদেশীদের দ্বারা শোষিত হয়েছি। গোটা জাতির জন্য এ বড়ই বেদনার। মাত্র ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে বেঁচে থাকা কলকাতাবাসীরা নিজেদের একটু বেশী জাহির করতে পছন্দ করে। অথচ আমাদের ঢাকার রাজধানী হিসাবেই স্বীকৃত ইতিহাস কম করে ৪০০ বছরের। ভাল থেকো সব সময়।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।