বাঙ্গাল ইউটোপিয়াঃ ধীমানের স্বপ্নবাজ চ্যালা

ধীমানের স্বপ্নবাজ চ্যালা

বাঙ্গালদেশ আজ বিশ্ব মাতব্বর। সবাই মেনে নিয়েছে – বাবা সেরা। বাবা মানে বাহাদুর বাঙ্গাল অর্থাৎ east is the best মানে পূর্বদেশীয়রাই সেরা। বাবা দলের যোগ্য নেতৃত্ব, একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থক, তারুণ্যের শক্তি আর প্রবীণদের প্রজ্ঞার সংমিশ্রণে গঠিত মহান জাতীয়শক্তি। সেই মহাশক্তিই হয়েছে মাতব্বর। সেটাই স্বাভাবিক। সেটাই বাস্তব। আর এই বাস্তবতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন পুরোদস্তুর বাঙ্গাল। তবে তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন মহাগুরু ধীমান কাজী। প্রথমে সামরিক কর্মকর্তা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন কাজী সাহেব। আপাত দৃষ্টিতে তাঁর চুলহীন মাথা বিরান মরুভূমি মনে হতে পারে কিন্তু তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি অমূল্য সম্পদ। পুরোদস্তুর বাঙ্গাল ধীমান কাজীর ভাবচ্যালা। তার মাথাও তার গুরুর মত। চ্যালা বাঙ্গাল কথা বলে কম কিন্তু ভয়ানক স্বপ্নবাজ। নিউরনে ঝড় তোলে অজস্র কিলবিলে ভাবনা। তার থেকে উৎপন্ন তাপ প্রবাহে কেশমূল শুকিয়ে উজাড় হয়ে গেছে উকুনের বন। চ্যালা বাঙ্গালের লেখালেখির বাতিক আছে। আর আছে পরাবাস্তব অনুসারী দল। তাদেরই সৃষ্ট দল হচ্ছে বাহাদুর বাঙ্গাল গণ ঐক্য- সংক্ষেপে বাবাগও= বাবাগো (ঐ=ও+ই)। নতুন কিছুকে পতি কিংবা পিতার স্বপ্ন বলার একটা বদরেওয়াজ আছে। চ্যালা বাঙ্গালের বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। কি ঘটতে পারে সেটা অনুধাবন করার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার। চ্যালা বাঙ্গাল বা পুরোদস্তুর বাঙ্গালকে দেখে চেনা মুশকিল। পথে চলতে পাখির ডাক ঠিকই শুনতে পায় কিন্তু নাম ধরে চারপাঁচবার ডাকলেও শুনতে পাবে না। হাতের কাছের জিনিস খুজে পায় না কিন্তু আকাশের তারা গোনায় ওস্তাদ।

চ্যালা বাঙ্গালকে বাঙ্গাল ইউটোপিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা বললে তিনি সেটি স্বীকার করতে চাইবেন না। তিনি বলবেন, কোন কিছুই হঠাৎ হয়ে যায় না। আর্থসামাজিক পরিবর্তনের অনেকগুলো অনুঘটক থাকে। সেই রসায়ন অনুধাবন করার মত ঘিলু থাকা চাই। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকুল থাকলে ভারসাম্যের পাল্লা আপনার দিকে ঝুঁকবে। বাঙ্গাল জনপদগুলো জোড়া দিতে চেষ্টা করেছিলেন গৌড়াধিপ শশাঙ্ক। তিনি খুব একটা সুবিধে করতে পারেন নি। সত্যিকার অর্থে এটি হয়েছিল মোগল আমলে। তখনকার নাম সুবা-বাঙ্গালা। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে সেটি ভাল অবস্থায় ছিল আলীবর্দী খাঁর নাতির সময়। বাঙ্গালা বিহার উড়িষ্যা একসাথে। ফিরিঙ্গি বেনিয়া আর মীর জাফর রাজ বল্লভ গংদের যোগসাজসে পলাশীর আমবাগানে বেলা ডুবে গেল। ভাগ করে খাক কর নীতিতে জ্বলে পুড়ে খাক হল বাঙ্গালা। আরও কিছু দেশাল রাজ্যর খিচুড়ি থেকে ফিরিঙ্গি ভারতে মহারাণী কল্পতরুর চ্যালাচামুণ্ডাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে সৃজন হয় ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কংগ্রেস , মুসলিমলীগ ইত্যাদি। তারপর ? তারপর আর কী! কেউ মরে জলে ডুবে কেউ খায় কৈ! বাঙ্গালার খুন মাড়িয়ে গদীতে বসে অবাঙ্গাল। হাত মে বিড়ি মুহ মে পান , ছাপার ভুলে পাকিস্তান। গদীআলা প্রথমেই কুড়াল চালায় জবানে।এ বিষয়ে কবিয়াল ব্লগারের দাসের আত্মকথায় আছে-

“ফিরিঙ্গীদের সময় নীলচাষী
কেমন সুখে ছিলাম ?
মাথায় চারা গজিয়েছি !
তার পরের জন্ম আরও মজার
প্রভুকে তাড়িয়ে সেবাদাস বড় ভাইয়ার।
কথা বলার দাম দিতে হল রক্তে !”

তার পর এলেন এক মহান যাদুকর। বাঙ্গালরা হয় একতাবদ্ধ। কিন্তু ঘিরিংগী চলতেই থাকে। সপরিবারে হত্যা করা হয় সেই মহান যাদুকরকে। আসল পরিচয় ভুলে বিতর্ক ওঠে বাঙালি না বাংলাদেশী ? হুম…। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় বটে কিন্তু এই ভূখণ্ডের অবাঙালিরা বাঙালিত্বে পদোন্নতি পান কিভাবে? গদীর প্রশ্ন বটে? তাই একটু সামনে আর একটু পিছনে হাঁটা। সবাই একধাপ এগিয়ে বাঙালি থেকে বাংলাদেশী হলেন। ধর্মনিরপেক্ষতাকে পাল্টে করা হল- একমাত্র আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা। আমরা না হয় অবিচল আস্থাবান কিন্তু অমুসলিমদের কি অবনমিত করা হল না ? শাস্তি হতে অব্যাহতির সাথে সামাজিক ন্যায় বিচারের ককটেল। অতঃপর…

১,১৬৬ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “বাঙ্গাল ইউটোপিয়াঃ ধীমানের স্বপ্নবাজ চ্যালা”

  1. মোস্তাফিজ, ধীমানের স্বপ্নবাজ চ্যালা, থামলে কেন? যেখানটায় থামলে কাহিনী তো সেখান থেকেই শুরু। তোমাকে ছাড়ছি না, গল্পটা শেষ করতেই হবে, দেখি তোমার ঝোলার ঝাজ কত? অপেক্ষায় থাকলাম.....

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    দারুন একটা জিনিষ হচ্ছে মোস্তাফিজ ভাই, চালিয়ে যান :boss:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।