ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (গ)

ঘটনা (ক)

কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলাম গত সপ্তাহে। সিলেট ক্যাডেট কলেজের ছোট ভাই ইবনে সিনা ইয়েনের বিয়েতে। সবাই যখন বাসে করে যেতে চাইছে আমি তখন সুবোধ বালকের মত শুক্রবার সকালের ‘এগারোসিন্দুর প্রভাতি’ ট্রেনের টিকেট কিনে ফেললাম। যাতায়াতের ব্যাপারে ট্রেন ব্যবহারের প্রতি আমার স্পষ্ট পক্ষপাত রয়েছে। বাঙলাদেশের অভ্যন্তরে কোথাও যেতে চাইলে সড়কের আগে প্রথমে দেখি রেললাইন আছে কিনা। সড়ক-প্রেমী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত রাস্তা ছেড়ে সমান্তরাল লাইনে চলে এসেছিলাম। শিকাগো থেকে ক্যানসাস সিটিতে চড়ে বসেছিলাম সাউথ-ওয়েস্ট চীফ ট্রেনে। ট্রেনের আলাপ আরেকদিন। এখন বলতে এসেছি গল্প।

পরেরদিনের ফিরতি টিকেট না পেয়ে বাধ্য হয়ে সকালের বাসে চড়ে বসেছিলাম। বাসের নাম অনন্যা ক্লাসিক। কিশোরগঞ্জ থেকে কাপাসিয়া, গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা। ঘন্টা তিনেক পরে ক্লান্তি, ক্ষুধা, মাইগ্রেনের আগমনী ব্যথা ইত্যাদি সহকারে গাজিপুর চৌরাস্তার জ্যামে এসে পড়লাম। আমার মতে বাঙলাদেশের বেহুদা জ্যামের তালিকায় প্রথম সারির একটি ট্রাফিক জ্যাম হলো গাজিপুর চৌরাস্তার জ্যাম। এর পেছনে মূল কারণ দুটোঃ ক) চালকদের ১০০% খাঁটি বেপরোয়া চালনা, ও খ) আইনের প্রতি মানসম্মত অবহেলা। যাত্রার শুরু থেকেই দেখে আসছিলাম কাউন্টারের বাইরে কিংবা টিকেটবিহীন যাত্রী উঠানোর ব্যাপারে চোখে পড়ার মত কড়াকড়ি করছিলো বাসের সহকারী ও চালক। সাধারণত ভাড়ার কিছু টাকা নিজের পকেটে ঢুকানোর সুযোগ এইসব নিন্মমানের বাস সার্ভিসের সহকারী-চালকেরা নিয়ে থাকে।

গাজীপুর চৌরাস্তায় যাত্রী নামানোর পরে বাসের দরজা লাগানোর ঠিক আগে দিয়ে দুই যুবক বেশ ঠেলেঠুলে বাসে উঠে পড়লো। বাসের সহকারী প্রতিবাদ করায় তারা পরিচয় দিলো তারা বাস কম্পানির মালিক। কথা কাটাকাটি শুরু হবার পর বাসের চালক খুব ভদ্র ভাষায় তাদের চিনতে পারছেন না দেখে নেমে যেতে বললেন। যুবকদ্বয় তাদের মুখের খাতা খুললো খুব মোলায়েম ভাবে, “ঐ জমিদারের বাচ্চা, চুপচাপ গাড়ি চালা।” তারপরেও চালক অনেকটা মিনতির স্বরে বললেন তাদের নেমে যেতে। বিনা টিকেটে যাত্রী উঠেছে জানতে পারলে দৈনিক বেতন থেকে টাকা কেটে রাখে মালিক। খুব অবাক হলাম। সাধারণত চালকেরা এই পরিস্থিতিতে এত মধুমাখা কন্ঠে কথা বলে না। এরপরে যেই কাহিনীটা হলো সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। চড়ের শব্দ শুনলাম। সাথে বেশ কিছু অশ্রাব্য গালি। মালিকের রেফারেন্স টানায় যুবকদ্বয় মনোকষ্টে তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠায় পেশীশক্তির প্রয়োগ শুরু করে দিয়েছে। “কোন মালিক *****। নাম কি তার? আমারে চিনস তুই?….” কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সেই চিরচেনা বুলি। এবার চালক কিছুটা তেড়েফুঁড়ে উঠে এলেন হাতাহাতি করতে। কিন্তু যুবকদ্বয়ের সাথে ঠিক পেরে উঠলেন না। যুবকদ্বয়ের হাতে উঠে এলো মুঠোফোন। মালিকানা, পরিচয়, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মুঠোফোনে আলাপনের জুড়ি নাই। বলাবাহুল্য এরমাঝে চালক জ্যাম ঠেলে ধীরে ধীরে চৌরাস্তার দিকে এগিয়েও যাচ্ছেন। গাড়ি থামিয়ে আবার উঠে এসে কিছুটা ঝগড়াও করছেন। অপূর্ব এক মাল্টি-টাস্কিং এর দৃশ্য।

লক্ষ্য করলাম বাসের সহকারী ও চালক যতটা ক্ষেপে উঠা উচিৎ ততটা ক্ষেপে উঠে নাই। এসব পরিস্থিতিতে চালক-সহকারীরা সবকিছু ছেড়ে মারপিট করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুঝতে পারলাম না। কিছুক্ষণের মাঝে যুবকদ্বয়ের মুঠোফোন সুফল দিতে শুরু করলো। মালিকানা প্রমাণ করতে আরো গোটা পাঁচেক ব্যক্তি বাসে উঠে আসলেন। হঠাৎ নতুন করে চিন্তা করলাম। এরা আসলে কোন মালিকপক্ষ? বাস কম্পানি নাকি দেশ নাকি উভয়ই? ততক্ষণে আমরা চৌরাস্তার মুখে। সাত মালিক সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিলেন বাসটি ঘুরিয়ে রাস্তার বিপরীত সাইডের কাউন্টারে আটকে রাখা হবে। এটা বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করে উঠলো বেশ কিছু যাত্রী। মালিকপক্ষ আশ্বস্ত করলেন, “আমরা মাত্র পাঁচ মিনিট সময় নিব। কাউন্টারে গিয়ে নতুন ড্রাইভার দিয়ে বাসটি ছেড়ে দেয়া হবে।” কি চমৎকার সিদ্ধান্ত। নিকটবর্তী ইউ-টার্ন নেবার জায়গা, ট্রাফিক জ্যামের অবস্থা হিসেব করে দেখলাম। চালক পরিবর্তন করতে পাঁচ মিনিট কিন্তু এরপরে ঘুরে এসে একই জ্যামে আরো নূন্যতম আধাঘন্টা বসে থাকতে হবে। ততক্ষণে কোন যাত্রীর মাইগ্রেনের ব্যথা তুঙ্গে উঠবে। কোন যাত্রী দুবাইগামী ফ্লাইট মিস করবে। নেমে যাবার সিদ্ধান্ত নিতেই মালিকপক্ষ আটকে দিলেন। উনারা জানালেন নামার দরকার নাই সময় নিবে মাত্র পাঁচ মিনিট। দেশ মালিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে মিউমিউ করে জানালাম, ‘ভাই চৌরাস্তায় এমনেই নামতাম। সেটাও কি দিবেন না?’ মালিকপক্ষের মন নরম হলো। দ্রুত নেমে যেতে বললেন। আমার পিছু নিলেন সেই দুবাইগামী যাত্রীও। একটু হেঁটে সামনে গিয়ে ভিআইপি ২৭ নম্বর বাসে চড়ে বসতেই বাস ছুট লাগালো ঢাকার উদ্দেশ্যে।

চৈত্রের ব্রহ্মতালু সিদ্ধ করা মধ্যাহ্নে, মাইগ্রেনের তুলোধুনো যখন কামারবাড়ির হাতুড়িপেটায় রূপ নিয়েছে তখন চিন্তাশীল হলো মন। বাস কম্পানি কিংবা দেশ, মালিকানা প্রমাণ ও বহাল রাখার এই প্রাণান্তকর চেষ্টার মাঝে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) অনেকটাই যেন সিনেমার নায়িকার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিঃ

৭৷(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷

ঘটনা (খ)

ঘটনাটি গতকালের। ক্যাডেট কলেজ কমিউনিটির এক ছোটবোনের স্বামীকে হঠাৎ গতকাল বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে বাঙলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দুইজন এসে ধরে নিয়ে চলে গেলেন। আধাঘন্টা পরে এসে নিয়ে গেলেন সেই ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও।

আতংকিত ছোটবোনটির ফোন পেয়ে যা জানতে পারলাম তা হলো এইঃ বাঙলাদেশ পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত এস,পি সাহেবের ব্যবহৃত একটি নীল রঙের বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল গত ঈদের সময় চুরি হয়। দুর্ভাগ্যবশত ছোটবোনের স্বামীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও একটি নীল রঙা বাজাজ পালসার। সেই অবসরপ্রাপ্ত এস,পি সাহেব ভাইয়ের এই মোটরবাইকের খোঁজ পেলেন এবং তাকে চ্যালেঞ্জ করলেন। উনি উনার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র উনাকে দেখিয়ে আশ্বস্ত করলেন যে এই বাইক একই রঙের হলেও আপনার চুরি যাওয়া বাইক নয় কারণ তিনি বাইকটি কিনেছেন প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে। কিন্তু এস,পি সাহেব পিছু ছাড়লেন না।

এরমাঝে ছোটবোন স্বপরিবারে ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ বেড়াতে গেলে সেই প্রাক্তন এস,পি সাহেব ঝিনাইদহ ডিবি, পুলিশের সহায়তায় আবারো অনুসন্ধান চালান। কিন্তু ঝিনাইদহ ডিবি, পুলিশ মোটরসাইকেলের বর্ণনা বা খোঁজ মিলছে না বলে তাকে জানান। এদিকে ঢাকায় ফেরত আসার পরেও সেই প্রাক্তন এস,পি সাহেবের খোঁজখবর, খোঁচাখুঁচি কমছিলো না। এক পর্যায়ে গত কয়েকদিন ধরে বাইক ফেরত না দিলে পরিণাম ভাল হবে না এই মর্মে হুমকি দেয়াও শুরু করে দিলেন আইনের প্রাক্তন প্রয়োগকারী ব্যক্তি এবং সবশেষে গতকাল বিকেলে আটক করলেন উনার প্রাক্তন সংযোগবলে।

ঘটনার আকস্মিকতায় হন্যে হয়ে রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল খোঁজা শুরু করলাম। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয়…ঐদিন সবাই ব্যস্ত। কপাল ভাল যে ক্যাডেট কলেজ সম্প্রদায়ে ডিবির উপর মহলের পাকা রুইয়ের খোঁজ পেলাম। এদিকে জানতে পারলাম সেই প্রাক্তন এস,পি সাহেব নতুন গল্প ফেঁদেছেন। উনি বলছেন এই মোটরসাইকেলটা উনার নয় সেটা ঠিক কিন্তু এই ভাই উনার মোটরসাইকেল চুরি করে ঝিনাইদহ বা নিরাপদ কোন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। উনার এই উদ্ভট দাবীকে সমর্থন জানানোর জন্য দুইজন পাড়ার ছেলেকেও ব্যবস্থা করে নিয়ে এসেছেন এস,পি সাহেব। তারাও হেলেদুলে মাথা নেড়ে জানালো, ‘জ্বী জনাব গত ক’দিন আগে আপনাকে আমরা আরেকটি মোটরসাইকেল চালাতে দেখেছি সেটা কোথায়?’ এদিকে ডিবিতে কর্মরত বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছিলো না। শেষে আরেক বড় ভাইয়ের খোঁজ পেলাম যিনি ডিবির সেই বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলেন। ততক্ষণে বেজে গিয়েছে রাত এগারোটা।

এদিকে হন্যে হয়ে আমিও ফেইসবুকে একটি সাহায্য চেয়ে পাবলিক স্ট্যাটাস আপডেট করলাম যদি কারো চোখে পড়ে। কিছুটা কাজ হলো। ইতমধ্যে ডিবিতে কর্মরত বড় ভাই সম্ভবত মুঠোফোনে কেরামতি দেখানো শুরু করেছেন। রাত আড়াইটার সময় ছোটবোনের ক্ষুদেবার্তা পেলামঃ বাসায় ফিরেছে বাইকসহ। পরেরদিন ঘটনার বিবরণ শুনে যা বুঝতে পারলাম তা হলোঃ ওরা জেনে শুনেই ভাইকে টার্গেট করেছিল। লক্ষ্য ছিল এই সুযোগে কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়া কিংবা বাইকটাই মেরে দেয়া। রাতের দিকে যখন উপর থেকে ইশারা আসছে তখন নাকি কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলো আমাদের তুখোড় গোয়েন্দারা। ভুল লেজ নিয়ে কান চুলকানো শুরু করেছে এটা বুঝতে পারা মাত্রই ক্ষমা চাইলো তারা। কোন রকম দুর্ঘটনা, অঙ্গহানি কিংবা বিকৃতি ছাড়াই উনি ঘরে ফিরে এসেছেন এটাই ছিল সবচাইতে প্রশান্তির সংবাদ।

রাত আড়াইটায় সুসংবাদ শোনার পরে ঘুমে চোখ আর বুজে এলো না। ঘুরেফিরে কিছু কথা ভাবছিলাম। ‘ঝুড়িতে পঁচা আপেল কয়টি?’–এই বিতর্ক আর কতদিন? আমিতো বাঙলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। পা ঠুকে একটি স্যালুট দিতে চাই। কিন্তু উনাদের এই স্যালুটটি নিতে এত অনীহা হলে আমার কিছু করার নাই। ষোল হাজার ক্যাডেটের না হয় বড় ভাই আছে ডিবিতে। ষোল কোটি মানুষের কে আছে?

২,০৮৬ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (গ)”

  1. সাইদুল (৭৬-৮২)

    ভ্রমণ কাহিনী ভেবে পড়তে বসেছিলাম। পরে দেখলাম তাঁর চেয়ে অনেক বেশি

    চৈত্রের ব্রহ্মতালু সিদ্ধ করা মধ্যাহ্নে, মাইগ্রেনের তুলোধুনো যখন কামারবাড়ির হাতুড়িপেটায় রূপ নিয়েছে তখন চিন্তাশীল হলো মন। বাস কম্পানি কিংবা দেশ, মালিকানা প্রমাণ ও বহাল রাখার এই প্রাণান্তকর চেষ্টার মাঝে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) অনেকটাই যেন সিনেমার নায়িকার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিঃ

    লিখে যাও, স্মার্ট, ঝরঝরে লেখা


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    দুইটাই চরম নিরাপত্তাহীনতার কাহিনী।
    এই সব পড়লে বা জানলে আসলেই আতঙ্কিত বোধ করি।
    হৃষ্ট চিত্তে থাকতে চাইলে আসলেই বালুতে মুখ গুজে থাকার কোন বিকল্প নাই।
    উটপাখির মতো.........


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      ভাই আমার ভয় শুধু এক জায়গায়। দেশের মালিকানা নিয়ে যারা টানা হেঁচড়া করে তাদের না হয় এড়িয়ে গেলাম কিন্তু সরষে ফুলের ভুত এড়িয়ে চলবো কিভাবে? মাথা গুঁজে রাখলেও তো এসে বলবে, 'এই শালা মাথা গুঁজে আছিস কেন? থানায় চল।'


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  3. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    "প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ" - যতদিনে জনগণ ইহা বুঝিতে পারিবে, ততদিন পর্যন্ত এই ধরাধামে আমার ঠাঁই থাকিবে বলিয়া মনে হয়না।
    "ষোল হাজার ক্যাডেটের না হয় বড় ভাই আছে ডিবিতে। ষোল কোটি মানুষের কে আছে?" - কেহ নাই, কেহ নাই! তবে প্রকৃ্তির একটি বিধান আছে। সেই বিধানটুকুই ভরসা।

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ খায়রুল ভাই। প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতাকে উপভোগ করার স্বপ্নটা যেন দুঃস্বপ্ন মনে হয়। আপাতত প্রকৃতির বিচারের আশায় বসে থাকি।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এ ধরনের ঘটনা শুনলে আঁতকে উঠি আর এগুলো এখন আসলেই এত নিয়মিত যে দেশের সাধারণ নীরিহ মানুষদের জন্য কতটা অন্ধকার অপেক্ষা করছে তা ভাবতেও পারি না। সত্যি কথা বলতে আমি অদূর ভবিষ্যতে দেশে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা হবে এই স্বপ্নও এখন দেখতে পারি না।

    লেখায় শব্দচয়ন আর উপস্থাপনা দারুন হয়েছে, চালিয়ে যাও। :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      ধন্যবাদ আহসান ভাই। ভয় লাগে ইদানিং। এসব শুনতে একরকম আর চোখের সামনে ঘটতে দেখলে আরেক। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, মঙ্গল হোক এই কামনা করি।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  5. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    মোকা হে,
    এত সুস্বাদু করে লিখ কি করে?
    দেশের কথা আর কি-ই বা বলি। ৮ বছর হতে চলল যাই না। প্রথম যেবার যাব, কপালে যে কি বিস্ময় আর দুর্গতি আছে কে জানে!

    জবাব দিন
  6. নাফিস (২০০৪-১০)

    কি আর বলবো? আমার এই ধরণের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলে ভয় লাগে। দেশে ফিরে কবে যে এরকম কিছু দেখবো কে জানে। এরকম পরিস্থিতিতে আমার ধারণা আমি খুব বেশি রকমের নাইভ হয়ে যাই 🙁

    জবাব দিন
  7. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    দূর্দান্ত লিখেছো মোকাব্বির!

    লিখতেই থাকো এভাবে। নির্যাতীত এবং নির্যাতনকারী অন্তঃত জানবে যে মানুষ মনে রাখছে, ঘৃণা করছে ঘটনাগুলো। আইন আপাততঃ অথর্ব হলেও ভবিষ্যতে কখনো শক্ত হয়ে উঠবে, প্রকৃতির নিয়মেই। আমরা মানুষরা অন্যায় সয়ে গেলেও প্রকৃতির হয়তো সহ্যের সীমা আছে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মোকাব্বির (১৯৯৮-২০০৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।