ডায়েরীর পাতা থেকে কিছু উদ্ধার করা জঞ্জাল…

১২ মে ২০০৩
গতকাল রাতে লিখতে বসতে পারিনি। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ভোরের দিকে ঝড় এবং ফলশ্রুতিতে PT মাফ। এখন একাডেমী ব্লকে বসে লিখছি। আগামীকাল বাসায় যাচ্ছি। কিন্তু যাওয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল অর্ধদিবস হরতাল। কলেজ এখন সিদ্ধান্ত নিবে যে হরতালের আগে ভোরে পাঠাবে নাকি হরতালের পর দুপুরে পাঠাবে। হঠাৎ এরকম সমস্যার জন্য সবাই মোটামুটি বিরক্ত। আজকে ফজলুল হক হাউসের Cultural Show. দেখার জন্য বসে আছি ওরা কি করে। অবশ্য ওই ভাবে দেখা হবে না কারণ আমি Music Club এর ভিতরে বসে থাকব।

১৩ মে ২০০৩
আজকে আর যাওয়া হয়নি। Army Head Quarter আদেশ দিয়েছে ১৪ তারিখ সবাই কলেজ থেকে মুভ করবে। ছুটি বাড়ানো হয়নি তাই আজকে অফ ডে অর্থাৎ কিছুই নেই। বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে গিয়েছি। গান শুনে নিজেকে ধাতস্থ করলাম। VCR Show হচ্ছে। সবাই ছবি দেখতে গিয়েছে boom অথবা dhum না something বুঝলাম না। পচাঁ বাংলা ছবির মত লাগল। যত বসে আছি ততই বিরক্ত হচ্ছি। রুমে কেউ নেই যে আড্ডা মেরে সময় কাটাব। বিষন্ন রোদ, ভ্যাপ্সা গরম। লিখতেও ইচ্ছা করছে না।

বৃহস্পতিবার জুন ২০০৩
বলেছিলাম লেখা শুরু করব। আজকের দিনটাকে উপযুক্ত মনে হলো। এখন বাজে রাত সোয়া বারোটা। দশটার দিকে প্রবল ঝড় হয়েছিল। এখন ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। নজরুল হাউসের এই রুমটিতেই বাতি জ্বলছে। অন্যান্য রুম ঘুমিয়ে পড়েছে কারন পরীক্ষা শেষ তাই জেগে থাকা অর্থহীন। কিন্তু আমাদের রুমের কোনায় তাস খেলা হচ্ছে। রেজওয়ানুর, তাওহীদ, হানিফ এবং জাহিদ। মঞ্জুর পরছে শরৎচন্দ্র সমগ্র আর শিশির পরছে হুমায়ুন আহমেদের নন্দিত নরকে। বাকিরা গভীর ঘুমে অচেতন। আমার ঘুম আসছেনা। নন্দিত নরকে কিছুক্ষন আগে আমি শেষ করেছি। গতকাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জীববিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। সামগ্রিক পরীক্ষা ভয়ঙ্কর রকমের খারাপ হয়েছে। বাংলা ও অঙ্কে ফেল করছি। বাকিগুলোও খারাপ। প্রচন্ড রকমের অপরাধবোধ কয়েকদিন থেকে তাড়া করছে। বাপ মা প্রতি ছুটিতে টাকা ঢালছে আমার পেছনে অথচ আমি কিছুই করতে পারছি না। আমি কি কোন কালেই পরিক্ষায় ভাল করতে পারব না ? এককালে ভালো ছাত্র ছিলাম বিশ্বাসই হয়না। আমি এক্সট্রা কিছুর সাথে জড়িতও না যে পড়াশোনার ক্ষতি করবে। বলতে গেলে কলেজের অন্যতম নিউট্রাল ক্যাডেট আমি। পড়াশোনায় ভালনা, কোন activities এ নাই। জীবন চলছে তার সাথে আমিও চলছি। ভাল করার তাগিদ অনুভব করি ঠিক কিন্তু আমার নিঃস্পৃহভাব আমাকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেয়। আজকে হাউস মাস্টার স্যার পরীক্ষা খারাপ হবার কারণে ডেকে তিরষ্কার করলেন। রেজাল্ট খারাপ হবার পেছনে তিনি কারণ হিসাবে আমার সাথে আমার পরিবারের সমস্যাকে দায়ী করতে চাচ্ছেন। কিন্তু তিনি কি আমার চেয়ে বেশী জানেন? আমার কোন সমস্যা নেই পরিবারের সাথে। তারপরেও কোন প্রতিবাদ করিনি কারণ কথায় কথা বাড়ে। আমার বাজে রেজাল্ট এর অন্যতম প্রধান কারণ আমার নিঃস্পৃহ মানসিকতা। স্বাভাবিক কিছু করার মাঝে আমি তাগিদ খুঁজে পাইনা। আমার বিষন্নতাজনিত কোন রোগ নেই, আমি হাসি খুশি তবুও কিছু একটা ব্যাপার আমাকে বিরক্ত করছে। হয়তবা আমি জানি না। আর কিছু কি লিখব…বুঝতে পারছি না।

২,৫৫২ বার দেখা হয়েছে

৪৭ টি মন্তব্য : “ডায়েরীর পাতা থেকে কিছু উদ্ধার করা জঞ্জাল…”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ব্লগে স্বাগতম ছোট ভাই... এখন তাড়াতাড়ি ১০ টা :frontroll: লাগায়া দাও তো, প্রিন্সিপাল স্যার আসার আগেই...

    সবাই ছবি দেখতে গিয়েছে boom অথবা dhum না something বুঝলাম না।

    boom ছবিটা কিচতু সিরাম ;;;


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    অবশ্য ওই ভাবে দেখা হবে না কারণ আমি Music Club এর ভিতরে বসে থাকব।
    আমি এক্সট্রা কিছুর সাথে জড়িতও না যে পড়াশোনার ক্ষতি করবে। বলতে গেলে কলেজের অন্যতম নিউট্রাল ক্যাডেট আমি। পড়াশোনায় ভালনা, কোন activities এ নাই।

    দুইটার কোনটা বিশ্বাস করুম? 😛

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      হাসান ভাই আমি কিন্তু আসলেই সাতে পাঁচে নাই টাইপের ক্যাডেট ছিলাম। হালকা পাতলা গানাবাজানা করতাম মানে গীটার বাজাতাম। ইডি ১৩ টার বেশী খাইনাই। কিন্তু রেজাল্ট জীবনে ৪০ এর উপরে উঠে নাই। খেলাধুলা বলতে কিছুটা বাস্কেটবল, ক্রসকান্ট্রিতে বরাবর আমাকে নিয়ে মেডিক্যাল টিম ব্যাস্ত থাকত। অবস্ট্যাকল কোর্সে অনেক কষ্টে হাউসের মান সম্মান হাতে নিয়ে ফেরত আসতাম। জীবনে কয়টা জুনিয়রকে পানিশমেন্ট দিয়েছি মোটামুটি গুনে বলে দেয়া যাবে।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  3. আমার কলেজ লাইফের ডায়েরীগুলো নাই........ ২টা ছিল........ ২টাই অন্যজন পড়েছে জানামাত্র পুড়িয়ে ফেলছিলাম.......

    পোস্ট পড়লাম না কারণ কারো ডায়েরী পড়া আমার ভাল লাগে না.....

    আমিও তোমার ব্যাচের........ কোথা্য় আছো এখন ???? 🙂

    জবাব দিন
  4. জিহাদ (৯৯-০৫)

    মোকাব্বির ভাই আসলেন তাইলে শেষমেষ 😀
    আসছেন যখন আর যাইয়েন না কোথাও। আমাদের সাথেই থাকেন।

    এডু স্যার তো আগেই বরণ করে নিসে দেখতেসি। এখন লিখতে থাকেন হাতখুলে। :hug:


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।