গ্লোবালাইজড গোলামী

বিবেকঃ

স্বাগতম হে বন্ধু তোমায়,
গোলামীর এই ধরায়,
গোলাম তোমায় হতেই হবে,
নো ওয়ে,
টু এভয়েড। নো ওয়ে।
ভাবছো বকছি প্রলাপ,
কিংবা কাব্যচ্ছলে দাওয়াত।
ভাবতে পারো যা ইচ্ছা হয়,
কেননা-
তোমার ভাবনার নিয়ন্ত্রন
একান্তই তোমার।
আমি এতটুকুই শুধু পারি,
জানাতে সত্য, তাও দাবী।
আমার কাছে যা সত্য,
তোমার বেলায় তা, হয়তো।
বাকী রইলো যাচাই বাছাই
তোমার কাছেই সঁপি।

মুখোশঃ

মুক্ত স্বাধীন দেশের মাঝে,
মুক্ত ঘরে মুক্ত বেশে,
জন্ম হলো তোমার আমার,
গোলামীর কি আছে আর?
যা ইচ্ছে তাই করি আমি,
যা ইচ্ছে তা খাই,
নিজের পকেট নিজের টাকা,
খরচে বাধা নাই।
এমেরিকান বার্গার বা ইতালিয়ান পিতজা,
স্কচ, হুইস্কি, ওয়াইন অর রাশিয়ান ভদকা।
মার্সিডিজ বা বিএমডব্লিও, পোরশে নাকি ফেরারি
বেছে নেয়ার কত অপশন!!!!!!
তারপরও এই পাগলামী, ছাগলামী
কথার কোন মানে আছে কী???
ব্র্যান্ডের স্যুট, আর ব্র্যান্ডের সু
ব্র্যান্ডের টাই আর যা কিছু।
শীততাপ হাতে মোর যেখানেই যাই,
সম্মান কুর্নিশে জানায় সবাই।
লাস্যময়ী সবাই আমার স্মার্টনেস নিয়ে,
প্রশংসায় পঞ্চমুখ, হিংসে তাই দিয়ে!!!!!
আর কিনা উদ্ভট গোলামীর কথা,
বোলোনা বোলোনা, বাড়ছে মাথাব্যথা।
আমায় দেখে চলে কত্তো হাজার জন,
আমার অবস্থান ঈর্ষার আকর্ষন,
করে যায় কত জনে তবু না পায়,
ছুঁতে মোরে, কারন- মাথা প্রয়োজন।
পাবোনা আমি মানে, পাবেটা আর কে???
এত কমে পাবে তারা কোন বাজারে???
এই মাথার বুদ্ধিতেই করি সব ম্যানেজ,
তেল গ্যাস শ্রম আর আছে যত খনিজ।
ইন্টারেস্টিংলি পলিটিশিয়ানস
কয়েক কাঠি সরেস,
ফাউ তারা নিয়ে নেয় করে সব শেষ।
ঋনের বোঝা দিয়ে যায় প্রজাদের কাঁধে,
সেই ঋনে রাজকন্যা রোজ গলা সাধে,
অক্সফোর্ড, কেম্ব্রিজ বা হার্ভার্ডে,
ঠিক সব রাজপুত্র আর রাজকন্যার সাথে।
গোলামের জাত সব বাকী,
করবিই তো গোলামী,
ভোটের সময় লাফালাফি,
দলাদলি, ধরবি বাজি।
আরে তোদের ভোটে
ভাবছিস কি ঘোড়া ছুটে???
ঘোড়ার লাগাম তো থাকে বাজিকরদের হাতে।
গোলাম বানানোর বাজি।
বেওকুফের দল, ফলো মি।
আমি যেমন চলি, যেমন খুশি,
যা মন চায়,
এ জীবন তার সবই পায়।
শুধু একটু মাথা খাটাই,
তাদেরই জিনিস খাই, তাদেরই টাকায়।
হা হা হা…। কইয়ের তেলে ভাজি কই।

বিবেকঃ

কইয়ের তেলে কই ভাজো??? না তারাই ভাজে???
হায়!!! কি অদ্ভুত, কি অভিনব সাজে,
গোলাম হয়ে যায় মানুষ মানুষের কাছে।
গ্লোবালাইজেশন নামে, দাসের বাজার,
নিজ দেশে বিকানো, না হয়ে পাচার।
নেশায় বিভোর রাখা, কত উপাদান,
মডেল তোমার মত, প্রেম আহবান,
শৈশব কৈশোরে খেলার রাজা
আটকাও নতুবা হেরোইন গাজা।
বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড, পর্নোগ্রাফি আর
কোমর না সোজা হওয়া তরুন-যুবার।
অনটন পরকীয়া সংসারজ্বালা।
ঋনশোধে আজীবন ভুলে, সয়ে চলা।
ঠিক যেনো চা বাগানে কুলি কামিন,
নেশায় অধীন আর স্লো পয়জনিং।
এভাবেই গোলামী, অজ্ঞাতে অনিচ্ছাতে,
পরম্পরায় চলে যায়, ঠিক চলবে।

৯১৩ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “গ্লোবালাইজড গোলামী”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।