কেন বিধি

কেন বিধি কেন বানালেনা মোরে,

হিমালয় চুড়া পাহাড়ের করে?

দিনের বেলায় বরফ সাগরে

রাতের বেলায় ছবি!

বুকে নিয়ে তবে শত শত ব্যথা,

অবলা থাকত না বলা যা কথা,

বলতাম না’ক কথা সব যথা,

হয়ে কোন এক কবি।

 

কেন বিধি মোরে নদী করলে না?

নিজ আঁখিজলে ভিজে আনমনা,

ফেলে দু’তীরের ছোট বালি কণা,

ছুটে চলতাম একা।

কারো দিকে চেয়ে নাই থাকতাম,

করতাম নাতো কোনো রামনাম,

দিতে হতো না’তো কাউকে যে দাম,

হত না’ক পিছু হাঁকা।

 

কেন বিধি মোরে করলেনা তরু,

বনপথ মাঝে শাখা সরু সরু,

দেখতে পেতাম গিরি নদী মরু,

হত না’ক হতে ছায়া?

ছায়ার মতন পরগাছা আমি,

নিজেরই দেহে আমি নই আমি,

বেলার সাথেই ধীরে ধীরে নামি,

ছাড়তে পারিনা মায়া।

 

কেন বিধি আমি হইনি যে পাতা?

আদরের সাথে জড়াত যে লতা,

বড়গাছটির আমি রসদাতা,

ঋণী হয়ে আছে যে সে,

সে-ও আমারে রেখেছে আগলে,

আপন কাজের স্বার্থের জালে-

স্বার্থপরতা দেখি কালে কালে-

মন আসে না’তো বশে।

 

কেন বিধি আমি বাতাস হইনি,

হিমেল পরশ বুলিয়ে দিইনি-

নতুন পাতায়, কুঁড়িকে ছুইনি-

যাইনি’ক কেন ঘাসে?

আমার পরশ পেল যারা যারা,

তাদের কখনো দেখিনিতো ফেরা,

আমি না-ই ছুঁলে মানুষেরা যারা,

পরিণত হও লাশে।

 

কেন বিধি আমি একা একা আজ,

কবিতা-ই লিখি ফেলে সব কাজ,

খাতায় পড়েনি বয়সের ভাঁজ-

আপন মেলেনি কেউ?

জীবনের পথে একা একা চলে,

মেনে নিয়েছি যে বাস্তব বলে-

যা-ই কিছু ঘটে সবি যাই ভুলে,

মধুমাছি, না-ই মউ!

 

“কেন বিধি” আমি বলব না আর,

বলার কোনই নেই দরকার,

হয়ে যাক মন পুড়ে ছারখার,

মানি দিতে কেউ নেই।

বিধি যা-ই করো সবই মানবো,

তুমি ঈশ্বর সেটাই জানবো,

সব মেনে নিয়ে শুধুই জানবো-

আমি বলে কেউ নেই।

 

৮৮০ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “কেন বিধি”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।