কামরুল ভাইয়ের ইফতারি আমার জিলাপি ভক্ষণ ও হাবিজাবি :মূল বৃত্তান্ত

সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল,ছিলনা চাঁদ(সাদী মহম্মদের গান থেকে না বলে ধার করলাম)।ধানমন্ডি ১১ নাম্বার রোডের লি বিউটি পার্লারের পাশে যে ফ্ল্যাটটা(না,প্রিয় পাঠক,আমার রুম থেকে সৌন্দর্যবর্ধন কেন্দ্রে আগত তন্বীদের তনুর লেশমাত্র দৃশ্যমান হয়না), সেটার কোনার রুমে রোজা-ক্লিষ্ট অবস্থায় আমি “পড়িয়া পড়িয়া ঘুমাইতেছিলাম”। দুচোখ জুড়ে আনাগোনা করছিল আসন্ন ইফতারের খানাদানার অবয়ব।ইফতারির সময় ছিল ৬ টা আর আমার ঘড়িতে তখন বাজে ৫ টা ৫০ । হঠাৎ মুঠোফোন বেজে উঠল-দেখি কামরুল ভাই।ঘুম জড়ানো অবস্থাতে বসকে সালাম দিলাম।আমি ভেবেছিলাম ইনি বাসাবোবাসী কামরুল ভাই,জাপান থেকে দেশে এসেছেন যিনি। উনার জন্য পাত্রী খুঁজে দেবার কথা ছিল কিন্তু পারিনি, এদিকে সময়ও শেষ।অপর প্রান্ত থেকে কামরুল ভাই বললেন-“ওই ব্যাটা, আমার বাসায় চইলা আয়-রায়হান ও আসছে”।যতদূর জানি ধানমন্ডি থেকে বাসাবো পাক্কা পৌনে এক ঘন্টার ধাক্কা। তাছাড়া আমি ওই এলাকা বিশেষ মাড়াই না কারণ যতদূর জানি বিখ্যাত “পামোশ” অবসর নেবার পর ওখানেই বাসা নিয়েছেন। তাই অবাক হয়ে ভাবলাম, আমার সাইজের কারণে ওয়ান টু ওয়ান ধোলাইয়ের রিস্ক না নিয়ে পাত্রী খুঁজতে ফেইল মারার প্রতিশোধ হিসেবে তপু ভাই (ক্যাডেট কামরুল,কনকের বড় ভাই) লোকজন ডেকে উনার এলাকায় “গণ” এর আয়োজন করেননি তো?নাহলে মাত্র ৫ মিনিট বাকি থাকতে তো ইফতারের দাওয়াত দেয়ার কথা না…!! এইসব আশঙ্কার কথা ভেবে দোনামোনা করতে করতে কামরুল ভাই বললেন, “আরে ব্যাক্কল,আমি বাসাবো থাকি কবে থিকা?সেইদিনও না আমার বাসায় আইলি?আমি থাকি পান্থপথে-আমি কামরুলতপু না,কামরুল হাসান”।এটা শুনে বুঝলাম,এই কামরুল সেই কামরুল না,ইনি ফৌজিয়ান ভাইয়ের পরিচালনায় বানানো আমাকে আর মডেল মোনালিসাকে নিয়ে মুভির “সেইরকম” সিনে দরজা ঠক-ঠকানো চরিত্রে অভিনয়কারী(আগ্রহী পাঠক আমার “প্রসংগ ক্যাডেট কলেজঃপ্রত্যাশা ও বাস্তবতা” ব্লগের কমেন্টগুলা দেখে নিতে পারেন)কামরুল ভাই। সিনেমার সহকারী পরিচালক মানুষ,উনাকে রাগালে যদি গরমাগরম সিন থেকে আমাকে বাদ দিয়া দেন,সেই ভয়ে সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম। চোখ ডলতে ডলতে যখন আম্মার কাছে গিয়ে বললাম আমি আজকে বাইরে ইফতারি করব(তখন ইফতারির মাত্র ৫ মিনিট বাকি) আম্মা বললেন- “কই যাবি এই শেষ মুহূর্তে?” আমি বললাম-“কামরুল ভাইয়ের বাসায়,উনি ক্যাডেট কলেজে আমার সিনিয়র ছিলেন”। আমি ভেবেছিলাম এই শেষ মুহূর্তে যাচ্ছি দেখে আম্মা একটা ঝাড়ি দিবেন-পরে দেখলাম না, তিনি ছেলের “ক্যাডেটিয়” অভ্যাসের সাথে এতদিনে ভালভাবেই পরিচিত হয়ে গিয়েছেন।ক্যাডেট কলেজের আত্মীয়দের থেকে ডাক আসলে তাঁর গুনধর ছেলে যে খুব গুরুতর কেস ছাড়া এমনকী রক্তের আত্মীয়দের দাওয়াতও ভুলে যায়-এটা এতদিনে তিনি ভালভাবেই বুঝে গিয়েছেন। তিনি খালি বললেন-আচ্ছা যা,বেশি দেরি করিস না-রাতে তোকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যেতে পারি।আম্মা ঝাড়ি দেয়নি দেখে আমিও “কেলাইতে কেলাইতে” বের হয়ে গেলাম। রিকশায় যেতে যেতে কামরুল ভাইয়ের ফোন এল-“ওই গর্ধব,বাসা চিনতে পারবি তো?” আমি বললাম-“হ পারুম না কেন, মাগার লাস্টের গলিটা যানি কুন দিকে?”কামরুল ভাই বুঝলেন, আমি তাঁর বাসা কেমন চিনি। বিরক্ত হয়ে বললেন-“আইচ্ছা যা তুই মেডালিয়নের গলি দিয়া ঢুক,আমি গলির মাথায় দাঁড়ায় থাকুম তরে নিয়া যাওনের জন্য”(আহ,প্রিয় পাঠক,ভাবুন তো একবার-ক্যাডেট কলেজের ৩ বছরের এক সিনিয়র ইফতারি ফেলে আমাকে নিয়ে যেতে গলির মাথায় দাঁড়াচ্ছেন-নাহ,এক্স ক্যাডেট হওয়াটা মাঝে মাঝে বড়ই সুখের)। তো যাই হোক,শেষমেষ নিরাপদেই কামরুল ভাইয়ের বাসায় পৌঁছালাম। গিয়ে দেখি কি তামসা!সব ফকফকা!!ক্যাডেটের আলোয় সারা বাড়ি উজ্জ্বল!!আমি(বৃক্ষ-৩৪তম),কামরুল ভাই, শোয়েব ভাই,রাসেল ভাই আর মাসুদ ভাই(৪ জনই সিলেট-১৯ তম) আর ফাঁকিবাজ,বেগারত টাইপ জুনিয়র রায়হান(বদটার কলেজ নাম আলাদা করে দিলাম না,সবাই তার কুকীর্তির সাথে সম্যকভাবে পরিচিত)। ইদানীং আমার ক্যাডেটীয় রোগটা খুব বেড়ে গিয়েছে-কলেজের আলাপ তোলার জন্য প্রাণ খালি আঁইঢাই করে-সেইদিনও আম্মাকে “তোমার ডাল রান্না ভাল, কিন্তু কলেজের ডায়নিং হলের সেই ডাল…” এই পর্যন্ত বলে তাঁর অগ্নিদৃষ্টি দেখে থেমে গিয়েছি।পাঁচ পাঁচ জন ক্যাডেট দেখে উনাদের সাথে প্রাণ খুলে ক্যাডেটের আলাপ করে রোগটাকে শর্ট টার্মের জন্য হলেও হিমাগারে পাঠাব(শর্ট টার্ম কারণ এইডস,ক্যান্সার রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে কিন্তু আমার এই রোগের কোন পার্মানেন্ট ওষুধ নাই)-এটা ভেবে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলাম।ইয়ে মানে,আনন্দের আরেকটা কারণ ছিল টেবিলে সাজানো মজার মজার সব খাবার।কামরুল ভাই সিনেমার ডায়রেক্টর(এটা জোক না, সত্যি সত্যিই),উনাকে রোজার দিনে নায়িকা থুক্কু আর্টিস্টদের সাথে অনেক বেরোজদারী কাজ করতে হয় বলে রোজা না রাখলেও ইফতারে মাশা-আল্লাহ কোন ত্রুটি রাখেন নাই।শরবত,জিলাপি,স্প্রিং রোল-কি নেই!আর সিসিবি সমাবেশে ১০ টা মোগলাই খাওয়ার অপবাদ পুরোপুরি আমার চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা জানা থাকা সত্বেও দেখলাম আয়োজন করার সময় সেটা ভুলে যাননি। বাকি ৫ জনের জন্য যেই আয়োজন আমার একার সামনে দেখি ঠিক সেই পরিমান খাবার-দুই প্যাকেট জিলাপি আর স্প্রিং রোলের অর্ধেক দিয়ে বাকি সবাই ইফতার করছে আর আমার একার জন্য পুরা প্যাকেটের অর্ধেক রাখা আছে।ইয়ে মানে-আমি যে খুব একটা প্রতিবাদ করেছিলাম সেটাও বলা যাবে না…যাক সে কথা।খেতে খেতে শুরু হল কলেজের আলাপ…

 

এই বেলা বলে রাখি,কামরুল ভাইদের বাসাটা বড়ই সুন্দর।বাসার নাম “একা এবং কয়েকজন”,সুনীলের বইয়ের নামে নাম। আমার এ বইটার কথা ভালভাবেই মনে আছে কারণ প্রত্যেক টার্ম এন্ডে এই বইয়ের ডিমান্ড বেড়ে যেত-কেননা বইটার বিভিন্ন “পবিত্র” অংশে লাল কালি দিয়ে পূর্বতন ক্যাডেট কর্তৃক আন্ডারলাইন করা ছিল। বাসায় মুরুব্বি শ্রেণীর কোন প্রাণির লেশমাত্র নেই,খালি ব্যাচেলর ক্যাডেটদের আনাগোনা। দিনের বেলা উনারা যার যার কাজে ব্যস্ত থাকেন আর সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরেন। মনে মনে ভাবলাম-ইস,নসুতে ঢুকার সময় এমন জায়গার হদিস পেলে কি আর আমাকে ডেটিং স্পট নিয়ে চিন্তা করতে হয়!কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল-ডেটিং করিতে গিয়ে উত্তেজনার বশে যদি বংশ বৃদ্ধি করে ফেলতাম তা হলেই তো চিত্তির!! ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন-আমার মত ঘোর নাস্তিক মানুষের মনেও তখন এই চিন্তার উদয় হল। ততক্ষনে মাসুদ ভাই আমার পাশে বসে “গাছ” নিয়া আমাকে পচানো শুরু করে দিয়েছেন।উনি তো আর জানেন না যে সেই দিন আর নাই-এখন বৃক্ষ হচ্ছে মহিমান্বিত(!!) ঐতিহ্যের(??!!) এক অমর(!!??!!)প্রতীক,বৃক্ষ পরিচয়ে আমরা আজ আর লজ্জিত নই। মার্টিন লুথার কিং না কোন মনীষী যেন বলেছিলেন-“তুমি কালো, আর তাই তুমি গর্বিত হবে”।আমরা বৃক্ষরাও আজকাল তাই গাছ পরিচয়েই পার্ট নেই-এমনকী এই সেদিনও শুনলাম বিএমএ তে জেসিসির গেট টুগেদারে কেকের উপর লিখা ছিল “বৃক্ষমেলা-২০০৮” না কি জানি…। তাই আমি নিজেই বৃক্ষ নামের শানে নুজুল বলা শুরু করলাম। কিংবদন্তী অনুযায়ী,আমাদের এক সিপি যশোর বোর্ডে প্রথম হয়েছিলেন।কোন এক মিটে ভিলেজ থুক্কু আরসিসিতে গিয়ে বাস থেকে নেমে তিনি হ্যান্ড শেক করলেন এইভাবে-“হাই,আমি “***”,ফার্স্ট স্টান্ড,জেসিসি”(নামটা দিলাম না কারণ কলেজে থাকতে শুনেছিলাম উনি জাপানে আছেন যেখানে অনেক ক্যাডেট আছে-আর বেচারাকে প্রবাস জীবনেও বিব্রত করার কোন ইচ্ছা আমার নেই,যদিও শুনেছি উনাকে বেশ কিছুদিন জেসিসিতে অবাঞ্ছিত করা হয়েছিল)। তো, তাঁর এই আচরণের ফলে “গাছ” নাম যে অবধারিত-এ আর বেশি কথা কি!আমি নিজেও আজকাল নসুতে “ভাইয়া আপনি কোন কলেজ” প্রশ্নের উত্তরে বাইরের ছেলেপেলেকেও “গাছ” বলে উত্তর দেই,পরে হাঁ করে তাকিয়ে থাকা দেখে আসল নাম বলি। মাসুদ ভাই আমার এহেন আচরণে খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়ায় উনাকে আমার পিসিসির বন্ধুর কথা বললাম-যে কিনা আমার চেয়েও এক কাঠি সরেস। একবার এক বান্ধবীকে নিয়ে খেতে যাচ্ছি,পথে দেখা আমার সেই পিসিসির দোস্তের সাথে। আমার সেই বান্ধবী মাশাআল্লাহ বড়ই খুবসুরত,সেটা দেখে ওই বেটার উসখুস ভালই টের পাওয়া যাচ্ছিল। আমার মত গরিলা টাইপের সুরতধারীর সাথে কিভাবে এই মেয়ে খেতে যায়-দুনিয়াতে ন্যায় বিচার কি সব উঠে গেল-দাউ আর্ট ফ্লেড টু ব্রুটিশ বীস্টস এন্ড মেন হ্যাভ লস্ট দেয়ার রিজনস(কলেজে থাকতে এলুকিউশন ড্রামাটিক ডায়ালগে শেখা)- এইসব ভাবনা আমি একেবারে তার চোখেমুখে পড়তে পারছিলাম। বেচারা তো আর জানেনা যে আমি ডেট এ না, খেতে খেতে সুন্দরীকে “গেম থিওরী” বুঝাতে নিয়া যাচ্ছিলাম-সুন্দরীর আইকিউ আবার মাইনাস ২০ থেকে শুরু কিনা!যাই হোক, তাকে ডেকে তখন আমি সতর্ক করে দিচ্ছি-“ওই ব্যাটা, খবরদার এই মাইয়ার দিকে কুনজর দিবিনা”। এটা বলে যেই আমি আরো বলতে যাব “ব্যাটা পিসিসি , তোরা তো……”-তার আগেই সে নিজে থেকেই বলে উঠল-“দোস্ত চ্যাতস কেন,জানস-ই তো আমি পিসিসি,তোর বান্ধবীর প্রতি আমার কুনু আগ্রহ নাই। কিন্তু এই মাইয়ার ছুডু ভাই থাকলে ভুলেও আমার সামনে আনিস না”। আমার কথায় মাসুদ ভাই তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছিলেন,ওই বন্ধুর কথা শুনে আমি তখন একেবারে ইংরেজিতে যাকে বলে “ডাম্ব-ফাউন্ডেড” বা হতভম্ব-সেটা হয়ে গিয়েছিলাম। উল্লেখ্য, আমার সেই পিসিসির বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড আছে,আর পিসিসি নিয়ে প্রচলিত কথার সত্যতা বিষয়েও আমি যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করি। কিন্তু দেখা হলে তাদের টিজ করতে(আর তারা আশে পাশে না থাকলে নানা রসালো মন্তব্য করতে) আমাকেই সর্বদা অগ্রগন্য ভূমিকায় পাওয়া যায়। আসলে এটাই মনে হয় ক্যাডেটীয় বন্ধুত্বের অন্যতম সৌন্দর্য,নিজেরা নিজেদের সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে মনে করি বলেই আমরা কলেজে থাকতে সবচেয়ে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলো নিয়েও অবলীলায় তাদের সাথে দুষ্টামি করতে পারি।আর এ কারণেই আমার ক্যাডেট বন্ধুদের “কিরে বৃক্ষ”ডাকে আমি অবলীলায় সাড়া দেই-অথচ কলেজে থাকতে এটা নিয়ে হয়তোবা হাতাহাতি করতেও পিছপা হতাম না।

 

 যাই হোক, এভাবে আলাপে আর গপসপে কোন দিক দিয়ে সময় কেটে গিয়েছিল টেরই পাইনি-রাত সাড়ে আটটা কি পৌনে নয়টার দিকে মনে পড়ল বাসায় যেতে হবে। কামরুল ভাইয়ের কাছ থেকে বেশ কয়েকটা ডিভিডি নিয়ে নিলাম, যার মধ্যে অন্যতম ছিল “ওয়ার্ক ফর্মুলা”(পাঠক,নামটা বাংলায় অনুবাদ করে নিতে পারেন কিন্তু কথা দিতে হবে যে আমাকে খারাপ ভাবতে পারবেন না)। মেডালিয়ন ফার্নিচারের কাছে চায়ের দোকানে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা চলল। আমি,কামরুল ভাই , শোয়েব ভাই আর ওইদিকে রায়হান,মাসুদ ভাই আর রাসেল ভাই যখন বিভিন্ন ক্যাডেটিয় জারগনে আশপাশ মাতিয়ে তুলছি,ঠিক পাশেই চুল স্পাইক করা একটা “ইয়ো” গ্রুপকে দেখলাম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কারণ আর কিছুই না,চা নেবার সময় আমার কাপ শোয়েব ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দিতে গেলে উনি বলেছিলেন-“মিয়া কার্টেসি কি গুইলা খাইয়া বইসা আছ?জাননা কেলাস সেভেন আগে নেয়?” । পাক্কা ৬ ফুটের উপরে আমার সাইজের একজনকে ক্লাস সেভেন ভাবতে বোধকরি তাদের বেশ কষ্টই হচ্ছিল। যাই হোক,বিদায় নেবার সময় তাদের অবাক মুখের দিকে একটা মুচকি হাসি দিয়ে মনে মনে বললাম-“এমন হরষে,বুঝিবে সে কিসে,কভূ ক্যাডেট কলেজ ছোঁয়নি যারে!”

 

পুনশ্চঃ ভেবেছিলাম এত আনন্দঘন আড্ডার পর অন্তত কিছুক্ষণের জন্যে হলেও আমার মাথা থেকে নন-স্টপ ক্যাডেট কলেজের সাথে বাইরের তুলনা অথবা সব কিছুর সাথে ক্যাডেটের রেফারেন্স টানার রোগ দূর হবে।কিন্তু কিসের কি?সেখান থেকে ফিরেই মার্কেটে আম্মার সাথে কেনাকাটার সময়(আসলে জিনিসপত্র বহন করার জন্যে) আমার গা থেকে যখন গেমস পরবর্তী সময়ের মত “সুবাস” বইছিল,তিনি ঠিক করলেন আমাকে একটা বডি স্প্রে কিনে দেবেন। দোকানে গিয়ে প্রায় অনেক গুলো ব্র্যান্ডের স্প্রে দেখছিলাম, আম্মা বেশ ভাল একটা পছন্দও করেও দিলেন। কিন্তু দাম দিতে যাবার আগ মুহূর্তে চোখে পড়ল নিচের তাকে রাখা সেই সস্তা দামের বডি স্প্রে,যেটা ক্লাস ইলেভেনে থাকতে প্রথম কলেজে নিয়ে গিয়েছিলাম।সাথে সাথে আগেরটা ফিরিয়ে দিয়ে ওটা নিয়ে নিলাম-দোকানী অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল।“ওয়ান্স এ ক্যাডেট অলওয়েজ এ ক্যাডেট”-এ আপ্তবাক্যটি কোন ব্যাটা ভুল প্রমাণ করে কেউ একটু বলবেন কি??

৪,৩৪৯ বার দেখা হয়েছে

৫৪ টি মন্তব্য : “কামরুল ভাইয়ের ইফতারি আমার জিলাপি ভক্ষণ ও হাবিজাবি :মূল বৃত্তান্ত”

  1. হাসনাইন (৯৯-০৫)

    মাসরুফ ভাই, এক্কেরে উসুল হইয়া গেছে। 😀

    "কামরুল ভাই সিনেমার ডায়রেক্টর(এটা জোক না, সত্যি সত্যিই),উনাকে রোজার দিনে নায়িকা থুক্কু আর্টিস্টদের সাথে অনেক বেরোজদারী কাজ করতে হয় বলে রোজা না রাখলেও ইফতারে মাশা-আল্লাহ কোন ত্রুটি রাখেন নাই"

    :)) :))

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      এই লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ফৌজিয়ান ভাই আর কামরুল ভাইয়ের বান্দরামির শোধ তুলা।আমারে ভোলাভালা পাইয়া কি বাঁশটাই না দিছে আগের কমেন্টগুলাতে... x-( কাম্রুল ভাইরে হাল্কা পাতলা দেওন গেছে মাগার মেইন ক্রিমিনাল ফৌজিয়ান ভাই বাঁইচা গেছে।উনারে নিকট ভবিষ্যতে ধরার ইচ্ছা আছে...
      অফ টপিকঃ অবশ্য উনি যুদি সত্য সত্যই মুনালিসা আফা আর আমারে লইয়া একখানা বাংলাদেশি "দি অরিজিনাল সিন" বানায় তাইলে কেস ভিন্ন(ফৌজিয়ান ভাই, কই আপনে?এই কমেন্ট পড়তাছেন তো?? 😉 )

      জবাব দিন
  2. শোয়েব (৯৪ - ০০)
    আর সিসিবি সমাবেশে ১০ টা মোগলাই খাওয়ার অপবাদ পুরোপুরি আমার চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা জানা থাকা সত্বেও দেখলাম আয়োজন করার সময় সেটা ভুলে যাননি

    আমার কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হইছিল আয়োজন টা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকও হলনা।তবে মাসরফ্ফ এর অতৃপ্ত চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে পরবর্তী কোন আয়োজনের ভোলিয়ম কেমন হওয়া উচিত তার একটা আইডিয়া তো পাওয়া গেল।

    জবাব দিন
  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    মাসরুফ, তোমার পোস্টগুলা তো চরম হইতেছে...যেন রসাল ফল!!!
    কবি ঠিকই বলেছেন, 'বৃক্ষ তোমার নাম কি...ফলে পরিচয়!!'


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      অনেক ধন্যবাদ সামিন।ক্যাডেটের আগে এক্স লাগাতে আমি ভালবাসিনা।আমার নিজেকে এখনো ক্যাডেট মনে হয়,পার্থক্য হচ্ছে আমি শুধু ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে এসেছি আর বাকিরা এখনো পড়ছে।বুকের গভীরে তো অবশ্যই,চুল কাটা আর সকালে ব্যায়াম করার এখনো চলমান অভ্যাসকে হিসাবে ধরলে বাইরেও আমি একজন পুরোদস্তর ক্যাডেট।

      তাই আবার বলি-ওয়ান্স এ ক্যাডেট অলওয়েজ এ ক্যাডেট।

      জবাব দিন
  4. তৌফিক (৯৬-০২)

    ইয়া আল্লাহ! অই ইফতার যারা খাইছে তাদের ভয়ানক পেটের পীড়ায় আক্রান্ত কর, এমন ব্যবস্থা কর যাতে শরীরে বর্জ্য নিষ্কাষনের দুই ব্যবস্থার মধ্যে কোন পার্থক্য না থাকে। আমিন।

    জবাব দিন
  5. আয়োজনে সামান্য ত্রুটি রইয়া গেছিল। মাসরুফের পেট ভরে নাই তাই আমার প্রশংসা করে নাই ঠিক মতো।
    তবে যারা এই এলাকার আশেপাশে থাকেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ, যখনই সময় পাবেন আমাদের বাসায় চলে আসলে আমরা খুবই খুশি হবো। আমরা এখানে এখনো একটা ছোটখাট ক্যাডেট কলেজ বানাইয়া রাখছি। চার বন্ধু থাকি। সবাই সিলেট ক্যাডেট কলেজ,১৯তম ব্যাচ। বাকি যারা ঢাকায় আছে কিন্তু অন্যান্য জায়গায় থাকে তারাও বিষ্যুদবার রাতে সব ছেড়ে ছুড়ে 'একা এবং কয়েকজন'-এ চলে আসে। বোতল খোলা হয়। দুই/তিন পেগ পেটে পড়লেই আমরা সেই ১২/১৩ বছর আগের দুষ্ট ছেলের দল হয়ে যাই। তারপর রাত কখন ভোর হয় কেউই টের পাইনা।
    নিমন্তন্ন রইলো।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।