একটি ব্যক্তিগত পত্র এবং তার পেছনের মানুষটি…

প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ,

ছোটবোন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে থাকায় আজ একটি বিশেষ দিনে নতুন পোস্ট দেবার ইচ্ছে থাকলেও পারিনি,তবে এর বদলে একটি ব্যক্তিগত পত্র বিনা অনুমতিতে(পত্রটি আমার লেখা হলেও প্রাপকের অনুমতি নিইনি) তুলে দিচ্ছিঃ

তাহসিন মাসরুফ হোসেন মাসফি April 19 at 5:36pm

মইনুল ভাই,

অনেক দিন ধরেই আপনাকে লিখবো লিখবো ভাবছিলাম-নানান ব্যস্ততায় লেখা হয়নি।আমি জানি আমার এই ইমেইল পড়ে আপনি বিরক্ত হতে পারেন-তারপরেও লিখছি।

মালয়েশিয়াতে মেহেদী ভাইয়ের সাথে কম্পিউটার মার্কেটের সিঁড়িতে বসে কথা বলতে বলতে জানলাম আপনি আসছেন আমার সাথে দেখা করতে।কিছুক্ষণ পর পরীর মত সুন্দর মামনী আর ভাবীকে নিয়ে আপনি এসে হাজির হলেন।ভাইয়া আসলে তখন উচ্ছ্বাসে খুব বেশি কথা প্রকাশ করতে পারিনি-আর সামনা সামনি এসব বলতে আমার ভারি অস্বস্তি লাগে।তাই এতদিন পরে বলছি-আপনি ভাবী আর মামনি সহ এতদূর থেকে আমার সাথে দেখা করতে আসায় আমি যে আসলে কিরকম অভিভূত হয়েছি সেটা বলে বোঝাতে পারবনা।মেহেদী ভাইয়ের কাছে শুনেছি আপনি কিরকম ব্যস্ত মানুষ।তাছাড়া কলেজে আপনি ছিলেন আমার ৬ বছরের বড়-ওরে বাপরে,সেভেন আর টুয়েল্ভ!সব চাইতে বড় কথা-আপনার সাথে আমার আগে কখনও দেখাও হয়নি।অথচ সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে প্রবাসে চরম ব্যস্ততার মাঝেও আপনি এই এতদূর থেকে চলে এলেন।

আমার মা বাবা তো জানতেনই যে একজন ক্যাডেটের সাথে আরেকজন ক্যাডেটের সম্পর্ক কিরকম তাই তাঁরা বেশি অবাক হননি।কিন্তু আমার সাথে আমার কাজিন,ভাবী,ভাবীর মা ছিলেন।ভাবির মা প্রায় ৬০ বছর বয়েসের-তিনি বললেন যে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এরকম ফেলো ফিলিংস তিনি দেখেননি-যেমন আপনি তেমন মেহেদী ভাই।দেশে এসে ঢাকা ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ব্লগও লেখা হয়নি।তাছাড়া-এত মানুষের সামনে বললে আপনি লজ্জাও পেতে পারেন।শুধু এইটুকু বলব-ক্যাডেট কলেজ আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।এই অর্জন,এই রক্তের নয় কিন্তু রক্তের চেয়েও আপন যে সম্পর্ক-এটা নিয়ে আপনি আর মেহেদী ভাই আমাকে সুদূর মালয়েশিয়াতে বসে আবারো গর্ব করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ওইদিন।

বড় ভাইকে কৃতজ্ঞতা জানানোটা বাঙ্গালি কালচারে আদিখ্যেতার পর্যায়ে পড়ে-ভাবটা এমন-এ আর নতুন কী,বড় ভাইতো করবেই।এটা জেনেও বলি ভাইয়া,আপনার আর মেহেদী ভাইয়ের প্রতি যে ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতাবোধ আমি অনুভব করি তা প্রকাশের ভাষা আমার নেই।

লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলেই ফেলি-আমি আপনাদের ভালবাসি ভাইয়া,খুব খুব খুব বেশি ভালবাসি।প্রার্থনা ইত্যাদিতে আমার বিশ্বাস না থাকলেও মনে মনে বলি-আপনাদের মঙ্গল হোক।

অনেক কিছু লিখে ফেললাম।আসলে গতকাল ঢাকা ভার্সিটির রেজাল্টে আমার হয়ে যাবার পর অনেকটাই চাপমুক্ত লাগছে।তাই মালয়েশিয়া টুরের কথা মনে করে আজ ভীষণ আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছি।আমার বাতুলতা ক্ষমাসন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ভাবীকে আমার সালাম দেবেন।আর মামনির জন্য অনেক অনেক আদর।

আপনার স্নেহধন্য
মাসরুফ
(ইমেইল এখানেই শেষ)

প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ, মালয়েশিয়াতে যাবার পর প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ভুলে যে দুজন মানুষ আমার সাথে দেখা করতে ছুটে এসেছিলেন তাঁদেরই একজন এই মইনুল ভাই।উনাদের কারণেই সিসিবির মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের গেট-টুগেদার আমরা পেট্রোনাস টাওয়ারের হৃৎপিন্ডে বসে করতে পেরেছিলাম।শুধু খানাপিনা নয়,সারাদিন ঘোরাঘুরির সময় ভাইয়া আমাকে ট্রেনে চড়ার ভাড়াটিও দিতে দেননি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে সাথে বোনাস হিসেবে সিসিবি মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের গেটটুগেদারের একটি ছবি দেই( কানাডায় না ফানাডায় নাকি সিসিবির লোকজন গেটটুগেদার করে!!হুহ!)

পেট্রোনাস টাওয়ারের ভেতরে সিসিবি জিটুজিতে মইনুল ভাই(স্বপ্নচারী),আমি আর মেহেদী সুমন ভাই!

পোস্ট দেয়া নিয়ে আমার রেকর্ড যেহেতু জানেন,বুঝতেই পারছেন আজ উনার জন্মদিন।সবাই হাততালি দিয়ে বলুন,শুভ জন্মদিন মইনুল ভাই!!!!

পুনশ্চঃ মইনুল ভাই এই পোস্ট পড়ে মহা বিরক্ত হবেন আমার উপরে এটা নিশ্চিত,তবে জন্মদিন উপলক্ষ্যে বড় ভাইদেরকে এমন একটু-আধটু বিরক্ত করাই যায়,কি বলেন (কাইয়ুম্ভাই)!!!

২,২৫৮ বার দেখা হয়েছে

৬৮ টি মন্তব্য : “একটি ব্যক্তিগত পত্র এবং তার পেছনের মানুষটি…”

  1. রকিব (০১-০৭)

    শুভ জন্মদিন স্বপ্নচারী ভাইয়া। কেক-কোক খামু না, নান্নার বিরিয়ানী আর স্টারের কাবাব হলেই চলবে। 😀


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. আদনান মাহমুদ (১৯৯৭-২০০৩)

    মইনুল ভাই অনেক অনেক শুভ জন্মদিন 🙂
    মাসরুফ দোস্ত, মইনুল ভাই তো ক্লাস সেভেন-এ আমার টেবিল লিডার ছিলেন.তোর শেয়ার করা ছবি টা দেখে ভাইয়া কে চিনতে পারলাম. 🙂


    আদনান
    ১৮/৯৭
    ককক

    জবাব দিন
  3. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    মইনুল ভাইএর জন্মদিনে শুভকামনা-
    ১# আল্লাহ এবং ভাবীর অশেষ রহমত বর্ষিত হউক আপনার উপর, সারা জীবন।
    ২# ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে ভিন দেশী মুদ্রা সবসময় ঝনঝনাইতে থাকুক।
    ৩# মামনিটা অনেক অল্প বয়সেই অন্নন্নেক বড় হউক মনে, মানে, বিদ্যায়, জ্ঞ্যানে।
    ৪# গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর এই উত্তপ্ত জামানায় মন ও মাথা সবসময় "ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল থাকুক"।
    ৫# লোড শেডিং এ চার্জার লাইট সবসময় রিচার্জ থেকে সবরকমের অন্ধকার দূর করুক।
    ৬# ...
    ৭# ...
    ৮# ...
    ৯# ...
    ১০# ...
    ভাইজান, ৬# থেকে ১০# আপনার ইচ্ছাপূরণের জন্য উন্মুক্ত। যা ইচ্ছা হয় বসায় নিয়েন, আপনার জন্মদিনের ইচ্ছাপূরণ হউক "আমিন" :boss:


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    শুভ জন্মদিন
    স্বপ্নচারী মানুষের জীবনও স্বপ্নের মত হোক।

    বড় হয়ে আমি আপনাকে নিয়ে.............. ইয়ে মানে কী দেখতে যাবো বুঝতেই পারছেন। রেডি থাইকেন 😉


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  5. ব্যক্তিগত পত্রটির পেছনের মানুষটি কেমন তা কিছুটা অনুমান করা যাচ্ছে.

    লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলেই ফেলি-আমি আপনাদের ভালবাসি ভাইয়া,খুব খুব খুব বেশি ভালবাসি।প্রার্থনা ইত্যাদিতে আমার বিশ্বাস না থাকলেও মনে মনে বলি-আপনাদের মঙ্গল হোক।

    উপরে উল্লখিত দুটি লাইন থেকে প্রমানিত হচ্ছে, যতই লম্বু থাকনা কেন, মনটা একদম ছোট ক্লাস সেভেনের ছেলের মত. আহারে এক্কেরে পোলাপান, শুধু হাড্ডিগুলি বড় হয়েছে. 🙁

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।