পুরোনো দিনের গান, আজো ভরে মন প্রান

ক্লাস সেভেনে কলেজে গিয়েই আমরা প্রথম যে স্টেজ প্রোগ্রাম পেলাম সেটা ফাহিম ভাইদের (সুইস আল্পস খ্যাত ফাহিম ভাই) ব্যাচের কালচারাল শো। উনারা তখন সবেমাত্র এসএসসির ছুটি শেষ করে কলেজে এসেছেন। ক্লাস ইলেভেন। আর ইলেভেন মানে কলেজের রাজা। চলাফেরায় সব সময় মারদাঙ্গা ভাব। ফলে উনাদের কালচারাল শো’ও হলো সেই রকম মারদাঙ্গা।

শরীফ উদ্দিন নামে আমাদের একজন রসায়নের স্যার ছিলেন, ক্যাডেটদের যম বলা যেতো তাকে। মোটামোটি পুরো কলেজে তিনি ‘ভূত’ নামে পরিচিত। ফাহিম ভাইরা সেই শরীফ উদ্দিন স্যারকে ক্ষেপানোর জন্য তাদের কালচারাল ফাংশনে একটা নাটক করলেন। নাটকের নাম ‘ধরা খাইছে ভূত।’ ওই নাটকের প্রধান চরিত্রের নাম আবার ‘শরীফ’। সে ভূত সেজে লোকজনকে ভয় দেখিয়ে বেড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে। নাটক দেখে শরীফ উদ্দিন স্যার রেগে আগুন। ভূতের ওঝা হিসেবে অভিনয় করেছিলেন এশান ভাই (কিংবদন্তির কথা)। ভূত তাড়ানোর জন্য তিনি মন্ত্র পড়ছেন, ইচিং বিচিং চিচিং যা, পান্তা ভাত দিয়া পায়েস খা, আর পুরো অডিটরিয়াম হাত তালিতে ফেটে পড়ছে। শরীফ উদ্দিন স্যার দাঁতে দাঁত পিষছেন, কিন্তু কিছু বলতে পারছেন না।

কলেজ লাইফে দেখা প্রথম স্টেজ ফাংশন বলেই সেই প্রোগ্রামটা আমার এখনো মনে আছে। আরো মনে আছে সেই প্রোগ্রামের অনেকগুলি গান কলেজে খুব হিট হয়েছিলো। তার মধ্যে সবচেয়ে হিট ছিলো মাহফুজ ভাইয়ের গাওয়া গান ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরী ফুল দাও, আমার শিউলি নাও, দুজনে প্রেমে হই ঋনী’।
গানের সাথে মাহফুজ ভাইয়ের নাঁচ ছিলো দেখার মতো। আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। পরবর্তী বেশ কিছুদিন সেই গান চললো সবার মুখে মুখে। আর বেশি চললে যা হয়! এক সময় সেই গানের প্যারোডি বের হয়ে গেলো। ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার ছেঁড়া প্যান্ট দাও, আমার সুই-সুতা নাও, দুজনে মিলে সেলাই করি’।

মূল গানের চেয়ে প্যারোডি আরো বেশি হিট। কে এই প্যারোডি বের করেছিলো তা আজ আর মনে নেই, তবে এই গান বাথরুমে গোসলের সময় গাইতে গিয়ে আমাদের একব্যাচ সিনিয়র নাসের ভাই জুনিয়র হাউজ প্রিফেক্ট রহমান ভাইয়ের কাছে ধরা খেলেন। ফলাফল, অশ্লীলতার জন্য ডাস্টবিন মাথায় নিয়ে পুরো হাউজ তিন চক্কর।
আমাদের দুই জুনিয়র হাউজ প্রিফেক্ট রহমান ভাই আর ইমাদুল ভাইয়ের প্রিয় পানিশম্যান্ট ছিলো, কোন ফল্টে ধরা পড়লেই করিডোরে রাখা ডাস্টবিন মাথায় নিয়ে পুরো হাউজ তিনবার, পাঁচবার এমনকি দশবার করে চক্কর। অত্যন্ত অসম্মানজনক শাস্তি। ডাস্টবিন মাথায় করে জুনিয়র ব্লকের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। ফলে জুনিয়র হাউজ প্রিফেক্টদের কাছ থেকে সবাই বেঁচে থাকতো। এমন শাস্তির জন্য কিছুদিনের মধ্যেই রহমান ভাই আর ইমাদুল ভাই ত্রাসে পরিনিত হলেন।

ধুর! বলতে বসেছিলাম কলেজ লাইফে শোনা হিট গানের কথা, এখন দেখি স্মৃতির দরজায় নানান গল্প এসে কড়া নাড়ছে। যাক, সেই প্রোগ্রামেই ইব্রাহিম ভাই একটা গান গেয়েছিলেন, বাংলা সিনেমার।
‘কে বলে আমি ভাল না, আমি তো মানুষ, থাকবে কিছু দোষ, আমাকে মন্দ বলো না।’
সেটাও ব্যপক হিট । ওইগানের মাঝামাঝি আবার দুই লাইন ছিলো ‘ধনের কাঙ্গাল ধন খুঁজে, মনের কাঙ্গাল মন খুঁজে।’ তো আমিও একদিন প্রেপ টাইমে ডেস্কে বসে গাইছিলাম, ‘ধনের কাঙ্গাল ধন খুঁজে’ এবং যথারীতি মিজান স্যারের কাছে ধরা খেলাম। স্যার এই ধন আসল ধনের সাথে মিলিয়ে ফেললেন এবং অশ্লীলতার জন্য আমি পুরো প্রেপ লং-আপ হয়ে থাকলাম।

এর ক’দিন পরেই আসলো আমাদের ব্যাচের কালচারাল ফাংশান। আমরা আটঘাঁট বেঁধে নেমে পড়লাম। প্রোগ্রাম হিট করাতে হবে। তখন নোভা খুব হিট ব্যান্ড। স্কুল পলাতক মেয়ে এলবামটা রিলিজ পেয়েছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আরিফও সেই গান গাইলো ফাংশনে।
রেশমী চূড়ি হাতে, এলোমেলো চুল
স্কুল পলাতক মেয়ে করেছে ব্যাকুল
দুরু দুরু কাঁপে বুক যদি দেখে হায়
এভাবে কি তার সাথে প্রেম করা যায়

অন্য ব্যাচের কথা জানিনা, কিন্তু আমাদের ব্যাচে এটা জাতীয় সঙ্গীত হয়ে গেলো। কোয়াইট আওয়ার , প্রেপ টাইমে সবসময় এই গান আমাদের মুখে মুখে। বাথরুমে গোসল করতে করতে গুন গুন করি,
তুমি নাই, তুমি নাই, তুমি নাই বাসরী
কত ফাগুন যায় বলো কি করি

একসময় যথারীতি এই গানেরও প্যারোডি হলো। এক্সকারশনে যাওয়ার সময় দেখা গেলো বাসে সবাই দল বেঁধে গাইছে
তুমি নাই, তুমি নাই, তুমি নাই শ্বাশুরী
কত ফাগুন যায় বলো কি করি।

ফর্ম মাস্টার পিকে রায় স্যার বকাবকি করলেন কিন্তু আমরা শ্বাশুরীর বিরহেই কাতর থাকলাম।

তবে সত্যিকারের প্রশংসা পেয়েছিলো আমাদের নিয়ামূল। মাইলসের ফিরিয়ে দাও, আমারই প্রেম তুমি ফিরিয়ে দাও গেয়ে ও কলেজ মাতিয়ে দিলো। বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায় যার নাম শুনলে, সেই প্রিন্সিপাল সোহরাব আলী তালুকদার এসে নিয়ামূলকে কোলে তুলে ফেললেন। অনেকে বলে, স্যার নাকি নিয়ামুলের গালে দুই একটা চুমা-টুমাও দিয়েছিলেন, কিন্তু নিয়ামুল আজ আর তা স্বীকার করে না।

আরেকটা গানের কথা মনে পড়ছে, হিন্দী। সালমান খানের প্রথম ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র। মেরে সাওয়ালো কা জাবাব দো, দো না। আমাদের সিনিয়র এক ভাইয়া উনাদের ব্যাচের ফাংশনে গেয়েছিলেন। কিন্তু গাইতে গিয়ে উনি বারবার বলছিলেন, মেরে সাওয়ালো কা জাবাব ডো, ডো না। ব্যাস, কিছুদিনের মধ্যেই জুনিয়রদের কাছে তার নাম হয়ে গেলো ডোনা ভাই।

আমরা যখন ক্লাস ইলেভেনে তখন আমাদের কালচারাল প্রোগ্রামে আমাদের ফর্ম মাস্টার পিকে রায় স্যারের ওয়াইফ পর পর দুইটা গান গেয়েছিলেন। আসলে গাওয়ার কথা ছিলো একটা। আমরা জানতাম ম্যাডাম খুব ভালো গান করেন। তাকে ধরলাম আমাদের ফাংশনে গান গাওয়ার জন্য। অনেক জোরাজোরির পর ম্যাডাম একটা গান গাইতে রাজি হলেন। কিন্তু প্রোগ্রামের দিন পিকে রায় স্যার আমাদের শিখিয়ে দিলেন একটা গান শেষ হওয়া মাত্র পেছন থেকে ‘ওয়ান মোর’, ‘ওয়ান মোর’ বলে চিৎকার করতে। তাতে ম্যাডামের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি স্যারেরও ভাব বাড়বে অন্যদের সামনে। ম্যাডাম যথারীতি স্টেজে উঠে গাইলেন ‘আমার সকল দুঃখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস……।’ গান শেষ হবার সাথে সাথে আমরা পেছন থেকে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিলাম ‘ওয়ান মোর’, ‘ওয়ান মোর’। লজ্জারাঙ্গা হয়ে গেলেন ম্যাডাম, কিন্তু তারপর স্যারের হাত ধরে গাইলেন, প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথা… ।
কি জানি! আমরা তো আর জানি না। হয়তো সে রাত বৃথা যায় নাই।

তবে গান শুনতে গিয়ে সবচেয়ে মজা হয়েছিলো আমাদের সেভেন ডে’জ এক্সকারশনে। ফৌজদারহাটের গেস্ট হাউজে আমরা দেখার জন্য রাতের বেলা ভিসিআর আর সিনেমা নিয়ে আসলাম শহর থেকে। কয়েকটা সেইরকম ছবি আর ওয়ার্ম আপের জন্য তখনকার হিট বাংলা সিনেমা রাঙ্গাবউ। কলেজে থাকতেই ইত্তেফাকে সিনেমার পাতায় পড়েছি ওই ছবিতে নাকি ঋতুপর্না খুল্লাম-খুল্লা শট দিয়েছেন। ব্যাস, খুঁজে খুঁজে সেই ছবি এনে ভিসিআরে ছেড়ে দেয়া হলো। মাইরি বলছি, পয়সা উসুল ছিলো। বিশেষ করে বৃষ্টিতে ভিজে ঋতুপর্নার একটা গান ছিলো, সঙ্গে হুমায়ুন ফরীদি। সুন্দরী তোর অংগ যেন বরিশালের আমড়া। আমরা জিহবার নিচে আঙ্গুল দিয়ে সিনেমা হলের দর্শকদের মতো শিস দিলাম। অঙ্কের রকিব স্যার আমাদের পিছনে বসে ছবি দেখছিলেন। গানটা শুরু হবার সাথে সাথে স্যার উঠে গেলেন। আর বলে গেলেন , তোমাদের সবগুলির বাবা-মাকে বলে তোমাদের বিয়ে দিয়ে দিতে হবে।
আমাদের কি আর তখন ওসবে কান দেবার সময় আছে? আমরা তখন বৃষ্টি ভেজা ঋতুপর্নার শরীরে বরিশালের আমড়া খুঁজছি।

৬,১২৭ বার দেখা হয়েছে

৮৫ টি মন্তব্য : “পুরোনো দিনের গান, আজো ভরে মন প্রান”

  1. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

    এইবার সত্যিই প্রথম হয়েছি :tuski: :awesome: :tuski: :awesome: :guitar: :party:

    আমাদের এসকারশনের সময় ফৌজদারহাটের টিভিটা আমাদের পাপের ভার সহ্য করতে না পেরে উৎকট পোড়া ধোয়া নির্গম করে বিকল হয়ে গেল। পরে কিছুতেই সেকথা আমাদের ডাক্তার স্যারকে এক্সপ্লেইন করে বোঝানো গেলনা।

    বরিশাল ক্যাডেট কলেজে আইসিসি বাস্কেটবল কম্পিটিশনের সময়ে গিয়ে বরিশালের ঐ ধরনের কোন আমড়ার সুখ্যাতি শুনিনি। 😛

    জবাব দিন
    • বরিশাল ক্যাডেট কলেজে আইসিসি বাস্কেটবল কম্পিটিশনের সময়ে গিয়ে বরিশালের ঐ ধরনের কোন আমড়ার সুখ্যাতি শুনিনি।

      সব মরতুজা ভাই আর সায়েদ ভাইরা খাইয়া ফালাইছিলো মনে হয়। 😉 😉

      জবাব দিন
  2. মরতুজা (৯১-৯৭)

    জিটলস্য হইসে। আহারে, কলেজে সব কালাচারাল ফাংশনের কথা মনে পইড়া গেল। যত যাই কউ, যে বৃঃস্পতিবারে কোন প্রোগ্রাম থাকত, সেদিনের কোন তুলনা ছিলনা। সকালে হাফ ক্লাস, বিকালে কাম নাই, টি-ব্রেক থাইকা য্যান ঈদের দিন শুরু। ঝাকানাকা প্রোগ্রামের পর ইম্প্রভ ডিনার। আহা আহা!!

    জবাব দিন
  3. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
    আমাদের কি আর তখন ওসবে কান দেবার সময় আছে? আমরা তখন বৃষ্টি ভেজা ঋতুপর্নার শরীরে বরিশালের আমড়া খুঁজছি।

    শেষ পর্যন্ত খুইজা পাইছিলো কিনা কে জানে =)) =))

    টুকটাক অনেক কথা মনে পড়লো।

    আসলেই।
    -- আমরা ইলেভেন এ থাকতে হঠাৎ করেই ফারুক মাহফুজ আনাম সাহেব যথারীতি দু'একজনের উপর আছর করলেন ব্যাপক ভাবে। তখন সেরকম আছরাক্রান্ত একজনের ঠেলায় আমাদের পুরো হাউজের একটা গান মুখস্ত হয়ে গেলো সেকেন্ডে সেকেন্ডে ঐ গান শুনতে শুনতে। প্রিয় আকাশী, গতকাল ঠিক দুপুরে, তোমার চিঠি পেয়েছি, ঠিকানা পেলে কোথায়, আ আ আকাশী , আমার আকাশী। এইটার অরিজিনাল ভার্সান আমি প্রথম শুনি ভার্সিটির থার্ড ইয়ারে এসে, তখনও গানটার টু থার্ড আমার মুখস্ত ছিলো। 😀
    -- দিল তো পাগল হ্যায় এই হিন্দি সিনেমার একটা গান ছিলো এরকম- কোয়ি লাড়কি হ্যায় যাব ও হাসতি হ্যায় যথারীতি সেইগান ব্যাপক হিট হয়ে যাবার পর আমাদের একজনকে সারাদিন গাইতে শোনা যেতে লাগলো, কোই লারকি হে, টাব্বু হাতি হে...কোই লারকি হে, টাব্বু হাতি হে... এই টাব্বু হাতির ঠেলায় আমাদের পুরা মিরা যাবার দশা হইছিলো :))
    --এই কাহিনিটা সিলেটে গিয়ে শোনা। বাচ্চু কাক্কার একটা চরম হিট গান ছিলো, আমি যাব চলে, দূরে বহুদূরে, গান শুধু রবে, আমার স্মৃতি হয়ে, শা লা লা ল্লা লা ল্লা....শা লা লা ল্লা লা ল্লা.... তো সোহরাব আলী তালুকদার সাহেব কালচারাল ফাংশনের জন্য ঐ গানের প্র্যাকটিস দেখতে এসে এর বেশরিয়তি লিরিকসে বেজায় ক্ষিপ্ত হলেন। গানটিতে নাকি শালা বলে গালাগাল করা হইছে :)) ফলাফল কালচারাল ফাংশনে ঐটা পার্ট টুকু শুধু লালালালালালা করে গাওয়া হলো =))

    অনেকদিন পর কামরুলের লেখা পাওয়া গেলো। এবং যথারীতি সেইরকম :clap: :clap:
    সাবাশ কামরুল :boss:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  4. ২৯ তম ব্যাচের "গুরুরে"। তারপর নিসার ভাইয়ের "তাকিয়ো না তুমি ভাঙা আয়নায়।" এরপর বাচ্চু কাকুর "ঘুমন্ত শহরে।" নজরুলের "বধূ কোন আলো লাগল চোখে।" আমাদের অল্টারনেটিভ সিনিয়ার ব্যাচের করা নাটক- হকি ম্যাচ। ইমিডিয়েট জুনিয়ারদের করা ইন্সট্রুমেন্টাল।

    অনেক স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন কামরুল ভাই।

    অফটপিকঃ

    বাংলাদেশ আবার গ্যাড়ায়া দিছে। ৩৩ রানে ৩ টা গেছে। x-(

    জবাব দিন
  5. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ওহ কামরুল অনেক কিছু মনে পড়ল।

    আমাদের শেষের দিকে প্রিন্সিপাল ছিলেন কর্নেল ওবায়েদ, উনি নিজেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে বড় বড় চোখ ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে গাইতেন। বেশ ভাল গাইতেন, তবে গাইতেন সব দেহতত্ত্বের গান। গান শুরুর আগে আবার বলে নিতেন "আমি এবার দেহতত্ত্ব নিয়ে গান গাইব" গানের কথা ভরা থাকত দেহ আর দর্শন। আমরা পিছন থেকে শুধু চিৎকার করতাম "ওয়ান মোর ওয়ান মোর"

    আইসিসিএসএমে গিয়েছিলাম ঝিনাইদহ, তখন "বোল রাধা বোল" হিট ছবি। আর আমরা আমাদের থিম সং বেছে নিলাম "তু তু তু তু তু তারা, বোলো না দিল হামারা"।

    এক্সকারশনে আবার কিছুদিন পরে গেলাম ঝিনাইদহ। এর মাঝে থিম সং বদলে গেল। দিব্য ভারতী তখন হিট, আমরা গাই "এ্যায়সে দিওয়ানিহি" গাই আর দিব্য ভারতীর মত লাফাই, ওর স্কার্ট আর একটু উঠে না ক্যান, মাথা চুল্কাই।

    এইচ এস সির আগে আগে দিব্য ভারতী হঠাৎ মারা গেলেন। আমরা পুরো ব্যাচ লনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করলাম। রিপোর্ট হয়ে গেল, বাসায় চিঠি গেল, "আপনার পুত্র অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে"। আব্বা চিঠি পেয়ে দৌড় দিয়ে এসে শুনেন, আমি ভারতীয় নায়িকা মারা গেছে এই দুঃখে চিৎকার করে মরা কান্না কেদেছি।

    শুনেছি আব্বা নাকি প্রিন্সিপালকে খুব করে বকেছিলেন, চিঠির ভাষার কারনে।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  6. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    সোহরাব আলী স্যারের আর একটা কথা মনে পড়ল , একটা গান ছিল হিন্দি যার একটা লাইন ছিল আই লাভ মাই ইন্ডিয়া সেটা আবার স্যারের প্রিয় গান তাই কলেজ ফাইনাল ফাংশানে সেই গান গাইতে হবে। শাহরিয়ার ভাই ( ৯১-৯৭ ) কে দিয়ে সেই গান গাওয়ানো হয়েছিল শুধু ওই লাইন বদলে দেওয়া হল আই লাভ মাই বাংলাদেশ বলে।

    জবাব দিন
  7. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    কলেজ লাইফে কালচারাল প্রোগ্রামে সবচেয়ে মজা পেয়েছিলাম মর্তুজাভাইদের ব্যাচের ( বস, ভুল হইলে মাফ কইরা দিয়েন, বাচ্চাকালের ঘটনা) রুম ক্রিকেটে থার্ড আম্পায়ারের ব্যবহারের ডেমো, স্লো মোশন রিপ্লে, অসাধারন ছিল।

    সবচেয়ে হিট গান ছিল মনে হয় তপন চৌধুরী আর সুমনা হক এর মনে করো, তুমি আমি ...
    তপন চৌধূরীর অংশটা গেয়েছিল রিয়াজ ভাই আর সুমনা হকেরটা আমাদের এক ক্লাশমেট স্টেজের ভিতর থেকে গেয়েছিল। 😉


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • ইস তপন চৌধূরীর আরেকটা গান মনে করাইয়া দিলি। পৃথিবীর মতো হৃদয়টাকে কখনোতো ভাগ করিনি আমি। পৃথিবীর তিন ভাগ জল একভাগ স্থল আর আমার হৃদয় জুড়ে শুধু তুমি। এইটা কোন ভাইয়া গাইছিলো মনে নাই। তবে কয়দিন পর এইটারও প্যারোডি হইছিলো পৃথিবীর মতো হৃদয়টাকে চারভাগে ভাগ করেছি আমি। হৃদয়ের দুইভাগ সুমি একভাগ মিমি আর একভাগ জুড়ে শুধু তুমি। 😀 😀 😀

      জবাব দিন
  8. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    আমাদের কলেজে দুই/তিন ব্যাচ পরপর বাচ্চু চাচ্চু'র 'ভয়েস এলাইক' ছিল...সুতরাং যে কোন ফাংশনে তার গান মোটামুটি কমন থাকত... B-)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  9. বন্য (৯৯-০৫)
    লজ্জারাঙ্গা হয়ে গেলেন ম্যাডাম, কিন্তু তারপর স্যারের হাত ধরে গাইলেন, প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথা… ।
    কি জানি! আমরা তো আর জানি না। হয়তো সে রাত বৃথা যায় নাই

    ;;; :no: 😡 :gulli2: :duel: :just: :thumbup:

    জবাব দিন
  10. হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    আমাদের কি আর তখন ওসবে কান দেবার সময় আছে? আমরা তখন বৃষ্টি ভেজা ঋতুপর্নার শরীরে বরিশালের আমড়া খুঁজছি।

    বস, জটিল হইছে লেখা :salute: আসলে নামের মাঝেই একটা ব্যাপার আছে 😀

    জবাব দিন
  11. রশিদ (৯৪-০০)

    রেশমী চূড়ি হাতে, এলোমেলো চুল
    স্কুল পলাতক মেয়ে করেছে ব্যাকুল
    দুরু দুরু কাঁপে বুক যদি দেখে হায়
    এভাবে কি তার সাথে প্রেম করা যায়
    ..........ইস.....কত কী মনে করাইয়া দিলি.....

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।