আমাদের বাঁশিওয়ালা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

মানুষটাকে কাছ থেকে দেখেছিলাম দু’তিনবার। আকাশের মতো এমন বিশাল এক মানুষ। এমন সিংহহৃদয় মানুষ, আমাদের জাতির জীবনে একজনই এসেছিলেন। কিছুটা নিজের ক্যারিশমা, কিছুটা সাহস আর বাকিটা সময়- তাকে করে তুলেছিল এই জনপদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতায়। মানুষকে ভীষণ বিশ্বাস করতেন তিনি। হয়তো রবীন্দ্রনাথের মতোই মনে করতেন, ‘মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ।’

এই বাঁশিওয়ালা আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন মুক্তি সংগ্রামে, বাঙালি জাতির মুক্তির যুদ্ধে। মৃত্যু হতে পারে জেনে, রাষ্ট্রদ্রোহী উপাধিতে ভুষিত হওয়ার ঝুঁকি ও আশংকা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি পালিয়ে যাননি। ধরা দিয়েছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে। আমরা হ্যামিলনের শিশুদের মতোই মুক্তিযুদ্ধের বাঁশির মোহন সুরে তাকে অনুসরণ করে ছিনিয়ে এনেছিলাম স্বাধীনতা। চেনা শত্রুরা কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি ফিরে এসেছিলেন শত্রুমুক্ত স্বদেশে নিজের জনগণের মধ্যে বীরের মতো।

স্বাধীনতার পর নতুন দেশটি সফরে আসতেন বিশ্বের অনেক খ্যাত নেতারা। যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো, মিয়ানমারের নে-উইন, মিশরের আনোয়ার সাদাত আরো কতো। এই নেতাদের স্বাগত জানাতে আমরা স্কুল থেকে দল বেঁধে যেতাম বঙ্গভবনের সামনের সড়কে। দুই দেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে তাদের ভালোবাসা জানাতাম। পঞ্চমও ষষ্ট শ্রেনীতে পড়ুয়া এই বালক এইরকম গাড়িবহরে ওই বাঁশিওয়ালাকে দেখেছিলাম দুয়েকবার। আর সামনাসামনি দেখেছিলাম যেদিন স্কুল থেকে মিছিল নিয়ে আমরা গণভবনে গিয়েছিলাম। সন্ত্রাসী টেনা সাদেকের বিচার দাবি করেছিলাম। (এ বিষয়ে জানতে পড়ুন : স্মৃতির ঝাঁপি : মুক্তিযুদ্ধোত্তর অস্থিরতা)

নেতা হিসেবে যে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা তিনি অর্জন করেছিলেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা আর উদারতায় তা আর ধরে রাখতে পারলেন না। কিছু স্বজনের অপকর্মের দায়ও তাকেই বহন করতে হয়। ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠলেন অল্প সময়ের মধ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অন্ধকারের শক্তির ষড়যন্ত্রের কালো হাত। হাতে হাত মিলিয়েছিল দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা।

শত্রুর গুলিকে যিনি ভয় পান না, তাকে নিজের দেশের মানুষ হত্যা করবে এমন ভাবনাটাকে তিনি অকল্পনীয় মনে করতেন। সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন আগের মতোই অবিচল। হত্যা করতে আসা অন্ধকারের জীবদের সামনে তিনি বিষ্মিত হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, “তোরা আমাকে মারতে এসেছিস?” শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের মানুষই তাকে হত্যা করে। গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় তার শরীরটাকে। ঘাতকরা তখন জানেনি, বোঝেনি শেখ মুজিবকে হত্যা করা যায় না। মুজিবের শরীরকে স্তব্ধ করা গেলেও দোষ-গুণ নিয়েই বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নেন তিনি। সেই জায়গা শত মিথ্যাচারেও বিভ্রান্ত হয় না। মুজিব আলো হয়ে পথ দেখান বাঙালিকে।

বঙ্গবন্ধুর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে কোনো বিতর্কে আজ যেতে চাইছি না। পরে তোমরা চাইলে পৃথক পোস্টে আমরা আলোচনা-বিতর্ক করতে পারি। আজ আমি শুধু তাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে গর্ব করার মতো একটা জাতি তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন। আজ তার হত্যার ৩৪তম বার্ষিকীতে আসো মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটি গান দিয়ে তাকে স্মরণ করি।

গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো। অজিত রায়ের উদাত্ত গলায় গাওয়া গানটি আমাকে বারবার ‘৭১-এ নিয়ে যায়। পরে ব্যান্ড গ্রুপ রেনেসাঁ মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করে। গানটির দুটি সংস্করণই এখানে দিয়েছি।

শোনো একটি মুজিবরের থেকে : অজিত রায়

শোনো একটি মুজিবরের থেকে : রেনেসাঁ

৩৬ টি মন্তব্য : “আমাদের বাঁশিওয়ালা”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আচ্ছা সানা ভাই,একটা কথা শুনেছি বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে।ঘাতকের দল যখন উনাকে গুলি করতে বন্দুক তাক করেন তখন তিনি নাকি বলেছিলেন-" পাক আর্মি আমাকে হত্যা করতে পারেনি আর তোরা তো আমার দেশের লোক"।এর পরেই নাকি তাঁকে গুলি করা হয়।আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু জানেন?

    জবাব দিন
      • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

        ঠিক বক্তব্যটা পাওয়া যায় না মাস্ফ্যু। কারণ প্রত্যক্ষদর্শী তো রাখেনি ওরা। তবে যাই বলো, সেটাই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় তার চরিত্রের জন্য। কারণ এর আগে ভারতীয়রা যথন তাকে সম্ভাব্য অভ্যূত্থানের ব্যাপারে সতর্ক করেছিল, তখনো তিনি বলেছিলেন তাকে কোনো বাঙালি মারতে পারে এটা বিশ্বাস করেন না। মানুষের ওপর কতোটা বিশ্বাস থাকলে, ভালোবাসা থাকলে এভাবে ভাবা যায়?


        "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

        জবাব দিন
    • হাসনাইন (৯৯-০৫)
      এই বাঁশিওয়ালা আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন মুক্তি সংগ্রামে, বাঙালি জাতির মুক্তির যুদ্ধে। মৃত্যু হতে পারে জেনে, রাষ্ট্রদ্রোহী উপাধিতে ভুষিত হওয়ার ঝুঁকি ও আশংকা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি পালিয়ে যাননি। ধরা দিয়েছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে। আমরা হ্যামিলনের শিশুদের মতোই মুক্তিযুদ্ধের বাঁশির মোহন সুরে তাকে অনুসরণ করে ছিনিয়ে এনেছিলাম স্বাধীনতা। চেনা শত্রুরা কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি ফিরে এসেছিলেন শত্রুমুক্ত স্বদেশে নিজের জনগণের মধ্যে বীরের মতো।

      মানুষ এটা নিয়েও রাজনীতি করে। হায়রে বাঙালি... :salute: :salute:

      জবাব দিন
      • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

        মুজিবের চরিত্রে ভয় বলে কোনো কিছু ছিল না। হতে পারে তিনি পাকিস্তানি রাজনীতিক আর সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনার পুরোটা জানতেন না। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পনের লোক নন। যারা এই অপবাদ দেয়, তারা নিজেরা প্রতিটি কাপুরুষ। ওদের জন্য শুধুই ঘৃণা............ :thumbdown:


        "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

        জবাব দিন
  2. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)
    নেতা হিসেবে যে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা তিনি অর্জন করেছিলেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা আর উদারতায় তা আর ধরে রাখতে পারলেন না।

    কিছু বিষয়ে মনে হয় আমাদের নতুন করে প্রশ্ন করার সময় এসেছে যাতে করে আমরা মীথগুলো থেকে সত্যকে খুঁজে বার করতে পারি। এই 'প্রশাসনিক অদক্ষতা' বিষয়েই কামরুলের পোস্টে একটি মন্তব্য দিয়েছি।
    ধন্যবাদ সানা ভাই।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      রায়হান, কামরুলের পোস্টে তোমার মন্তব্য পড়লাম। অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ছিলেন তিনি। নইলে যুদ্ধ শেষের মাত্র ৬ মাসের (নাকি আরো কম, স্মৃতি থেকে লিখছি বলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি) মধ্যে ভারতীয় বাহিনীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হতো না। তার এমন অনেক বিষয় জানি, যেটা তার অসাধারণ প্রজ্ঞা প্রমাণ করে। স্মরণ রাখতে হবে তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। এর মধ্যে সবটাই ব্যর্থতা তা কিন্তু নয়।

      তবে তার বড় ব্যর্থতা মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসন আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সরকার, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসতে দেওয়া। এই মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন হাতে অস্ত্র রেখেছে। এদের পূনর্বাসন করা যায়নি, আবার নিয়ন্ত্রণও করা যায়নি। এরা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনে প্রচুর অমুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাবিরোধীকে তিনি বসিয়ে কুমির এনেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ওআইসি ও পাকিস্তানকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। বরং তাদের চাপের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। ফলে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়েছে। প্রথম আলোতেই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশ করা তথ্য ছাপা হয়েছে। ফারুক-রশীদ অভ্যূত্থানের বেশ আগে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়েছিল অস্ত্র সংগ্রহে।

      একটা কথা তাজউদ্দিন দুঃখ করে বলতেন, "মুজিব ভাই কোনোদিন জানতে চাননি মুক্তিযুদ্ধটা কিভাবে হয়েছে।"


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
      • রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)
        তবে তার বড় ব্যর্থতা মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসন আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সরকার, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসতে দেওয়া। এই মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন হাতে অস্ত্র রেখেছে। এদের পূনর্বাসন করা যায়নি, আবার নিয়ন্ত্রণও করা যায়নি। এরা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনে প্রচুর অমুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাবিরোধীকে তিনি বসিয়ে কুমির এনেছিলেন।

        আপনার সাথে পুরোপুরি এক মত সানা ভাই। আরো তিনটি বিষয় ছিল: মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণয়ন, এবং একদলীয় বাকশাল। একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কোনদিনই বঙ্গবন্ধুর এই পদক্ষেপগুলো মেনে নিতে পারিনি। তবে এখানে আমার মনে একটা খটকাও রয়েছে। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা আওয়ামী রাজনীতির বৃহৎ ছাতার সুযোগ নিয়ে কে কোন্ সমীকরণকে মূখ্য করে তুলতে পেরেছিল নিজেদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে, সেটাও মনে হয় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এই গোষ্ঠিটি কিন্তু যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারকেও কম সমস্যায় ফেলেনি। এদের সম্ভবত সবচেয়ে বড় সাফল্য মুজিব-তাজউদ্দিনকে আলাদা করতে পারা। স্বাধীনতাবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী, এবং সুবিধাবাদীরা অনেককেই বঙ্গবন্ধুর নিকট বলয় থেকে ছিটকে দুরে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন; আর বিভিন্ন জনের স্মৃতিচারণ পড়ে জানা যায়, এঁদের প্রত্যেককেই বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছিলেন আবারও ফিরিয়ে আনতে, সফল হননি (দ্রষ্টব্য: নুরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান, কামাল হোসেন)।

        তাই, এই সব বিষয় আমার কাছে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনাগত ব্যার্থতা কখনই মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র কিংবা নোংরা ভিলেজ পলিটিক্স, উদার কিংবা বড় মনের কোন মানুষের পক্ষেই সে সবের সাথে সমানে তাল মিলিয়ে চলা মনে হয় না সম্ভব। বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দিনও তাদের সেই পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছিলেন, সেই সাথে পুরো দেশ। হাজার হলেও তাঁরা তো মানুষই ছিলেন, অতিমানব তো আর না। আমার মনে হয় সানা ভাই এই পরিপ্রেক্ষিতগুলোর সঠিক মূল্যায়ন জরুরী, এই জাতির সঠিক ইতিহাসের স্বার্থেই।

        জবাব দিন
        • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

          খুবই ইন্টারেস্টিং এই বিষয়গুলো।শেখ কামাল ব্যাঙ্ক ডাকাত,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের জোর করে উঠিয়ে এনে ফূর্তি করত-এই কথাগুলো আমার নিকটাত্মীয়া মাতৃস্থানীয় একজনকে হলফ করে বলতে দেখেছি।আমার এক বন্ধুর মা সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তিনিও এ কথাগুলোতে সরাসরি সায় দেন।যদিও শেখ কামাল আর বঙ্গবন্ধু এক নন কিন্তু শেখ কামালের করা এই কাজগুলো(অর্থাৎ শেখ কামাল এ কাজগুলো করেছেন বলে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়) কিন্তু বঙ্গবন্ধুবিরোধীদের শিবিরে জোরে শোরে উচ্চারিত হতে দেখি।বিশেষ করে যে দুজনের কথা বললাম তাদের দ্বিতীয়জন তো বলেন যে তিনি নাকি নিজে দেখেছেন শেখ কামালকে এগুলো করতে।প্রমানের অভাবে এগুলোর প্রতিবাদ জোরেশোরে করতেও পারিনা।

          সানা ভাই,রায়হান ভাই-এ বিষয়ে যদি সঠিক কোন তথ্য/লেখা থাকত দয়া করে জানাবেন একটু?

          জবাব দিন
        • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

          রায়হান, মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণ হয়েছিল ১৯৭৫ সালের শুরু থেকে। বাকশালও গঠন হয়েছিল সে সময়। বিশেষ ক্ষমতা আইন অবশ্য হয়েছিল ১৯৭৩ সালে।

          যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র ছিল সত্য্। জাসদের গঠন ও রাজনীতিতে তাদের কট্টর আওয়ামী লীগ বিরোধী ভূমিকা, সিরাজ শিকদারসহ চীনাপন্থী দলগুলোর সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা, পাকিস্তানি ইন্ধন, যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ বিরোধী চক্রান্ত- এমন সব নেতিবাচক এবং অনেকাংশে অন্তর্ঘাতমূলক সক্রিয় রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর সরকারকে ভীষণভাবে বিব্রত করছিল। অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে তিনি দমনমূলক নীতি নিলেও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রোধে কিছুই করেননি।

          আওয়ামী লীগের এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদের লুটপাট, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসরোধে তিনি এক চক্ষু নীতি নিয়েছিলেন। স্বজনদের বিশেষ করে শেখ মনিকে তিনি পরবর্তী নেতা হিসাবে গড়ে তুলছিলেন। বলা হয়, তাজউদ্দিনকে দূরে ঠেলে দেওয়ার পিছনে শেখ মনির বড় ভূমিকা ছিল। শেখ কামাল সম্পর্কে অনেক অপপ্রচার আছে। তবে তার দাপট, উৎপাতও ছিল না তা নয়। ব্যাংক লুট, মেযেদের হল থেকে তুলে নেওয়া পুরোপুরি অপপ্রচার। তবে শেখ কামাল অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ও সরকারি প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করতেন। তার বন্ধু কে ছিলেন? সালমান রহমান! যে কিনা আজো কট্ট্রর পাকিস্তানপন্থী। এমনসব স্ববিরোধীতা বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের অংশ ছিল। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম তার সরকারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল। তিনি এটা শোধরানোর চেষ্টা করেননি। '৭৪-এর দুর্ভিক্ষ তিনি সামাল দিতে সক্ষম হননি। একদিকে তিনি সোভিয়েত ও ভারতপন্থী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বিষয়টা অসত্য নয়। আবার তিনি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।


          "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

          জবাব দিন
          • সাইফ (৯৪-০০)

            সানা ভাই,অনেকদিন পর আসলে সি সি বি তে কিছু লিখছি,অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করলেও লিখতে পারি না,বাস্তবঅতার প্রেক্ষিতে সঙ্গত কিন্তু সচেতন বিবেকের দায়বদ্ধতার কাছে অসংগত কারণে ব্লগ এ লিখা বন্ধ করে দিয়েছি।আপনার পোস্ট দেখে তাই কিছু একটা মন্তব্য দিতে ইচ্ছে করছে।অথচ কত অভাগা আমরা চয়াইলেও আমি এই পোস্টে কোন মন্তব্য করতে পারছি না,আপনাদের মত বিতর্ক করতে পারছি না।শেখ মুজিব সম্পর্কে একটা বিতর্ক আসে সবার মনে সেটা হল তিনি নেতা হিসেবে অবিসংবাদিত,কিন্তু শাসক হিসেবে ব্যররথ।আমাদের জন্ম ৮১ সালে।আমি যেটুকুন পড়েছি,জেনেছি এবং আমার বিবেক বুদ্ধি যেইটুকুন বুঝতে সক্ষম সেই সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে বলছি।
            নেতার কাজ হচ্ছে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয়া,তিনি যদি রাষ্ট্র প্রধানও হন তার আসল পরিচয় তিনি একজন নেতা,রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যান্য অংগসমূহ যদি টনেতার নির্দেশ মত কাজ না করে তখন নেতৃত্বের মহিমায় কেবল রাষ্ট্র চলে না।শেখ মুজিব কে যারা দূর্বল শাসক বলেন তাদের জন্য বলছি সেই সাথে আপনার কাছেও জানতে চাইছি শুধু মাত্র আমার ব্যক্তিগত জানার খাতিরে অন্য কোন কারনে নয় কিংবা তর্ক করার জন্য নয়।
            একটা যুদ্ধত্তোর দেশে যেই লোকজন,যেই নেতারা যেই মুক্তিযোদ্ধারা যে যার মত আখের গোছানো শুরু করেছে,যাকেই বিশ্বাস করে তিনি দাইয়ত্ব দিয়েছেন,সে সেখানে ইচ্ছেমত চুরি করছে,আখের গোছাচ্ছে,অথচ এই লোকগুলাই দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছে,তাদের অধিকাংশই আজকে বি এন পি আওয়ামীলিগ এর শীর্ষস্থানিয় নেতা,তারা যখন শেখ মুজিবের দূর্বল শাসন নিয়ে মন্তব্য করেন আমার প্রশ্ন ।।তারা আজকে দেশেক কোন শাসন এ শাসন করেন? শেখ মুজিবের ছেলেদের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিয়ে তাকে সামগ্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং তার পরিণতির বৈধতার যুক্তি দাড় করানো হয়,তাহলে আজকের এই অবস্থায় এসে বর্তমান নেতা নেত্রি কারো কি বেচে থাকার কথা?জগন্নাথ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল সায়েদুর রহমান এর কোন একটা বইতে পড়েছিলাম,এক মিটিং এ শেখ মুজিব বলেছিলনে,তোমারআই ত মিয়া আমারে প্রধান বানাইছ,আমি কারে বিশ্বাস করুম,আমারে ভালো ২০ জন লোক দাও আমি দেশ চালামু।যারেই দেই সেই ত বিশ্বাস ভংগ করে,আমি কারে বিশ্বাস করুম।যেই নেতারা আজকে দেশ স্বাধিন করেছে বলে গর্ব করে ,স্বাধিনতা তাদের একক অর্জন বলে দুই দলে বিভক্ত হয়ে হত্যালীলায় মেতে ওঠে তিনারা কেমন শাসক?তাদের সন্তান সন্ততিরা কেমন ?ত্আদের কি বেচে থাকা উচিত?
            আরেকটা ব্যাপার,যে শেখ মুজিব যুদ্ধ অপরাধিদের ক্ষমা করে তার এই পরিণতির শিকার হয়েছেন,এইটা আমি আং শিক ভাবে মেনে নেই।কিন্তু তার লীডারশিপ ট্রেইটস চিন্তা করলে আবার এইটার ব্যাখ্যা এইভাবেও দেয়া যায়,তিনি অনেক উদার চরিত্রের লোক ছিলেন।স্বাধিনতার পর পর তাই তিনি সাধারণ ক্ষমা দিয়েছিলেন এই ভেবে যে এই দেশ সবার,এই স্বাধিনতা সবার,একবার যখন স্বাধিনতা এসেছে এইটা ত আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না,এই দেশের সবাই আমার ভাই,আমাদের সন্তান,আমি কাকে আলাদা করব।
            ক্যাডেট ভাইদেরকে বলছি,ভাই আমি দুই দল বুঝি না,তিন দল বুঝি না,বুঝে আমার কোন কাজ নেই,সবার যার মত করে নিজস্ব মতামত থাকবে যুক্তি থাকবে ,তাই দয়া করে কেউ এমন ধারণা পোষন করবেন না যে আমি কোনাভবে কারো পক্ষে কথা বলছি।আমি দল বুঝি না কিন্তু আমি বক্তিগতভাবে যেই মানুষ্টাকে শ্রদ্ধা করি সেই সচেতন বিবেচনা থেকে আমি এই কথাগুলো বললাম।
            তবে আমি এইটূকুন বুঝি,যেই দেশে যেই জাতির রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষস্থানিয় নেতাদের হত্যা করা হয় এবং সংবিধানে সেইটা আইন পাস করে বৈধতা দেয়া হয়,মানে যেই দেশে রাষ্ট্রপ্রধান রা নিজেরাই ন্যায়বিচারের বাইরে,সেইখানে আপনি আমি কতটুকু কি?৭৫ এর পর থেকে আজ অব্ধি যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার কোন্টির বিচার কি হয়েছে?কেন হবে আজো টিভী চ্যানলে আমাদের ই ভোটে নির্বাচিত রা বলেন,আমি হইলাম হালদা নদির কাতল রুই,শেখ মুজিব হত্যা আর চার নেতা হ্যতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল...
            পহাড়ে বুদ্ধিজিবিদের তহাকথিত সেনা শাসন প্রত্যাহার হচ্ছে,আমরা দেখব তাদের তথাকথিত স্থানিয় শাসন কি দেয় রক্ত না শান্তি?ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে ক্ষুদ্র এই দেশের বিরাট পাহড়ি এলাকা রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তার জন্য যে কত গুরুত্ত্বপূর্ন তা বোঝার জন্য ভূগোল কিংবা পলিটিক্যাল সাইন্স এ পি এইচ ডি লাগে না, নিরাপত্তা বিশ্লেষ্ অক অ হওয়া লাগে না,ইতিহাস আর ভূগোল সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান থাকলেই যথেষ্ট।

            জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
    এই অকৃতজ্ঞ জাতির অপকর্মের দায়ভার এইদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মাথা পেতে নিচ্ছি।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. রশিদ (৯৪-০০)

    আমি মনে করি তিনি ২৫মার্চ রাতে স্বেচ্ছায়ই ধরা দিয়েছেন এবং এটাকে তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠতম সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় আমার........সময় পেলে লিখব আশা করি.......

    আর শেখ কামালের বেস্ট ফ্রেন্ড নাকি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন........???

    আমার কাছে শেখ মুজিব একজন হিরো......ট্র্যাজিক হিরো.......শ্রদ্ধ!!! :salute:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।