দ্বিতীয় জন্ম

একদিন বাবা এসে জিজ্ঞেস করলেন, ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেব কিনা। ওই সময় ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলো না। শুধু এইটাই জানতাম, এটা এক ধরনের আবাসিক স্কুল। বছরে আট-নয় মাসের মতন বাসার বাইরে থাকতে হবে চিন্তা করতে ভালো লাগেনি। তারপরেও কি ভেবে রাজী হয়ে গেলাম, পরীক্ষা দিতে তো কোন সমস্যা নেই। কত তারিখে পরীক্ষা হয়েছিলো ভুলে গিয়েছি, শুধু মনে আছে মারাত্বক মাথা ব্যাথা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সে জন্যে লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে নিজের রোল দেখে কিছুটা অবাক না হয়ে পারিনি। এরপরে কিভাবে কিভাবে জানি মৌখিক আর ডাক্তারী পরীক্ষাতেও উৎরে গেলাম।

সতের বছর আগে, আমার আজকের দিনটা শুরু হয়েছিলো ফেনীতে। সকাল থেকেই ব্যস্ততা সবার, কলেজ থেকে পাঠানো লিস্টি মিলিয়ে সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা দেখছেন আব্বু-আম্মু। আমি চুপচাপ বাসার মধ্যে পায়চারী করতে করতে চিন্তা করছিলাম, আগামী ছয় বছর জীবনটা সম্পুর্ন অন্য রকমভাবে কাটাতে হবে। শেষে মনে হলো, দেখাই যাক, কি আছে দুনিয়ায় …… । কলেজে পৌছে লাল, নীল, সবুজ পতাকার সাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আইয়ুব স্টাফ, মনে হয়, দেখিয়ে দিলেন কোন দিকে যেতে হবে। হাউজের কাছে পৌছে দেখি, একেকটা সাদা পোশাকের বাচ্চা মতন ছেলে বাবা-মার সাথে হাউজের সামনে টিচারদের সাথে কথা বলছে, টিচার ডাক দিচ্ছেন – ক্যাডেট অমুকের গাইড কে ?? খাকি পোশাক পরা একটু বড়সড় আরেকজন, তার সাথে হাত মিলিয়ে তাকে লাল, নীল বা সবুজ রিবন লাগানো নেমট্যাগ পরিয়ে দিয়ে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি জানতাম, আমি গোমতী হাউজের, কিন্তু কলেজ প্রসপেক্টাস ভালো করে পড়িনি দেখে বুঝতে পারছিলাম না আমি কি রঙের রিবন পাবো। আমার সামনের ছেলেটাকে দেখলাম, নীল রঙের রিবন লাগানো রনি নাম লেখা একটা নেমট্যাগ পেল। আমাকে রিসিভ করতে আসলেন রাজীব ভাই (৯০-৯৬ ব্যাচ) লাল রঙের রিবন লাগানো নেমট্যাগ নিয়ে। পরে জেনেছিলাম, আমাদের আগের ব্যাচে ১৭ জন কিন্তু আমাদের ব্যাচে ১৯ জন নেবার কারনে ক্লাস নাইনের দুজন ভাই আমাদের এই অতিরিক্ত দুজনকে রিসিভ করেছিলেন। আমার প্রথম রুম ছিলো ২৭ নম্বর রুম। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মতই সাদা পোশাক পরা নার্ভাস আরো দুজন। রাজীব ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন ওদের সাথে, তোমার ক্লাসমেট এবং রুমমেট, হামিদ আর তাহের। আব্বু-আম্মু বিদায় নিয়ে চলে যাবার পরে, ডুবন্ত মানুষ যেভাবে খড়-কুটো আঁকড়ে ধরতে চায়, মানসিকভাবে সেভাবে আঁকড়ে ধরলাম এই দুজনকে। মাগরিবের পরে মনে হয় ২০-৩০ বার নানা জনের আহ্বানে ফলইন করতে হয়েছে। প্রথমে হাউস প্রিফেক্ট, তারপরে ক্লাস এইটের ভাইয়েরা। পাঁচ মিনিট পর পর আমাদের একেকজন একেকটা ভুল করে, আর তারা প্রতিটা ভুলের জন্যে গোটা ব্যাচ ফলইন করিয়ে জানান যে পরবর্তিতে এই ভুল হলে খবর আছে। ডিনারের সময় আমাদের গোটা ব্যাচ আগে আগে পাঠানো হল, অ্যাডজুটেন্ট স্যার দেখিয়ে দিলেন, চামচ ব্যবহার করে কিভাবে খেতে হয়। একেকটা টেবিলে ক্লাস সেভেনের ১০ জনের মতন আর টেবিলের দুপাশে ক্লাস এলেভেন এর দুজন ভাই। আমি, তাহের আর হামিদ এক টেবিলে জায়গা পেয়েছি দেখে তিনজনেই একটু নিশ্চিন্ত হলাম। আমাদের টেবিল লীডার ছিলেন সাদাত ভাই আর মনে হয় এনায়েত ভাই, ৮৭-৯৩ ব্যাচের, খুবই গম্ভীরভাবে টেবিলে আসলেন। দেখে মনে হচ্ছিল দুনিয়ার বিশাল বিশাল প্রব্লেম সল্ভ করা বাদ দিয়ে আমাদের সাথে খেতে আসাটা কিছুতেই মনে মনে মেনে নিতে পারছেন না কেউই। আমি এখনো ঠিক পরিস্কার না, সাদাত ভাই কোনো ভাবে গোঁফ রাখার পারমিশন পেয়েছিলেন। ওনার রাশভারি গোঁফ দেখেই মনে হয়, টেবিলে পানি শেষ হয়ে যাবার পরে আমাদের মোস্তাফিজ ওনার দিকে ফিরে বললো, স্যার, পানি তো শ্যাষ। সাদাত ভাইকে দেখে মনে হল ওনার মাথায় কেউ কিছু একটা দিয়ে বাড়ি দিয়েছে আর ওইদিকে এনায়েত ভাই হাসি আর কাশি একত্র করে বিষম খাচ্ছেন। সাদাত ভাই কোনরকমে সামলে নিয়ে একই গম্ভীর্য রেখে জানালেন, টেবিলে কিছু দরকার হলে হাত তুলে রাখতে হবে, তাহলে ওয়েটার এসে দিয়ে যাবে। ডিনার শেষে আবার শুরু হলো ফলইন এর পালা। এতই ক্লান্ত ছিলাম যে লাইটস আউটের পরে একাকিত্বের কোন চিন্তা আসার আগেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরের দিন একে একে হাউসের বাকি ছেলেপেলেদের সাথে পরিচয় হতে লাগলো। হাবিব, মোজাম্মেল, সুফি, আবদুল্লাহ, আতাহার, সারোয়ার, আদনান, আহসান, তারেক, পারভেজ, হাসান, মুকিব, তওফিক, হক, শাহরিয়ার। অন্য হাউসের ছেলেপেলেদের সাথে পরিচয় হলো তারও পরের দিন ক্লাসে। মেঘনা হাউসের ফখরুল, রহমান, ফয়সাল, মাহফুজ, নাফিজ, মাশফিক, ইমরান, রুমি, রেজা, মাসুদ, নিহাদ, মেরাজ, জায়েদ, আমিন, সিরাজ, রনি, রাসেল, নুর —– তিতাসের সাইফুল, মাসুম, আসিফ, মনসুর, রিফাত, অদ্বিত, সানিন, এনাম, মাহমুদ, আকিক, তাশফিক, রুহুল, রকিব, রাশেদ, মাজহার, মাহবুব, সুফিয়ান, মঈন। সবার নাম লিখে ফেললাম। আজকে একেকটা নামের ওপরে আঙ্গুল বোলাচ্ছি, আর বন্ধ চোখের পাতার মধ্যে ওদের দেখতে পাচ্ছি —– সব আগের মতই। মাঝে মাঝে এদের সবাইকে আমার অতি মুল্যবান ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতন মনে হয়, এমনিতে আমি যথেষ্ট অগোছালো, কিন্তু এদের স্মৃতিগুলো আমার মনে যথাসম্ভব গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করি। ছয়টা বছর কেটেছে এদের সাথে হাসি, কান্না, আনন্দ, কষ্ট, উচ্চাকাংখা, হতাশা ভাগাভাগি করে।

আমার মনে হয়না, ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী আড্ডাগুলোতে ফেরেস্তারা উপস্থিত থাকতে পারে, তারপরেও এই আড্ডাগুলোতে যখনি যেতাম, মনে শান্তি পেয়েছি। সেই কলেজ লাইফের ফ্লেবার, কয়েকজন মিলে একজনকে পচাচ্ছে, কেউ যদি বেশী জোরে হেসে ফেলে তখন আবার যে পচাচ্ছে আর যে পচিত হচ্ছে তারা জোট বেধে, “জোরে হাসলি কেন” — এই অপরাধে তাকে নিয়ে শুরু হয়ে যাওয়া, আর “দোস্ত ওই দিনের ঘটনা মনে আছে ?” — দিয়ে শুরু করা স্মৃতিচারনমুলক আলোচনা …… একেবারে যেন বৃহস্পতিবার রাতে করিডোরে জমা হয়ে সেই একই আড্ডা।

আমি এই বছর বার্থডে গেট টুগেদারটা মিস করছি, আর আমাদের গেট টুগেদারে যারা যাবে তারা মিস করবে মাজহারকে। ওর ঢাকাতে পোস্টিং হবার পরে আমাদের গেট টুগেদারগুলো সেই আয়োজন করতো। ওর কথা মনে পড়লেই মনটা খারাপ হয়ে যায়, বিদায় নেবার পর্ব এতো তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যাবে, তা কখনই ভাবতে পারিনি।

এইখানে সাধারনত ইন্ডিয়ান কলিগদের সাথেই আড্ডা দেয়া হয়। কিছুদিন আগে আমাদের কোম্পানীর বর্ষপুর্তির অনুষ্ঠানে ডিনারের পরে আড্ডা দিচ্ছিলাম, পেটে কিছু তরল পরার পরে দেখি তারা তামিল সিনেমার নায়িকাদের নিয়ে আলাপ করা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার, অ্যাচিভমেন্ট ইত্যাদি উচ্চমার্গীয় ব্যাপার নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। আমার পালা যখন আসলো, নির্দ্বিধায় বলে দিলাম, “ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়া ……”। এরপরে বেশ পরিশ্রম করে বোঝাতে হলো ক্যাডেট কলেজ বলতে কি বোঝায়। সবশেষে দেখলাম তারা একটু কনফিউজড, একটা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল-কলেজে চান্স পাওয়া কিভাবে এমন বড় ব্যাপার হতে পারে …… ।

আমি আর কিছুই বলিনা। কিভাবে বোঝাবো তাদের, এই এক জায়গাতে চান্স পেয়ে কমপক্ষে ৫৪টা মনের মধ্যে জায়গা করে নেবার পাশাপাশি আরোও শখানেক বন্ধু পেয়ে গিয়েছি। আসলের সাথে সাথে সুদ হিসেবে পেয়েছি অনেক সিনিয়র ভাই/বোন, যারা আমাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতই দেখেন এবং অসংখ্য জুনিয়র ভাই/বোন (যাদের সংখ্যা, বছরের পর বছর বাড়তেই আছে), যারা আমাকে নিজের বড় ভাইয়ের মতই সন্মান করে। এইটা যদি অ্যাচিভমেন্ট না হয়, তাহলে অ্যাচিভমেন্টের সংঙ্গা আমার জানা নেই।

কয়েকদিন আগে এই সিসিবির টুইস্টার রাইটার, রকিবের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখলাম লিখেছে, তার মন উড়াল দিতে চায়। তার কিছু সময় পরে দেখলাম তার এক বন্ধু কমেন্ট করেছে, পুরোপুরিটা ভুলে গেছি, সারমর্ম এই — “লাইফে বিশাল পাপ করসি এই ক্যাডেট কলেজে পড়ে ……… বাইরে পড়লে ৪-৫ জনের মতন ভালো বন্ধু হতো, দূরে থাকলে ৪-৫ কে মিস করতাম …… এখন শালার ৫০ টাকে মিস করা লাগে …… ভাল্লাগেনা”। ওর সাথে আমি একমত, তবে এটাও জানি আমাকে যদি আবারো সুযোগ দেয়া হয় যতটুকু জীবন পার করে এসেছি তা আবার যাপন করবার, আমি জানপ্রান লাগিয়ে আবার ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেব। আবার ছয় বছর আরো আনন্দ-ফুর্তি করবো। তারপরে কলেজ থেকে বের দেশের বাইরে এসে আবার চিন্তা করবো, কি বিশাল পাপ করসি। আবার সুযোগ পেলে আবারো একই কাজ করবো এবং কষ্ট পাবো। এই জিনিস চলতেই থাকবে। আমার বিশ্বাস, এখানকার সবাইও এই একই কাজই করবে। স্পাইডারম্যানের ভাষায় বলা যায় — এটাই আমাদের নিয়তি, এটাই আমাদের অভিশাপ।

১৭ বছর আগে আজকের দিনে আমার দ্বিতীয়বারের মতন জন্ম হয়েছিলো। আমার সাথে যারা আজকে দ্বিতীয়বারের মতন জন্ম নিয়েছে, সবাইকে বলছি —— “দোস্ত, শুভ ১৭তম জন্মদিন। সারা জীবন ভালো থাকিস ……”

সবশেষে সিসিবির সবার সাথে একটা গান শেয়ার করতে চাই। ব্রায়ান অ্যাডামসের এই গানটা শুনলেই আমি আমার কলেজ লাইফ মিস করতে থাকি। একটু শুনে বলেন তো সবাই …… সমস্যাটা আমার মনের নাকি গানটাই এমন ——

৪,৮১৪ বার দেখা হয়েছে

৬৫ টি মন্তব্য : “দ্বিতীয় জন্ম”

  1. রকিব (০১-০৭)

    শুভ জন্মদিন ৯২-৯৮ ইনটেকের সকল ভাইয়া-আপুদের :boss: :boss: ।
    পুরো লেখাটা পড়তে বেশ কষ্ট হয়েছে, বেশ ক'বার ঘুরে ফিরে আবার নতুন করে শুরু করেছি, এটাই আমাদের নিয়তি, এটাই আমাদের অভিশাপ ; এ শাপে অভিশপ্ত হওয়া অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। ছুয়ে যাওয়া লেখা ভাইয়া। :salute:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    শুভ জন্মদিন ... ৯২-৯৮ ইনটেকের সকল ভাইয়া-আপুদের :party: :party:

    লেখাটা আসলেই ছুয়ে গেল ......... আপন এতো বস টাইপ ক্যাম্নে যে লেখেন :salute: :salute: :salute:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    ওনার রাশভারি গোঁফ দেখেই মনে হয়, টেবিলে পানি শেষ হয়ে যাবার পরে আমাদের মোস্তাফিজ ওনার দিকে ফিরে বললো, স্যার, পানি তো শ্যাষ।

    একেবারে মারদাঙ্গা ডায়ালগ......... =)) =))
    গোফ থাকলো ক্যামনে......... :-/ :-/

    জবাব দিন
  4. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    আর আমাদের গেট টুগেদারে যারা যাবে তারা মিস করবে মাজহারকে।

    বিদায় নেবার পর্ব এতো তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যাবে, তা কখনই ভাবতে পারিনি।

    চোখটা ভিজে গেলো ভাইয়া.........

    জবাব দিন
  5. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: :boss: ভাইয়া বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিনা, আসাধারন লেখা :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    শুভ জন্মদিন … ৯২-৯৮ ইনটেকের সকল ভাইয়া-আপুদের

    মে মাসটা আমার খুব প্রিয়, এই মাসে আমাদেরও জন্মদিন 😀 😀 😀

    জবাব দিন
  6. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    এইটা যদি অ্যাচিভমেন্ট না হয়, তাহলে অ্যাচিভমেন্টের সংঙ্গা আমার জানা নেই।

    স্বপ্ন ভাই,ক্যাডেট কলেজে ঢোকা আমার জন্য কতবড় সৌভাগ্য-তা প্রকাশ করার জন্য অনেক দিন ধরে মনের মত একটা অভিব্যক্তি খুঁজছিলাম।আপনার বদৌলতে আজ পেলাম।অনেক অনেক ধন্যবাদ,ভাইয়া!

    শুভ জন্মদিন!

    জবাব দিন
  7. আরিফ (৯২-৯৮)

    ভাল লিখছিস। আমি সারাজীবন চেষ্টা করে মানুষজনকে বেঝাতে পারলাম না যে ক্যাডেট কলেজ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কি আছে? ব্যাটা তুই ক্যাম্নে বুঝবি যে এইটা আমার অস্তিত্ব?

    ৯২-৯৮ এর সবাইকে অভিনন্দন।

    জবাব দিন
  8. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    বর্ষপূর্তি'র শুভেচ্ছা ৯২'র সকল ভাইয়া-আপুদের। :clap: :clap:


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  9. এইটা যদি অ্যাচিভমেন্ট না হয়, তাহলে অ্যাচিভমেন্টের সংঙ্গা আমার জানা নেই।

    এইটা যেই প্রসঙ্গে লিখেছেন ভাইয়া, তার প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি অনুভূতি আমার হৃদয় ছোঁয়া... যেন ঠিক আমারই মনের কথা।
    আমি দীর্ঘদিন ভেবে এসেছিলাম আমি বোধহয় "দুর্বলচিত্ত" আর "অবাস্তববাদী" মানুষ তাই বেরিয়ে আসার ৩ বছর পরেও তীব্রভাবে মিস করি ফেলে আসা সেই সময়গুলো...
    :dreamy: :dreamy:

    কিন্তু সিসিবি-তে এসে আপনাদের লেখা পড়ে তারপর আশ্বস্ত হয়েছি যে এইটা খুব অস্বাভাবিক না, বরং না থাকাটাই হয়ত অস্বাভাবিক।

    আপনার লেখা বরাবরই হৃদয়স্পর্শী। এইটাও ব্যতিক্রম না।
    অসাধারণ এই লেখার জন্য খুব বড় করে একটা সালাম দিলাম আপনাকে ভাইয়া। আসসালামু আলাইকুম।

    জবাব দিন
  10. জামান (০১-০৭)

    লেখাটা পড়ে অসম্ভব ভাল লাগলো, :salute: শুভ জন্মদিন ৯২-৯৮ এর সকল ভাইয়া আপুদের। :guitar: ... গানটাও জটিল ছিল, যদিও অতটা নস্টালজিক লাগে নাই :-B ।

    একটু আগে বুঝতে পারলাম আমার screen name পুরা নাম থেকে হঠাৎ ছোট হয়ে শুধু ক্যাডেট নাম হয়ে গেছে, কিসের কারসাজিতে হল বুঝতে পারতেছি না, :-B ।

    জবাব দিন
      • কামরুলতপু (৯৬-০২)

        ইয়াল্লা কি বলেন, ফেনী হইল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর, ভুললেন কেমনে । আমার দেশের বাড়ি ফেনী সদর থানায়। আর খালা, মামাদের বাসা সব ফেনী শহরের উপর ডাক্তারপাড়ার কাছাকাছি।

        জবাব দিন
        • মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

          আসলে, যখন ক্যাডেট কলেজে চান্স পাই, তখন আব্বুর পোস্টিং ছিলো মেহেরপুরে। আর আমার দাদা বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম থানায়। সে সময় আব্বু ফেনীতে বাড়ি করছিলেন। আমাদের ওই ফেনীর বাসা থেকেই কুমিল্লার দিকে রওনা দিয়েছিলাম। এর পরে সেই বাসাতে আমি গিয়েছি আমার বিয়ের পরে, ২০০৫ এর শেষে। মাঝখানের সময়ে দাদাবাড়ি গেলেও ফেনীতে থেমে ওই বাড়ীতে যাওয়া হয়নি কখনো। এই জন্যে মনে নেই। শুধু মনে আছে, একটা বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি বাসাটা।

          আমি ক্লাস টেনে পড়ার সময়েই আব্বু মেহেরপুর থেকে ঢাকা বদলি হয়ে যান। তখন থেকেই ঢাকাতেই আছি।

          জবাব দিন
  11. তৌফিক (৯৬-০২)

    প্রিয়তে নিয়ে নিলাম মইনুল ভাই। মজার কথা কি জানেন, আপনার এই লেখা যখন প্রথম পড়ি আমার কম্পুতে স্পিরিটের ঠিক এই গানটাই বাজতে ছিল। আমার প্রিয় একটা গান + সিনেমা। 🙂

    জবাব দিন
  12. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    আজকে একেকটা নামের ওপরে আঙ্গুল বোলাচ্ছি, আর বন্ধ চোখের পাতার মধ্যে ওদের দেখতে পাচ্ছি —– সব আগের মতই।

    :boss: :boss:

    আমিও......একদম এভাবেই......


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।