অপমৃত্যু

চলে গেলো ওরা…
আমার দিকে ফিরে তাকালোনা একবার……
একবারও কেউ বললো ন “তোমাকে দু’চোখে দেখতে পারি না আমি……………
……………………………………………………………
……………………………………………………………
এমনই বোধ হয় কিছু একটা লিখেছিলাম আমার জীবনের প্রথম কবিতা হিসেবে । তাও আবার লিখেছিলাম আমার ২ ব্যাচ জুনিয়র যখন কলেজ থেকে এস এস সি পরীক্ষার ছুটিতে যাচ্ছিলো আর আমি আমার রূমের জানালা দিয়ে তাদের দেখছিলাম , তখন । জানিনা কেন সেদিন প্রথমবারের মত আমার মাঝে কবিত্ব জেগে উঠেছিল , তবে এটা ঠিক যে আমার প্রতি ওদের ঘৃণা আমি বেশ আগেই অনুভব করেছিলাম । যার কারন ছিল কোনো এক কারণে তাদের ব্যাচের ১ জনের প্রতি আমার তীব্র রাগ হয়ত পুরো ব্যাচের প্রতিই আক্রোশে রুপ নিয়েছিল, যার বহিপ্রকাশ ঘটে টিটি রুমে (বোধহয় ২ বার) তাদের উপর আমার প্রচন্ড লাঠিপেটা, ২ দফায় ৬/৭ টি লকারষ্টিক ভাঙ্গা এবং পরবর্তীতে আমার প্রতি তাদের মনোভাব দেখে । তবে আমি জুনিয়রদের নিয়ে যে খুব বেশি ঘাটাঘাটি করতাম তা কিন্তু না । বরং ঐ ব্যাচেরই কয়েকজনকে একবার মনের সুখে চড় মারার পর রাতে প্রেপে তাদের গালে আমার হাতের স্পর্শের চিহ্ন দেখার পর আমার মাঝে আমুল এক পরিবর্তন এসেছিল । আমার মনে আছে…এরপর হটাত করেই আমার ক্লাস সেভেন, এইটের ছেলেগুলাকে বাচ্চা মনে হতে লাগলো এবং ডিনারের পর ওদের দৌড়াতে দেখলে খুব কষ্টও হত এবং আমি প্রায় প্রতিদিনই আমার সামনে পরা জুনিয়রদের দৌড়ের পরিবর্তে হেঁটে যাবার আদেশ (!) দিতাম. ।…..এমনকি মনে আছে যে একবার বিএমএতে থাকার সময় আমার এক জুনিয়র আমাকে চিনতে না পেরে আমাকে পানিশমেন্ট ফলিন দিয়েছিল পরে নিজেকে চেনানোর পর আমি তাকে আমার ফলিনে আসতে বলে নিজেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ।
অনেক্ষণ বাজে বকলাম । আসলে আমি ঠিক গুছিয়ে এবং সংক্ষেপে কোন উপস্থাপনা পারি না – যা আমাকে আমার চাকরি ক্ষেত্রেও প্রায়ই খুব ভোগায় । তবে আমি যা বলতে চাচ্ছিলাম তা হল – যারা জুনিয়রদের শুধু জুনিয়র মনে করে, মানুষ না – আমি ঠিক তাদের দলে না । আমি তাদের স্নেহ করি , তবে প্রাপ্য হলে তাদের উপযুক্ত উত্তম-মধ্যম দেবারও পক্ষপাতি – যদি তা পর্যাপ্ত মটিভেশনের পর দেয়া হয় ।

আমাদের কলেজের সম্ভবত ১০ম ইনটেকের কলেজ প্রিফেক্ট ( ঠিক মনে নাই ) NASA তে আছেন । আমরা কলেজে থাকার সময় দেশে এসে আমাদের কলেজেও এসেছিলেন একবার , কথা বলেছিলেন আমাদের সবার সাথে । আমার দুর্বল মেমরির মতে উনি যা বলে গিয়েছিলেন তার সারমর্ম হল—- তিনি ক্যাডেট কলেজের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঋণী তাঁকে leadership and command শেখানোর জন্য । আর আমার মতে এর মূল কথা হলো To know what is called seniority and juniority and to know how to maintain that everywhere— যেটা আমার বিশ্বাস আমার ও আরও অনেকের চাকরির ক্ষেত্রে খুব বেশী প্রযোজ্য । আমি জানি না আমার কলেজ, নাকি চাকরি – কে দায়ী আমার মাঝে এই জীবাণু ঢোকানোর জন্য যার কারনে কেউ সিনিয়র-জুনিয়রের এই রিলেশন ভাঙ্গলে আমার মাথা একটু গরম হয়ই…সবসময় । সিসিবিতে লাস্ট কয়েকটা পোস্ট পড়ার পর হয়তো এই জীবাণুর প্রভাবেই আমার এই পোস্ট ।

কথা উঠেছে সিসিবির গণতন্ত্র নিয়ে । হ্যাঁ…এটা নিয়ে আমরা এই দেশের সবাই খুব সোচ্চার । তবে আমার মনে হয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি বিনয় এবং শালীনতা জিনিসটাও আমাদের আরও একটু শেখার সময় এসেছে । কয়েকটি পোস্ট এবং তার কমেন্ট পড়ার পর আমার অন্তত মনে হচ্ছে যে আমরা অনেকেই কলেজে শেখানো অনেক কিছুই ভুলে গেছি । কেননা কারন যাই হোক…ক্যাডেট কলেজের হিসেবে সিনিয়র কাউকে ওপেন ব্লগে সরাসরি

বাড়তি কথা—

অথবা

আপনি ভালো লিখেন সন্দেহ নেই। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় অনেক কথা বলে দীর্ঘায়ীত করেন।

এভাবে বলা কথায় আমি কোনো বিনয় বা ভদ্রতা দেখি না । আবার পোস্ট পড়তে গিয়ে পড়া

Moderators…(specially backboneless senior mods) I’ll fuck u upside
down…keep on cheering that arsehole (একজন সিসিবি সদস্যের নাম)..suddenly u’ll find

a big banana tree inside ur stinky butt.Banchods.I’m not a good guy.

অথবা

আগামী পরশু আমার একটা পরীক্ষা আছে আর মধ্যে আপনাদের এই balls এর মেইলে যে আমি রিপ্লাই করছি সেটা আপনাদের কপাল।

এটা লেখার কারণ যাই হোক ,এই লেখার মাঝে আমি কেনো জানি না ধৃষ্টতার চূড়ান্ত বহিপ্রকাশ দেখছি । কেননা আমি খুব বেশি শিক্ষিত না । আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী ও গুনীজন অনেকেই এই ব্লগ পরে থাকেন । তবে আমি যা দেখছি আমাদের দেশে তা হল আমরা গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করে আমাদের নেতা নির্বাচন করে থাকি যাঁরা আমাদের ভাল-মন্দের সিদ্ধান্ত নেন । আজ পর্যন্ত কখনো তো শুনলাম না যে জনপ্রতিনিধিরা কোনো সিদ্ধান্তের আগে জরিপ করে বা ভোটের মাধ্যমে জনগন কি চায় তা জনগনের কাছে জানতে চান । আমি যা বলতে চাইছি তা হল সবসময় নেতা বা কমান্ডের প্রয়োজন যে কোনো কাজে discipline আনার জন্য । আবার সেই নেতাকে মান্য করাও প্রয়োজন একই কারনে । তবে এই নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্ত্রে আমরা গনতান্ত্রিক হতে পারি । আমার মতে এই কথাগুলো সিসিবির মডারেটরের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য হতে পারে ( তাদের নির্বাচন, তাদের কর্মপদ্ধতি এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা মেনে চলার ক্ষেত্ত্রে ) ।অবশ্য এত কাহিনীর পর আমাদের মডারেটর এর পদে আগ্রহী কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না – এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে । কেননা এই কাজটি অনেকটা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো ছাড়া তো নয় !

হয়তবা আপনাদের অনেকেরই অনেক বাজে সময় নষ্ট করলাম ( অবশ্য এতখানি কেউ পড়বে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে ) । তবে আমি সিসিবিতে এসেছিলাম সিসিবিকে ভালবাসতে দেখে । সিসিবির প্রতি আমার ইউনিটের এক সিনিয়রের ভালবাসা দেখে সিসিবি পড়তে আসা , সিসিবিতে লেখার স্বপ্ন দেখা । আমার লেখায় হাজার হাজার পোলাপাইনের লাখ লাখ কমেন্ট—- তা পড়ে আমার হাসতে হাসতে গড়ান , অনেকের স্নেহ, অনেকের শ্রদ্ধাভাজন হওয়া , অনেকের সাথে পরিচিত হওয়া—-এমন কিছু স্বপ্ন নিয়ে সিসিবিতে কেবল নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছিলাম । তবে এমন কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি দেখলে ( বিশেষ করে জুনিয়রদের ) হয়তবা আমার মত আরো অনেকেই এতে নিয়মিত হওয়ার কথা এখন থেকে ২ বার ভাবতে বসবেন —যাতে আমাদের সবার প্রিয় এই ব্লগ/পরিবারটির অপমৃত্যুই অনিবার্য ।

ধন্যবাদ – যারা কষ্ট করে এতক্ষণ পড়লেন ।

৭২০ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “অপমৃত্যু”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    শিবলী,
    তুমি যতই বলো, মনের কথা ঠিক বোঝাতে পারোনা ঠিক করে, আসলে তুমি বেশ গুছিয়ে ঠিক ঠিক অনুভূতি ঠিক ঠিক শব্দে সাজিয়ে বলে চলেছো। :thumbup:

    তোমার কথাগুলো ভাববার মতো, বেশীর ভাগের সাথেই আমি একমত...
    কেউ কেউ একটু উল্টোপাল্টা করলো দেখে এতো হতাশ হবার কিছু নেই,
    বরং তখনি তো আমাদের আরো বেশী করে এখানে এসে ব্লগাব্লগি করা উচিত,
    আরো বেশী করে একে সমৃদ্ধ করে তোলা উচিত। কি বলো?

    জবাব দিন
    • শিবলী (১৯৯৮-২০০৪)

      নুপুরদা, আমার ব্লগে আপনার কমেন্ট দেখে ভাল লাগলো । :boss:
      আসলে আমি সিসিবিকে দেখতাম আমার ক্লান্তি দূরকারী এক টনিক হিসেবে । আমি সিসিবিকে ভালবাসি । তাই এই ঘটনায় আমি আসলে ঠিক হতাশ না , বরং কিছুটা মর্মাহত , ক্ষুব্ধ । তবে সেই সাথে আশাবাদী যে আপনাদের মত সিনিয়ররা তাঁদের অভিজ্ঞতা, আদর্শ আর দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে সিসিবিকে আবার সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধে নিয়ে যাবেন ।

      জবাব দিন
  2. তন্ময় (২০০৬-২০১২)
    কেউ কেউ একটু উল্টোপাল্টা করলো দেখে এতো হতাশ হবার কিছু নেই,
    বরং তখনি তো আমাদের আরো বেশী করে এখানে এসে ব্লগাব্লগি করা উচিত,
    আরো বেশী করে একে সমৃদ্ধ করে তোলা উচিত। কি বলো

    :boss: :boss:


    চলো বহুদুর.........

    জবাব দিন
  3. আলীম (২০০১-২০০৭)

    ১. nasa এর ভাইয়ার নাম ক্যাডেট মোস্তাফিজ। আমার মনে আছে।
    ২. তিনি ক্যাডেট কলেজের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঋণী তাঁকে leadership and command শেখানোর জন্য ।আমি নিজেও একমত।
    আপনাকে ব্লগে দেখে ভাল লাগল....


    -আলীম হায়দার.1312.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।