সায়েন্স ফিকশন রিভার্স… (১)

ঘুম ভেঙ্গে নিজের শরীরের দিকে চোখ পড়তেই লাফ দিয়ে উঠে বসল শওকত। নিজেকে এক মরুভুমির মধ্যে উলঙ্গ অবস্থায় আবিস্কার করল সে। এখানে কিভাবে, কখন, কেন আসল মনে করার চেষ্টা করেও কিছুই মনে পড়লনা তার। চারিদিকে ভাল মতো তাকাল সে। নাহ, কোথাও কোন জীব-জন্তুর চিহ্ন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা। উঠে দাড়াল সে। হঠাৎ দূরে ভুমি যেখানে দিগন্তরেখাকে ছুয়ে গিয়েছে সেদিকে গাছের সারির মতো কিছু নজরে পড়ল তার। সেদিকে লক্ষ্য করেই সে হাটতে লাগল। আশ্চর্য, এভাবে নগ্ন অবস্থায় হাটতে তার এতটুকু লজ্জাবোধ হচ্ছে না। এটাই যেন স্বাভাবিক একটা বিষয়।

হাটতে হাটতে সে মনে মনে চিন্তা করার চেষ্টা করল বেশ কবার, আচ্ছা কে আমি? কি আমার পরিচয়, আমি এখানে কেন আর কেনই বা সামনে হেটে যাচ্ছি? কোন লাভ হলোনা। কিছুই মনে পড়লোনা। অগ্যতা কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ঐ গাছের সারির দিকে লক্ষ্য করে আগাতে লাগল সে।

কতক্ষন ধরে সে হাটল সে নিজেই বলতে পারবে না। শুধু বুঝতে পারছে যে তার প্রচন্ড পিপাসা পেয়েছে। মরিচিকার মতো পানি ভেবে সামনে এগুতে এগুতে বারবার সে আশাহত হতে থাকল। অনেকক্ষন ধরে হাটার পর এবার গাছগুলোকে পরিষ্কার দেখতে পেল সে। গাছ দেখে সে মনে মনে খুশি হল। এটা নিশ্চয়ই কোন জংগল, আর এই জংগলে খাল বা ঝরনা কিছু একটা পানির উৎস তো পাওয়া যাবে। কিন্তু একি? সে যতই জঙ্গলের কাছে যাচ্ছে গাছগুলো যেন আরো দূরে চলে যাচ্ছে। আশ্চর্য তো! সে কি ভুল দেখছে? নাহ্‌, গাছগুলো সত্যি সত্যিই দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু কেন? তাকে ধরতেই হবে এই গাছগুলোকে। সমস্ত শক্তি দিয়ে সে দৌড় দিল। হ্যাঁ, কিছুটা কাছাকাছি হতে পেরেছে সে। আরো জোরে দৌড়াচ্ছে সে। আরো কাছাকাছি হয়ে গেলো। এবার চিৎকার করে সে ডাক দিলঃ
– হে গাছ, একটু দাঁড়াও না, আমার কথা শুনে যাও
তার কথা শুনে বিশাল আকারের একটি গাছ দাঁড়িয়ে গেল। শওকত কাছে আসতেই বলে উঠলঃ
– কি বলবে বল
– একি! তুমি হাটতে পার আবার কথাও বলতে পার?
– শুধু হাটা আর কথা না, আমরা এখন অনেক কিছুই পারি
– আশ্চর্য তো। এটা কিভাবে সম্ভব? আমি ভুল দেখছি নাতো?
– না, ভুল না। তুমি যা দেখছ এর সবই সত্যি।
– তোমরা আমাকে দেখে দূরে চলে যাচ্ছিলে কেন?
– কারনটা জানলে তুমি কষ্ট পাবে।
– তাও বলো, আমি শুনতে চাই
– আমরা মানুষদের ঘৃনা করি, তাই মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাই।
– তার মানে?
– আমরা চাইনা মানুষরা আবার পৃথিবীটাকে ধ্বংস করুক।
– আমার সাথে রসিকতা করছ তুমি?
– (হেসে) নাহ, তার কোন প্রয়োজন নেই আমাদের। তোমাদের কোন অস্তিস্বই এখন আর নেই, তোমার সাথে তাই রসিকতা করার প্রশ্নই আসেনা।
– আমার মনে হয় স্মৃতি বিভ্রাট হয়েছে, কিছুই মনে পড়ছে না। আমাকে একটু সাহায্য করবে? আমি কে? কিভাবে এখানে এলাম, কেন এলাম আর কেনই বা এসব আমাকে দেখতে হচ্ছে? তুমি জানো কিছু?
– হ্যাঁ, আমি সবই জানি, সে এক বিরাট ইতিহাস এখন। জানলে তুমি আরো কষ্ট পাবে। না জানাই তোমার জন্য ভাল।
– না, আমি জানতে চাই, আমি সব কিছু জানতে চাই।
– সব কিছু তো তোমরা আর জানতে পারবে না কোনদিন, সেই ক্ষমতা তোমাদের এখন আর নেই। তোমরা এখন এক নিম্ন শ্রেনীর প্রানী, প্রাণীকূলের একেবারে সর্বনিম্নে এখন তোমাদের স্থান। তোমাদেরকে পৃথিবীর সব প্রাণীকূল এখন ঘৃনা করে।
– কিন্তু কেন? আমরা তো সৃষ্টির সেরা জীব।
– সেরা? হ্যাঁ, একসময় ঠিকই ছিলে সেরা, কিন্তু সেই দিন আর নেই। এখন আমাদের দিন।
– তুমি যা বলছ সব মিথ্যা। আমি এর কিছুই বিশ্বাস করিনা। তুমি ভন্ড, প্রতারক (শওকতের গলায় তীব্র ক্রোধ)
– তুমি আবারো ভুল করছ। ভন্ডামী আর প্রতারণা করা তোমাদের বৈশিষ্ট্য, আমাদের নয়। এ কারনেই তোমাদের অধঃপতন হয়েছে, তোমরা বিলুপ্ত হয়েছ। আমাকে অবিশ্বাস করছ তো তুমি। আমি তাহলে চলি, তুমি থাক তোমার আত্ন-অহমিকা নিয়ে (গাছটি চলে যেতে উদ্যত হলো)
– না, যেওনা। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে।
– ভুল? ও হ্যাঁ, এটা তো একটি মানবীয় গুন। ভুল করাতো তোমাদেরই মানায়। ভুলের কারনেই তোমরা তোমাদের আধিপত্য হারালে, আর এই ভুলের কারনেই তোমরা বিলুপ্ত হলে।
– আমার খুব পিপাসা পেয়েছে। তোমার এসব বড় বড় কথা পরে শুনব। আমাকে একটু পানি দিতে পারবে?
– হ্যাঁ, পারব।
গাছটি তার একটি ডাল নেড়ে কি যেন ইশারা করল, অমনি একটি ডাব গাছের মতো একটি গাছ উড়ে আসল তার কাছে। বড় গাছটির আদেশে ঐ গাছটি একটি ডাবের মতো ফল তুলে দিল তার হাতে। শওকত দেখল, ফলটির মুখে ছিদ্র করাই আছে। প্রচন্ড তেষ্টায় ফলের ভিতরের সবটুকু পানি এক টানে শেষ করল সে। যেন অমৃতের স্বাদ পেল সে। ধন্যবাদ জানিয়ে সে বড় গাছটিকে বললঃ
– এবার বল যা বলছিলে।
– আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগের কথা। মানবজাতি উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌছে গিয়েছিল তখন। পৃথিবীর প্রায় সব কিছুকে জয় করে ফেলেছিল তারা। সমস্ত প্রানীকূল তথা জীবজগতের উপর ছিল তাদের একক কর্তৃত্ব, আধিপত্য, আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও তারা ছিল অসাধারণ সফল। কিন্তু…
– কিন্তু কি?
– কিন্তু নিজেদের ভুলের কারনেই তারা ধ্বংস হয়ে গেল, বিলুপ্ত হয়ে গেল।
– কি সেই ভুল?
– অসংখ্য, অগনিত ভুল। সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়েছিল, নিজেকে অসীম ক্ষমতাধর, অবিনশ্বর এবং এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডের অধিপতি ভাবা শুরু করেছিল। তাই নিজেদেরকে সৃষ্টিকর্তার প্রতিপক্ষ ভেবে আত্ন অহমিকায় ভুগতে ভুগতে বারবার তারা সীমা লংঘন করছিল।
– যেমন?
– যেমন মানুষ নিজহাতে প্রাণ তৈরী করতে চেয়েছিল, রোবটের মধ্যে সেই প্রাণ সঞ্চার করার চেষ্টা করেছিল, অতঃপর তারা জীবন কে অমর করার চেষ্টা করেছিল, মত্যুকে জয় করতে চেয়েছিল, সৌরজগত ও মহাকাশকে জয় করতে চেয়েছিল, চন্দ্র-সূর্যের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চেয়েছিল এবং আরো অনেক অন্যায় চেষ্টা তারা করেছিল যাকে বলা যায় ‘খোদার উপর খোদকারী’। আর সীমাকে অতিক্রম করার এই অপচেষ্টার পরিনাম হলো ভয়াবহ।
– কি রকম?
– প্রথমে মানুষ ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মেতে উঠল। প্রতিযোগিতা করে উন্নত মানের রোবট তৈরীর নেশা মানুষকে পেয়ে বসল। রোবট দিয়ে মানুষ সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে লাগল। ধীরে ধীরে রোবটের ক্ষমতাকে তারা বাড়িয়ে দিলো। রোবটের উপরে নিত্য নতুন গবেষনা শুরু করল তারা। ধাপে ধাপে রোবটকে স্বাধীন ভাবে চিন্তা করার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা দিল, একই সাথে মানুষের মাইন্ড রিডিং সহ আরো অনেক ক্ষমতা রোবটদের দেয়া হলো যা ছিল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে অবমাননা আর যন্ত্রকে মানুষের আসনে আসীন করার এক অপপ্রয়াস।
– তারপর?
– দিনদিন মানুষ যান্ত্রিক হতে থাকল। যন্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকল। স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও গুনাবলী হ্রাস পেতে থাকল। একই সাথে মানুষের যৌনচেতনা হ্রাস পেতে থাকল, তারা যান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে প্রাকতিক বৈশিষ্ট্যগুলো হারাতে থাকল। প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার ভুলে গিয়ে তারা কৃত্রিম উপায়ে বংশবিস্তার আরম্ভ করল, ব্যাভিচারী হয়ে উঠল। পশু এবং যন্ত্রের সাথে মানুষ নিজেদের যৌনমিলন ঘটাল। আর ঘটাতে লাগল ক্লোনিং এর মতো অনৈতিক ভাবে নিজেদের কৃত্রিম বংশবিস্তার।
– তারপর?
– তারপর যা হবার তাই হলো। পশুর দেহ থেকে নানান দূরারোগ্য ব্যাধিসমূহ মানবদেহে প্রবেশ করল। একই সাথে মানুষের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞান-বুদ্ধিও হ্রাস পেতে থাকল। রোবটরা তখন এই সুযোগটা কাজে লাগাল। তারা মানুষের চেয়ে উন্নত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে থাকল। মানুষ যেখানে ব্যর্থ, তারা সেখানে সফল হতে লাগল। রোবটের কর্মক্ষমতাও দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকল। পরিস্থিতি বিপদজনক টের পেয়ে মানুষেরা তখন সব রোবট ধ্বংস করার জন্য একের পর এক ক্ষতিকারক বিস্ফোরক তৈরী করতে থাকল এবং রোবটদের মেকানিজম নষ্ট করে দেয়ার পরিকল্পনা করল। কিন্তু…
– কিন্তু কি?
– কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। রোবটেরা তাদের ইন্টারনাল টেলিপ্যাথি এবং মাইন্ড রিডিং ডিভাইসের কারনে মানুষের সব প্ল্যান আগে থেকেই বুঝে ফেলে। রোবটজাতিকে ধ্বংস করার এই নীল নকশা তারা মেনে নিতে পারলনা।
– তারপর?
– তারপর মানুষের সৃষ্টিই মানুষের সাথে প্রতারণা করল। মানুষের তৈরী সব রোবটগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেল। সম্পূণ কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে তারা স্বচালিত ও স্বনিয়ন্ত্রিত হয়ে তারা মানব জাতির বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করল। শুরু হলো মানুষ আর রোবটের এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। সমস্ত পৃথিবী জুড়ে চলল ধ্বংসের তান্ডব। পরিবেশ আর জীবজগতের জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকর সব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহত হলো এই যুদ্ধে। মানুষ তার সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাল তারই সৃষ্ট রোবট সম্প্রদায়কে চিরতরে নির্মূল করার জন্য।
– ফলাফল কি হলো?
– ফলাফল হলো বিপরীত। মানব জাতি পরাজিত হলো। কারন যুদ্ধ করতে করতে একসময় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল, বৃদ্ধ হয়ে পড়ল, কিন্তু রোবট সম্প্রদায় ছিল অক্ষয় ও অক্লান্ত। অবশেষে মানুষের পরাজয় হলো। এই যুদ্ধে রাসায়নিক তেজস্ত্রিয়ার কারনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হয়ে যেতে থাকল, ফলে জীবজগতের সমস্ত প্রানী ও উদ্ভিদেরা বিলুপ্ত হতে থাকল, ক্রমে মানুষ ক্ষুধা ও রোগ-ব্যাধিতে ভুগতে লাগল। খাবার ও চিকিৎসার অভাবে মানব সম্প্রদায়ও একসময় বিলুপ্ত হয়ে গেল।
– আর রোবটদের কি হলো?
– রোবটরা ক্ষুধা ও রোগ-ব্যাধির উর্দ্ধে, তাই তারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকল। সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড ভাবে তারা সমস্ত পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল। তারা এই পথিবীকে রূপান্তরিত করল ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আর নিজেদের নাম দিল “মিমিসিস” যার রোবটিক অর্থ হলো মানুষের চেয়েও উন্নত জাতি।
– আশ্চর্য তো! তারপর?
– কিন্তু যন্ত্র তো যন্ত্রই। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারাও অনুধাবন করল যে, এই পৃথিবী আসলে, তাদের জন্য নয়। আর মানুষের মতো এক নিকৃষ্ট শ্রেনীর প্রানীর হাতে তাদের জন্ম, এটা তারা মেনে নিতে পারছিলনা। তারা এই পৃথিবীতে তাদের আর কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলনা। অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নিল নিজেদের ধ্বংস করে ফেলার। তখন তারা নিজেদের ম্যাকানিজম নিজেরাই নষ্ট করে ধ্বংস হয়ে গেল। বিলুপ্ত হলো এই মিমিসিস গোষ্ঠী।
– তারপর?
– তারপর সৃষ্টিকর্তা নতুন ভাবে আবার এই পৃথিবীকে সাজালেন। আবারো তিনি পৃথিবীকে প্রানীকূলের বাসযোগ্য করে গড়ে তুললেন, আবারো প্রানীকূল সৃষ্টি করলেন, শুধুমাত্র মানুষ ছাড়া।
– কেন?
– কারন মানুষ হলো তার সৃষ্টের মধ্যে সবচেয়ে অকৃতজ্ঞ এবং নিকৃষ্ট জাতি। একমাত্র এই জাতিকেই সৃষ্টিকর্তা সব রকম বৈশিষ্ট্য দিয়েছিলেন। ভাল-মন্দ বিচারের এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছিলেন, বিবেক-বুদ্ধি ও জ্ঞান দিয়েছিলেন; কিন্তু মানুষ তার সদ্বব্যহার করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে সৃষ্টিকর্তা সিদ্ধান্ত নেন মানব সম্প্রদায়কে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার এবং আমাদের অর্থাৎ বৃক্ষ সম্প্রদায়কে পূর্বের তুলনায় অধিক ক্ষমতা দান করে নতুনভাবে তৈরী করেন। আমাদের শিকড় বিলুপ্ত হলো, আমরা রুপান্তরিত হলাম একপদী প্রাণীতে। এর আগে দ্বিপদী মানুষ পৃথিবী শাসন করেছে, আর এখন করছি এই একপদী আমরা।
– তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছ তোমরা এখন এই পৃথিবীর শাসনকর্তা এবং সবচেয়ে ক্ষমতাধর?
– (হেসে) তুমি আবারো ভুল করছ। শাসনকর্তা এবং সবচেয়ে ক্ষমতাধর হলেন সৃষ্টিকর্তা নিজে। তার সাথে কারো তুলনা চলে না। আমরা কেবল ক্ষনিকের জন্য এই পৃথিবীতে এসেছি। আমাদের সবাইকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
– কোথায়?
– আমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট
– (অট্টহাসি হেসে) কোথায় তোমার সেই সৃষ্টিকর্তা? দেখাতে পারবে আমাকে?
– না, সৃষ্টিকর্তাকে দেখার মতো দুঃসাহস শুধূমাত্র তোমাদের দ্বারাই সম্ভব, আমাদের দ্বারা নয়।
– না দেখেই বিশ্বাস করছ? অত্যন্ত হাস্যকর ও অযৌক্তিক নয়কি?
– না, অযৌক্তিক নয়। একটা উদাহরন দেই- বায়ু এবং অক্সিজেনকে কি তোমরা খালি চোখে দেখতে পাও? কিন্তু লক্ষ্য কর, উপস্থিতি অনুভব করতে না পারলেও এর অনুপস্থিতি কিন্তু ঠিকই অনুভব করতে পার। বায়ু বা অক্সিজেন এর ভিতর থাকলে তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়না, কিন্তু যখনি এর অনুপস্থিতি ঘটে তখন ঠিকই অনুভব করা যায়। অর্থাৎ দম বন্ধ হয়ে আসলে তোমরা অনুভব করো, তার আগে করতে পারনা, এটাই তোমাদের সমস্যা। চোখে দেখা না গেলেও বায়ু বা অক্সিজেনের উপস্থিতির এই বিষয়টি কি অস্বীকার করতে পার?
– তুমি তো খুবই হাস্যকর কথা বলছ। তোমার কথার কোন ভিত্তি নেই। কল্পনার উপর ভর করে তোমরা চলছ। পৃথিবীটাকে তো তোমরা পিছিয়ে দিয়েছ, আমরা অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম আর তোমরা এ কি করলে? তোমরা আসলে খুবই বোকা প্রজাতি।
– খবরদার! আমাদেরকে প্রজাতি বলবে না। আমরা এখন স্বয়ং সম্পূ্র্ণ জাতি, বরং তোমরাই এখন প্রজাতি; বিলুপ্ত, ব্যর্থ এক নিকৃষ্ট প্রজাতি…

(চলবে)

৩,৫২৭ বার দেখা হয়েছে

৪৩ টি মন্তব্য : “সায়েন্স ফিকশন রিভার্স… (১)”

  1. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    কবি রহমান ভাই,
    থিমটা সুন্দর...
    আর এক genre এর লেখার মধ্যে অন্য genre এর মেসেজ দেওয়ার আইডিয়াটাও খুব ইনোভেটিভ...

    শওকত। নিজেকে এক মরুভুমির মধ্যে উলঙ্গ অবস্থায় আবিস্কার করল সে।

    নিষ্পাপ(মাসুম) শওকত ভাইয়ের ইজ্জতের ফালুদা বানানোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি x-(


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
    • রহমান (৯২-৯৮)

      ব্যাপক চিন্তাশীল পোষ্ট মনে হইতাছে।

      তবে আরো চিন্তা করার অবকাশ ছিল :-B (বস্‌, আপনার কমেন্টের ফিনিশিং টা মনে হয় ভুলে বাদ পড়ছিল, তাই আমি দিয়ে দিলাম 😀 )

      এডিসন ভাই আর বাকিদের আপডেট আমার ঐ পোষ্টে সায়েদ মন্তব্য আকারে দিয়ে দিয়েছে। আরো তথ্য পেলে আপনাদেরকে জানাব। ধন্যবাদ ফয়েজ ভাই

      জবাব দিন
  2. শওকত (৭৯-৮৫)

    খাইছে শুরু কইরা ভয় পাইছিলাম, আমি আবার কি করলাম। 🙁
    ভাবছিলাম পোলাডারে ভূগোল শিখাইতে সাইবেরিয়া পাঠাইতে হবে। x-(
    পরে দেখি এইডা আমি না। আমি হইতেও আপত্তি ছিল না, খালি একটা লাইন নিয়া একটু চিন্তিত আছি। 😉
    লেখা ভাল হইছে :clap:

    জবাব দিন
  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    নিজেরে এখন অনেক ক্ষমতাবান মনে হচ্ছে... B-)

    রহমান ভাই, জটিল হচ্ছে... :-B
    পরেরটার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকলাম... :thumbup:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  4. আলম (৯৭--০৩)
    পশু এবং যন্ত্রের সাথে মানুষ নিজেদের যৌনমিলন ঘটাল। আর ঘটাতে লাগল ক্লোনিং এর মতো অনৈতিক ভাবে নিজেদের কৃত্রিম বংশবিস্তার।

    যন্ত্রের সাথে ক্যামনে?
    ও বুচ্ছি। 😉

    লেখার কোয়ালিটি ভেরি ভেরি ইম্প্রুভ্‌ড। অনেক সুন্দর। মারহাবা।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।