বিক্ষিপ্ত ভাবনা – ৩

১। শুরু আর শেষের মধ্যে যে দুরত্ব, শেষ আর শুরুর মধ্যে কিন্তু তা নেই। এই চরম সত্যটা আমরা সবাই জানলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মেনে নিতে চাই না। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য শুরু হয়েছিল আমাদের (অর্থাৎ সেনাবাহিনীর) শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষন। ছয় সপ্তাহ তীব্র শীতের মধ্যে মাঠে-ঘাটে, বনে-বাদারে থাকতে হবে এটাই তো অনেক কষ্ট, তারপর যদি যুক্ত হয় পদাতিক বাহিনীর চক্কর তাহলে তো কথায় নেই। থাক, সে সব চক্করের কথা না হয় নাই বললাম আজ। হাজার হাজার মেজাজ খারাপ করা ইভেন্ট আর ক্রিপিং এর মধ্যে একটাই শান্তি ছিল যে, মাত্র তো ছয়টা সপ্তাহ, তার পরেই তো শেষ। অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে গত ২১ জানুয়ারী ২০১০ তারিখে। কিন্তু হায় !! ছয় সপ্তাহ গাধার খাটুনি খেটে ক্যান্টনমেন্টে ফেরত এসে যে প্রশান্তি অনুভব করলাম তা বিলীন হয়ে গেল মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। আগামী ০৭ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে নতুন বছরের প্রথম প্রশিক্ষন চক্র যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল তাৎক্ষনিক ভাবেই, আর সেই সুবাদে আমাকেও কিছু দায়িত্ব দেওয়া হল। শুক্র-শনিবারের আরামকে হারাম করে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আমি। অবশেষে আপনাদের সবার দোয়ায় অনেক কষ্টে আমি সাত দিনের সাময়িক ছুটি ম্যানেজ করতে পেরেছি এবং বর্তমানে আমি ছুটিতে বাসায় অবস্থান করছি।

২। যৌথ প্রশিক্ষন চলাকালীন সামরিক ব্যাপারগুলো এখানে বলবো না, কিন্তু কষ্টের পাশাপাশি এই সময়টা আমি/আমরা যথেষ্ট মজা করার চেষ্টা করেছি। যে ব্যাপারটা আমি সবচেয়ে বেশি এনজয় করেছি তা হল পুকুরে গোসল করা। ছোট্টবেলায় আব্বুর সাথে পাড়ার পুকুরে গোসল করতাম, পরে সেখানে যখন মাছ চাষ শুরু হল আমার গোসল করাও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে শুধুমাত্র যখন নানাবাড়ি বেড়াতে যেতাম তখন পুকুরে গোসল করতে পারতাম। অনেক অনেকদিন পর আবার সুযোগ পেয়ে তাই আর হাতছাড়া করিনি, প্রচন্ড শীতও আমাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। এছাড়াও সময় পেলেই স্থান কাল বিবেচনা না করেই ক্রিকেট খেলেছি, যেন একেবারে ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছি। কয়েকটা ছবি শেয়ার করলাম।

স্নান পর্ব

স্নান পর্ব


আমার তাবু, অনেক অনেক আপন

আমার তাবু, অনেক অনেক আপন


ধান ক্ষেতে ক্রিকেট খেলা

ধান ক্ষেতে ক্রিকেট খেলা

৩। ছুটিতে এসে প্রথম দিন ঢাকা থেকে চলে আসলাম নিজস্ব শহর ঝিনাইদহে। ঝিনাইদহে আসার পরেই শুরু হল বিরাট গিয়াঞ্জাম। বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ। বাস থেকে নামার পরই জানলাম একজন ইতোমধ্যেই নিহত। তারপর থেকেই ধাওয়া পালটা-ধাওয়া চলছে। শহরে যেতে পারছি না ইচ্ছা মত। আজ একবার গিয়েছিলাম শহরে, গিয়েই পড়েছি বিশাল গিয়াঞ্জামের মধ্যে। চোখের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে ফাইটিং দেখলাম, মাথা ফাটা-ফাটি হইলো, র‌্যাব-পুলিশ আসলো, ঘটনা স্বাভাবিক হলো। ইনশাল্লাহ শুক্রবারে আবার ঢাকা যাব। বাসায় এখন তেমন কোন কাজ নেই, বাসায় বসে বসে রেস্ট নিচ্ছি, সিসিবি পড়ছি, টিভি দেখছি ইত্যাদি ইত্যাদি…।। বাংলাদেশের খেলাটা দেখলাম, আমাদের প্লেয়ারগুলো মানুষ হইলো না। এত দারুন একটা সুচনা করার পরও শেষটা এত বাজে হল। ছি ছি!! লজ্জা, লজ্জা ।। একটা পর্যায়ে ভেবেছিলাম ম্যাচটা হয়তো জিতবো না কিন্তু ভারত কে একটা শিক্ষা দিতে পারবো; ওদের জানিয়ে দিতে পারবো যে, আমরা অতি সাধারন নই। শাহাদৎ এর প্রশংসা না করলেই নয়, কিন্তু রাকিবুল, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিক এরা এটা কি করলো !!! তারপরও তো নিজের দেশের প্লেয়ার, ওদের জন্য রইলো শুভ কামনা।

৪। ফ্যান্টাসি লীগে গত সপ্তাহে একবার ভেবেছিলাম রুনিকে দলে নিয়ে নিই। দলের অনেক প্লেয়ার ইঞ্জুরড থাকায় তাদেরকে চেঞ্জ করতে হয়েছিল এবং হাতে টাকাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিলাম না ওকে, না নিয়ে এমন ধরাটা খাইলাম :duel: যে এক ধাক্কায় নেমে গেলাম অনেক নীচে। যাদের দলে রুনি ছিল তারা সবাই আমার দিকে বুড়া আংগুল দেখিয়ে চলে গেল উপরে। এখন মনে হচ্ছে ফ্যান্টাসি লীগ পুরায় ভুয়া। :thumbdown: খেলুম না আর।

১,৬১৭ বার দেখা হয়েছে

২৮ টি মন্তব্য : “বিক্ষিপ্ত ভাবনা – ৩”

  1. রকিব (০১-০৭)
    এখন মনে হচ্ছে ফ্যান্টাসি লীগ পুরায় ভুয়া। খেলুম না

    এত্তদিনে লাইনে আসলেন; আমি তো ফয়েজ ভাইয়ের এই কথাটা শুরু থেকেই বলতেছি (আঙ্গুর ফল মিঠা না)।
    চায়ের দোকানে লোকজন বাকী খায়, পয়সা দেয়না। ব্যবসায় লস খাইয়া এখন কাপ বিক্রি কইরা চলতেছি কোনরকমে। :(( :((


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    তাবুটা মারাত্মক পছন্দ হইছে। এমন একটা তাবু নিয়া জংগলে চলে যাওয়ার আমার বহু দিনের ইচ্ছা।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।