Before the Rains…. তথাকথিত ক্লাসিক নাহলেও ভালো সিনেমা

ছুটিতে অনেক গুলো সিনেমা দেখার প্ল্যান ছিলো। দেখেছিও অনেকগুলো। কিন্তু সেরা সিনেমাটা দেখা হলো আজ ছুটির শেষদিনে। ঠিক করে রেখেছিলাম ছুটিতে দেখা সেরা সিনেমাটার অভিজ্ঞতা ccbতে শেয়ার করবো। কাল রাতে হঠাৎ করেই একটা সিনেমার রিভিও দেখলাম। আমিতো synopsis পড়ে অনেক আহলাদিত হয়ে উঠেছিলাম। ‘Mon Amoure’। বলা হয়েছে Sesher Kobita Revisited. শিলং দেখলে আবার সিলেটের কথা মনে হবে, ভেবেছিলাম লাবন্য আর অমিতের কি হলো দেখা যাক। দেখি আমার কল্পনা আর পরিচালকের কল্পনা কতোটুকু মিলে যায়। কিন্তু আমি হতাশ। গল্পের প্লট সেই ১৯২৮ সালেই থেমে ছিলো। সেই গৎবাঁধা কাহিনী। কিন্তু সিনেমার গান আর আবহসংগীত ছিলো দূর্দান্ত। রবীন্দ্রনাথের গান গুলো শ্রীকান্তের গলায় আমার সব সময়ই ভালো লাগে। আর ভাল ছিলো আলোর কাজ। সেট তৈরী ও পরিচালনায় আলোছায়ার খেলা ছিলো মুগ্ধ হবার মতো। শুভজিত মিত্রের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ থেকেও ভালো কিছু আশা করা ধৃষ্টতা কিন্তু ২০০৮ এ কিছু নতুনত্ব আশা করতেই পারি। জীবনানন্দের কবিতা কিংবা শেক্সপিয়ার ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা সেই পুরানো ‘শেষের কবিতা’র ডায়ালগ কিংবা চিত্রনাট্য থেকে নতুন কিছু দেয় নাই। ঋতুপর্ণা কে কিছুটা গ্ল্যামারাস করে দেখানোর চেষ্টা কোনো সূরসুড়ি দিতে পারেনি। মোটের উপর আমি হতাশ। আর সিনেমা দেখতে দেখতে যখনই এই হতাশার কথা আমার ছোট বোনকে বলছিলাম ও আমকে জানালো IDB থেকে মাত্রই সে ‘Before The Rains’ এর DVD এনেছে এবং এখন তাই দেখছে। আমাকে জানালো পরিচালনা করেছে সন্তোষ শিভান। সন্তোষ শিভান আমার প্রিয় একজন ক্যামেরামান। ক্যামেরামান থেকে পরিচালক বনে যাওয়া সালাহউদ্দীন লাভলুর মতোই সন্তোষ শিভানের কাজ আমায় খুব আকর্ষন করে।

‘Before the Rains’ এর ব্যাপারে আসি। এক কথায় আমার দারুন লেগেছে। যখন শুনলাম কেরালায় শ্যুট করা হয়েছে, তখনই আমার ভাল লাগা শুরু হয়েছে। শুধু লোকেশনের জন্যই আমি ‘The Last Lear'(গ্যাংটক) আর ‘Brokebake Mountain’ (কানাডার ক্যালগেরী-আলবার্টা ল্যান্ডস্কেপ ) বেশ কয়েকবার দেখেছি। ‘Brokebake Mountain’ আরো অনেক কারনেই আমার ভাল লেগেছে। কিন্তু তা নিয়ে এখন লিখবো না। সিনেমা শেষ করার পর imdbতে রিভিও পড়লাম। একটা খুব ভালো রিভিও আছে ওইখানে। আমার রিভিও লিখতে গিয়ে বারবার আমি তা নকল করে ফেলছি। তাই আমার লেখা পড়ার সাথে সাথে ওই রিভিওটি পড়ার অনুরোধ করব।

before the rain

অসাধারন লোকেশন। DVD print একটা পূর্বশর্ত সবুজ কে উপভোগ করার জন্য। অসাধারন সবুজ আমার প্রিয় সিলেটকে মনে করিয়ে দিয়েছে। মনে হয়েছে মালিনীছড়া চা বাগানের মাঝখান দিয়েই যেনো রাহুল বোসরা রাস্তা বানাচ্ছিলো। যাইহোক একটি উপন্যাসের গল্প ব্যাবহার করা হয়েছে। একটি মেসিডোনিয়ান সিনেমা আগেই হয়েছে (১৯৯৪ সালে)। এরপর ২০০১ সালে ইসরায়েলী একটি সিনেমা হয় Asphalt Zahov. সন্তোষ শিভান এর ‘Before the Rains’ বলা হচ্ছে এই ইসরায়েলী সিনেমার Adaptation. যাই হোক উপনেবেশিক ভারত এই সিনেমার (১৯৩৮) ঘটনার প্রেক্ষাপট। একজন বিলেতী চা-চাষী মসল্লার(এলাচি আর দারুচিনি) চাষ শুরু করতে চায়। কিন্তু এরপরের গল্পটা রোমান্টিক ড্রামা আর আর ট্র্যাজেডীর সংমিশ্রন। কাহিনী এগিয়েছে কিছুটা সাস্পেন্স ধরে রেখে আর ভাবিয়েছে টি কে নিলান (রাহুল বোস), হেনরী মুরের মানসিক অন্তর্দ্বন্দ। রাহুল বোস আর লিনাস রচ(সঠিক উচ্চারন জানি না) দারুন অভিনয় করেছে। আমি এখন IMDB থেকেই কোট করবো। “A marvelous performance is delivered by Rahul Bose, as the man caught in the middle – T.K. Neelam, the planter’s trusted foreman and friend, who is caught in the middle as his two worlds collide. A Western educated man but with strong roots in his tribal village, TK has to choose whether is it right to betray a friend or one’s own people? T.K. final choice forms the climax of the film when he forsakes both worlds for the Gandhian Independence movement”

কিন্তু সিনেমাটা কে আমার অসাধারন লেগেছে সন্তোষ শিভান এর জন্য। অবাক করা ক্যামেরার কাজ। সিনেমার শুরুর দিকে একটি ব্যাঙ লাফিয়ে পড়ে পানিতে। অসাধারনভাবে সন্তোষ শিভান তা কে সেলুলয়েডের ফিতায় আটকিয়েছে। এইটা একটা উদাহরন মাত্র। পুরো সিনেমা জুড়েই সন্তোষ শিভান এর ক্যামেরার কাজ আর সর্বোপরি পরিচালনার ‘Fine Detailing’ চোখে পড়ার মতো। ২০০৮ এ সন্তোষ শিভান WorldFest Houston চলচ্চিত্র উৎসবে ‘Before the Rains’এর জন্য Best Theatrical Feature পুরস্কার জিতেছেন। সন্তোষ শিভান এর ক্যামেরার কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছিলো মূলতঃ ‘আশোকা’ আর ‘দিল সে’ সিনেমাতে। ‘আশোকা’ সিনেমা দেখেই প্রথম সন্তোষ শিভান সম্পর্কে পড়ি। এরপর আবার ‘দিল সে’ সিনেমটা দেখেছিলাম শুধু ক্যামেরার কাজ follow করার জন্য। কিন্তু এই সিনেমার পর সন্তোষ শিভানরে আবার অন্য উচ্চতায় মাপতে হবে। ‘Before the Rains’ অবশ্যই দেখার মতো একটা সিনেমা।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো ‘Before the Rains

১,৬৫০ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “Before the Rains…. তথাকথিত ক্লাসিক নাহলেও ভালো সিনেমা”

  1. আপনি কাল বলার পর ডিভিডি কিনে নিয়ে এসেছি। একসাথে আরো ৩টা ছবি সহ মোট চারটা ছবি। সেজন্যে প্রিন্ট একেবারে ঝকঝকা না। তবে খারাপও না।
    রাতেই দেখতে বসবো। 😀
    তার আগে এখন একটু পর 'গজিনী' দেখবো। 🙁 পরিচিত সবাই বলেছে খুব একটা ভালো হয়নি। 'মেমেন্টো' থেকে অনুপ্রানিত শুনে আমারও ধারনা ছিলো 'গজিনী' ভালো না হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারন 'মেমেন্টো' বারবার করা সম্ভব না। আর এই ধরনের অসাধারন সিনেমা গুলি হিন্দী এডাপ্ট্যাশন খুব ভালো হয় না। এর আগে 'ডেড পয়েট সোসাইটি'র হিন্দী ভার্শন 'মোহাব্বোতে' দেখার পর শাহরুখ খানের সিনেমা দেখাই ছেড়ে দিয়েছি। x-( x-(

    রিভিঊ ভালো হয়েছে। :thumbup: আপনি তো পুরোদস্তুর সিনেমা ক্রিটিক হয়ে যাচ্ছেন। ক্রীড়া সমালোচনায় তো আগে থেকেই বস। :boss:
    সামিয়ার মতো বলি 'ওরে বাবা, একই অঙ্গে এতো রুপ!! " 😉

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      আমি তো তোমাদের মতো ক্রিটিক না। আমি মূলতঃ বানিজ্যিক সিনেমার দর্শক। তোমরাতো বিদেশী ভাল ছবি দেখো। আমি রাশান কালচারাল অথবা গ্যাটে ইন্সটিটিউটে গিয়ে পরমা মারকা সিনেমা দেখতাম অন্য উদ্দ্যেশে। 😉

      কিন্তু আমি বানিজ্যিক, অফ ট্র্যাক, হিন্দি, বাংলা, ইংলিশ, PG, ১২, ১৫, ১৮+ সব সিনেমাই দেখি। খালি দেখি। তোমার রাঙ্গা বউ আমলে রীতিমতো সিনেমা হলে গিয়ে রানী কেনো ডাকাত মার্কা অনেক সিনেমা দেখেছি। বাংলা সিনেমা নিয়ে একবার আমার একটা বিতর্ক ছিলো ইউনিভার্সিটিতে; এরপর প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যাবার পরও হলে গিয়ে রেগুলার বাংলা সিনেমা দেখতাম।

      জবাব দিন
  2. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    এহসান ভাই, আপনার রিভিউ কিন্তু সেইরকম হইছে। রিভিউ পড়েই সিনেমা কতটা ভাল হবে বোঝা যাচ্ছে, মনোরম দৃশ্য দেখতে আমারও খুব ভাল্লাগে। ক্যামেরার কাজ ঠিকমতো বুঝলে এগুলা আরও ভালো লাগতো.. দেখতে দেখতে একদিন বুইঝা ফেলমু মনে হয়। 😛

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      আমিও দেখতে দেখতে বুঝি আমার মতো করে। আমিতো কাম্রুলের মতো ক্যামেরার পিছনে কাম করি নাই। দেখতে দেখতেই আমরা দেখক হব। ক্রিটিক না। 🙂

      আমার কিছু পুরানো ফটো CD পাইতেসি না। নাইলে আমার কিছু ছবি ব্লগ দিতাম। আমি ভাল ছবি তুলি না কিন্তু আমার কিছু জটিল ছবি তোলা হয়েছিলো। সুইজারল্যান্ড, ইটালী, স্পেন আর শিলং এ। আমার কেরামতির চেয়ে আল্লাহ এর কেরামতি বেশি ছিলো। মানে ক্যামেরামান থেকে ফটোর সাবজেক্ট দারুন ছিলো।

      জবাব দিন
  3. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    ইস্ .........কবে যে দেশে যেয়ে মুভি দেখতে পারব...... 🙁 ।
    এখানে তো মরুভূমি।
    এক ডিভিডিতে ১৮/২০ টা মুভি পাওয়া যায় কিন্তু তার কোয়ালিটি জবরজং মার্কা।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  4. ইদানীং আর ছবি দেখতে ইচ্ছা করে না। মুভির গল্প বিল্ড আপ করার জন্য যে টাইমটুকু দেওয়া লাগে ওইটাও দিতে ইচ্ছা করে না। কোনদিন ভুলে মুভি নিয়া বইসা পড়লেও ১০ মিনিট চালায়াই বন্ধ কইরা দেই।

    আমার মতো মুভি পাগল লোকের এই রকম দুর্দশা দেইখা আমারই খারাপ লাগে মাঝে মাঝে।

    মুভি দেখার মোজো ফিইরা পাইলে আমিও রিভিউ দিব। তার আগে পর্যন্ত এহসান ভাইকে ধন্যবাদ।

    আপনি তো সিসিবি কালচার প্রিফেক্টও হইতে চাইতেছেন!! 😛

    জবাব দিন
  5. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    বস্ এমন টাইমে আপনারা সিনেমা নিয়া আলোচনা শুরু করছেন যখন একটাও দেখার উপায় নাই :(( :((
    নাহ্, আপনাদের সবকয়টার পিসি, ল্যাপটপ, ডিভিডি প্লেয়ার, ডিভিডি রম, মানে যার যা কিছু আছে সবশুদ্ধা ভ্যান চাইই :(( :((


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  6. রকিব (০১-০৭)

    এইটা দেখছি কালকে। পরীক্ষা দিয়া আইসা মাথা গরম ছিলো। দেইখা ঠান্ডা করছি। অসাধারণ কিছু ক্যামেরার কাজ আছে। আর রাহুল বোস, নন্দিতা দাস- এদের নিয়ে নতুন কিছু বলা আমার মতো আনাড়ি দর্শকদের মানায় না।
    অফটপিকঃ এই ছবিতে অনেকগুলা গাছ কাইটা ফেলায় দেইখা দুস্খ পাইছি।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।