রাখাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

লেখাটা পড়ে আমি নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি। এ তুলনায় আমি-আমরা কতো ভাগ্যবান (!!) ছিলাম। লেখাটা একজন প্রাক্তন ক্যাডেটকে নিয়ে। তার জীবনের কাহিনী, কল্পনাকেও হার মানায়। আমরা এবিসি রেডিওতে তার ওপর এরকম একটা প্রতিবেদন কাল প্রচার করবো আশা করি। নিচের লেখাটা যখন ছাপা হয় তার পরে সম্প্রতি এই মানুষটির জীবনে একটা পরিবর্তন এসেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নেরর দায়িত্ব নিচ্ছেন কাল বা পরশু। সে কারণে মূল লেখার সঙ্গে আমার শিরোনামের পার্থক্য। অসাধারণ-লড়াকু এই মানুষটিকে সশ্রদ্ধ সালাম। :salute:

এবিসি রেডিও’তে ২৯ এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬টার খবরে প্রচারিত ড. আতিউর রহমানের সাক্ষাৎকার শুনুন এখানে।

নিচের লেখাটা ভালোভাবে পড়তে নিচে ফাইল দুটির উপর একে একে ক্লিক করে বড় করে নিন।

এক.
একজন অসাধারণ মানুষের কথা : এক

দুই.
একজন অসাধারণ মানুষের কথা : দুই

১৮,৮৭৬ বার দেখা হয়েছে

৯০ টি মন্তব্য : “রাখাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর”

    • আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

      :salute: :salute: :boss: :boss: বাংলা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। আমি প্রথম যখন এই আর্টিকেল পড়ি, আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আতিউর ভাইকে নিরে আমরা গর্বিত। ভাবতে ভাল লাগছে উনিও আমাদের মত ক্যাডেট।এরকম অনুকরনীয় ব্যক্তি আর পাব বলে মনে হয়না।লিভিং লিজেন্ড। :boss: :boss: :salute: :thumbup: :salute: :boss:

      জবাব দিন
  1. অসাধারণ!
    পেশাগত কারণে আতিউর ভাইকে খানিকটা চিনি। এক সঙ্গে কিছু কাজ করার সুযোগও হয়েছে। কিন্তু তার জিবনের এই মহাকাব্য তো জানতাম না।
    সালাম আতিউর ভাই।
    আর ধন্যবাদ লাবলু ভাই, এটা জানানোর জন্য।

    জবাব দিন
  2. শওকত (৭৯-৮৫)

    মাত্র মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছি। ড. আতিউর রহমান তখন বিআইডিএস-এ। আমার বন্ধু বিন্দু তাঁর সাথে কাজ করে। সংবাদের অথর্নীতি পাতা দেখার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হল তাঁকে। তিনি বলে দিলেন তার পছন্ত হয় আর অর্থনীতির ছাত্র পাওয়া যায় তাহলে তিনি সাহায্য করবেন।
    আমি লেখলেখি করতাম। বিন্দু আমাকে ফোন করলো কাজটা করবো কিনা। না করে দিলাম একবাক্যে। সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। পরে বিন্দু আবার দুইদিন পর ফোন দিল, আমারে পটাইলো। বললো যতদিন রেজাল্ট পেয়ে বিসিএস বা অন্য কোথাও চাকরি না পাই ততদিন তো করতে পারি। মাসে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা পেলে ক্ষতি কি। আমিও ভাবলাম ক্ষতি কি? দেখা করলাম ড. আতিউর রহমানের সাথে। কথা বলে তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন সংবাদে। আর আমি হলাম সাংবাদিক। সেই যে এই পেশায় ঢুকেছি, আজও আছি।
    আমাকে সাংবাদিক বানিয়েছেন এই ড. আতিউর রহমান।

    জবাব দিন
  3. জিহাদ (৯৯-০৫)

    যতদূর জানি আতিউর ভাই (এই চামে ভাই বলে নিলাম 😀 ) ফজলুল হক হাউসে ছিলেন। হয়তো কে জানে আমি একসময় যে বেডে ঘুমাইসি উনিও হয়তো সেই বেডেই কোনদিন ছিলেন!

    তার কথা প্রথম শুনসিলাম ক্লাস এইটে থাকতে মনে হয়। তারপর রফিকুল ইসলাম স্যার এক প্রিন্সিপাল এসেম্বলিতে তাঁর জীবনের ইতিহাস বলেছিলেন। তারপর আমরা যখন এস এস সির ছুটিতে বাড়ি গেলাম তখন কলেজে এসেছিলেন গেস্ট স্পীকার হিসেবে। আমাদের কলেজে তখন প্রতি বৃহস্পতিবার একজন করে গেস্ট স্পীকার আনার ব্যবস্থা করেছিলেন প্রিন্সিপাল স্যার। কলেজে ফিরে সে কথা শুনে খুব আফসোস হয়েছিলো তার স্পীচ শোনা হলোনা বলে।

    অবশ্য এর আগেই তাঁকে দেখেছিলাম এসএসসি ক্যান্ডিডেট থাকাকালীন সময়েই। কলেজ রি ইউনিয়নে এসেছিলেন।

    কি বলবো। এমন মানুষের কথা শুনলে মনে হয় আমরা সুবিধার কত অপচয় করছি!

    আতিউর ভাইকে :salute: :salute:


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  4. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    চমৎকার, অসাধারণ :hatsoff: পড়তে পড়তে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো। আসলেই রূপকথার গল্প মনে হচ্ছে।
    অসম্ভব মেধাবী আতিউর ভাইকে তো লক্ষ :salute: দিলেও তা এমনিতেই কম হয়ে যাবে, সেই সাথে হেড মাস্টার স্যার, ফয়েজ মৌলভী স্যার, প্রিন্সিপ্যাল ডব্লিউ পিট স্যার সহ সেদিনকার বাজারের প্রতিটা লোককে :salute:
    ক্যাডেট হিসেবে খুবই গর্ববোধ করছি
    অসাধারণ লেখাটার খোজ দেয়ার জন্য লাবলু ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  5. শাহাদাত মান্না (৯৪-০০)

    সানা ভাই,একে তো স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক, তার উপর এখন আবার আমার আফিসের নতুন বস, তেল মারার অভিযোগের আশঙ্কায় কোনো প্রকার মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।। 😀
    স্যার এর গভর্নর এর মেয়াদ শেষ হলে একটা পোস্ট দেবার ইচ্ছে রইল... 😀

    জবাব দিন
  6. আতিয়ার রহমানের জীবনীটা পড়লাম, আমি অভিভূত। এত বড় অবস্থা্নে পৌছেও যে তিনি শৈশব ও ছাত্রজীবনের ইতিবৃত্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি, সে জন্য তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেল। বাংলাদেশের সিংহভাগ কৃ্ষক পরিবারই যে আতিয়ার পরিবারের মতো, আশা করি তিনি তা উপলব্ধি করে ব্যাঙ্কিং-সেক্টরের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া্য় কৃ্ষক-কূলের দারিদ্রতা দূর করার জন্য যে সু্যোগ মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে দিয়েছেন, তিনি তার
    সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে কৃ্ষি খাতের দূর্নীতি দূর করে কৃ্ষক-পরি্বারের সন্তানকে এই প্রজন্মের "আতিয়ার রহমান" হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবেন, এটাই তার কাছে প্রত্যাশা।

    জবাব দিন
  7. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    গতবছর সেপ্টেম্বারে আতিউর রহমান ভাইকে নিয়ে মুহাম্মদের পোস্ট আতিউর রহমান: যিনি প্রান্তজনের কথা বলেন
    আগ্রহীরা কিংবা যারা মিস করেছেন পড়ে দেখতে পারেন 🙂


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  8. মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)

    আতিউর রহমান সাহেবকে একটা কারনে বিশেষ ধন্যবাদ এবং অজস্র :salute: , কারনটা হচ্ছে : তিনি তার অতীতকে ভুলে যাননি । এমন সন্তানই আমাদের সত্যিকারের গর্ব।

    [বাংলাদেশটা আজ হাজরো গুণীজনে ভরে গেছে যারা কিনা তাদের অতীতকে ভুলে গেছে; তাই আতিউর রহমান তাদের জন্য এক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই "আতাউর রহমান"রা শুধুমাত্র সুযোগ পেলেই হয়ে উঠতে পারেন "আতিউর রহমান" ]

    সানাউল্লাহ ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ ...

    জবাব দিন
  9. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে অনেক শুভ কামনা।

    তার জীবনের গল্প রুপকথার মতোই। এরকম একজন মানুষ ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন , শুধু তাই না, যতবার তার নিজের জীবনের গল্প বলেছেন ততোবার ঘুরে ফিরে ক্যাডেট কলেজের কথা বলেছেন, এ আমাদের গর্ব।

    আশা করি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনি আরো অবদান রাখবেন। আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন এ দেশকে।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  10. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    বসেরে আমি সব সময়ই ভালা পাই 😀

    সবার সাথে নতুন করে আবারো তারে :salute: টু দি পাওয়ার N.


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  11. ইউসুফ (১৯৮৩-৮৯)

    অসাধারণ একটা পোস্টের জন্য সানাউল্লাহ ভাই আপনাকে হাজার :salute:
    আপনি আমাদের চোখ খুলে দিলেন। এমন একটা রূপকথার মত জীবন কাহিনী চোখকে ভেজায়। জীবনটাকে আরেকবার নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছা করে।

    যারা ক্যাডেট কলেজকে একটি বিশেষ শ্রেনীর সুবিধাভোগী মানুষের প্রতিষ্ঠান বলে চিৎকার করে গলার রগ ফাটান ও এর বিলুপ্তি চান, পোস্টটা তাদের গলার মধ্যে ঢোকানো উচিৎ চিরতরে আওয়াজ বন্ধ করার জন্য।

    আতিউর রহমান স্যার (উনি 'ভাই' সম্বোধনের উর্ধে চলে গেছেন - উনার অবস্থানের জন্য নয়, এই অসাধারণ সংগ্রামের জন্য) আমাদের সবার জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে রবেন।

    ক্যাডেট কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য আতিউর রহমান স্যার কে নিয়ে এই লেখাটা অবশ্য-পাঠ্য করা দরকার।

    আমি গর্বিত আতিউর রহমানের দেশের নাগরিক হতে পেরে। আমি গর্বিত আমার ক্যাডেট পরিচয় নিয়ে।

    আতিউর রহমানের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম ও নতুন নিয়োগে আন্তরিক শুভকামনা।

    জবাব দিন
  12. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    :(( :(( :((

    আমিও আতিউর ভাইয়ের মত হব। :(( :((

    দেখছোনি কান্ডটা, এইখানেও একজন ফয়েজ খাড়ায় আছে। বাংলাদেশের সবখানে শুধু ফয়েজ আর ফয়েজ :thumbup: :thumbup:

    আতিউর ভাই কে :salute: আশা করব তিনি গরীবদের মনে রাখবেন।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  13. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এই কাহিনী, গল্পকেও হার মানায়। সানা ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ। মুহম্মদের পোস্টটাও পড়বো এখন।
    প্রসঙ্গত মনে হয় বলে রাখা জরুরী। আতিউর রাহমান যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তখন বিশ্ব মন্দার প্রেক্ষিতে জাতির সামনে বিরাট সংকটকাল। জানি না তিনি কতটা সাফল্যের সাথে এই সংকট পাড়ি দিতে পারবেন, তবে আমাদের শুভ কামনা থাকলো তাঁর প্রতি।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
      আতিউর রাহমান যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তখন বিশ্ব মন্দার প্রেক্ষিতে জাতির সামনে বিরাট সংকটকাল।

      যথার্থ বলেছ রায়হান। মন্দা একটা বড় চ্যালেঞ্জ তার সামনে। বিশেষ করে সামনের বছর, যখন পণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়া সত্ত্বেও চাহিদা বেড়ে যাবে; তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রনে রাখা, পণ্যমূল্য আয়ত্তে রাখাটা কঠিন কাজ হবে।

      পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতকে নিয়ন্ত্রনে আনাটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জরুরি। খেলাপি আর চোরচোট্টাদের চাপ বাড়বে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  14. কিছুদিন আগে আতিয়ার স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল,বাংলা একাডেমীর বইমেলাতে।মেলায় তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন,সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন।সাক্ষাতকারের শেষে তিনি যখন ফ্রি হলেন,আমি গিয়ে স্যারকে সালাম দিয়ে বললাম,স্যার আমি আপনার কলেজের জুনিওর।একজন ক্যাডেট পরিচয় দেবার সাথে সাথে তাঁর চেহারার স্বাভাবিক ভাবগাম্ভীর্য বদলে গিয়ে হাসিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে গেল।স্যারও জিজ্ঞেস করলেন আমি কোন ব্যাচ।আমার ব্যাচের কথা শুনে বললেন।তোমরা তো অনে......ক পিচ্চি।তারপর অনেকক্ষন তাঁর সাথে কথা হয়েছিল।কথার শেষে স্যার নিজে থেকেই তাঁর ১টা ভিজিটিং কার্ড দিলেন।আজ সেই কার্ডটা হাতে নিয়ে কিছুটা হলেও গর্ববোধ হচ্ছে।
    স্যারের সাথে এতক্ষন হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলতে দেখে শেষে সাংবাদিকরাও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,তিনি কি আপনার পুর্বপরিচিত?
    আমি মাথা নেড়ে জবাব দিয়েছিলাম,তিনি আমার কলেজ ভাই,আমাদের কলেজ ভাইদের সাথে কথা বলার জন্য এত ফর্মালিটির প্রয়োজন নেই, :just: পরিচয় দিলেই চলে।
    তারপর সেটা কোন কলেজ সেটা জানতে চাইলে আমি গর্বভরে জবাব দিলাম "মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ" :thumbup:

    জবাব দিন
  15. কিছুদিন আগে আতিয়ার স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল,বাংলা একাডেমীর বইমেলাতে।মেলায় তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন,সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন।সাক্ষাতকারের শেষে তিনি যখন ফ্রি হলেন,আমি গিয়ে স্যারকে সালাম দিয়ে বললাম,স্যার আমি আপনার কলেজের জুনিওর।একজন ক্যাডেট পরিচয় দেবার সাথে সাথে তাঁর চেহারার স্বাভাবিক ভাবগাম্ভীর্য বদলে গিয়ে হাসিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে গেল।স্যারও জিজ্ঞেস করলেন আমি কোন ব্যাচ।আমার ব্যাচের কথা শুনে বললেন।তোমরা তো অনে......ক পিচ্চি।তারপর অনেকক্ষন তাঁর সাথে কথা হয়েছিল।কথার শেষে স্যার নিজে থেকেই তাঁর ১টা ভিজিটিং কার্ড দিলেন।আজ সেই কার্ডটা হাতে নিয়ে কিছুটা হলেও গর্ববোধ হচ্ছে।
    স্যারের সাথে এতক্ষন হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলতে দেখে শেষে সাংবাদিকরাও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,তিনি কি আপনার পুর্বপরিচিত?
    আমি মাথা নেড়ে জবাব দিয়েছিলাম,তিনি আমার কলেজ ভাই,আমাদের কলেজ ভাইদের সাথে কথা বলার জন্য এত ফর্মালিটির প্রয়োজন নেই, :just: পরিচয় দিলেই চলে।
    তারপর সেটা কোন কলেজ সেটা জানতে চাইলে আমি গর্বভরে জবাব দিলাম "মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ" :thumbup:

    জবাব দিন
  16. পোস্টটা কালকে দুপুরে iutians গ্রুপ এ দেখলাম, কলেজে আমাদের হাউজ বেয়ারা রহমান ভাই, যিনি আমাদের কলেজের জন্মলগ্ন থেকে ছিলেন তিনি মাঝে মধ্যে আতিউর রহমান এর কথা বলতেন, যে উনি নাকি কলেজে ছেড়া একটা গেঞ্জি পরে আসছিলেন, আরো অনেক অনেক কথা, যাক আল্লাহ তার সারা জীবনের কষ্টের একটা ফল দিচ্ছেন, এটাই অনেক শুকরিয়া।

    আমরা কলেজে থাকাকালীন সময়ে, উনি কলেজ লাইব্রেরীর জন্যে অনেক বই দিয়েছিলেন, শুধু এটুকু মনে আছে।

    সানাউল্লাহ ভাইকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ, আপনার জন্যই অনেকে আজ লেখাটা পড়তে পারল । :salute:

    জবাব দিন
  17. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আজ বিকেলে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের দায়িত্ব সংক্রান্ত সরকারি আদেশটি পেয়েছেন। শিগগিরই দায়িত্ব নেবেন। এবিসি রেডিও'তে আজ কিছুক্ষণ আগে (সন্ধ্যা ৬টায়) প্রচারিত তার সাক্ষাৎকারটিও শুনতে পারো মূল পোস্টে। সেখানে অডিওটা যুক্ত করে দিয়েছি।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  18. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    খুশি খুশি লাগছে। তবে তার সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু জানার কারণে প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। মন্দা চলছে। তারপরও অনেক কিছু আশা করি আতিউর রহমানের কাছ থেকে। তিনি আগে থেকেই কল্যানমূলক অর্থনীতির কাজ করেছেন। আশাকরি তিনি আমাদের হতাশ করবেন না।

    জবাব দিন
  19. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    প্রথম আলো ব্লগে অনেক দিন পর একই পোস্টটা দিয়েছিলাম। সেখানে সৈকত নামে একজন ব্লগার নিচের মন্তব্যটি করেছিলেন। তার প্রশ্ন ও মন্তব্যটা আমার মধ্যেও ছিল। এই সুযোগে এখানে সেই ব্লগারের মন্তব্য ও আমার জবাবটি এখানে যুক্ত করলাম।

    বলে নিই, সিসিবিতে ড. আতিউর নিয়ে এক ধরণের উচ্ছাস আর আবেগপূর্ণ পোস্ট আমারটি। একজন ব্যক্তি মানুষ, একজন হার না মানা মানুষকে নিয়ে শ্রদ্ধা-সম্মান জানাতে লেখা। তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া যথার্থ হয়েছে কিনা বা তিনি ওই পদের জন্য কতোটা যোগ্য সেটা এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমার নিজেরও মনে হয় এবং নিশ্চিতভাবেই জানি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশ কয়েকজন আছেন যারা গভর্ণর হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আর তাদের সেরকম পদে নেওয়া হলে ভালো বৈ খারাপ হতো না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর হিসাবে ড. আতিউর রহমান কতোটা সফল হবেন সেটা সময় বলে দেবে। আমি অবশ্যই তাকে এই দায়িত্বে সফল দেখতে চাই।

    সৈকতের মন্তব্য :
    যতদিন না বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর না হয়ে বাইরের প্রেসক্রিপশনে গভর্নর হবেন, ততদিন দেশের চেয়ে বাইরের স্বার্থই অধিক প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিনের এত অভিজ্ঞ ও মেধাবী প্রফেশনাল ব্যাংকার থাকতে এরকম নন-ব্যাংকারকে গভর্নর না করলেই কি হতো না! কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে ওনার জ্ঞান কতটুকু। এর আগেও সবাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে থেকে নিয়োগ পাওয়া ও আতিউর রহমানের মতই বাইরের সাথে যোগাযোগওয়ালা। আপনিও বলুন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কি নিয়োগ দেয়া যেত না? ৩৮ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক কি একজন অভিজ্ঞ লোকও তৈরি করতে পারেনি? অথচ বাস্তবতা হলো বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার মত কম করে হলেও অর্ধডজন ব্যক্তি রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে ওনার জ্ঞান কতটুকু। এর আগেও সবাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে থেকে নিয়োগ পাওয়া ও আতিউর রহমানের মতই বাইরের সাথে যোগাযোগওয়ালা। আপনিও বলুন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কি নিয়োগ দেয়া যেত না? ৩৮ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক কি একজন অভিজ্ঞ লোকও তৈরি করতে পারেনি? অথচ বাস্তবতা হলো বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার মত কম করে হলেও অর্ধডজন ব্যাক্তি রয়েছেন। আতিউর রহমান ও মেধাবী অর্থনীতিবিদ; এটাতে আমি একমত, কিন্তু লোকটি নানা কারনে বিতর্কিত ও ১০০% দলীয়, সবচেয়ে বড়কথা বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিনের এত অভিজ্ঞ ও মেধাবী প্রফেশনাল ব্যাংকার থাকতে এরকম নন-ব্যাংকার কে গভর্নর না করলেই কি হতো না!

    আমার জবাব :
    সৈকত, আপনার সঙ্গে দ্বিমত নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কাউকে গভর্ণর করা হলে সেটা সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু দলীয় সরকার, দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা, বিতর্ক করতেই পারি।

    যতোদূর জানি ড. আতিউর আওয়ামী লীগের রাজনীতি সমর্থন করেন। সেটা হয়তো গভর্ণর হিসাবে তাকে নির্বাচনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

    তবে আমি এখানে ব্যক্তি আতিউর নিয়ে বলছি। একটা অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে, চরম দারিদ্রের মধ্যে থেকে এতোটা পথ এসেছেন। এটা রূপকথাকেও হার মানায়। আর নিজের অতীত নিয়ে তার কোনো গ্লাণি নেই। এই সততার মূল্য দিই আমরা। আপনি কি এখন এমন কাউকে পাবেন?


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • তৌফিক (৯৬-০২)

      ব্যাংকের বাইরে থেকে নিয়োগ নিয়ে আমার একটা কথা আছে। থার্ড ইয়ার শেষে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং-এ গিয়েছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাওয়ার প্ল্যান্টে। সেখানে কারিগরি সহায়তা দেয় জার্মানির আরেক পাওয়ার প্ল্যান্ট (ওখানকার ইঞ্জিনিয়ারদের দেয়া তথ্য)। সেই পাওয়ার প্ল্যান্টের এম ডি একজন ডক্টরেট করা লোক, এবং হিট ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা নেই। তার ডিগ্রি দর্শনে। থিংকিং আউটসাইড দ্য বক্স-এর জন্যই এইরকম নিয়োগ দেয়া হয়। বাইরের ফিল্ডের এই লোকগুলা নীতি নির্ধারণে অন্যরকম একটা দৃষ্টিভংগি দিতে পারেন যা ফিল্ডের লোকজন পারে না। কারণ তারা চিন্তা করে একভাবে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, কোন প্রতিষ্ঠান যেভাবে চলছে সেভাবেই চালানোর জন্য দরকার প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অভিজ্ঞ লোক। আর সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার বাইরের লোক। তবে সফলতা সবসময় নাও আসতে পারে।

      জবাব দিন
      • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, কোন প্রতিষ্ঠান যেভাবে চলছে সেভাবেই চালানোর জন্য দরকার প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অভিজ্ঞ লোক। আর সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার বাইরের লোক। তবে সফলতা সবসময় নাও আসতে পারে।

        তৌফিক, এটার কোনো সেট ফমূর্লা নেই। ভেতরের লোকও ভালো ফর দিতে পারে, আবার বাইরের লোকও। তবে সমন্বয়টা জরুরি। সবাইকে আস্থায় নিয়ে চলাটা দরকার।


        "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

        জবাব দিন
  20. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    কিয়ের কি জোবনের গল্প লেখলাম এদ্দিন...... :bash:
    বড় গল্প তো এইখানে :salute:
    সানা ভাই ধন্যবাদ :salute:
    আতি ভাই ( 😛 ) আপনি আরও অনেক দূর এগিয়ে যান, আপনার স্বপ্ন সত্যি হোক এই কামনা করি :boss:

    জবাব দিন
  21. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    ব্যক্তি-মানুষ কখনোই নিজের ইচ্ছেমত কাজ করতে পারেনা। কারণ, তার কাজের ক্ষেত্রটা আগেই কতগুলো নিয়ম-নীতি (তত্ত্বের ভাষায় ইনষ্টিটিউশন বা প্রতিষ্ঠান) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কাজেই, ব্যক্তির দোষগুণের মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠান চালানো'তে তার ব্যর্থতা-সাফল্য বিচার করতে যাওয়া ঠিক নয়। একই কারণে, কোন প্রতিষ্ঠান চালাতে কেউ সফল হলেও তা' সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ব্যর্থ হলেও তা ব্যক্তিগত নয়।

    তবে, ইনষ্টিটিউশন বা স্থায়ী নিয়ননীতি, যা' নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির স্বাধীনতাকে 'নিয়ন্ত্রন' করে, সেটা কিন্তু ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের সমন্বিত চেষ্টার ফলেই তৈরী হয়।

    - আমি ডঃ আতিউর রহমানের সাফল্য আশা করবো কোন একটা 'ঐতিহাসিক ভূমিকায়' যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়মনীতির মধ্যে নতুন এমন কিছু আনবে যা' পরবর্তীতে ব্যাংকিং খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করবে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
      ব্যক্তি-মানুষ কখনোই নিজের ইচ্ছেমত কাজ করতে পারেনা। কারণ, তার কাজের ক্ষেত্রটা আগেই কতগুলো নিয়ম-নীতি (তত্ত্বের ভাষায় ইনষ্টিটিউশন বা প্রতিষ্ঠান) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কাজেই, ব্যক্তির দোষগুণের মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠান চালানো’তে তার ব্যর্থতা-সাফল্য বিচার করতে যাওয়া ঠিক নয়। একই কারণে, কোন প্রতিষ্ঠান চালাতে কেউ সফল হলেও তা’ সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ব্যর্থ হলেও তা ব্যক্তিগত নয়।

      তাই কি? ব্যক্তি মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না? প্রতিষ্ঠানটা তৈরি করে কে? ধাপে ধাপে একে পরিবর্তন করে কে? মন্তব্যটা ঢালাও হয়ে গেল না মাহমুদ?

      ব্যক্তি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যক্তির দোষগুণে প্রতিষ্ঠান বিকশিত হয় বা ধ্বসে যায়। এর নজির তো ভুরি ভুরি। আর সেই ব্যক্তি যদি হন প্রতিষ্ঠানের চালিকা শক্তি।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

        সানা ভাই,
        দেরী হয়া গেল রেসপন্ড করতে, সরি। আসলে এটা চোখ এড়িয়ে গেছিল।

        তাই কি? ব্যক্তি মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না? প্রতিষ্ঠানটা তৈরি করে কে? ধাপে ধাপে একে পরিবর্তন করে কে? মন্তব্যটা ঢালাও হয়ে গেল না মাহমুদ?

        - আমার মন্তব্যটা ব্যক্তিগত+মনগড়া কোন কথা নয়। এটা কয়েক দশক ধরে সামাজিক বিজ্ঞানে (শুধু সমাজবিজ্ঞানে নয়) কয়েকশত (যদি হাজার নাও হয়ে থাকে) বাস্তবভিত্তিক গবেষনার ফল।

        আর ব্যক্তির ভূমিকা অস্বীকার করি নাই; পরের লাইনেই বলেছি ব্যক্তির ভূমিকা কোথায়+কতটুকু। আর আপনি যা বলেছেন, আমি কিন্তু প্রায় সেটাই বলেছি, শুধু শব্দের পার্থক্য, ব্যাকেটে দেখেন আমার মন্তব্যে 'প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তির ভূমিকা'("ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের সমন্বিত চেষ্টার ফলেই তৈরী হয়।")

        আপনার মত করে ভাবতে পারলে খুশি হতাম, বস। কারণ, তা'তে যাবতীয় সমস্যা একজন সাচ্চা-মহামানবের ঘাড়ে চাপায়া দিতে পারলেই মুস্কিল আসান হয়া যাইত। কিন্তু মুস্কিল হয়া যায় প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকলেই মহামানবও প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির হাতে ক্রীড়নক হয়ে পড়েন অবশ্যম্ভাবীরূপে। এতে তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চেয়ে আমি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতির দায়টাই বেশি দেখি এই কারণে যে, এই ধারণাটা বাস্তব তথ্য সমর্থিত, আমার মনগড়া কোন 'উইশফুল' চিন্তা নয়।

        আশা করি আমার বক্তব্য বোঝাতে পেরেছি 🙂 ।


        There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

        জবাব দিন
  22. ‍মোস্তাফিজুর রহমান

    ‍‍তার জীব‍নী প‍ড়ে আমার কান্না পেয়েছে
    আমি হারে হারে টের পেয়ে‍ছি জীবন কত কষ্টের
    আমার প্রত্যাশা স্যার গরীব মানুষের কথা ভাববেন এবং গ্রামীন মেধার প্রকাশের জন্য কাজ করবেন।
    আমি স্যারের সা‍‍‍থে আছি।

    জবাব দিন
  23. সামি হক (৯০-৯৬)

    সানা ভাই আতিউর রহমান স্যারের সাক্ষাতকারটার লিঙ্ক দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ, সেইসাথে এই লিখাটার জন্যও। প্রতিবার লিখাটা পড়ি আর কেন জানি চোখে পানি চলে আসে, উনার কৃতজ্ঞতা বোধের প্রকাশ দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। এমন একজন মানুষ কে আমার হাজারো অভিবাদন।

    জবাব দিন
  24. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    সচলায়তনে প্রথম আলোর সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্যটা শেয়ার করি।

    ফারুক ওয়াসিফ

    আমার মনটাই বুঝি কূটিল। ভাল-র মধ্যে আমি কু খুঁজি।
    আতিউর রহমানের প্রতি আমার আকর্ষণ বাড়ে তাঁর বনেদি ফরসা আভিজাত্যময় চেহারা ও চলনের জন্য নয়, তাঁর রবীন্দ্রনাথের কোটেশন ব্যবহারের আতিশয্যের জন্যও নয়, তাঁর উন্নয়ন সমুন্বয় নামক এনজিও চালানোর জন্য তো নয়ই, এমনকি চর নিয়ে ১০৬ কোটি টাকার প্রজেক্ট চালানোর জন্যও নয়, কিংবা বড় অর্থনীতিবিদ হয়েও কদাচ দেশের অর্থনীতির বিপর্যয় কিংবা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-আইএমএফ নিয়ে কোনো কথা না বলা, দেশের খনিজ খাতে মর্মান্তিক লুটপাট চলার বিরুদ্ধে একটা কলাম না লেখার সংযমের জন্যও নয়, কৃষি প্রশ্ন প্রসঙ্গে একটি প্রথম শ্রেণীর গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশই তাঁর প্রতি আমার বিনয় ও শ্রদ্ধার যৎসামান্য কারণ। ওটি ছিল তাঁর পিএইচডি থিসিস। এবং তিনি খুবই স্বীকার করতেন যে, থিসিসটি প্রণয়নে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের কাঁছে তিনি বিপুলভাবে কৃতজ্ঞ।

    ওই বই পড়ে আমি ভুলে যাই, একবার আজকের কাগজ অফিস থেকে দুজন এক লিফটে নেমে দারিদ্র্য নিয়ে ওনার কিচু মোলায়েম কাতরতার পর বাচ্চাকে স্কুলে আনতে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে সে আমলের (৬/৭ বছর আগে) ২০-৩০ লাখ টাকার পাজেরো না কি ছাই অতিকায় গাড়িতে করে চলে গেলেন। ওনার বাচ্চা তখন ঢাকার অভিজাততম বিদ্যালয়ে পড়ে। সে কি আর বাপের কষ্টে মানুষ হওয়ার মহত্ব বুঝবে? বুঝবো আমরা যারা, তাঁর কাছাকাছি মতো করেই বড় হয়েছি। সেদিন তিনি চলে গেলেন ভুস করে বাহারি গাড়িতে। আমি দেখলাম, বাংলাদেশের কৃষকের বন্ধু, গরিবের অর্থনীতিবিদ (ড. ইউনূসকেও মনে পড়ছে, আহা আমাদের সোনার ছেলে গরিবের ব্যাংকার!!!) কেমন গরিবের প্রতি মমতা নিয়ে রাজপথ দিয়ে রাজার মতো চলে যাচ্ছেন।

    পরে জেনেছি, ওই গাড়ি এসেছে চরাঞ্চলের দারিদ্র্য নিয়ে ওনার ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ফজিলত হিসেবে। তারপরও কয়েকবার তাঁর সাক্ষাত লাভ করেছি তাঁর অফিসে। সাক্ষাতকার নিয়েছি। জেনেছি এই সাবেক বামপন্থি কত কত দেশে গিয়েছেন। দেখেছি, কীভাবে সাক্ষাতকার দিতে দিতে নানান টেন্ডার (প্রকল্প পাবার) ড্রাফট এর খসড়া দেখে দিচ্ছেন। আরো কত কী? তবে আমার যে দুটি বন্ধু ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, তাঁরা মরিয়া হয়ে চাকরি খুঁজতেন, কারণ গরিবের বন্ধু তাদের অতি সামান্য বেতন দিয়ে বাকি অর্থ গরিবের সেবায় দিতেন।

    সেই তিনি আইএমএফ চালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। আশা করি, যে তিনি আইএমএফ-এর অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক ছিলেন তারুণ্যে এই পরিণত বয়সে বাংলাদেশে ব্যাংক চত্বর দিয়ে সেখানে একটি বড় অফিস নিয়ে তদারকি করা আইএমএফকে তিনি কীভাবে মোকাবেলা করেন।

    আমি অন্তর থেকে আনন্দিত। গরীবদের কিছু না হোক গরিবের সন্তানই তো রাজা হলো? তাঁকে অভিনন্দন। আওয়ামী লীগকেও অভিনন্দন, তাঁরা কোনো তৃতীয় শ্রেণীর আমলাকে না দিয়ে একজন নমনীয় চক্ষুলজ্জাসম্পন্ন ঠিকাদারি গবেষককে পদটি দিয়েছে।

    মাহফুজ [অতিথি] (যাচাই করা হয়নি) | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৭:০৩

    প্রচুর ভুল আছে। যেমন:

    ১. উন্নয়ন সমুন্বয়
    ২. চর নিয়ে ১০৬ কোটি টাকার প্রজেক্ট
    ৩. সে আমলের (৬/৭ বছর আগে) ২০-৩০ লাখ টাকার পাজেরো
    ৪. ওই গাড়ি এসেছে চরাঞ্চলের দারিদ্র্য নিয়ে ওনার ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ফজিলত হিসেবে

    ফারুক ওয়াসিফ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৭:৩১

    ভুল যে, তা প্রমাণ দিতে হবে না?

    সুবিনয় মুস্তফী | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৮:০৩

    সত্য, কিন্তু সেই হিসাবে অভিযোগগুলোরও তো প্রমাণ দরকার?

    ফারুক ওয়াসিফ | বিষ্যুদ, ২০০৯-০৪-৩০ ১৮:২২

    একটা অংশের প্রমাণ আমি যেটা তাঁকে মোলাকাত করা নিয়ে বললাম। আর প্রকল্প বা ইত্যাদি দিবালোকের মতো সত্য দেশের ভেতরে।

    ১. তাঁর গাড়ির ছবি দিতে পারবো না এখন বা আগের। ওটা মাঝে মাঝেই টিভি দেখলেই চোখে পড়বে।

    ২. উন্নয়ন সমুন্বয়ের সভাপতি তিনি। এটা তাদের ওয়েবসাইট বা খোঁজাখুঁজি করলেই মিলবে। তাঁর নেতৃত্বের প্রকল্পগুলো কিছু পাবেন এখানে: //www.bids-bd.org/activities/human.htm

    আরো চাইলে সংগ্রহ করে দেওয়া যাবে, তবে কাদা ঘাটতে হবে। দরকার হলে ঘাটবো। আমি তার পদায়নে খুশি। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনেকের থেকে ভাল।

    তবে দারিদ্র্য থেকে উঠে এসেছেন এটা তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য। এ বিষয়ে আমি অচ্ছুৎ বলাইয়ের সঙ্গে একমত। সেকারণেই বোধহয় তিনিও দারিদ্র্য ব্যবসায় সামিল হয়েছেন।


    লাবলু ভাই কি বলেন জানার আগ্রহ রইলো।

    জবাব দিন
  25. লেখাটা পড়ে আমিও নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি। এ তুলনায় আমি-আমরা কতো ভাগ্যবান (!!) ছিলাম।

    আমারও শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। এমন একজন মানুষ কে আমারও হাজার অভিবাদন।

    আল্লাহ যেন স্যারকে দীর্ঘজীবী করেন।

    জবাব দিন
  26. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    সজাগ সাধারণ্যে সিংহ হৃদয়ের স্পন্দন
    গল্পকেও হার মানায় এই কাহিনী। কিংবা এটি কোন গল্প নয় মোটেই। ‘কি হতে হবে’, ‘কি হতে পারলাম’, ‘কি পেয়েছি’, ‘কি পাইনি’ - কঠোর বাস্তবতার এমন হাজারটা অনুক্ত সমীকরণে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়া সত্ত্বার কাছে এসব আজ গল্প মনে হয়। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হিসেবে ড. আতিউর রহমানের নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকেই পত্র পত্রিকা ইন্টারনেট ফোরামগুলো ছেয়ে গেছে গল্পকে হার মানানো কোন এক “রাখাল বালকের” গল্পে। বিস্ময়ে আনন্দে হতবাক হয়েছি আমরা পাঠকরা। কেউ একে দেখছেন সাফল্যের গল্প হিসেবে, কেউ দেখছেন ছিন্ন বস্ত্র থেকে প্রাসাদের গল্প হিসেবে, কেউ দেখছেন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমণের আখ্যান হিসেবে। নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ী ড.আতিউর এর উত্থানের এই কাহিনী কি আসলেই এতটা অনন্য সাধারণ? নাকি এমনই শত শত গল্প রয়েছে গ্রাম প্রধান বাংলাদেশের পল্লীর গহন গভীর থেকে উঠে আসা গত প্রজন্মের বেশীর ভাগ মানুষের, যাঁরা অদম্য প্রতিজ্ঞায় বুক বেঁধেছিলেন এক সময় শিক্ষার আলোকে হৃদয়ে ধারণ করতে? ছোটবেলায় একসময় আমাদের পড়ানো হতো - ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়িঘোড়া চড়ে সে’। জানি না সে সব ছাই ভস্ম এখনো পড়ানো হয় কি না; জানি না কারা লেখেন ছোটদের এসব বই। শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আমাদের আতিউর রহমানেরা কি কেবল গাড়ি ঘোড়ায় চড়ার জন্যই লেখা পড়া করেছিলেন? মনে হয় না। আর এই গল্প কি কেবল এক জন আতিউর রহমানের ব্যক্তিগত একক সাফল্যের গল্প? আর সেই সব সাধারণ গ্রাম বাসীরা, হাট বাজারের শত শত অপরিচিত জনেরা, যারা কোন এক বালকের স্বপ্ন-সম্ভাবনাকে চিনতে পেরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজেদের শত অভাবের মাঝেও - তাঁদেরও কি গল্প নয় এটা? নিজেরা শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত, কিন্তু শিক্ষার আলোকে জিইয়ে রাখতে অচেনা এক কিশোরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন যারা, তাঁদেরও তো গৌরবের গল্প এটা। কোচিং সেন্টার আর বোর্ডের তারকা তালিকার কল্যাণে আজ আমাদের সমস্ত শিক্ষাগত অর্জন কিংবা সাফল্যকে ব্যক্তিগত মেধাজাত পণ্য হিসেবে দেখতে শেখানো হচ্ছে। যে কারণে, আমাদের ‘সফলদের’ অধিকাংশই কারো কাছে (বিশেষত সাধারণের কাছে) ঋণ বা দায় স্বীকার করতে রাজী নন। অনেকে তো আবার নিজের সংগ্রামী অতীতের কথা মনে রাখতেও লজ্জিত হন। মাঝে মাঝে এমন একজন দু’জন আতিউর রহমান সামনে এগিয়ে আসেন আমাদের মনে করিয়ে দিতে - শিক্ষার কথা, সুযোগের কথা, সম্ভাবনার কথা, সুযোগ বঞ্চিতের দেশে শিক্ষিতের দায়বদ্ধতার কথা। তাঁরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন জাতির প্রাণের গহীনে শত দারিদ্রের মধ্যেও স্পন্দিত হতে থাকা সিংহ হৃদয়গুলোর কথা। যেখানে দারিদ্র্য কেবলই ভাত কাপড়ের, ভালোবাসা-স্বপ্ন‌-মানবতার নয়।

    এ কাহিনী গল্পের মত, কিন্তু মোটেও কোন গল্প নয় এটি। আমাদের আগের প্রজন্মে, এমনকি এই প্রজন্মেও এমন শত শত গল্প প্রতিনিয়ত বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে আমাদের অগোচরে। আসুন নিজেদের পরিচিত পরিমন্ডল থেকে সেই কাহিনীগুলো জানার চেষ্টা করি - দায়বদ্ধতার দায় থেকে।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      রায়হান, ভালো বিশ্লেষন। তোমার সঙ্গে সব বিষয়ে একমত। প্রথম আলোতে প্রতি শনিবারে একটি বিশেষ প্রতিবেদন থাকে কোনো ব্যক্তি মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য নিয়ে। সেগুলো পড়লে বোঝা যায়, কেন এখনো এই দেশটা চলেছে, টিকে আছে। পেছনে থাকা এইসব মানুষকে সামনে নিয়ে আসাটা আমাদের এবং পরের পরের সব প্রজন্মের কাজ। ধন্যবাদ তোমাকে।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  27. আহমেদ (১৯৯৪-২০০০)

    সত্যি রুপকথার গল্পকে হার মানায় এই কাহিনি। সশ্রদ্ধ সালাম :salute:

    কিন্তু কিছু হিসাব ঠিক মেলাতে পারি না। ডঃ আতিউর এর মেঝ কণ্যা "লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স"(LSE) এ আমার সহপাঠি। আমার জানামতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর partial scholarship এর সুযোগ পেয়েও LSE তে সম্পূর্ণ নিজের খরচে ও পড়াশুনা করছে। এতদিন ভাবতাম ডঃ আতিউর নিশ্চই খুব ধনী পরিবারিক বাকগ্রউন্ড এর। নইলে LSE এর মত বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালইয়ে প্রায় কোটি টাকা খরচ করে মেয়ে কে পড়াতে পারতেন না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কেম্নে কি ~x(

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : রাব্বি (১৯৯৮-২০০৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।