কেমন আছেন সবাই?

বাসা ভর্তি মেহমান। তাও এমন সব মেহমান যাদের সামেন সিগারেট খাওয়া যায় না। কাল রাতের খাওয়া শেষে দরজা বন্ধ করে গেলাম বারান্দায়। সিগারেট খেতে। বারান্দায় আলো ছিল না। অন্ধকারে সিগারেটের আগুনের হলকা বোধকরী এলাকার নাইটগার্ডের যথেষ্ট কৌতুহল তৈরি করেছিল। সে রাস্তা থেকে বেশ সিটি মারা শুরু করল। তাদের সিটির নিশ্চয়ই কোন মানে আছে। কারণ মূহুর্তেই দেখলাম সিটি বাজাতে বাজাতে আরো তিনজন নাইট গার্ড জমা হয়ে গেল। বউয়ের ভয়ে অরণ্যে যাই ..সেখানে বাঘিনি। ব্যাপার অনেকটাই তেমন। সিগারেটের গন্ধে না হোক টহলদারদের বাশিতে মেহমানরা ছুটে আসতে পারেন কাহিনী দেখতে। আমি সিগারেটটা এ্যাশট্রেতে রেখে বেডরুমের কম্পিউটারের ভলিউম বাড়িয়ে দিলাম।
তার বোধ হয় দরকার ছিল না।কারণ ঘরের ভিতর আমাকে প্রবেশ করতে দেখে গার্ডরা যা বোঝার বুঝে ঘিয়েছে। তারা সিটি বণ্ধ করেছে। তবে কুকুরের চেঁচানো তখনো থামেনি। আগেও খেয়াল করেছি গার্ডদের বঁশি শুনলে এরাও কেন যেন চেঁচাতে শুরু করে। এই রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যেও আমার ভীষণ হাসি পেল একটা ব্যাপারে। নাইট গার্ডদের অস্ত্র দেখে। তারা বল্লম নিয়ে ঘুরছে। কলেজের গার্ডরা যেমন ঘুরত। সময়টা এখন একবিংশ শতাব্দী। এ কে ফরটি সেভেন সন্ত্রাসীদের হাতে হাতে। বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বোমা বানানোর প্রমিক্ষণ দেয়। শর্ট কোর্স অন বেসিক বোম্ব মেকিং। এরকম একটা সময়ে তারা ব্ল্লম নিয়ে কি করে বা করতে চায় কে জানে? আর এলাকাটাও নাকি ভয়ানক। শায়খ আব্দুর রহমান একসময় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত( তাইফুর ভাইর এখনকার এলাকা) এখানে।
গার্ডরা সম্ভবত কুকুরগুলির হাত থেকে বাঁচার জন্যই বল্লম ব্যবহার করছে। প্রতিদিন অসংখ্য কুকুর দেখছি আমরা। আমাদের সবারই বুঝি বল্লমের প্রয়োজন আছে। থাক জ্ঞানের কথায় না যাই। বরং অন্য গল্প করি। সমসাময়ীক ব্যাপারগুরি সিসিবিতে শেয়ার করার মত মজা আর কোথাও আছে নাকি?

শুক্র শনি দুদিন ছুটি পাই। শুক্রবার ঘুমাই, শনিবার একটু ক্যাম্পাসে যাই। আমার বয়সীরা ক্যাম্পাস ছেড়েছে অনেক আগেই। তবু সংগঠন করার কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কিছু ছোট ভাই পরিচিত পাই। আর পাই টিএসসির মামাদের। এরা আমার বাড়ির লোকের মতই। স্নেহ করে আবার শাসনও করে। এই যেমন ইউসুফ মামার কথাই ধরা যাক। সে সিগারেট বিক্রেতা। আর আমি তার নিয়মিত ক্রেতা ছিলাম। কারণ ছিল। এলাকায় সেই একমাত্র বাংলা ফাইভ রাখত। তা দিনে আগে ১০ টা সিগারেট ক্রস করলেই সে আমাকে সিগারেট দেয়া বণ্ধ করে দিত। আর পাশের মামার সাথে আক্ষপ করত, এই পোলা বাঁচব না।সিগারেট খাইতে খাইতেই মরব।
গতকাল বিকেলে মাসুম ফোন দিল, আসো দোস্ত……. টিএসসি অনেকদিন তোমার প্রেসিডেন্ট সুলভ চাহনি দেখে না। আমি অনেক আগের সেই চাহনি প্রাকটিস করতে করতে টিএসসি যাই। ইউসুফ মামা ছিলেন। এখন আর সেই বাংলা ফাইভ নেই। জিজ্ঞাস করলেন- টিটু ভাই এখন কি খান? আমি বললাম- মালবোরে লাইটস। তার চেহারায় অপরাধী একটা ছায়া পড়ল। …রাখি না .. চলে না। আমি বলি- বাদ দেন। চলে আসি আর এক পাশে। আড্ডায় মশগুল হই। একটু পর দেখি ইউসুফ মামা বিগলিত হাসি দিয়ে এক প্যাকেট মালবোরো লাইটস ধরে আছেন। ..নীলক্ষেত থেকে নিয়া আইলাম। আমি টাকা দিতে যাই। কোন মতেই গছাতে পারি না। অকারণ এমন ভালবাসা আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে আরো ক্ষুদ্র করে দেয়।

কাজের চাপে শনিবারও কাল অফিস করলাম। ইউ এন এফ পি এর দুটো সচেতনতা মুলক গল্প লিখতে হয়েছে। ফিল্ম হবে। বিষয় ধরে ধরে এমন গল্প লেখা অনেক কঠিন। ব্লগে গল্প দুটো দিব কিনা ভাবছি…………. :-B । আজ একটু ফ্রি আছি। তাই লিখছি..

এর মধ্যে আমার করা বেশ কয়েকটা কাজ বাজারে এসেছে। এতদিন সুযোগ ছিল না কাজের.. এখন হয়েছে। আগের অফিসের ম্যাগীর নতুন চলা এনিমেশন বেইসড বিজ্ঞাপনগুলো আমার করা। তার আগের অফিস এলটেকের একটা টিভি বিজ্ঞাপন অবশেষে করতে পেরেছে। তাদের যখন ছেড়ে আসি তখন ওটা ছিল আমার শেষ কাজ। আর তাদের একমাত্র টেলিভিন বিজ্ঞাপন। ফেসবুকে তুলে রেখেছি। এই অফিসে এসেও ভালই করছি। শিকদার বুড়িগঙ্গা সিটির একটা টিভিসির শুটিং হল। প্রাইম ব্রাংকের একটা সাইন হয়ে আছে। টাটা গাড়িরটাও হবে…। যার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম সেটা এসেছে বুঝি। সুযোগ…

ভালই আছি…সিসিবির সবাই কেমন আছেন??

২,৬১৮ বার দেখা হয়েছে

৬৯ টি মন্তব্য : “কেমন আছেন সবাই?”

  1. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    সিসিবির সবাই মনে হয় ভালোই আছে।
    ছুটে মোটে একদিন 🙁
    বোরিং জেবন, সুযোগ কি জিনিস ভুইলা গেছি 🙁
    সুযোগের অপেক্ষা করিনা, লাভ নাই জাইনাই কিনা কে জানে 😀


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    টিটো'র লেখা ... :boss: :boss: :boss:

    যার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম সেটা এসেছে বুঝি। সুযোগ…

    দোয়া করি, ফুলে-ফলে বাড়ন্ত হও ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  3. তাইফুর (৯২-৯৮)
    দিনে আগে ১০ টা সিগারেট ক্রস করলেই সে আমাকে সিগারেট দেয়া বণ্ধ করে দিত।
    ইউসুফ মামা বিগলিত হাসি দিয়ে এক প্যাকেট মালবোরো লাইটস ধরে আছেন।

    ইউসুফ মামা'রে :salute:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)
    শায়খ আব্দুর রহমান একসময় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত( তাইফুর ভাইর এখনকার এলাকা) এখানে।

    লেখা পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন "বাংলা ভাই" এর অনুপস্থিতিতে, বর্তমানে জঙ্গী সংগঠনের নেতৃত্ব জনৈক "তাইফুর ভাই" দিচ্ছেন ... :grr:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  5. বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বোমা বানানোর প্রমিক্ষণ দেয়। শর্ট কোর্স অন বেসিক বোম্ব মেকিং।

    পারফেক্ট এক্সপ্রেশন ভাইয়া !!

    আমরা ভালো আছি এই হিসাবে--- ছুটি সপ্তাহে দুইদিন 😀 😀

    জীবনে ছুটি অনেক। ভার্সিটি তে মারামারি হইছে তাই এইমাস পুরা ছুটিতে আছি 😀 --- সামার ভ্যাকেশন দিয়া দিছে। কাইয়ুম ভাইয়ের ছুটির কষ্ট শুইনা মন খারাপ হইয়া গেল।

    আর ক্যারিয়ার নিয়া চিন্তা-ভাবনা করলে মাথায় জট পাকায়া যায়। তখন খারাপ থাকি-- রেজাল্ট ত ভালো না সিরাম। ফার্স্ট\ইয়ারে ভ্যাজাল লাগাইয়া এখন সেই ঘানি টানতেই আমি শেষ :(( :((

    মন খারাপ ছাইড়া কিছু বুদ্ধি করলাম-----
    ক্লাস করি নিয়মিত, পড়ি, পইড়া পরীক্ষা দেই-- পার হইয়া যায়। আরও একটা কাজ করি ইদানিং,

    সি সি বি -তে পড়ি আর পড়াই 😀 😀

    ভালোই আছি না টিটো ভাই?

    জবাব দিন
  6. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আমরা তো ভালোই আছি। কিন্তু তোমার চেহারাটাও প্রায় ভুলতে বসেছি। বুঝতে পারছি, কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছ। মন দিয়া কাজ করো, ভালো ভালো কাজ করো; যাতে আমরা বলতে পারি টিটো আমাদের ছেলে। ভালো থেকো। :clap: :clap: :clap:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • টিটো রহমান (৯৪-০০)

      প্রতিটা সময়ই সুসময়, যদি আপনি তা ব্যবহার করতে পারেন--------আমার কথা না, কবিতার লাইন

      ভাল তাকারো একটা সিজন আছে.সেটা স্শরণ করে কষ্ট না পরয়ে বরং আরো ভাল থাকার চেষ্টা কর...পৃথিবী বেমি দিনের নয়..সো প্রতিটা মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ....

      তবে কি মানুষ তো আর কম্পিউটার নয় যে SHIFT...DELETE দিলেই সব শেষ...


      আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।