জানুয়ারির হাইকু

হাইকু ১৫২

দুই হাজার কুড়ি
কারসাজি আর বিদূষক
নির্বাসনে যাক

হাইকু ১৫৩

বই আর বউ
অমিলে সৃষ্টির কথকতা
কবিতা ও ব্যর্থতা

হাইকু ১৫৪

ঘন কুয়াশা
রবির পরে মেঘ ছোটে
বাম ডানে উইপার

হাইকু ১৫৫

তুরাগ নদীর তীর
দিনের বেলায় হেডলাইট
ধীর হাইওয়ে

হাইকু ১৫৬

জেগে ওঠা চর
ধ্যান করে বকের দল
মোলায়েম রোদে

হাইকু ১৫৭

জানুয়ারির ভোর
লেপের মাঝে এলার্ম ঘড়ি
বিলাপসম বাজে!

হাইকু ১৫৮

ঝরে মরা পাতা
কাঁধ একটু উঁচু করে
বুলবুলির ছানা

হাইকু ১৫৯

পাইপ ও চশমা
ফুলেল খোকার আনন্দাশ্রু
দেশে ফেরার দিন

হাইকু ১৬০

মাঘ মাসের রাত্রি
ছেঁড়া কাঁথায় ছারপোকা
শেয়ালের ডাক

হাইকু ১৬১

গদী আর কড়ি
গাড়ী বাড়ি বা নারী
কি মেলে না বল!

হাইকু ১৬২

পুনর্মিলন অনুষ্ঠান
পাশ কাটিয়ে চলে যায়
ফেসবুকের বন্ধু!

হাইকু ১৬৩

সরষে ফুলের ঘ্রাণ
কান্নার স্বাদ মিষ্টও হয়
খেজুর গাছ কি জানে!

হাইকু ১৬৪

হ্যাং আউট চল
খাবার ছবি তুলে পোস্ট
ইনষ্টা ফেসবুকে

হাইকু ১৬৫

ফটোগ্রাফার
ক্যামেরার পিছনে
ফোকাসে নাই

হাইকু ১৬৬

মা মাটি প্রিয়া
যত বেশি দূরে যাই
উথলে ওঠে হিয়া

হাইকু ১৬৭

উত্তুরে হা্ওয়া
খসখসে অনাদরে
পাতা ঝরার গান

হাইকু ১৬৮

উইণ্ডশিল্ড ঘোলা
অনিয়ত জলফোঁটা
গড়িয়ে নামে

২,৭২৮ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “জানুয়ারির হাইকু”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    দেরীতে পড়লাম, তবে পড়ে ভাল লাগলো। যেগুলো বেশী ভাল লেগেছেঃ
    ১৫২, ১৫৩, ১৫৫, ১৫৬, ১৫৮, ১৫৯, ১৬৫ ও ১৬৬ নম্বরের গুলো।
    হাইকু লেখার সময় কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, মোট ৫ টি বাক্যে বলো। গুগল করেছি, তবে তোমার কাছ থেকে জানতে চাই, কারণ তুমি এ বিষয়ে বেশ পারদর্শী বলে মনে হয়।

    জবাব দিন
    • টিটো মোস্তাফিজ

      অনুপ্রাণিত হলাম ভাই 🙂
      ৫/৭/৫ মাত্রা (বাংলা হাইকুতে প্রয়োজনে একটু কমবেশি হতে পারে) প্রথম/শেষ লাইনের সাথে অন্য দুই লাইনের সরাসরি সম্পর্ক থাকবে না। এই দুই অংশ মিলে একটা দৃশ্যকল্প তৈরী করবে যা পাঠক অনুভব করবে। এর শিরোনাম থাকবে না। Show don't tell. যেমন-

      হাইকু ২২২

      দরিয়ার দানো
      প্রলয়োল্লাসে মাতে
      মধুমাসে বিষ

      হাইকু ২২৫

      অক্সিজেন ভাণ্ডার
      ঘূর্ণিঝড় যুঝে দেখ
      শ্বাসমূল প্রহরী


      পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।