ইয়াহু চরিতঃ বাল্যখিল্য কড়চা

গোলবাস্টো মোমারেন এভলেস গুরডিলো শেফিন মুলি উলি গিউ

লিলিপুটদের সর্বশক্তিমান সম্রাট যিনি একই সাথে বিশ্বের আনন্দ ও ভীতি, পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত যার সাম্রাজ্য, যিনি রাজার রাজা, মানব সন্তানদের থেকেও উঁচু, যাঁর পদভারে জমিন কাঁপে, যাঁর মাথা সূর্যকে স্পর্শ করে এবং যার আঙ্গুলের হালকা ইশারায় পৃথিবীর সমস্ত রাজার হাঁটু কাঁপে, যিনি বসন্তের মত মনোরম, গ্রীষ্মের মত আরামপ্রদ, শরতের মত ফলপ্রসু কিন্তু শীতের মত ভয়ংকর । এ হেন মহামহিম, আমাদের স্বর্গরাজ্যের রাজাধিরাজ সম্রাট দরবারে আসছেন। হুশিঁয়ার…

” সকল সৎ ব্যক্তি তাদের সুবিধামত দিকে ডিম ভাঙ্গবেন।”

লিলিপুটদের দেশে দুইটি রাজনৈতিক দল আছে। ট্রামেকসান বা হাইহিল পার্টি এবং স্লামেকসান বা লোহিল পার্টি। ট্রামেকসানদের জুতার গোড়ালি উঁচু। তারা দেশের প্রাচীন সংবিধানে বিশ্বাসী এবং সংখ্যায় বেশি। কিন্তু সম্রাট লোহিল পার্টিকে পছন্দ করেন। তাঁর জুতার গোড়ালি নিচু। লোহিল পার্টির লোকজন বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। দুই দলের মনোমালিন্য চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। তারা এক সাথে কিছু খায় না বা পান করে না। এমন কি কথাও বলে না। অথচ এমনটি ছিল না। মনোমালিণ্যের সূত্রপাত ঘটে যখন সম্রাটের পিতামহ ছোট বেলায় প্রাচীন রীতি অনুযায়ী ডিমের মোটা দিক ভাঙ্গতে গিয়ে আঙ্গুল কেটে ফেলেন। তখন তাঁর পিতা ডিমের সরু দিকে ভাঙ্গার আদেশ দেন। এ বিষয় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।গৃহযুদ্ধ বিদ্রোহ আর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।এসবে ইন্ধন যোগায় প্রতিবেশি রাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ নতুন আইন এর ফলে নাকি মহান ধর্মনেতা লুসট্রগ পবিত্র গ্রন্থ ব্লুণ্ডেগাল এ যে মতবাদ প্রচার করেছেন তা ভঙ্গ করা হয়েছে। ধর্মাচরণে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মহান ধর্মনেতার অপমান করা হয়েছে। কিন্তু মূল গ্রন্থের বিষয়টি আসলে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে শুধু লেখা আছে- ” সকল সৎ ব্যক্তি তাদের সুবিধামত দিকে ডিম ভাঙ্গবেন।” সুবিধামত শব্দটির ব্যাখ্যা নিজের নিজের সুবিধামত করে নেয়া নিয়েই যত বিপত্তি।

Picture 012

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দুটি বাল্যখিল্যতা

এক

বাল্যখিল্যরা চুরির চাইতে ঠকবাজিকে বড় অপরাধ মনে করে। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যুক্তিটা হচ্ছে- সাবধান থাকলে আর নিজের জিনিসের উপর নজর রাখলে চোর চুরি করতে পারে না কিন্তু ঠক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলে। ঠক ব্যক্তি সততা ভঙ্গ করে। জিনিস কেনা বেচার সময় অসাধু ব্যবসায়ী যদি নির্দোষ লোকদের ঠকাতে থাকে, তাকে যদি প্রশ্রয় দেয়া হয় এবং তাকে ঠেকানর মত আইন না থাকে তা হলে অসাধুতা বাড়তেই থাকবে আর নির্দোষ ব্যক্তি ঠকের শিকার হবে।

দুই

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কোন অপরাধে কঠোর শাস্তি দেয়া হয় কিন্তু অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীকে সাথে সাথেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পাওয়া আসামী তখন অর্থ ও সময় অপচয়ের জন্য , বিপদের ঝুকিঁ অপভোগ করার জন্য, কারাগারে অযথা কষ্ট স্বীকার করা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় যে মনোকষ্ট তাকে সহ্য করতে হয়েছে , এ সবের জন্য তাকে চারগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এটি দেয়া হয় সেই মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অভিযোগকারীর ধন সম্পদ থেকে। কিন্তু তার যদি সে পরিমান সম্পদ না থাকে তবে রাজকোষ থেকে সবকিছু মিটিয়ে দেয়া হয়। মুক্তি পাওয়া আসামীকে সম্রাট কিছু আনুকুল্য বা সম্মানী দেন এবং তার নির্দোষিতা সারা রাজ্যে প্রচার করা হয়।

বাল্যখিল্য প্রশ্নঃ অর্থ পিশাচ কিছু হালজমানার দাসব্যবসায়ীর কারণে যে কয়েক হাজার আদমসুরত দগ্ধ পিষ্ট হতাহত হয় তাদের পরিবারে বাল্যখিল্য ক্ষতিপূরণ দিলে কেমন হত ?

[ চলবে]

৬৫৮ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “ইয়াহু চরিতঃ বাল্যখিল্য কড়চা”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)
    বাল্যখিল্যরা চুরির চাইতে ঠকবাজিকে বড় অপরাধ মনে করে। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যুক্তিটা হচ্ছে- সাবধান থাকলে আর নিজের জিনিসের উপর নজর রাখলে চোর চুরি করতে পারে না কিন্তু ঠক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলে। ঠক ব্যক্তি সততা ভঙ্গ করে। জিনিস কেনা বেচার সময় অসাধু ব্যবসায়ী যদি নির্দোষ লোকদের ঠকাতে থাকে, তাকে যদি প্রশ্রয় দেয়া হয় এবং তাকে ঠেকানর মত আইন না থাকে তা হলে অসাধুতা বাড়তেই থাকবে আর নির্দোষ ব্যক্তি ঠকের শিকার হবে।

    ব্যাপারটা আগে কখনো চিন্তা করা হয় নাই। এই প্রথম ভেবে দেখলাম! যৌক্তিক কথা কিন্তু! 🙂


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    মোস্তাফিজ ভাই,
    আপনি ধাঁধাপ্রবণ মানুষ। আপনার লেখার রস পেতে হলে সেই ধাঁধার খাল পেরুতে হয় কাপড় না ভিজিয়ে। বড় সংগীন অবস্থা হয় মাঝেমধ্যে।
    এই ইয়াহুচরিত নিয়ে শুরুতে একটু ব্যাকগ্রাউণ্ড দিলে পাঠকের রসাস্বাদনে সুবিধে হতো মনে হয়। যেমনঃ আপনি কি জোনাথন সুইফট সরাসরি অনুবাদ করছেন, না কি সেই থীম মাথায় রেখে ভাবনা টুকে রাখছেন। গালিভার্স ট্রাভেলস থেকে লিখলেও কোন গল্পটি তেহেক উদ্ধৃত করছেন তা বলা থাকলে ভালো হতো। আপনি হাইকু লাইনের লোক -- বড়ই সংক্ষেপে বলেন - আরেকটু বিস্তারে গেলে, অন্তত গদ্যের ক্ষেত্রে, পাঠকের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

    জবাব দিন
    • টিটো মোস্তাফিজ

      ইয়াহুচরিত গালিভার্স ট্রাভেলস এর তস্কর সংস্করণ :shy: 😛
      জোনাথন সুইফট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করে উদ্ভট চিন্তাধারা আর আজব সব প্রথা সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন । তাঁর বিচিত্র পর্যবেক্ষণ বিদগ্ধ গ্রন্থকীটদের জন্য উপাদেয় বিবেচিত হতে পারে B-)
      আমার লেখা পাঠকের ভাল লাগবে না হয়ত। তবে ইয়াহু চরিত পড়ে কেউ যদি আবার গালিভার্স ট্রাভেলস পড়ে এবং তাঁর পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটু ভাবে তা হলেই আমার নতুন সিরিজটি সফল হবে :dreamy:
      পরামর্শের জন্য :hatsoff: :boss:
      :teacup: :teacup:
      ঠাণ্ডারজন্য এককাপ বেশি 🙂


      পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।