ট্রেন কেক

নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব সমীপেষু
ক্যাডেট কলেজ ব্লগ
ডট কম।

বিষয়ঃ অন্তর্জালের ডায়েরীতে রন্ধন বিভাগ অন্তর্ভুক্তিকরণ ।

মহাশয়,
যথাবিহিত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, পত্র লেখক অধম লক্ষ্য করিয়াছে আপনার ডায়েরী পাঠকের সংখ্যা কদাচিৎ ত্রিংশপরি হইয়া থাকে। ইহার ফলশ্রুতিতে  নিরতিশয় লজ্জা বোধ হইতেছে। অধুনা ব্যাপক সংখ্যক প্রমীলা অন্তর্জালে বিচরণ করিয়া থাকেন। সহলেখিকা ভগীনিসকল কলম পিষিতে বিশেষ আগ্রহ বোধ করিতেছেন এই রুপ বোধ হইতেছে না। বিজ্ঞ প্রকৌশলী মহোদয় নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, রমনীকুল রন্ধন শিল্পে সবিশেষ আকর্ষন অনুভব করিয়া থাকেন।কাগজে কলমে এবং হাতে কলমে ( থুড়ি কথনে এবং হাড়ি পাতিলে ) ইহার চর্চায় তাঁহারা অতিশয় আগ্রহী।রন্ধন বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করিলে তাঁহারা সিসিবি নামক জালে ব্যাপকভাবে ঝাঁপাইয়া পড়িবেন তাহা সুনিশ্চিত। প্রমীলা পাঠকসকল আকৃষ্ট করিতে পারিলে সিসিবির জনপ্রিয়তা, ক্রিয়াশীলতা বহুলাংশে  বৃদ্ধি পাইবে।এতক্ষণ তো গৌরচন্দ্রিকা করিলাম। এইবারে আসল কথা কহি। এই অধম একখানি রেসিপি বা রন্ধন প্রক্রিয়া লিপিবদ্ধ করিয়াছে যাহার পেটেন্ট অপেক্ষারত রহিয়াছে।শীতল আবহাওয়ায় আপনারা যাহাতে গরম গরম ট্রেন কেক ভক্ষণ করিয়া নিরতিশয় আমোদিত হইতে পারেন তজ্জন্য উহা আপনাদের সমীপে নিবেদন করিতেছি।

বিধায় প্রার্থনা, আগামীতে অপরাপর ভোজনবিলাসী ক্যাডেট -ক্যাডেটা এবং পাঠক পাঠিকাদের আকৃষ্টার্থে বিভাগসমূহের অভ্যন্তরে রন্ধন বিভাগ অন্তর্ভুক্তকরণে মহাশয়ের সদয় মর্জ্জি হয়।

সংযুক্তি সমূহঃ

১। ট্রেন কেক প্রস্তুত প্রণালী নাম করনের শানে নযুলনহ।
২। কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত কেক-এর চিত্র।

আরজ ইতি

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
পাঠক ও লেখক
সিসিবি।

 

ট্রেন কেক

ফিরিঙ্গি নামকরণের হেতু পাঠককুলের চিত্তে উদয় হইতে পারে। তজ্জন্য নামকরণের শানে নযুল অবহিতকরন আবশ্বিকতা রহিয়াছে। বাষ্পীয় শক্তি কাজে লাগাইয়া কেহ স্টীম ইঞ্জিন কিংবা অপরাপর শকট চালনা করিয়াছে আবার কেহ ধুপি কিংবা ভাঁপা পিঠা তৈরী করিয়াছে।অবিজ্ঞানমনস্কতার পশ্চাদদেশ উন্মুক্ত করিয়া চাবুক মারিবার নিমিত্ত এহেন নাম করণ। গৌরচন্দ্রিকা অনেক হইল এক্ষণে আসল কথা কহি।

প্রথমে একটি গামলাভ্যন্তরে প্রয়োনারুপ আতপ চাউল সিক্ত করুন।কিঞ্চিৎ লবনযুক্ত করিয়া হামান দিস্তায় পিষিয়া লউন। তাহার পরে উক্ত মিশ্রণ চালুনীতে চালিয়া যে পাউডার পাইবেন উহাই আসল উপাদান।একখানি পাত্রের মুখে ছিদ্রযুক্ত সরাই রাখিতে হইবে।পাত্রটিতে সতত ফুটায়মান পানি রাখিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে যাহাতে অবিরাম ঢাকনা দিয়া বাষ্প বাহির হইতে পারে।একটি পেয়ালায় উক্ত পাউডার লউন। উহাতে গুড় বা চিনি মিশ্রিত করা যাইতে পারে। যাহা হউক উক্ত পেয়ালার মুখখানা সিক্ত কাপড়ে জড়াইয়া বাষ্প বহির্গমনের পথখানা সাময়িকভাবে রুদ্ধ করিয়া দিন্ ।পেয়ালা নিম্নমুখী রাখিতে হইবেক।তাহা হইলে জলীয় বাষ্পের উত্তাপ এবং সিক্ততায় ট্রেন কেক কিয়তক্ষন পর প্রম্তুত হইয়া যাইবেক। উষ্ঞ ট্রেন কেক উপাদেয়। কেহ কেহ গুড়ের সহিত নারিকেল কোরাও মিশ্রিত করিয়া থাকে। এই অধম চাপ্পাচকের শীশ খুলিয়া বাষ্পব্যবহারের কথা ভাবিয়াছেন কিন্তুক সহধর্মীনির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করিয়া পরীক্ষাকরনের সাহস সঞ্চয় করিয়া উঠিতে পারেন নাই।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মন্ত্রমক্ষিকার হুলাঘাতে অধম জর্জরিত বিধায় বানান কিংবা ভাষাগত প্রমাদ থাকিতে পারে।চিত্ররাজি দর্শনের পূর্বেই ভূলক্রুটি মার্জ্জনীয়।

চিত্ররাজি

 

২,৭০৮ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “ট্রেন কেক”

  1. শাহীন (৯৬-০২)

    অতি শুদ্ধ প্রাচীন বাংলা লেখন বহুদিন পর পড়িতে এবং বুঝিতে বেশ বেগ পাইতে হইয়াছে। ইহা ছাড়াও লেখনটি অতিশয় আনন্দ প্রদানে সফলতা লাভ করিতে পারিয়াছে। কিন্তু ভাবনার বিষয় এইযে, লেখনটি পড়িয়া নিজের জিহবাতে জ্বল আটকাইয়া রাখার প্রচেষ্টা বারংবার বিফলে যাইতেছে।
    ভ্রাতা বেশ লিখিয়াছেন।


    The Bond Cadet

    জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    দাঁত ভাইঙা হাতে চইলা আসলো ভাই। ট্রেইন কেক বিষয়ে ছোট একটি অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় ১২ মাসে ১৩ ব্যারাম লেগে থাকতো। ঠান্ডা কাশি জ্বর ইত্যাদি। ডাক্তারের নিষেধ ছিল ছেলেকে নারকেল থাকে এরকম কোন খাবার খেতে দিবেন না। আস্ত নারকেলের শাঁস মুখে পোরার অভ্যাস মায়ের ধমক, বকা, ও মারপিটের কারণে একসময় ছেড়ে দিতে হলো। ঘৃণা থেকে নাকি ভালোবাসার জন্ম হয় আর আমার হলো উল্টা। ভালবাসা থেকে দূরে থাকতে থাকতে জন্মে গেল ঘৃণা। এখন নারিকেল মুখে কামড় পড়লে চোখ মুখ কুঁচকে যায়। আত্মীয়ের বাসায় ভদ্রতা করে দাঁত মুখ চেপে গিলে ফেলি কিন্তু মা মাঝে মধ্যে ভুলে ট্রেইন কেকে কোড়ানো নারকেল দিয়ে দিলে তুলকালাম কান্ড করে ফেলি। শীতের কোন পিঠায় আমার নারকেল থাকে না। বাসায় আমার জন্য যেকোন শীতের পিঠার, নারকেল ফ্রি ভার্সন বানানো হয়! 😕


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
    রমনীকুল রন্ধন শিল্পে সবিশেষ আকর্ষন অনুভব করিয়া থাকেন।

    সহমত নই।
    রান্না মেয়েদের কাজ এই ধারণা থেকে বের হবার সময় এসেছে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এই ভাষা আমাকে দিয়ে হবে না তাই ক্ষ্যামা দিলাম 🙁

    আমিও সিসিবিতে রান্না বিষয়ক পোস্টের অভাব বোধ করি, রান্নাবান্নায় ইদানিং বেশ আগ্রহ পাচ্ছি 😛

    ট্রেন পিঠা ভাল পাই তবে উইথ এক্সট্রা গুড় এন্ড নারিকেল 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. তাহমিনা শবনম (৮৪-৯০)

    রন্ধন প্রণালী দর্শনে প্রত্যয় জন্মিল ইহা অতি অনায়াস প্রণালী।
    :thumbup:

    আচ্ছা ভাইয়া,বেগম রোকেয়া কেমন রান্না করতেন,কেউ বলতে পারবে?


    আমি চোখ মেললুম আকাশে
    জ্বলে উঠলো আলো পূবে পশ্চিমে

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।