Rann অথবা India 24/7

রাম গোপাল ভার্মা আমার সবচেয়ে প্রিয় পরিচালক। কেনো? ওই ব্যাখ্যা আমি লিখে বুঝাতে পারবো না। সামনা সামনি কারো সাথে দেখা হলে ওইটা নিয়ে কথা বলা যাবে। কারন রামুর সিনেমার পিছনের থিওর‌্যাটিক্যাল ব্যাখ্যা আমার জানা নাই। শুধুই ভালো লাগে। সিনেমার বিষয় বৈচিত্র্য ছাড়াও আমার সিনেমার পরিচালনা, কাস্টিং (কতজন তারকার জন্ম হয়েছে রামুর সিনেমাতে আমি জানি না কিন্তু অনেক অভিনেতার জন্ম হয়েছে রামুর সিনেমাতে) সব কিছুই ভালো লাগে। আমি আজকাল রামুর সিনেমার খবর এর ছোট খাটো কড়চা ফলো করতে পারি না। কিন্তু দেশে থাকতে সবসময়ই করতাম। কিন্তু কখোনোই কোনো সিনেমা বাদ দেই না। সেই শিভা থেকে শুরু… এখনো মুগ্ধতা নিয়ে দেখে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার সেমি আঁতেল ইমেজ ছিলো। একবার নবীন বরন না কি যেনো অনুস্টহানের আয়োজন চলছে, জনতার দাবী হিন্দি গান থাকতে হবে, অনেকেই অভিমত জানাচ্ছে আমার পালা যখন আসলো তখন আমি বললাম ইদানীং জাঙ্গল সিনেমার পাতলি কোমর চিকনি বদন… গানটা আমার বেশ লাগছে। সবাই আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেনো আমার Cultural Breakdown হয়েছে। আমার আড়ালে হয়তো আমার রুচি নিয়েও কথা বার্তা শুরু হয়ে গিয়েছিলো। যাই হোক আমি অফ গেলাম পরে অবশ্য আমার পছন্দেই গালিব ‘ও পেহলি বার… ‘গানটা গিয়েছিলো। কিন্তু দুটি গানই আমার কাছে প্রিয় কিন্তু কে যে মানুষ তথাকথিত বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না তা আমায় হতাশ করেছিলো। সিনেমা ঘটিত সবকিছুতেই রামু আমায় তীব্র ভাবে আকর্ষন করে। যদিও আমি সিনেমা দর্শক হিসাবে সর্বভূক কিন্তু তথাকথিত বানিজ্যিক সিনেমাই আমাকে প্যারালাল সিনেমা থেকে বেশী টানে। কিছুদিন আগে সিনেমা নিয়ে কথা বার্তায় একজন কে বলেছিলাম রামু নিয়ে লিখতে কারন আমি ইদানীং কালে বসের কাজ কামের খবর জানি না আর বানিজ্যিক সিনেমা নিয়ে আলোচনাও উপভোগ করার একটা বিষয় ছিলো। কিন্তু মান কিংবা জাত যাবার ভয়ে কিংবা সময়াভাবে কেউ লিখলো না। তাই আমিই হুট করে একটা লেখা দিয়ে দিলাম।

রাম গোপাল ভার্মার সিনেমা সবসময়ই কৌতুহল আর আকর্ষন তৈরী করে কিন্তু তার পরবর্তী সিনেমার কাস্ট (অমিতাভ, পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব, রীতেশ দেশমুখ, গুল) এবং টপিক আমাকে সিনেমাটার প্রতি খুব বেশী আগ্রহী করে ফেলছে। যেই সিনেমার কথা বলছি তার নাম Rann অথবা India 24/7। বিতর্ক না হলে সিনেমার পাব্লিসিটি ভালো হয় না আর রামু তো আছেই সবসময় বিতর্ক নিয়ে। ইন্ডিয়ার জাতীয় সঙ্গীত কে একটু বদল করে সিনেমায় সংযোজন করা হয়েছে। যথারীতি চেঁচামেচি শুরু হয়েছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত তা সিনেমাতে থাকে কিনা কিন্তু আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। চেখে দেখার জন্য হলেও দর্শক হয়তো সিনেমা হলে যাবে। সত্য, কোম্পানী কিংবা সরকার সিনেমার স্রষ্টা রাম গোপাল ভার্মার দাবী কারোরই তার প্রতি আংগুল তোলা ঠিক হবে না। রামুর মতে
‘I have not tinkered with the national anthem. Tinkering would be if I would have shown it in bad light. I haven’t done anything of this sort. Through this song, we are talking about the disputes in the country but there were no intentions to ridicule anything,’

ইন্ডিয়ার মিডিয়াকে উপজীব্য করেই Rann অথবা India 24/7 সিনেমাটি বানানো হয়েছে। রামুর মতে এতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে আর কারীগরিদিকের পরিবর্তে মিডিয়া জগতের সাইকোলজিক্যাল বিষয়গুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়েছে।

এবার কয়েকটি চরিত্র নিয়ে লিখিঃ (নেট ঘেঁটে পেলাম)

বিজয় হর্ষধন মালিক (অমিতাভ) সিনেমার মূল চরিত্র। হার্ভাড গ্রাজুয়েট মালিক ইন্ডিয়ার সবচেয়ে রেস্পেক্টেড মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব। আর সেই প্রথম দেশে ব্যাক্তি মালিকানায় প্রথম খবর চ্যানেল চালু করে। সাংবাদিকতার মুল্যবোধ আর নৈতিকতার হার্ডকোর ধারক বাহক এই বিজয় মালিক। আর মূল চরিত্রে অমিতাভ কে দিয়ে রামু আবারো আরেকটা ‘সরকার’ এর মত দারুন কিছু নিয়ে আসছে সন্দেহ নাই।.
আনন্দ প্রকাশ ত্রিবেদী (রাজপাল যাদব) একজন সৃজনশীল সম্পাদক। সে যেকোনো খবরকেই সেনসেশনে পরিনত করে। যেকোনো সিনেমা পরিচালকের চেয়ে ভালো সিনেমা বানাতে পারে এই ত্রিবেদী কিন্তু দূর্ভাগজনকভাবে সে তাদের নাম দেয় নিউজ… ব্রেকিং নিউজ।

পুরব শাস্ত্রী (রিতেশ দেশমুখ) তরুন সাংবাদিক। মুখ্যমন্ত্রী বাবার বদৌলতে নায়ক বনে যাওয়া, সচরাচর গোপাল ভাঁড় মার্কা চরিত্রে বিরক্তি উৎপাদন করাই রিতেশের কাজ। কিন্তু এই সিনেমায় নাকি রাম গোপাল ভার্মা সিরিয়াস চরিত্রে তাকে এনেছে। রামুর মতে এখন পর্যন্ত রীতেশের সবচেয়ে ভালো কাজ হয়েছে এই Rann অথবা India 24/7 সিনেমাতে। কিন্তু আমার কেনো যেনো মনে হয় বিতর্কিত বিষয়ের এই সিনেমায় মুখ্য মন্ত্রীরে হাতে রাখতেই রামু রীতেশরে নিয়েছে। কিন্তু বিবেক ওবেরয়ের মত ছাগলও রামুর সিনেমায় জটিল অভিনয় করেছে। আর তাই আমি রামুর উপর বিশ্বাস রাখতে চাই।.
আম্রিশ কাক্কার (মনীশ ভেল) প্রথম চিন্তা কতে খবর দেবার ব্যাবসাও হতে বিনোদনমূলক ব্যাবসা। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে সমাজের উঁচুদরের মানুষ সবার জন্যই তার খবর। আম্রিশের চ্যানেল কোনোমতেই একটা পতিতালয় থেকে কম না। তার খবরগুলো সস্তা পতিতার মতই আর আম্রিশের চরিত্রটাকে বলা হয়েছে…Amrish Kakkar – the most powerful pimp around…. সত্যিই ইন্টারেস্টিং!

মোহন পান্ডে (পরেশ রাওয়াল) একজন রাজনীতিবিদ। সব রাজনীতিবিদের মতই তার ইচ্ছা প্রধান মন্ত্রী হবার। বিরোধী দলের নেতা পান্ডেও এর ব্যাতিক্রম না শুধু পার্থক্য হলো পান্ডে প্রয়োজনে মানুষও খুন করতে পারে। ফাটাফাটি এই অভিনেতা আগেও নাকি রামুর ৪টি দক্ষিনি সিনেমায় অভিনয় করেছে। কিন্তু আমার সত্য সিনেমার ওই জাঁদরেল পুলিশ অফিসারের কথাই মনে আছে।.
নান্দিতা শর্মা (গুল পানাংগ) শিক্ষিত,স্মার্ট ও বুদ্ধিমতী এড ফিল্ম মেকার। গুলের মতে এইটা রীতেশ দেশমুখের সিনেমা। এইটা গুলের রামুর সাথে প্রথম সিনেমা। গুলকে আমার কখনোই তেমন আবেদনম্য়ী নায়িকা মনে হয় না। দুঃখের খবর হলো নায়িকাকে রামুর অন্য সিনেমার তুলোনায় এই Rann অথবা India 24/7 সিনেমাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাপড়ে মুড়ে দিয়ে খুবই সাদামাটা ভাবে চিত্রায়ন করা করা হয়েছে।.
নায়িকা নিয়ে হতাশা বাদ দিয়েও আমি সিনেমাটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। অগাস্টের ২১ তারিখে Rann অথবা India 24/7 সিনেমা মুক্তি পাবে। মুক্তির দিনটা অনেক দূরে মনে হচ্ছে। আমার আর তর সইছে না।

৩,১১০ বার দেখা হয়েছে

৩১ টি মন্তব্য : “Rann অথবা India 24/7”

  1. আব্দুল্লাহ (২০০৪-২০০৮)

    আমার ও দেখার ইচ্ছা আছে। কিন্তু ভাইয়া রাম গপাল ভারমা র আগ নামে ১টা সিনেমা রিলিজ হবার পর আমাদের সব বন্ধুরা টিভি রুম এ ইচ্ছা মত হাসাহাসি করত। কেউ কেউ আবার জুনিয়র কে পানিশমেন্ট দেবার জন্য এই সিনেমা র টেইলর দেখাইত।

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      তোমার সিনেমাটাই মনে হয় শোলের রিমেক। আর এইটা নিয়েই শওকত ভাই বলসে

      সোলের রিমেক তারে কে করতে বলছে আল্লাই জানে......।।মাঝে সে অন্তরা মালির প্রেমে পড়লো।

      এখনকার দিনের শোলে এই রকম হইতো কিনা আমারো সন্দেহ আছে। হয়তো অন্ত্রা মালী কে প্রমোট করার একতা ব্যাপার ছিলো। সুগ্যার ড্যাডী সংস্কৃতি আর কি!!

      জবাব দিন
  2. শওকত (৭৯-৮৫)

    হিন্দি সিনেমা নিয়া আমারো লেখার অনেক খায়েশ। খালি ভাব ধরতে লিখি না। রামুতে আমিও মুগ্ধ। আবার কিছু বিরক্তিকর ব্যাপারো তার মধ্যে আছে। মাঝে মাঝে অতি মাত্রায় পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে চায়। সোলের রিমেক তারে কে করতে বলছে আল্লাই জানে। আবার সরকার কিন্তু বেশ ভাল। মাঝে সে অন্তরা মালির প্রেমে পড়লো। গলার নীচে ঠিক আছে, গলার উপেরর জিনিষ ঠিক নাই। এ লোক যদি আর সিনেমাও না বানায় সত্য আর কোম্পানির জন্যই সে ইতিহাসে টিকে থাকবে।
    এই ছবিটা দেখতে হবে।

    গুল-এ মুগ্ধ হইছি ডোর ছবিটা দেইখা। কেউ যদি না দেখে তাহলে দেখা উচিৎ।

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)
      খালি ভাব ধরতে লিখি না। রামুতে আমিও মুগ্ধ।

      বস এইটাতো মূলতঃ ছেলে প্রধান ব্লগ। ভাব ধইরা কি হইবো। আমাদের জন্য লিখেন। আমরা আমরাই তো। লিখেন আমরা মন্তব্য/প্রতি মন্তব্য পড়ি।

      আবার কিছু বিরক্তিকর ব্যাপারো তার মধ্যে আছে। মাঝে মাঝে অতি মাত্রায় পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে চায়। সোলের রিমেক তারে কে করতে বলছে আল্লাই জানে। আবার সরকার কিন্তু বেশ ভাল।

      বস সবাই তো আর কুব্রিক না যে গুটি কয়েক সিনেমা বানাবে আর সব গুলাই হবে ক্লাসিক। আসলে গতানুগতিক নর্তন-কুর্দনের মাঝে মাঝে একটু ব্যাতিক্রমী কিছু দেখা আর কি? দেখেন না এখন ড্যানী বয়েলও রামুরে নকল (সরি আনুপ্রেরনা নিচ্ছে) করতে চাইতেসে। বয়েল নাকি মুম্বাই এর আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ে সিনেমা বানাবে।

      জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      গত কাল ডোর দেখলাম। ভালোই লাগলো। কিন্তু অভার অল সিনেমাটা জোস লাগে নাই। স্লো পেইসেড। গুল এর চেয়ে আয়শার অভিনয় ভালো লাগসে।

      আয়েশা টাকিয়া এতো ভালো অভিনয় করতে পারে আমি ওই ছবিটা না দেখলে বুঝতামই না।

      একমত।

      জবাব দিন
  3. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    হিন্দি সিনেমা কখনও নিয়মিত দেখিনি। এখন পযর্ন্ত মোট ৬টা দেখেছি। কোনটা দেখেই পরবর্তীতে আরেকটা দেখার ইচ্ছা হয় নাই। কেমন জানি, কথোপকথন আর মিউজিকের সাথে মানিয়ে নিতে পারি না। কথাগুলো মানুষ বলছে বলে মনে হয় না। তাই আয়োজন করে কখনও দেখা হয় নাই।
    তবে ভবিষ্যতে ভাল কিছু সিনেমা দেখার ইচ্ছা আছে। এমন হিন্দি সিনেমা অবশ্যই পাওয়া যাবে যেটা আউট অভ ট্র্যাক। সেরকম কিছু খুঁজছি।

    ইন্ডিয়ায় প্যারালাল সিনেমা নামে একটা জিনিস আছে সেইটা ঋতুপর্ণের সাক্ষাৎকারে প্রথম শুনছিলাম। জীবনে অবশ্য দেখি নাই। প্যারলাল গুলা বোধহয় একটু বেশী আউট অভ ট্র্যাক।

    আমার এই ধরণের সিনেমা না দেখার আরেকটা কারণ: আমি মূলত ডিরেক্টর ধরে ছবি দেখি। যেমন এখন কোয়েন ব্রাদার্স ধরছি। একের পর এক ডাউনলোড করে দেখতেছি। গত চার দিনে বার্টন ফিংক আর দ্য বিগ লেবাউস্কি দেখলাম। এভাবে ডিরেক্টর ধরে আগাই।
    ডিরেক্টরের পর আসে ছবির বিষয়বস্তু ও জনর। জনর খুঁজেও মাঝেমধ্যে দেখি।

    আপনের রিভিউ পড়লাম। রামগোপাল ভার্মার সব ছবি দেখা শুরু করলে ঠকার সম্ভাবনা আছে নাকি বলেন? না থাকলে ভবিষ্যতে শুরু করব। রিভিউ খুব ভাল হইছে।

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)
      হিন্দি সিনেমা কখনও নিয়মিত দেখিনি। কোনটা দেখেই পরবর্তীতে আরেকটা দেখার ইচ্ছা হয় নাই। কেমন জানি, কথোপকথন আর মিউজিকের সাথে মানিয়ে নিতে পারি না। কথাগুলো মানুষ বলছে বলে মনে হয় না।

      আসলে পারিবারিক অথবা ছোটবেলার বন্ধু মহল সবাই হিন্দি সিনেমা দেখতো সেই সাথে আমারো শুরু। আর এখন আমার বেশ ভালোই লাগে। এখন আমার হিন্দি সিনেমার নাচ গানই ভালো লাগে। আমি কাহিনী ফাহিনী বেশী দেখি না। কারন এত লম্বা সময় হয় না। কিন্তু সুন্দরী নায়িকাদের সখীসহ নাচানাচি ভালোই লাগে। আজকাল তো হিন্দি সিনেমার এক্সট্রারাও দারুন। বেশ কিছুদিন আগে 'তাল' একটা সিনেমা দেখসিলাম। নায়িকা ছাড়াও নায়িকার বোন/সখীরাও ছিলো দারুন।

      আর হিন্দি মিউজিক ও ভালো লাগে মাঝে মাঝে। যেমন রেইস সিনেমার গান গুলা দারুন লাগসে কিন্তু সিনেমা ভালো লাগে নাই। আসলে টাইম পাস করার চিন্তা নিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখি। ভালোই লাগে।

      ইন্ডিয়ায় প্যারালাল সিনেমা নামে একটা জিনিস আছে সেইটা ঋতুপর্ণের সাক্ষাৎকারে প্রথম শুনছিলাম। জীবনে অবশ্য দেখি নাই। প্যারলাল গুলা বোধহয় একটু বেশী আউট অভ ট্র্যাক।

      প্যারালাল সিনেমা দেখলে আমার জিদ উঠে। ইউনি তে থাকতে ওইগুলা দেখতাম ভাব ধরার জন্য আর ইরোটিক দৃশ্য দেখার আশায়। এখন আর ভাব ধরার দরকার নাই আর সুড়সুড়িও বেশী ভালো লাগে না।

      আপনের রিভিউ পড়লাম। রামগোপাল ভার্মার সব ছবি দেখা শুরু করলে ঠকার সম্ভাবনা আছে নাকি বলেন? না থাকলে ভবিষ্যতে শুরু করব।

      এইটা আসলে প্রিভিউ। সিনেমা রিলিজ হয় নাই। সব সিনেমা দেখলে অবশ্যই ঠকবা। যেমন ঋতুপর্নের সব সিনেমা দেখলেও ঠকার চান্স আছে। কিন্তু বেসিক পার্থক্য হলো রামু সিনেমা বানায় ইন্ডিয়ার আম পাব্লিকের জন্য আর ঋতুপর্ন সিনেমা বানায় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্য। তাই রামুর সিনেমাতে সস্তা বিনোদনও থাকে যা তোমার বিরক্তি উৎপাদন করতে পারে। যেহেতু হিন্দি সিনেমাই দেখো না; তাই আপাতত শুরু করতে পারো 'রাং দে বাসন্তী' আর 'এ ওয়েনেসডে' দিয়ে।

      রিভিউ খুব ভাল হইছে।

      ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
  4. সামীউর (৯৭-০৩)

    আমি প্যারালাল-আন প্যারালাল এইরকম GENRE তে বিশ্বাসী না। আমার কাছে সিনেমা দুই রকম, ভালো আর ভুয়া। রাম গোপাল ভার্মা তার সিনেমাতে ভারতীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডকে অন্য একটা রূপে উপস্থাপন করে একটা স্টাইল তৈরী করসে, সেই সাথে কিছু অখাদ্য ধরণের সিনেমাও তৈরী করসে।
    তারপরেও আরজিভি অনেক ভালো মেকার।
    এহসান ভাই, রণ নিয়া শা অনেক বাড়ায়ে দিসেন!

    জবাব দিন
  5. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    অনেকে শুধু রাম গোপাল ভার্মাকে মাফিয়া ছবির পরিচালক হিসেবেই ভালো মনে করে। কিন্তু রামু অনেক ধরণের ছবি করেছে। রঙ্গিলা'র মতো নাঁচ-গানের ছবি যেমন আছে, তেমনি 'ভূত' র মতো অতিপ্রাকৃত ছবি আছে, 'জঙ্গল'র মতো থ্রিলার আছে। এখনকার ভারতীয় ম্যাদ-ম্যাদা প্রেমের ছবি গুলির চেয়ে এর যে কোনটা অনেক ভালো ছবি। (আমির খানের কিছু ছবি অবশ্যই ব্যাতিক্রম, )

    কোম্পানি, সত্য বা সরকারের কথা তো আগেই বলেছেন এহসান ভাই।

    সিনেমা নিয়ে তার এক্সপেরিমেন্ট বিষয়ে আমি মাসুম ভাইয়ের সাথে একমত।

    সবকিছু মিলিয়ে ভারতে আমার প্রিয় পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা, এটা আগেই বলেছি।

    মুহাম্মদের জন্যে একটা ছোট্ট কথা। পরিচালক হিসেবে যদি তুলনা করিস, আমার নিজের ধারণা ঋতুপর্ণ ঘোষের চেয়ে রাম গোপাল ভার্মার মেকিং অনেক ভালো। ঋতুপর্ণ এবং রামুর দু'জনেরই সব ছবি আমি দেখেছি।

    ঋতুপর্ণ মোটামোটি টাইপড পরিচালক। তার ছবির মেকিং এখন একই ধাচের হয়ে গেছে। ছবি দেখতে দেখতে আগে থেকেই বলে দেয়া যায় এর পরে কি হতে যাচ্ছে। এদিক দিয়ে রামু মোটামোটি আনপ্রেডিক্টেবল। প্রতিটা ছবিতে নতুন কিছু থাকে।
    সুতরাং দেখা শুরু করতে পারিস। খারাপ লাগবে না। অবশ্য হিন্দী জানা থাকাটাও একটা ব্যাপার।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
      ঋতুপর্ণ মোটামোটি টাইপড পরিচালক। তার ছবির মেকিং এখন একই ধাচের হয়ে গেছে।

      হান্ড্রেড পার্সেন্ট একমত।

      হিন্দি জানি না। তাই আপাতত হিন্দি সিনেমা দেখার কোন ইচ্ছা নাই। জীবনে ফরাসি, ইতালীয়, জার্মান আর জাপানি সিনেমাই দেখছি খুব বেশী হলে ১০ টা করে। এসব ভাষার সিনেমা রাইখা তাই হিন্দিতে পা দেওয়ার ইচ্ছা নাই।

      জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      নতুনদের মধ্যে মাধুর ভান্ডারকার আর নাগেশ কুকুনুর খুবই ভালো পরিচালক। আমার খুব ভালো লাগে।
      ভান্ডারকারের 'পেজ থ্রি' দারুণ লেগেছিলো। আর কুকুনুরের '৩ দিওয়ারে' 'ডোর' দুইটাই অসাধারন ছবি। বিশেষ করে ডোর মাস্টারপিস বলে মনে হয় আমার কাছে। আয়েশা টাকিয়া এতো ভালো অভিনয় করতে পারে আমি ওই ছবিটা না দেখলে বুঝতামই না।


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।