লিভারপুল রিয়াল মাদ্রিদ

উয়েফা চ্যাম্পিওন্স লীগ, ১ম নক-আউট পর্ব, ২য় লেগ
ভেন্যুঃ এনফিল্ড তারিখঃ মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ (বাংলাদেশে দিবাগত রাত বুধবার ভোরবেলা)
কিক অফঃ ১৯:৪৫ GMT (বুধবার ০১:৪৫)

চ্যাম্পিওন্স লীগের রেকর্ড নয়বারের বিজয়ী হলো রিয়াল মাদ্রিদ কিন্তু গত চার বছরে শেষ ১৬ এর বাঁধা পার হতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। আর কালকেও তারা ফেবারিট না। দু সপ্তাহ আগেই নিজের মাঠে হেরেছে লিভারপুলের কাছে ০-১ গোলে। কালকের খেলাটা আক্রমনাত্বক হবে আশা করাই যায়। কিন্তু আমার ধারনা লিভারপুল নিজের অর্ধে বসে থাকবে এবং প্রতি আক্রমনে রিয়াল কে আঘাত করার চেষ্টা করবে। কারন ড্র করলেই লিভারপুল আবারো পৌঁছে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। অন্যদিকে রিয়ালের এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছে না রিয়াল। সত্যি বলতে তাদের কমপক্ষে দুই গোল করতে হবে। অর্থাৎ ২-১ গোলে জিতলে বেশী এওয়ে গোলের সুবাদে তারা পরের রাউন্ডে খেলতে পারবে। লিভারপুল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত হয়তো আক্রমনে এতটা সজনশীল না, কিন্তু তাদের রক্ষনভাগ খুব গোছানো আর ইউরোপের নকআউট পর্বে ব্যবসার জন্য তাই যথেস্ট।

রিয়াল মাদ্রিদের দূর্বলতাঃ
রিয়ালকে শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তাদের লিভারপুলের উপর। এরফলে নিজেদের রক্ষনভাগে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরী হতে পারে আর এখানেই প্রতি আক্রমনে ধরা খাবার সম্ভাবনা আছে। এছাড়াও ইদানীং দেখা গেছে সেট-পিস তারমানে কর্নার কিংবা ফ্রি-কিকে রিয়াল গোল হজম করছে। ক্যানভারোকে কালকে তার অভিজ্ঞতার পরীক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লাসানা দিয়ারাকে নিয়েও সন্দেহ আছে। দিয়ারা কিভাবে জেরার্ডকে ঠেকাচ্ছে তাও দেখার বিষয়।

রিয়াল মাদ্রিদের শক্তিঃ
রিয়ালের অন্যতম শক্তি দ্রুতগতির ফুটবল। মাদ্রিদে শুধু গতি দিয়েই প্রথমার্ধে তারা লিভারপুলকে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলো। আমার মতে রিয়ালের আসলে ডিফেন্স নিয়ে চিন্তা করে লাভ নাই। যেহেতু তাদের রোবেন, হিগুইয়ান এর মত তরুন এবং দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে তাদের উচিত হবে শুধু আক্রমন শানানো। এছাড়া ইঞ্জুরী থেকে ফেরার পর গুটি ও ইদানিং ভালো খেলছে। ডিফেন্স চেরা পাস দেয়ার ক্ষমতা তার ভালোই আছে। চ্যাম্পিওন্স লীগের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় (১২২ ম্যাচ) ও সর্বোচ্চ গোলদাতা (৬৪) রাউলতো আছেই। রাউলের মূহুর্তের ব্রিলিয়ান্স লিভারপুলের সর্বনাশ ডেকে আনার জন্য যথেস্ট।
.
লিভারপুলের দূর্বলতাঃ
টরেস মাত্রই ইঞ্জুরী থেকে ফিরছে, তাই তার ফিটনেস নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কালকের খেলায় ইঞ্জুরীর জন্য লিভারপুলের নিয়মিত রাইটব্যাক আরবেলোয়া সম্ভবত খেলছে না। ক্যারাঘার কিংবা মাশকেরানো খেলবে সেখানে তাই রোবেনের জন্য একটা সুযোগ থাকছেই। রিয়ালের ওভারল্যাপিং রাইটব্যাক সার্জিও রামোসের পিছনে ফেলে আসা খালি জায়গা কাজে লাগানোর মত দ্রুতগতির লেফট উইঙ্গার নেই লিভারপুলের। রিয়েরা সাস্পেন্ডেড, বেনায়ুনও ইঞ্জুরড তাই লেফটব্যাক অরেলিও কিংবা বাবেল খেলবে লেফট উইঙ্গে। মাঠের এই অংশটা লিভারপুল কতটুকু কাজে লাগাতে পারবে তাই দেখার বিষয়।

লিভারপুলের শক্তিঃ

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কপস। এনফিল্ডে নিজের মাঠে ইউরোপিয়ান রাতে কপরা সব সময়ই দ্বাদশ খেলোয়াড়ের দায়িত্ব পালন করে। তাদের চিৎকারে অধিকাংশ সময়ই প্রতিপক্ষ তাদের স্বাভাবিক খেলা ভুলে বসে। রাফায়েল বেনিটেজের ডিফেন্সিভ ট্যাক্টিক্সও লিভারপুলের সম্পদ। রিয়ালকে প্রতি আক্রমনে ঘায়েল করার জন্য লিভারপুলের আছে টরেস কিংবা বাবেল এর মত দ্রুতগতির স্ট্রাইকার আর সাথে আছে জেরার্ড কিংবা আলন্সোর মত মধ্যমাঠের খেলোয়াড় যারা পারফেক্ট লম্বা পাস দিতে পারে। লিভারপুলের অন্যতম শক্তি হলো তাদের কিছু কলুর বলদ। ডিরিক কুট, মাশকেরানো হলো দুই মফিজ মার্কা কামলা। এই দুইজনের গায়েরথ অতিরিক্ত পরিমানে বেশী তাই একবার লীড পেয়ে গেলে তা ধরে রাখতে তারা পুরা ৯০ মিনিট দৌড়াতে পারে।
.
সম্ভাব্য ফলাফলঃ No Ifs, No Buts লিভারপুল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

২,৯৮৬ বার দেখা হয়েছে

৪৪ টি মন্তব্য : “লিভারপুল রিয়াল মাদ্রিদ”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    কাল রিয়াল টাই-ব্রেকারে জিতবে, কেননা নির্ধারিত সময়ে ওরা ১-০ তে এগিয়ে থাকবে... :grr:
    (সম্পূর্ণ আবেগ থেকে বলা 😛 )


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      লিভারপুলের টাইব্রেকার রেকর্ড জানো? যতদূর মনে পড়ে নক আউট পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ১১ বার টাইব্রেকারে গিয়ে ১০বার জিতেছে। আর ১২০ মিনিট রিয়াল গোল না খেলে আমার ফুটবলের সব প্যাশন ধুয়ে ফেলবো আর আমিও আবেগী হয়ে যাবো।

      অফটপিকঃ আজকাল আমিও আবেগী গল্পের ট্রাই মারার কথা চিন্তা করতেছি। কারন ছ্যাঁকা গল্পের বাজার বেশ ভালো। রায়হানের 'ইয়ে' গল্প পড়ে মন বড়ই উদাস। ঘটনা মনে করলেও ডায়ালগ গুলো লিখতে পারছি না। দেখি ফয়েজ ভাই রে মেইল করুম আর কমু আমারে গল্পটা লেইখা পাঠাইতে।

      জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এবার মনে হয় ইংলিশ লীগের কেউ জিতবে। বার্সার ব্যাপারটা অবশ্য মাথায় আছে, কিন্তু পারফরম্যান্স তো হঠাৎ নেমে গেল ওদের দেখছি


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)
    আর ১২০ মিনিট রিয়াল গোল না খেলে আমার ফুটবলের সব প্যাশন ধুয়ে ফেলবো আর আমিও আবেগী হয়ে যাবো।

    কঠিন সহমত ভাইয়া। তবে আমি রিয়াল বিরোধী হলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সাপোর্টার হিসাবে মনে প্রাণে লিভারপুলের পরাজয় কামনা করছি।

    জবাব দিন
  4. Abu Jafar (93-99)

    প্রঠম বারের মতো এই ব্লগে কিছু লিখতেছি....তাই বড়দের সালাম আর ছোটোদের স্নেহ দিএ শুরু করলাম....

    আমি বারসেলোনা র পক্খে......তবে মনে হছ্ছে এবারেও এ পি এল এর কোনো দল ই চেম্পিওন হবে...।

    জবাব দিন
  5. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আমি চাই সব ইংলিশ লীগের দলগুলো জিতুক, শেষ পর্যন্ত একটা অল ইংলিশ সেমিফাইনাল হোক, আর তারপর অবশ্যই আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন হোক।

    স্বপ্ন দেখে মন............


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  6. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বেনিটেজ দেখি খুব মাইন্ড খাইছে ওরে কেউ পাত্তা দেয় না দেখে...


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  7. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    একটা সাইট আছে খেলা দেখার। সেখানে খেলা দেখে বড় মজাক পেলুম। আগে একসময় রিয়াল মাদ্রিদরে ভাল পাইতাম পরে কেন জানি খুব ভুয়া লাগে ওদের। এখন আমি বার্সার সাপোর্টার। আর ইংলিশ লীগে লিভারপুল। জেরার্ড রে ভাল লাগে। বার্সা আর লিভারপুলের ফাইনাল হলে খুশি হব। আমার কেন যেন মনে হয় না বায়ার্ন চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে। শেষ পর্যন্ত ইংলিশ কোন টিমই জিতবে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।