চ্যাম্পিওন্স লীগের নক আউট পর্ব -২

আজকে চ্যাম্পিওন্স লীগের নক আউট পর্ব এর ২য় দিন। আজকেও চারটা খেলা এবং একই সময়ে খেলাগুলো বাংলাদেশ সময় রাত ১:৪৫ শুরু হবে।

বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ২০০৯ ১৯৪৫ GMT
চেলসি বনাম জুভেন্টাস
রিয়েল মাদ্রিদ বনাম লিভারপুল
স্পোর্টিং লিসবন বনাম বায়ার্ন মিউনিখ
ভিয়ারিয়াল বনাম প্যানাথিয়াকস

বায়ার্ন মিউনিখ এখন সুপার ফর্মে আছে এবং পরিস্কার ফেবারিট। লুকা টনি, মিরোস্লাভ ক্লোজা, শোয়াইনস্টাইগার, রিবেরীদের নিয়ে এইবার অনেকদূর যাবার মত দল তাদের। চেলসি বনাম জুভেন্টাস আর রিয়েল মাদ্রিদ বনাম লিভারপুল এই দুইটা টাই পুরা ব্যালেন্সড তাই পরিস্কার কিছু বলা যাচ্ছে না এবং বলাবাহুল্য দারুন হবে খেলাগুলো। ভিয়ারিয়াল আর প্যানাথিয়াকস এই রাউন্ডের সবচেয়ে ভুয়া দুই দল। এই দলদুইটার একটা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ভাবতেই রাগ লাগতেসে।

চেলসি বনাম জুভেন্টাসঃ

জুভেন্টাস ম্যানেজার ক্লদিও রানিয়েরির জন্য আবেগময় এক খেলা। কারন চেলসির জাতে উঠার কাজটা করে গেছে এই রানিয়েরি। কিন্তু হঠাৎ করেই আব্রাহমভিচ তাকে বরখাস্ত করে। এমনকি চেলসি ফ্যানরা এখনো রানিয়েরির ভক্ত। তাই এই খেলায় জিতলে রানিয়েরির জন্য তা হবে আব্রাহমভিচকে দেয়া জবাব। অন্যদিকে চেলসির নতুন ম্যানেজার গাস হিডিংক বেশ ভাল ট্যাক্টিশিয়ান। দারুন গেম রীডার হিডিংক ইউরোপিয়ান কাপে সাধারন মানের এক দল রাশিয়াকে অনেক দূর নিয়ে গিয়েছিল। যদিও দায়িত্ব নেবার পরই হিডিংক দ্রগবা আর আনলকা কে একই সাথে খেলাচ্ছে (৪-৪-২) আর কালকে হোম খেলা তাই আমি মনে করি কালকেও তারা দুইজন প্রথম একাদশে থাকবে। স্কলারী আমলে যা চিন্তাও করা যেতো না। চেলসি কাল মধ্যমাঠ জমাট করে খেলবে না। সেই ক্ষেত্রে কপাল পুড়তে পারে বালাকের। ৪-৪-২ ফর্মেশনে মাঝ মাঠে মিকেল ও ল্যাম্পার্ড খেলবে। উইং ব্যাক হিসাবে এশ্লে কোল আর বসিঙ্গওয়া মনে হয় কালকে এডভেঞ্চারাস থাকবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন গোল খাওয়া যাবে না। সাধারনতঃ ইতালীয় দলগুলো রক্ষনে খুব ভালো। তাই কোন এওয়ে গোল পেয়ে গেলে নিজের মাঠে জুভেন্টাস গোলের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে রেখে দিবে। বুফন, নেদভেদ, মেলবার্গ, ডেল পিয়েরো এর মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছাড়াও জুভেন্টাস এ আছে মম সিসোকো, আমুরি আর ইকাইন্টার মত তরুন তুর্কি। তাই খেলাটা চেলসির জন্য শুধু মাত্র নস্টালজিয়া আর রোমান্টিসিজম হবে ভাবলে ভুল হবে। আমার মতে হিডিংক খুবই ভালো ম্যানেজার হলেও বেশি সময় পায় নাই তাই শুধু ট্যাক্টটিক্স না, চেলসির নামকরা খেলোয়াড়দের খেলা দেখাতে হবে। ১ম লেগ হিসাবে খুব টাইট খেলা যাতে আমার মতে চেলসি একটু এগিয়ে।
দুই ম্যানেজার হিডিংক আর রানিয়েরি (ডানে)
রিয়েল মাদ্রিদ বনাম লিভারপুলঃ
চ্যাম্পিওন্স লীগে এর আগে মাত্র একবার লিভারপুল আর রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়ে ছিলো। ১৯৮১ সালের ওই কাপ ফাইনালে প্যারিসে লিভারপুল ১-০ গোলে জয়ী হয়। আজকে বিবিসিতে একটা লেখা এসেছে; শিরোনাম হলো ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অফ হুয়ান্ডে রামোস’। মাত্র কিছুদিন আগেই টটেনহাম এর ম্যানেজার হিসাবে জঘন্য পারফরম্যান্সের জন্য রামোস বরখাস্ত হন। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদল রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হিসাবে নিয়োগ পায়। ধুঁকতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ হঠাৎ করেই করেই যেনো রামোস জিয়ন কাঠির স্পর্শে বদলে গেছে। গেলো সপ্তাহান্তে তারা রিয়েল বেটিস কে হারিয়েছে ৬-১ গোলে। তাই ফর্মে আছে রিয়াল। অন্যদিকে আস্তে আস্তে ঘরোয়া লীগে পিছিয়ে পড়ছে লিভারপুল।
.
ফার্নান্দো টরেস ইঞ্জুরী থেকে ফিরলেও অনুপ্রেরনাদায়ী অধিনায়ক জেরার্ড গত তিন সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরে। রাফায়েল বেনিটেজ বলছে আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত সে জেরার্ড এর জন্য অপেক্ষা করবে। জেরার্ড বিহীন লিভারপুল আসলে নখদন্তহীন হয়ে পড়ে। ভালো খবর হলো আলন্সো ফিরছে মাঝ মাঠে। লিভারপুল রিয়ালের ছন্দময় ফুটবল ঠেকানোর জন্য দুইজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আলন্সো ও মাশকেরানো কে খেলাবে। লিভারপুল দলের কালকের প্রথম একাদশের ৫ জনই থাকবে স্পেনের। তাই মাদ্রিদে নিজেদের সেরাটা খেলতে তারা উজাড় করে দিবে। প্রাক্তন এথলেটিকো মাদ্রিদের টরেস নিজের পুরোনো শত্রুর বিরুদ্ধে তেতে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চরম রক্ষনাত্বক বেনিটেজ কাল রক্ষনভাগ আঁটোসাটো রাখার দিকেই মনোযোগী থাকবে। টরেস এর গতিতে কাজে লাগিয়ে আমার ধারনা লিভেরপুল ঠিকই গোল আদায় করে ফেলবে। এছাড়া জেরার্ড ও আলন্সোর ৪০/৫০ গজী পাসের ক্ষমতাও কালকে কাজে লাগবে। অন্যদিকে রিয়াল চাইবে এনফিল্ডে আসার আগেই একটা স্বাস্থ্যবান লিড নিতে। রোবেন এর জন্য প্রতিশোধের ব্যাপার আছে। চেলসির হয়ে লিভারপুলের কাছে হেরেছিলো। কিন্তু রোবেন ছাড়াও ভ্যান ডার ভার্ট, হিগুইয়ান সবাই মুখিয়ে আছে লিভারপুলের সাথে খেলার জন্য। ইউরোপের সবচেয়ে বেশী সাফল্যের অধিকারী দুই দলের (রিয়াল রেকর্ড ৯বারের চ্যাম্পিওন আর লিভারপুল ৫ বারের চ্যাম্পিওন) খেলাকে বলা হচ্ছে এই রাউন্ডের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস খেলা। কালকে কিন্তু আমার মতে রিয়াল আক্রমন শানাবে আর লিভারপুল ঠেকাবে এই খেলাই চলবে। সবেচেয়ে ব্যস্ত খেলোয়াড় হিসাবে থাকবে লিভারপুলের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্যারঘার আর মার্টিন স্কর্টেল কিন্তু রিয়ালের আগুয়ান রাইট ব্যাক সার্জিও রামোসের ফেলে আসা ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে টরেসের ক্লিনিক্যাল ফিনিশ… খুবই সম্ভাবনাময় একটা দৃশ্য।
বার্নাব্যুতে প্র্যাক্টিসরত লিভারপুল (টরেস, জেরার্ড ও রিয়েরা)

৯৪৪ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “চ্যাম্পিওন্স লীগের নক আউট পর্ব -২”

  1. হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    বায়ার্ন মিউনিখ এখন সুপার ফর্মে আছে এবং পরিস্কার ফেবারিট

    ভাই এটা কিভাবে বললেন, বায়ার্ন মিউনিখ লিগে তাদের শেষ চারটি ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।