চিচারিতো

চিচারিতো কিংবা মটরশুটি কিংবা জাভিয়ের হার্নান্দেজ বাল্কাজার… একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা নাকি উঠতি তারকা। ধুমকেতুর মত হঠাৎ করে এসে প্রথম মৌসুমেই মাতিয়ে দিলো এই মেক্সিকান স্ট্রাইকার। ম্যাঞ্চেষ্টার ইউনাইটেড ২০০৯ সালে প্রথম এই হার্নান্ডেজের খোজ পায়। কিন্তু তার বয়সের কথা চিন্তা করে কিছুটা ধীরে সুস্থে আগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারা। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত হয়ে উঠায় গত বিশ্বকাপের আগে সারা বিশ্ব সজাগ হয়ে উঠার আগেই দুই পায়েই সমান দক্ষ হার্নান্দেজকে দলে টেনে নেয় ম্যাঞ্চেষ্টার ইউনাইটেড। দিমিতার বার্বাটভ আর ওয়েইন রুনীর ব্যাক আপ হিসেবে মাত্র ৬ মিলিয়ন পাউন্ডে মেক্সিকান ক্লাব গুয়াদালজারা থেকে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড কিনেছিলো এই হার্নান্দেজকে। ম্যান ইউতে প্রচুর উইঙ্গার তাই সাধারনতঃ তারা একজন স্ট্রাইকার নিয়েই ফর্মেশন সাজাতে চায়। দুই জন প্রতিষ্ঠিত স্ট্রাইকার থাকায় মাইকেল ওয়েন ও হার্নান্দেজকে রাখা হয়েছিলো ব্যাক আপ হিসেবে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে ছয় মিলিয়ন পাউন্ডে এই পিচ্চি সাইজের স্ট্রাইকার ইংলিশ লীগের মত ফিজিক্যালী ডিমান্ডিং লীগে কতটা কি করতে পারবে তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো। অথচ গত সপ্তাহে চেলসির সাথে মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের সময় তার চ্যাম্পিওনশীপ নির্ধারণ করে দেয়া গোলটি ছিলো এই মৌসুমের ২০তম।

ম্যান ইউ এর এই মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফরমার রায়ান গিগসতো রীতিমত সালাম ঠুকেছেন এই স্ট্রাইকারের জন্য। তার মতে “অভিষেক মৌসুমেই ২০ গোল অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। হার্নান্দেজের মত একজন স্ট্রাইকার থাকলে সবসময়ই একটা সম্ভাবনা থাকে। সে মাঠে এবং মাঠের বাইরে দারুণ এক ইম্প্যাক্ট তৈরী করেছে। যখন আমি আমাদের ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের মুখগুলোর দিকে তাকাই তখন মৌসুমের দ্বৈত শিরোপার ব্যাপারে আর কোনো দ্বিধা থাকে না।” পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়ার মত খেলোয়াড়দেরকেই বলা হয় গ্রেট প্লেয়ার। আমার মতে একজন গ্রেট প্লেয়ারের শুরুটা আমরা দেখছি। ম্যারাদোনা কিংবা মেসির মতই ছোটখাটো এই দক্ষিন আমেরিকান যে ভবিষ্যতে ফুটবল দুনিয়া মাতাবে এই ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ খুব কম।

গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাথে বদলী হিসেবে নেমে অফসাইড ট্র্যাপ ভেংগে দারুণ এক গোল করেছিলো হার্নান্দেজ। এরপর আরজেন্টিনার সাথেও দেমিকেলিস কে ডজ মেরে কাটিয়ে গিয়ে করেছিলো আরেকটি গোল। মাঝে মাঝে বড় খেলা গুলোয় খুব দ্রুতই সুযোগ চলে আসে। তখন শরীর ও ঠিক ওয়ার্মড আপ থাকে না কিংবা মানসিকভাবেও মানিয়ে নেয়ার একটা ব্যাপার থাকে। চেলসির সাথে খেলায় মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় এমনটা দৌড় দেয়া এবং ১ঃ১ অবস্থানে এসে এই রকম ঠান্ডা মাথার ফিনিশ অভাবনীয়। আর এতেই ম্যান ইউনাইটেডের হালের পড়তি ফর্মের কারণে যে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিলো তা কেটে যায়। অন্যদিকে চেলসির রক্ষনের মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফর্মার ডেভিড লুইজের আত্মবিশ্বাস শেষ হয়ে যায়। তাই সে এরপর অনবরতঃ ভুল করে গিয়েছে ও আঞ্চেলোত্তি বাধ্য হয়েছে তাকে তুলে নিতে। হার্নান্দেজ এর মধ্যে মেক্সিকোর হয়ে ২৩ খেলায় গত বিশ্বকাপে ২টি সহ মোট ১৪টি গোল করেছে। বিশ্বকাপ না মাতালে ঠিক জনপ্রিয় গ্রেট খেলোয়াড় হওয়া যায় না। মেক্সিকোতে জন্ম নেয়ায় হয়তো তাই হার্নান্দেজ বিশ্বকাপে হিরো হতে পারবে না কিন্তু এটা নিশ্চিত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কিংবা অন্য কোন বড় ক্লাব দলে খেলেই হার্নান্দেজ বিশ্ব ফুটবল মাতাবে আর হয়তো ম্যান ইউ ছাড়া অন্য কোন দলে হলেই তাকে ভালো মানাবে। 🙂

১,৩৬২ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “চিচারিতো”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আহা, কতদিন পর এহসান ভাই ফুটবল নিয়ে লেখা দিলেন...

    মৌসুমের ১ম ভাগে ভ্যান ডার ভার্টকে মনে হচ্ছিল এবারের সেরা ব্যবসা, কিন্তু পুরো মৌসুম শেষে নিঃসন্দেহে হার্নান্দেজ এ সম্মানের দাবিদার।

    শেষ লাইনটায় স্পেশাল লাইক 😛


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      সেরা ব্যবসা বললে টাকার একটা ব্যাপার থাকে। তাই ভ্যান ডার ভার্ট ভালো সাইনিং হলেও ভালো ব্যাবসা বলা যাবে না। আমার মতে সেরা ব্যাবসা হয়েছে ওয়েস্ট ব্রমের ১ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা ওডেম্বউইংগে। কিন্তু যেহেতু টাইটেল ডিসাইডিং ফ্যাক্টর ছিলো তাহলে তো অবশ্যই হার্নান্দেজকে বলতে হবে। তবে সবচেয়ে বাজে ব্যবসা হয়েছে জো কোল। 🙁

      জবাব দিন
  2. আমিন (১৯৯৬-২০০২)
    কিন্তু এটা নিশ্চিত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কিংবা অন্য কোন বড় ক্লাব দলে খেলেই হার্নান্দেজ বিশ্ব ফুটবল মাতাবে আর হয়তো ম্যান ইউ ছাড়া অন্য কোন দলে হলেই তাকে ভালো মানাবে।

    হে হে হে। ম্যানইউ তে না মানালে লিভারপুলে যে মানাবে না শিওর 😉

    চিচারিতোর ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করতে পারে। কারণ জগত বিখ্যাত এডসন ওরান্তেস দো নাসিমানতো ওরফে কালো মানিক পেলে তার মাঝে বিপুল সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন। আর আমরা জানি পেলে যা বলে তার উল্টো হয়.... ;))

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      অবশ্যই লিভারপুলেও মানাবে না। আমার মনে হয় হার্নান্দেজ উইল এন্ড আপ হিজ ক্যারিয়ার ইন স্পেন। তাই সেটা বলা। ম্যান ইউতে ও টিকবে না যেমন জেরার্ড পিকে টিকে নাই।

      পেলে বলেছে উল্টো কথা। পেলের মতে হার্নান্দেজ ২০ গোল করে লাভ নাই যতদিন না সে জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলেছে। সে তো মেসির দলে ওকে ফেলেছে, ক্লাবে ভালো কিন্তু জাতীয় দলে এতোটা ভালো না। যাই হোক ফুটবল পন্ডিত হিসেবে পেলে জঘন্য এ কথা মানি।

      জবাব দিন
  3. মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

    আসলে ল্যাটিন আমেরিকা একটা ফুটবল খনি,এতো অসাধারন সব প্লেয়ার এসেছে সেখান থেকে!
    আমারও মনে হয় চিচারিতো স্পেনে আসবে(আশা করি লস ব্ল্যাংকোসে)
    সামনের মৌসুমের আগে সবাই নড়েচড়ে বসেন;আমি নতুন রিয়াল মাদ্রিদ স্বর্ণযুগের আভাষ পাচ্ছি।

    জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

        কই ডুবলো স্যার? 🙂 এই বার তো তিন বছর পর প্রথম এল ক্লাসিকো জিতলো,১৭ বছর পর কোপা ডেল রে জিতলো,৬ বছর পর ২য় রাউন্ডের ফাঁড়া কাটালো।গত তিন বছর ধরে সবাই (রিয়াল মাদ্রিদ সহ)যেখানে বার্সার সামনে অসহায় আত্নসমর্পণ করে,সেখানে অন্তত দেখালো যে তাদের খেলাও নিয়ন্রণ করা যায়।
        যাই হোক,ফুটবল নিয়ে একটা পোস্ট দেন,স্যার।মনের সুখে কিছুক্ষণ গেজাই,চলেন...

        জবাব দিন
        • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

          আমি আগামী বারের কথা বলছিলাম, তুমি ভবিষ্যতবানী করেছ কিনা 😛

          ফুটবল নিয়ে পোস্ট আমারে দিয়ে হতে দেরি আছে, ধীরে ধীরে আবিষ্কার করছি আমার জ্ঞান কত কম 🙁


          আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
          আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

          জবাব দিন
  4. মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

    স্যার,আমার মনে হয় বার্সার ডোমিন্যাশন শেষ,এইবার রিয়াল মাদ্রিদ ২য় যুগ শুরু হবে;দেল বস্কের সময়ের পর এই প্রথম তাদেরকে একটা টীম হিসাবে খেলতে দেখছি

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      আমি আসলে রিয়েলকে ঠিক সহ্য করতে পারি না। এত বড় একটা ক্লাব, ইতিহাসের অন্যতম সেরা, ঐতিহ্যবাহী ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। কিন্তু তাদের কোন ভাল ইউথ সিস্টেম নাই... ওদের ফিলোসোফিটাই পছন্দ হয় না... টাকা পয়সা দিয়ে বিশ্বের সব সেরা খেলোয়ার নিয়ে আসো, তাদের দায়িত্ব একজন নামি দামি কোচের হাতে দিয়ে দাও আর তা দিয়ে ট্রফি জিত ( তাও জিততে পারছে না )। আমি বার্সিলোনার সাপোর্টার না, তারপরো বার্সিলোনা যদি মোর দ্যান এ ক্লাব হয়, তাহলে রিয়েলকে বলা যায় লেস দ্যান এ ক্লাব ।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  5. মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

    রিয়াল মাদ্রিদের ইয়থ সিস্টেম থেকে কিন্তু হিয়েরো,রাউল,ক্যাসিয়াস রা এসেছে।বার্সার মত এত ভাল প্লেয়ার হয়ত দিতে পারে নি,কিন্তু পৃথিবীর আরো অনেক ক্লাবের চেয়ে অনেক অনেক ভালো একাডেমী তাদের।এই মুহুর্তে ইউরোপে ১০৬টা জন রিয়াল মাদ্রিদের ইয়থ সিস্টেম থেকে আসা প্লেয়ার খেলছে।
    টাকা থাকলে আরো অনেক ক্লাবই এই ফিলসোফি ফলো করতো,রিয়াল মাদ্রিদ পারছে টাকা ঢালতে,তাই কিনছে(চেলসি,ম্যান সিটিও যেমন করছে)
    মোর দ্যান আ ক্লাব হল বার্সার স্লোগান।রিয়াল মাদ্রিদ যদি লেস দ্যান আ ক্লাব হয়,তাহলে প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ এমন একটি ক্লাবকে,যারা লেস দ্যান আ ক্লাব

    জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯৮-২০০৪)

        বর্তমানে স্পেনিশ লীগে যে ২০টি দল আছে,তাদের মধ্যে সোসিয়েদাদ,জারাগোজা,বিলবাও ও বার্সা বাদে প্রতিটি দলে কমপক্ষে ১ জন করে রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমী প্লেয়ার আছে।
        অতীতে বুত্রেগুয়েনো,হোসে কামাচো,বার্নাব্যু,ফ্রানসিস্কো জেন্টো,ক্যানিজারেস,লুইস গার্সিয়া,গুটি ইত্যাদি প্লেয়াররা ছিল তাদের একাডেমীর;(যদিও বার্সার তালিকাটা আরো বড় আমি মেনে নিচ্ছি)
        বর্তমানে যারা স্পেনিশ লীগে আছেঃAlmeria – Corona, Atletico – Juanfran, Deportivo – Riki, Espanyol – Jose Callejon, Getafe – Borja, Jordi Codina, Daniel Parejo, Pedro Mosquera, Miguel Torres, Hercules – Javier Portillo, Levante – Valdo, Malaga – Fernando, Mallorca – Ruben, Osasuna – Aranda, Racing – Adrian, Sevilla – Alvaro Negredo, Sporting – Diego Barral, Alvaro Rivera, Valencia – Juan Mata, Roberto Soldado, Villarreal – Diego Lopez, Borja Valero.

        জবাব দিন
        • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

          মাহমুদ, ইয়ুথ সিস্টেম নাই কথাটা তুমি বেশি লিটারেলি নয়ে নিয়েছ, ইয়ুথ সিস্টেম তো একটা অবশ্যই আছে কিন্তু সেখান থেকে রিয়েলে কতজন উঠে আসছে? ক্যাসিয়াস আর কিছুদিন খেলবে তারপর? জিরো একাডেমিক প্রোডাক্ট!

          রিয়েল অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এটা তো আগেই বলেছি, ওদের ফ্যান বেস ও বড় হবে, আর শুরু থেকেই তো আর ওরা টাকা দিয়ে ট্রফি কেনার ট্যাক্টিক্স ফলো করছে না। কিন্তু আমি নিজে যখন থেকে স্প্যানিশ লীগ ফলো করা শুরু করেছি তখন থেকেই এটা দেখে আসছি। আর সে সময় যে দলে জিদান, ফিগো, রোনাল্ডো, বেকহ্যাম, কার্লোস সহ সব মেগা স্টারেরা খেলে তাদের সাপোর্ট বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বড় ফ্যান বেস কিন্তু তাদের এই পুরো বিশ্বকে কিনে ফেলার পদ্ধতিকে সমর্থন করে না। ( সফল হলেও একটা কথা ছিল 😛 )

          আর হ্যা, আমি কিন্তু বার্সিলোনা সাপোর্টার না 🙂


          আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
          আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

          জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।