বিশ্বকাপ প্যাচাল ০১

ব্রাজিলের সুপার স্টাররা গত বিশ্বকাপে ফ্লপ মারার পর দুঙ্গা ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছিলো। এরপর দুঙ্গা মনোযোগ দিয়েছিলো শুধুমাত্র ফলাফল নিয়ে। তথাকথিত শৈল্পিক খেলার ধারক বাহক স্টার খেলোয়াড়দের ফেলে যারা ফলাফল এনে দিতে পারে তাদের দিয়েই দল সাজিয়েছে। দুই জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিয়ে ব্রাজিল খেলতে পারে এই ধারনা মারিও জাগালোর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দুংগা নিজে ম্যানেজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। আর এজন্যই অনেক ব্রাজিল সমর্থকদেরই ব্রাজিলের খেলা রোবোটিক মনে হয়। দুঙ্গা কিন্তু সাফল্য পেয়েছে তার এই খেলা দিয়েই। গত দুই মৌসুমে ব্রাজিল ২৩ খেলায় পেয়েছে ১৮টি জয় আর একটি মাত্র পরাজয় (তাও আবার তা ছিলো অনেক উচ্চাতায় খেলা বলিভিয়া কিংবা ইকুয়েডরের ব্রিরুদ্ধে… মনে করতে পারছি না)আর তাই স্পেনের এত জয়ের মাঝেও ফিফা ড়্যাঙ্কিং এই মুহুর্তে ব্রাজিলই সেরা। আর তাই যাদের নিয়ে ব্রাজিল কোয়ালিফাইং রাউন্ড পার করেছে তাদের উপরই ভরসা করে ব্রাজিল দল ঘোষনা করেছে। ব্রাজিলের দলটা হলো

গোলকিপার : হুলিও সিজার, হেউরেলহো গোমেস, দোনি। ডিফেন্ডার : মেইকন, দানি আলভেস, জিলবার্তো, মিশেল বাস্তোস, লুসিও, হুয়ান, লুইজাও, থিয়াগো সিলভা। মিডফিল্ডার : জিলবার্তো সিলভা, ফিলিপে মেলো, হোসু, ক্লেবারসন, এলানো, রামিরেজ, কাকা, হুলিও বাপ্তিস্তা। ফরোয়ার্ড : লুই ফাবিয়ানো, রবিনহো, নিলমার, গ্রাফিতে।

মজার ব্যাপার হলো এই মুহুর্তে ৩০ জনের দল ঘোষনা করার উপায় থাকলেও সাহসী এবং প্রত্যয়ী দুংগা ২৩ জনের দল ঘোষনা করেছে। এর মাধ্যমে আসলে প্রমানিত হয় যে দুঙ্গা জানে তার দলটা কি রকম হবে, তাই ৩০ জনের দল না বেছে শুরুতেই ২৩ জন নিয়েছে আর বাকি ৭ জন কে রিজার্ভ(রোনালদিনহো রিজার্ভ দলে আছে) হিসেবে রেখেছে। এই ২৩ জনের দলে নেই দুই বারের বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় রোনালদিনহো। যদিও এসি মিলানের হয়ে তার সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে অনেকেই (মিডিয়া) তাকে দলে চেয়েছিলো কিন্তু দুঙ্গা দলের কোহেসিভনেসের দিকেই নজর রেখেছে। একইভাবে রোনালদিনহোর মত দুঙ্গার দলে বারবার সুযোগ পেয়েও জায়গা পোক্ত করে দলে আসতে পারেনি আদ্রিয়ানো। এইসব প্রবলেম চাইল্ডকে দলে রেখে ইংল্যান্ডের সভেন এরিক্সনের মত দলের নিয়ন্ত্রন হারাতে চাননি দুঙ্গা। আর তাই দল ঘোষনার আগে দলের ঐক্য নিয়ে দলের একমাত্র সুপার স্টার কাকা বক্তব্য দিয়েছে তারপর দল ঘোষনা করা হয়েছে।

দেখা যাবে না রোনালদিনহো ম্যাজিক

দেখা যাবে না রোনালদিনহো ম্যাজিক


অন্যান্য দলের তুলোনায় ব্রাজিল দলে মাত্র চারজন ফরোয়ার্ডের নাম আসায় কিছু প্রো আর্জেন্টাইন পত্রিকা দেখলাম দুংগার ডিফেন্সিভ মন মানসিকতার প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্বের সব ভালো দলই আজকাল ৪-১-৩-১-১ ফর্মেশনে খেলে। মানে এভাবেই বেশীরভাগ দলগুলো সাফল্য পাচ্ছে। খেয়াল করলেই দেখা যাবে দুঙ্গার দলে আছে কাকা, এলানো এবং হুলিও ব্যাপ্টিস্টা। যারা আসলে এটাকিং মিড কিংবা সাপোর্ট স্ট্রাইকার কিংবা তথাকথিত হোলে মানে স্ট্রাইকারের জাস্ট পিছনে খেলবে। তাই দলটিকে রক্ষন মন মানসিকার বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে মিলানের পাতো কে দলে রাখা যেতো। কিন্তু ওই যে দুঙ্গা ব্যাক্তিগত মুহুর্তের ব্রিলিয়ান্স এর চেয়ে দলীয় জয়ের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। তারপরও মনে রাখতে হবে ব্রাজিল খেলবে গ্রুপ অফ ডেথ এ। আর তাই গ্রুপ পর্যায় থেকেও ব্রাজিলের বিদায় হবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। কিন্তু একজন এন্টি ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে আমার ভয় লাগছে ব্রাজিল ঠিকই গ্রুপ পর্যায় থেকে উতরে যেতে পারে।

দুঙ্গার যেখানে দল নিয়ে আছে নিশ্চয়তা সেখানে অনেক ম্যানেজার এখনো জানে না তাদের দলটি কেমন হবে। তাদের একজন ডিয়াগো ম্যারাডোনা। যদিও ডিয়াগো ম্যারাডোনা দুঙ্গার তুলোনায় অনেক কম সময় পেয়েছে। মার্টিন পালেরমোর গোলে শেষ ম্যাচে এসে আর্জেন্টিনা কোয়ালিফাই করেছে। আর এই নিয়ে এন্টি ম্যারাডোনা সমর্থকরা বেশ মজা পেলেও তারা ভুলে যায় ম্যারাডনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলো তখন আর্জেন্টিনার কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা ছিলো খুবই কম। তার আগের সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিলো মাত্র একটি ম্যাচে। তাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে আনার পেছনে শতাধিক খেলোয়াড় খেলিয়ে ম্যারাডোনার বিন্যাস সমাবেশের অঙ্কের অনেক অবদান আছে। যখন ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে চায়না, তখন ব্রাজিল ইউরোপে প্রদর্শনী খেললেও আর্জেন্টিনা শুধু হোম বেইসড খেলোয়াড় নিয়ে নিজের দেশেই অনেক বেশী ম্যাচ খেলেছে। এতে ম্যানেজার হিসেবে ম্যারাডনার অভিজ্ঞতা বেড়েছে কিন্তু নিজের দল নিয়ে সে আরো বেশী সংশয়ে পড়েছে। অনেকের ভাষায় যা আরজেন্টিনার মধুর সমস্যা তা কিন্তু আসলে টিম স্পিরিট কিংবা কোহেসিভনেস গড়ে তোলার পেছনে বিরাট সমস্যা। আগের পোস্টেই বলেছি শুধু ফরোয়ার্ড লাইনে অনেক ফর্মের খেলোয়াড় থাকলেও মিডফিল্ডটা ঠিক বিশ্বমানের না। আর এছাড়া ফুল্ব্যাকের সমস্যা তো আছেই। আর্জেন্টিনার দলটা হলোঃ

গোলকিপার : আন্দুজার, ডিয়েগো পোজো, রোমেরো। ডিফেন্ডার : নিকোলাস বুদ্রিসো, কলোচ্চিনি, দেমিকেলিস, আরিয়েল গার্সে, গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ, হুয়ান ইনসুয়ারালদে, নিকোলাস ওতামেন্দি, ক্লেমেন্তে রদ্রিগেজ, ওয়াল্টার স্যামুয়েল। মিডফিল্ডার : সেবাস্টিয়ান ব্লাংকো, বোলাত্তি, জেসাস দাতোলো, ডি মারিয়া, গুতিয়েরেজ, মাসচেরানো, হুয়ান মার্সিয়ার, হাভিয়ের পাসতোরে, ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, হোসে সোসা, ভেরন। ফরোয়ার্ড : সার্জিও অ্যাগুয়েরো, হিগুয়াইন, এজেকুইয়েল লাভেজ্জি, লিওনেল মেসি, ডিয়েগো মিলিতো, পালেরমো, তেভেজ।

দ্বিধান্বিত ম্যারাডোনা

দ্বিধান্বিত ম্যারাডোনা


ম্যারাডোনা আসলে দুংগার চেয়েও রক্ষনাত্বক দল নিয়ে খেলাবে। টোটাল ফুটবলের এই যুগে ম্যারাডোনা চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে খেলবে।(স্যামুয়েল, দেমিকেলিস, হেইঞ্জ আর ওতামেন্দি) তাই ফুল্ব্যাকদের অভারল্যাপিং ম্যারাদোনার দলে বেশী দেখা যাবে না। ইন্সুয়ার মত ফুল্ব্যাকরা বেঞ্চেই থাকবে। ফুলব্যাকের এই আকালের দিনে ম্যারাডোনা আবার জানেত্তিকে দলে রাখেনি। গ্যাব্রিয়েল মিলিতো আর ক্যাম্বিয়াসোর না থাকা বিস্ময়কর। মাশকেরানোর ব্যাক আপ হিসেবে ক্যাম্বিয়াসো দারূন ছিলো। আর এছাড়া অনেক অনভিজ্ঞ মিডফিল্ডার খেলোয়াড় আছে তারা হয়তো দল ৩০ থেকে ২৩ এ নামিয়ে আনলেই বাদ পড়বে। আর ভেরনের জায়গার আইমার কিংবা রিকুয়েমে থাকলে দলতা অনেক বেশী ব্যলান্সড হতো। ডান দিকের উইঙ্গে গুটিইয়ারেজ খেলবে, গুটিয়ারেজ হলো পরিশ্রমী খেলোয়াড় অনেকটা লিভারপুলের ডার্ক কায়েটের মতো। পরিশ্রমী কিন্তু ফাইনাল থার্ডে দেলিভারী খুব বাজে। আর তাই ম্যাক্সি রড্রিগুয়েজ মনে হয় মন্দের ভালো। আর তাই আর্জেন্টিনার এই দলটা নিয়ে woooooooo ইফেকট কাজ করছে না। শুধু মাত্র লিওনেল মেসির এক্স ইফেক্টই তাদের বিশ্বকাপ জেতাবে… ঠিক জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

ফ্রান্সের কোচ রেমন্ড ডমেনেখের কাছে প্রাধান্য পেয়েছে মাঠের পারফরম্যান্সই। তাই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স এর কারণেই বাদ পড়েছে আমার পছন্দের বেঞ্জেমা। বেনজেমার বদলে ডমেনেখ ভরসা রাখছেন তুলোঁসের স্ট্রাইকার আন্দ্রে পিয়েরে জিগন্যাক ও প্যানাথিনাইকোসের জিব্রিল সিসের ওপর। সিসেকে আমার বেশ ভালো লাগে। বেশ ফাইটিং খেলোয়াড়। কোনোমতে হাতে পায়ে ফুটবল খেলে কোয়ালিফাই করলেও ফ্রান্স দলটাকে ভালোই মনে হচ্ছে।

বেঞ্জেমার সেলিব্রেশনও দেখা যাবে না!

বেঞ্জেমার সেলিব্রেশনও দেখা যাবে না!

ইতালির কোচ মার্সেলো লিপ্পির ৩০ জনের বেশির ভাগই ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। বাদ পড়েছে লুকা টনি। গুজব থাকলেও অবসর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়নি ফ্রান্সেসকো টট্টিকে। বদলে ভিয়া রিয়ালের গুইসেপ্পে রসিকে নিয়েছে লিপ্পি। প্লে মেকার হিসেবে হোল এ খেলানোর জন্য রসি দারুণ। কিন্তু টনি কিংবা টট্টির অভিজ্ঞতা কিংবা উচ্চাতার কোনোটাই নেই রসির।

স্পেনের কোচ ভিনসেন্ট দেল বস্ক রীতিমতো মোবাইল হাস্পাতাল নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। টরেস, ফ্যাব্রিগ্যাস, শ্যাভি সবার ইনজুরি থাকার পরও আছেন ৩০ জনের প্রাথমিক দলে। আসলে এই তিন জনের ক্লাসের অল্টা্রনেটিভ কোনো খেলোয়াড় স্পেনে নাই। আর হাফ ফিট টরেসই এই মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে করেছে অনেক গোল। জুয়া খেললে টরেসদের মানের খেলোয়াড়দের নিয়েই খেলতে হয়।

ম্যারাডোনার মত ফ্যাবিও ক্যাপেলোও দ্বিধায় আছে

ম্যারাডোনার মত ফ্যাবিও ক্যাপেলোও দ্বিধায় আছে


ইঞ্জুরীতে ভোগা খেলোয়াড় দিয়েই দল ভারি করেছেন ফাবিও ক্যাপেলোও। তাই এখন ক্যাপেলোকেই মনে হচ্ছে সভেনের মতো দ্বিধান্নিত। রিও ফার্ডিনান্ড, কিং, লেনন, গ্যারেথ ব্যারী সবাই ইঞ্জুরীতে আছে। এছাড়াও বিগত দুই মাসে এশ্লে কোল, গ্লেন জন্সন, রবার্ট গ্রীন, ডেফো, ক্যারিক, আপ্সন সবাই পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলেনি। হেস্কি এই মৌসুমে করেছে মাত্র ৩ গোল আর এই বছরে মাত্র ১টা। হেস্কী, ক্যারিক, জো কোল, শন রাইট ফিলিপ্স কেউ নিজেদের ক্লাব দলে প্রথম একাদশে খেলে না। আর প্লাটিনির অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ড দলটাকেও হঠাৎ করেই কেমন যেনো ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে।

২,৭৬৩ বার দেখা হয়েছে

৪৬ টি মন্তব্য : “বিশ্বকাপ প্যাচাল ০১”

  1. মাহমুদ(০২-০৮)
    এই নিয়ে এন্টি ম্যারাডোনা সমর্থকরা বেশ মজা পেলেও তারা ভুলে যায় ম্যারাডনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলো তখন আর্জেন্টিনার কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা ছিলো খুবই কম।
    জবাব দিন
  2. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    ভাইয়া একসাথে সব না লিখে প্রতিটা দল নিয়ে আরো বড় করে লেখতে পারতেন। আপনার খেলার বিশ্লেষণ গুলা খুব ভাল লাগে।
    মনে হয় খুব তাড়াতাড়ির মধ্যে লিখেছেন অনেক গুলা টাইপো আছে।
    আমি একটা হিসাব মিলিয়ে দেখলাম যে আর্জেন্টিনা সেমিতেই স্পেন এর সাথে মুখোমুখি হয়। আর ব্রাজিল মুখোমুখি হয় সেমিতে ইংল্যান্ডের সাথে। আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল স্পেন ফাইনাল হবে যদিও আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। আর ব্রাজিল ফাইনালে উঠতে পারলে মনে হয় ওরাই চ্যাম্পিয়ন হবে। একটা লেখা দিব ভাবতেছি আরেকটু দিন গেলে।

    জবাব দিন
  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    তপুর সঙ্গে আমিও একমত। এইভাবে তাড়াহুড়ায় না লিখে প্রতিটি দল নিয়ে আলাদা লেখা দিলে ভালো হতো। আর আমিও ব্রাজিল ছাড়া বাকি দলগুলো নিয়ে পোস্টে পঁচাইতে পাড়তাম!! এহসান তোমার ভ্যাঞ্চামু মনে হইতাছে................

    প্রথমত আমি ব্রাজিল, শেষ পর্যন্তও ব্রাজিল


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    একটা লাইন পছন্দ হয় নায়। আমার ধারণা আপনি বুঝতে পারছেন কোনটার কথা বলছি। ঢালাও ট্যাগিং হয়ে গেছে। আপনার ফুটবল সমঝদারিত্বের সঙ্গে এ ধরনের ঢালাও কথা মানায় না। :))

    যাই হোক বিশ্লেষন ভালো হইছে। আমি যদিও আর্জেন্টিনা সাপোর্টার, কিন্তু এন্টি-ব্রাজিল নই। রোনাল্ডো, রোনালদিনহো আমার অনেক পছন্দের ফুটবলার। দুজনেই বহুদিন আমাকে মুগ্ধ করে গেছেন।

    দুঙ্গার খেলানোর ধরন আমার পছন্দ না। সেকারণে রোনালদিনহোকে নিবে না সে এটা বুঝতে পেরেছিলাম আগেই। নিলেও যে খুব বেশি উনিশ বিশ হত, এমন না। গত কয়েক বছরের মত ব্রাজিল তাদের বিশ্রী ধরনের ফুটবলটাই খেলবে, শুধু জয়ের কথা ভেবে। এবং ঠিকই অনেকদূর যাবে। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে কম প্রতিভাবান ব্রাজিল দল। বিশ্বকাপ জেতার মত দল তো নয়ই। 🙁

    আর্জেন্টিনা নিয়ে কিছু তথ্যগত ভুল আছে।

    মার্টিন পালেরমোর গোলে শেষ ম্যাচে এসে আর্জেন্টিনা কোয়ালিফাই করেছে।

    মার্টিন পালের্মোর গোলটা ছিল শেষ ম্যাচের আগের ম্যাচে। পেরুর বিপক্ষে। শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করেছিল মারিও বোলাত্তি।

    ম্যারাডোনা যখন দায়িত্ব নেয় তখন আর্জেন্টিনার কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা কম ছিল না। বাছাই পর্বের ১০ ম্যাচে ৪ জয় ৪ ড্র আর ২ পরাজয় নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল মনে পরে। 😀

    শেষ যতগুলো ম্যাচ দেখেছি, মনে হয় নায় ম্যারাডোনা রক্ষনাত্মক স্টাইলে খেলাচ্ছে (উরুগুয়ের বিপক্ষে বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচটা ছাড়া।)

    মিডফিল্ডে রিকুইলেমে বা আইমার না থাকায় অবশ্য কিছুটা হতাশ। কিন্তু একেবারে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলেন বলে কষ্ট পাইলাম। বামদিকে এঞ্জেল ডি মারিয়ার কথা ভুলেও বললেন না!
    ফয়োয়ার্ড লাইন নিয়ে আসলেই মধুর সমস্যা। এন্টি আর্জেন্টিনা হলে অবশ্য শুধু সমস্যাই মনে হবে।

    আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আমিও খুব বেশি আশাবাদী নই। সেটা স্রেফ তাদের দুর্ভাগ্যের কারনে। কোচ ম্যারাডোনার এই কারনে নয়। এতকিছুর পরেও আর্জেন্টাইন কোচ হিসেবে তার ক্যারিয়ার দেখেন-
    ম্যাচ ১৮
    জয় ১৩
    পরাজয় ৫
    ড্র ০
    সাফল্য ৭২.২২%
    এটাকে খারাপ বলা যায় না কখনোই। আমরা এই হিরোইঞ্চিকে যতটা গর্দভ ভাবি আসলে সে এতোটা গর্দভ না।

    বাকি কথা পরে আইসা বলতেছি। ক্ষিদা লাগছে। 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)
      ম্যারাডনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলো তখন আর্জেন্টিনার কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা ছিলো খুবই কম। তার আগের সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিলো মাত্র একটি ম্যাচে।

      এখানে কোনো তথ্যগত ভুলের অবকাশ নাই। ম্যারাডোনা দায়িত্ব নিয়েছিলো ২৯শে অক্টোবর, তার মানে ততদিনে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ১০টি খেলা শেষ। আর ৪র্থ রাউন্ড থেকে ১০ম রাউন্ড পর্যন্ত টানা সাত খেলায় আর্জেন্টিনা জিতেছিলো মাত্র একটি ম্যাচে। আর এটা বাছাই পর্ব উতরানোর ব্যাপারে সংকিত হবার মতই ব্যাপার। আর এ ব্যাপারটা অনুধাবন করা হয়েছিলো বলেই আগের ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয়। তাই এখানে তথ্যগত ভুল ধরার চেষ্টাটা ঠিক হচ্ছে না।

      মার্টিন পালের্মোর ব্যাপারে বলি, এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। কারণ বিভিন্ন মিডিয়াতে তে পালের্মোকে দলে নেয়ার ব্যাপারে পেরুর সাথে ইঞ্জুরী সময়ে সেই গোলের ঋনের কথাই বলা হয়, যাই হোক আমি আসলে ওই গোলের ইম্পর্ট্যান্স বোঝাতে চেয়ে ছিলাম। এন্টি আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে কাউকে বিভ্রান্ত করতে চাই নি।

      যদি ফুল্ব্যাক না খেলিয়ে চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার খেলানো হয় তাকে তো রক্ষনাত্বক কৌশলই বলা যায়। ৫-৩-৩ এ কেউ যদি ৩ জন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার খেলায় তখনই ব্যাপারটা রক্ষনাত্বক ধরা হয়। এছাড়াও ৪ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার ব্যাপারটা বিবিসির টিম ভিকারীর বেশ কয়েকটি কলামে এসেছে। ভিকারীর এনালাইসিস গুলো আমার এন্টি আর্জেন্টিনা মনে হয় না কখনো। এমনকি অনেক পাঁড় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের (ওয়াহাব ভাই, সিকক ৯ম ব্যাচ) কাছেও ভিকারীর কলামের প্রশংসা শুনেছি। কিন্তু তোমার খেলা দেখে মনে হয়নি... নিজের সমর্থনের দলের খেলা দেখে কিছু মনে হওয়া না হওয়া অনেক সময় যুক্তির ধার ধারে না। তাই এখানে তথ্যগত ভুলের প্রশ্ন আনাটা কেমন যেনো মনে হচ্ছে।

      বামদিকে এঞ্জেল ডি মারিয়ার কথা ভুলেও বললেন না!ফয়োয়ার্ড লাইন নিয়ে আসলেই মধুর সমস্যা।

      আমি আনহেল ডি মারিয়ার কথা আগের পোষ্টে বলেছি, এখানে বলার প্রয়োজন মনে করি নাই। আর শুধু ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে মধুর সমস্যার কথা বলি নাই। বলেছি পুরো দলটাতেই এত এত প্লেয়ার খেলানোটা কখনোই মধুর সমস্যা হতে পারে না।

      পেশাগত সাংবাদিক হিসেবে মানছি তোমার ফুটবল সমঝদারীত্ব। কিন্তু আর্জেন্টিনা ডাব্বা মারার সম্ভাবনা শুধু মাত্র দূর্ভাগ্য এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। ম্যারাডোনার ম্যানেজারিয়াল পরিসংখ্যান এখানে অপ্রাসঙ্গিক। অবশ্যই আর্জেন্টিনা দলের সাফল্য ব্যার্থতার দায়ভার ম্যারাডোনার। দল গঠনে এবং ম্যান ম্যানেজমেন্টে তার ব্যর্থতা (রিকুয়েমের বাদ পড়া, মাশকেরানোর প্রতিদ্বন্দি ক্যাম্বিয়াসোকে দলেই না রাখা, আগুয়েরোকে অতিরিক্ত সুযোগ দেয়া) অবশ্যই ম্যানেজার হিসেবে তার অনভিজ্ঞতার পরিচায়ক। এছাড়াও আরজেন্টিনা দলের অনেক পজিশনেই বিশ্বমানের খেলোয়ার নাই। যেটা আমি উল্লেখ করেছি। এখানে এন্টি আর্জেন্টিনা গন্ধ শুকার চেষ্টা ভালো লাগছে না।

      জবাব দিন
      • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

        ডি মারিয়ার কথা আগের পোস্টে বললেন, এখানে এড়িয়ে গেলেন। কারণ এখানে বললে তো আর 'মিডফিল্ডটা ঠিক বিশ্বমানের না' এটা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। 😀 নাকি ডি মারিয়াকে বিশ্বমানের বলতে আবার আপনার আপত্তি আছে?
        তথ্যগত ভুল শুধু পালের্মোর গোলের ব্যাপারেই বলেছি।
        আর বাছাইপর্বের বাদ পড়ার ব্যাপারটায় আপনি আমি দুজনই ঠিক। আপনি বলেছেন ম্যারাডোনা দায়িত্ব নেয়ার সময় 'শেষ সাত খেলায় আর্জেন্টিনা জিতেছিলো মাত্র একটি ম্যাচে'। ঠিক। আমি বলেছি 'মোট বাছাই পর্বের ১০ ম্যাচে ৪ জয় ৪ ড্র আর ২ পরাজয়' । এটাও ঠিক। আপনারটা বলে আপনি আর্জেন্টিনার দুরবস্থাটা প্রমান করতে চেয়েছেন। আমি আমারটা বলে অবস্থাটা যে এত করুণ ছিল না সেটা বুঝাতে চেয়েছি। এখানে তথ্যগত ভুল ধরি নাই তো এহসান ভাই । 😀

        আমি কিন্তু সিসিবিতে কখনও ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে মতামত দেই না । এখানে আমি আর্জেন্টিনা সাপোর্টার, আমার প্রিয় দলের পক্ষ নিয়ে কথা বলি। পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড কি আমরা সিসিবিতে টেনে আনি?

        টিম ভিকারীর বেশ কিছু কলাম আমিও পড়েছি। ঠিকাছে। কিন্তু জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে কোন চারজন খেলছে এটাই নির্দিষ্ট ছিলনা। প্রতিটা ম্যাচেই সে ডিফেন্স অদল-বদল করেছে। চারজনই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার এমন কিন্তু আমি স্মৃতি হাতরিয়ে মনে করতে পারলাম না। হ্যাঁ, বিশ্বকাপের ঘোষিত দলে যে চারজন ডিফেন্ডার খেলবে বলে মনে হচ্ছে, ওই চারজনই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলে। কিন্তু আসল খেলার সময় না দেখে কিভাবে বলে দিচ্ছেন ম্যারাডোনা আসলে দুংগার চেয়েও রক্ষনাত্বক দল নিয়ে খেলাবে ? 😛

        ম্যানেজারিয়াল পরিসংখ্যান অপ্রাসংগিক হবে কেন? সাফল্য-ব্যর্থতার দায়ভার যদি চাপাতে চান তাহলে তো পরিসংখ্যানটাই দেখতে হবে। ও অনভিজ্ঞ এটা তো আমি অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত যদি হিসেব করেন তাহলে তাঁকে আপনি ব্যর্থ বলতে পারবেন না কিছুতেই। সাফল্য ৭২.২২% ছাড়াও তার কাজ তো সে ঠিকই করেছে। বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল, সেটা করে দেখিয়েছে।

        অনেক পজিশনে বিশ্বমানে খেলোয়াড় নাই এটা তো অস্বীকার করিনাই। কিন্তু সব দলে কি সব পজিশনে বিশ্বমানের ফুটবলার আছে? 😀

        এন্টি-আর্জেন্টিনা গন্ধ শুকলাম কই? আমি তো জানিই আপনি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কাউকেই সাপোর্ট করেন না। আপনি কিন্তু প্রি-মেডিটেডেট কথা বলতেছেন বলে মনে হইতেছে। ভুল হইলে মাফ চাই।


        ---------------------------------------------------------------------------
        বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
        ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

        জবাব দিন
    • ভাই তোমার সাথে একদম একমত, এখন দেখি অনেকেই খেলাটার সৌন্দর্যের কথা একদম ভুলে গেছে। খালি জিততে চায়। অবশ্যি জেতাটা অনেক বড় ব্যাপার, কিন্তু তাই বলে কুতসিত ফুটবল খেলতে হবে?

      জবাব দিন
  5. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আশা করি বিশ্বকাপ নিয়ে আপনি আরো বহুত প্যাচাল পাড়বেন 😀


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  6. ওমর (৯৫-০১)

    আর্জেন্টিনা সবসময়, কিন্তু বেটাদের লাক খুবই খারাপ, কেমন যেন ক্রিকেটের সাউথ আফ্রিকার মতো । সেমি পর্যন্তই মনে হয় যেতে পারবেনা। 🙁 🙁
    তবুও স্বপ্ন দেখতে থাকি আমরা এই দলের সাপোর্টাররা। 🙂

    জবাব দিন
  7. হোসেন (৯৯-০৫)

    আর্জেন্টিনার কড়া সাপোর্টার হয়েও বলতেছি যে দলের মাঝমাঠের দায়িত্ব বাংলাদেশের জয়ের ক্লোন ভেরনের হাতে সে দল নিয়া হিসাব করা আমি সময় নষ্ট মনে করি। এই দল হেদায়েতের যোগ্য না। রিকুয়েমের বল ডিস্ট্রিবিউশন মেসি আর হিগুয়েনএর জন্যে ফাটাফাটি হইত। শিওর থাকন যায় প্রথম রাউন্ডে দুই ম্যাচের মধ্যে ভেরন দুই হলুদ অথবা একটা লাল খাইব।


    ------------------------------------------------------------------
    কামলা খেটে যাই

    জবাব দিন
  8. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    বস স্পেনের গ্রুপ থেকে চিলি হন্ডুরাস আর সুইজারল্যান্ডের কে উঠবে সেইটা নিয়ে ভাবতেসি। মানে এরা কেউই তো ব্রাজিলরে ঠেকাইতে পারবো না। বরং এরা কেউ জমাইয়া স্পেনরে গ্রুপ রানার্স অপ করে দিলে ব্রাজিল স্পেন ম্যাচটা সেকেন্ড রাউন্ডে পরে । তবে আমি যেহেতু ব্রাজিলের বিদায় দেখতে চাই ১ম রাউন্ডে হলেই ভালো। এই দুইটা পার হইলেও ব্রাজিলের ছাড়ন নাই। হল্যান্ডের কাছে কোয়ার্টারে ধরা খাইবৈ।
    বিশ্বকাপ নিয়া আমিও পোস্ট দিমু ভাবতেসি। আমার নেট কানেকশন দুই একদিনের মাঝে ঠিক হবে আশা করতেসি।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      দুর্দান্ত প্রিভিও :hatsoff: :hatsoff:

      গ্রুপ অব ডেথ থেকে ব্রাজিলের জন্য শুধু ২য় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করাই গুরুত্বপূর্ণ ন্য, সেই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ন। কারন গ্রুপ রানার্সআপ হলে ২য় রাউন্ডে দেখা হবে স্পেনের সাথে। ব্যক্তিগত স্বার্থে আমি এটাই চাইছি, একটা পথের কাঁটা তো দূর হবে।

      আর্জেন্টিনার দল নিয়ে কোন কমেন্ট করবো না, দলের কোচ নিজেই এইটা নিয়ে আওলায় যাইতেছে, সেখানে আমি কোন ছার 😛 তবে বুড়া ভেরন কত কি করতে পারে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। আর্জেন্টিনার গ্রুপ বেশ সহজ। নাইজেরিয়া মনে হয় এবার আফ্রিকার দূর্বলতম দল, তবে গ্যালারী ভর্তি সমর্থক নিয়ে খেলার দিন যেকোন কিছু ঘটায়া দিতে পারে, আর গ্রীস যদি ইউরো ০৪ এর মত ১১ জনের ডিফেন্স নিয়ে খেলা শুরু করে তাহলে তাদের সাথে যেকোন দলই হোঁচট খেতে পারে। তবে আর্জেন্টিনার জন্য ক্রিটিকাল হবে ২য় রাউন্ড। ফ্রান্স, উরুগুয়ে, মেক্সিকো যার সাথেই খেলা পড়ুক না কেন, টাফ হবে।

      ফ্রান্স দলে সামির নাসরি বাদ পড়ায় মাইন্ড খাইছি (যদিও আগামী মৌসুমের শুরুতে একদম ফ্রেস থাকবে এটা ভেবে ভালই লাগছে ;)) ) তবে থেয়েরি অঁরি এখনো আছে, তাই পুরোনো সাপোর্ট এখনো থাকবে। তবে এদের নিয়ে প্রেডিকশন করা এবার খুবই টাফ, শুরুতেই আটকে যেতে পারে, আবার একদম শেষ পর্যন্তও চলে যেতে পারে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        কমেন্ট করতে গিয়ে হাপায়া গেলাম 🙁 প্রিভিও গুলো একসাথে না দিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে দিলে মনে হয় আরো বিস্তারিত আলোচনা হইত।

        হল্যান্ডকে দেখি এহসান ভাই গোনায় ই ধরলেন না 🙁


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
        • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

          খুব সম্ভবত ঘোষিত দলগুলো নিয়া ফোকাস করছেন বইলা। নইলে হল্যান্ডরে গোনায় না ধরার কোন কারণ নাই। হল্যান্ডের রাস্তা তো আমি সেমিফাইলান পর্যন্ত ক্লিয়ার দেখতেসি। আর আকাশ তুই কিন্তু আরেকটা দলরে গুনলি না। সেটা হলো স্বাগতিক রা। নিজেদের মাঠে চুরি কইরা হইলেও ওরা সেকেন্ড রাউন্ডে উঠবো আর্জেন্টিনার রাস্তা সোজা করতে। আমার চাওয়া আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্স সেকেন্ড রাউন্ডে দেখা হোক আর আর্জেন্টিনা বাদ হোক। তাইলে ব্রাজিলকে হারানোতে ফ্রান্সে যে জনপ্রিয়তা (!!!) সেটায় ধ্বস নামবে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নতুন কোন চ্যাম্পিয়নদল দেখতে চাই। সেটা হোক হল্যান্ড হোক স্পেন কিংবা অন্য কেউ।

          জবাব দিন
      • আদনান (১৯৯৯-২০০৫)

        গ্রুপ অব ডেথ থেকে ব্রাজিলের জন্য শুধু ২য় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করাই গুরুত্বপূর্ণ ন্য, সেই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ন। কারন গ্রুপ রানার্সআপ হলে ২য় রাউন্ডে দেখা হবে স্পেনের সাথে। ব্যক্তিগত স্বার্থে আমি এটাই চাইছি, একটা পথের কাঁটা তো দূর হবে।

        আমিও তাই চাই।

        জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      আসলে বিশ্বকাপের আগে এইসব নিয়ে শুধু তর্ক-বিতর্ক করা যায়। মাঠের খেলায় অনেক অঘটন হবে এবং তখন সব হিসাব উল্টা-পাল্টা হয়ে যাবে। 😀


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
    • রকিব (০১-০৭)

      জার্মানীর কথা কইয়া লাভ নাই; ভালো খারাপ যে রকম দল নিয়েই আসুক; এরা কেমনে কেমনে জানি কমপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত চলে যায়।


      আমি তবু বলি:
      এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

      জবাব দিন
    • এহসান (৮৯-৯৫)

      জার্মান অধিনায়ক মাইকেল বালাকের বিশ্বকাপে খেলার সব সম্ভাবনাই শেষ। ডান পায়ের গোড়ালির ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের। ইংলিশ ক্লাব চেলসির হয়ে শনিবার এফএ কাপের ফাইনাল খেলার সময় পোর্টসমাউথের মিডফিল্ডার কেভিন-প্রিন্স বোটেং ফাউল করলে .... পাওয়া চোট বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল তাঁকে।

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        এই কেভিন-প্রিন্স বোটেং এবার বিশ্বকাপে ঘানা'র প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছে, আর জার্মানী আর ঘানা পড়েছে এক গ্রুপেই। ইন্টারেস্টিং 🙂
        আরো ইন্টারেস্টিং হলো, কেভিন-প্রিন্স বোটেং মূলত জার্মানীতেই বড় হয়েছে, খেলেছেও জার্মানীর যুব দলে,জাতীয় দলে সুযোগ করতে না পেরে জন্মস্থান ঘানার হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেভিন-প্রিন্স বোটেং এর ভাই জেরোমি আবার ডাক পেয়েছে জার্মানীর প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে।


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
  9. রায়েদ (২০০২-২০০৮)

    ব্রাজিল এখনো মাঝে মাঝে সুন্দর ফুটবল খেলে। কিন্তু সেইটা শুধু ফালতু টিমের সাথে। ভালো টিমের সাথে খেলা পরলেই খালি defence করার পর ফাবিয়ানোর goal আর এরপর ফাউল কইরে খেলাটা নষ্ট করা।

    জবাব দিন
  10. এহসান (৮৯-৯৫)

    ডেভিড ভিয়া অবশেষে বার্সেলোনায় যোগ দিলো। চার বছরের কন্ট্রাক্ট সাক্ষর করেছে সে। এটা এই মৌসুমে বার্সেলোনার প্রথম সাইনিং। ৩৪.২ মিলিওন পাঊন্ডের বিনিময়ে ভ্যালেন্সিয়া থেকে বার্সেলোনায় গেলো ভিয়া। বিশ্বকাপের আগেই ঝামেলা চুকে বুকে যাওয়ায় ভিয়া এখন বিশ্বকাপে ভালোমত মনোনিবেশ করতে পারবে। টাকা ও কোয়ালিটির তুলোনায় খুবই ভালো সাইনিং। আর ইব্রার ট্রান্সফারের কথা চিন্তা করলে তো আর ভালো সাইনিং!!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।