মিলেনিয়াম: সময়ের সেলাই

আমরা বেঁচে আছি সময়ের এপার ওপার ফোঁড়ে, গ্রাসের ঝড়ো তান্ডবে !
ভাঙ্গনের ঝনকার কানে যায় না। আমাদের মনের কানে তালা পড়েছে !
আমরা আর চোখেও দেখি না প্রায় ! আমাদের জ্বিভ লকলক করে বড় হচ্ছে!
চাবুক খাওয়া ঘোড়ার মতো তাই সব দৌড়ের উপরে !

মেয়েটাকে একসময় চিঠি লিখত ছেলেটি কালেভাদ্রে, কৈশোরের আটানব্বইয়ে ।
কথার পরে কথা সাজিয়ে, তাতে মনের ছোঁয়া মিশিয়ে
হোমিওপ‌্যাথির গুড়ার মতো আদর করে খামে পুরে, পাঠিয়ে দিত তার কাছে-
মুঠোফোনে রাত-বকে সে এখন- মেট্রিক শেষে আসা মিলেনিয়ামে ।

নিশির ছোটবোন জোছনা বটে ! মাত্র সেভেনে!
পাশাপাশি শুয়ে থাকা দু’ বোনের দুই কানে অচেনা যুবকদ্বয় ফিসফাস করে-
মাঝরাতের ঘুমভাঙ্গা উত্তাপে! কত পাশাপাশি অথচ দু’বোন কতই না দূরে !
মিলেনিয়াম ভাঙ্গন নিয়ে আসে ভিতরে ভিতরে- খুব খুব খুবই অবচেতনে
সেঁলাইয়ের ফোঁড় পড়ে জোড়া-তালি পড়ে যায় আমাদের সাদা-কাদা হুদয়ে !

চিঠি লেখার মেয়েটি এখন টুককাক কাজ করে- যদিও বিয়ে করেনি, দারুণ স্মার্ট।
ভদ্র মহিলাও বলা চলে। ত্রিশ পেরিয়ে বয়স, তবু কাঁপুনি ধরাতে পারে !
ফেসবুক-টুইটারে অনুভুতি বিনিময় শেষে একরাশ একাকীত্ব !
মিলেনিয়ামের গরম দীর্ঘশ্বাস জুড়ে থাকে-
হাতে লেখা চিঠি পড়ে মন দিয়ে বুঝে নেবার হারানো আনন্দ !

নিশির ছোটবোন পাঁচ বছরের ছোট, তবে জোছনাই বটে!
সারারাত উকি-ঝুকি মারে অন্তর্জালে। জানালা খুলে পুটুর পাটুর আড্ডা মেরে
রাত শেষ করে দেয় সে।
মধ্য সকালের ঘড়ির ডাকাডাকিতে, তিরিক্ষি মেজাজে চোখ খুলে, ঝটপট নিজ কাজে।
মিলেনিয়ামের সকালটাও অশান্ত-তীব্র ! মিলেনিয়াম কেড়ে নিয়েছে প্রশান্ত রাত্র!

এখন বেঁচে থাকি আমরা সময়ের এপার ওপার ফোঁড়ে, গ্রাসের ঝড়ো তান্ডবে !
ভাঙ্গনের ঝনকার কানে যায় না। আমাদের মনের কানে তালা পড়েছে !
আমরা আর চোখেও দেখি না প্রায় ! আমাদের জ্বিভ লকলক করে বড় হচ্ছে!
চাবুক খাওয়া ঘোড়ার মতো তাই সব দৌড়ের উপরে !

একযুগ মিলেনিয়ামে।
যতটা এসেছি কাছে দূর দূরে থেকে, নিরব ভাঙ্গন ততই ভেঙ্গেছে ভিতরে ভিতরে !
মিলেনিয়াম মগজের বিশ্রামও কমিয়ে দিয়েছে।
সেঁলাইয়ের ফোঁড় পড়ে জোড়া-তালি পড়ে যায় আমাদের সাদা-কাদা হুদয়ে !

নিরব মিলেনিয়াম
কালস্রোতের একটা যুগইতো সামান্য। বদলে দিল আমাদের জাগতিক কমর্কান্ড।
সময়ের সূঁচে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যাই আমরা প্রতানিয়ত- যুগসন্ধিক্ষণ জয় তব!

৬২১ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “মিলেনিয়াম: সময়ের সেলাই”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    অসাধারণ কাহিনী কবিতা।অন্যরকম।কবিতায় এক বা একাধিক জীবনের পুরো একটা ছবি আঁকা - সহজ নয়।
    শুধু 'মিলেনিয়াম' শব্দের প্রয়োগটা ঠিক বুঝতে পারিনি।

    জবাব দিন
    • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

      মিলেনিয়াম শব্দ দিয়ে কি বোঝাতে চাইলে সেটা বুঝেছিলাম।কিন্তু শব্দটির প্রয়োগ ঠিক স্পষ্ট হলো না আমার কাছে।'মিলেনিয়াম' শব্দটি যেরকম ধ্বনিগত প্লাস অর্থগত দ্যোতনা নিয়ে আসতে পারতো বলে তুমি ভেবেছিলে তা বোধ হয় আসেনি শেষমেশ।
      তবে এটুকু বাদ দিলে পুরো লেখাটা চমৎকার।স্মরণীয় কিছু মুহুর্ত, এক্সপ্রেশন এসেছে এখানে।
      একেবারে আনকোরা কিছু ছবি -একেকটা ঝলকের মতো।এটা বিরাট প্রাপ্তি।
      অনেকদিন পর তোমাকে দেখলাম।দেখে বেশ একটা প্রশান্তি লাভ করলাম।

      পুনশ্চ: 'মিলেনিয়াম' শব্দটিকে ঠিক বুঝতে না পারলেও এখানে, একে যত পড়ছি মনে হচ্ছে এ বুঝি কোন ড্রাগন - নিঃশ্বাসে যার আগুনের হলকা, সব সবকিছু পুড়ে অংগার হয়ে যায়। 🙂

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।