পাখির চোখে দেখা আমেরিকা, ২০০৪

[২০০৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাস ছিলাম। ওই সময়ের নির্বাচনটি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কাভার করতে গিয়েছিলাম। কোনো একটা দেশ, সমাজ বা মানুষকে জানা-বোঝার জন্য একমাস তেমন সময় নয়। তবে সাংবাদিকরা হলো “সকল কাজের কাজী”। আমরা মনে করি, আমি সব জানি, বুঝি। আমার বোঝার কিছু বাকি নাই। তাই আমার শেখারও কিছু নাই। (কতো বড়ো মাতব্বর!!)

ওটাই ছিল আমার প্রথম এবং শেষ আমেরিকা সফর। প্রথম আলোতে থাকলে গত নভেম্বরেও হয়তো আবার নির্বাচনটা কাভার করতে যেতাম। কিন্তু কিছু করার নেই। আর নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর্যায়ে রেডিও থেকে আমার বাইরে যাওয়াটা কষ্টকর হতো। আগামীতে নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো।

যুক্তরাষ্ট্র, এর মানুষ, সমাজ-রাজনীতি সম্পর্কে আমার ২০০৪-এ পাঠানো প্রতিবেদনগুলোকে আমি বরং পাখির চোখে দেখা আমেরিকা বলতে চাই। ‘নাইন-ইলেভেনে’র পর দেশটি যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তার কিছুটা ধরা-বোঝার চেষ্টা সে সময় করেছিলাম। সেই সময় নিউইয়র্ক থেকে পাঠানো আমার একটি প্রতিবেদন আজ সিসিবিতে শেয়ার করতে চাইছি। আমি জানি না এর মধ্যে দেশটি কতোটা বদলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় প্রবাসীরা এ সম্পর্কে ভালো বলতে পারবে। আমার সেই সময়ের পর্যবেক্ষণ এবং বর্তমানের আমেরিকা সম্পর্কে তোমাদের মতামত জানতেই পুরনো প্রতিবেদনটি এখানে প্রকাশ করলাম।]

উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই আমেরিকার ভরসা
দ্বিতীয় প্রজন্মের দুই বাঙালি মেয়ের স্বপ্নের কথা

ফাহমিদা ও সারা দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশী-আমেরিকান। বাংলাদেশে ফাহমিদা রশিদের বাড়ি কুষ্টিয়ায় আর সারা হাসান ঢাকার নবাব বাড়ির মেয়ে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম স্কুলে ওরা মাস্টার্স করছে। ইহুদী অভিবাসী সম্পাদক জোসেফ পুলিৎজার গত শতকের গোড়ার দিকে বিশ্বখ্যাত এই জার্নালিজম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কুলটিতে শিক্ষা লাভের সুযোগ যে কারোর জন্যই ভীষণ আগ্রহের।

ফাহমিদা প্রিন্ট আর সারা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী। ওদের দুজনের একই আকাঙ্খা, একই স্বপ্ন। আমেরিকানদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে ওরা চেষ্টা করবে।

ইসলাম সম্পর্কে সারা বিশ্বের ভুল ধারণা দূর করতে বুশ প্রশাসনের আগ্রহে এবং সিঙ্গাপুরের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের অংশগ্রহণে নিউক্লিয়াস কমিটি গঠনের কথা আমরা জানি। কিন্তু দেশের ভেতরে জনগণ বিশেষ করে সাদা খ্রিস্টান আমেরিকানদের মন থেকে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করবে কে? ফাহমিদা, সারাদেরই তো এই কাজটি করতে হবে। কারণ প্রতি মূহুর্তে ওদেরই তো অস্বস্তি- আর সন্দেহের পরিবেশে বাস করতে হয়।

‘নাইন ইলাভেন’ আমেরিকার আর সব মুসলিম জনগোষ্টির মতো বাংলাদেশী-আমেরিকানদেরও এক প্রচণ্ড সংকটে ফেলে দিয়েছে। ওসামা বিন লাদেন ও তার সংগঠন আল কায়েদার সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে আমেরিকার ৬০ থেকে ৭০ লাখ মুসলমান কি যন্ত্রণার মধ্যে প্রতিদিন বসবাস করেন তা এখানে গত তিন সপ্তাহে প্রতিনিয়ত দেখেছি। মুসলিম নাম নিয়ে সহকর্মীদের সন্দেহের মধ্যে কাজ করতে হয় তাদের। কাজ পাওয়া, পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা এসব ক্ষেত্রে অনেকেই মুসলিম হওয়ার কারণে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বলা হচ্ছে, ‘নাইন ইলাভেন’ আমেরিকার সমাজে সুপ্ত সাম্প্রদায়িকতাকে প্রকাশ্য করে দিয়েছে।
আমেরিকানদেরও পুরো দোষ দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় এখানে সারাক্ষন ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে তাদের বসবাস করতে হয়। সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতায় এখন মার্কিন সরকার শ শ কোটি ডলার ব্যয় করছে। আরো নতুন নতুন ব্যয় এক্ষেত্রে বাড়ছে। আইন হচ্ছে একের পর এক। এসব আইন আবার নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতাকেও খর্ব করছে অনেক। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছে।

এখানে বিমানবন্দর, পাতাল রেল, বাস স্টেশন থেকে সর্বত্র যেখানে জনসমাগম বেশি হয়, প্রতিমূহুর্তে একটা ঘোষণা প্রচার হতে শুনেছি। ‘আপনার ব্যাগ সঙ্গে রাখুন। যদি কোথাও মালিকানাবিহীন কোনো ব্যাগ পাওয়া যায় সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হবে। মালিকানাবিহীন কোনো ব্যাগ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে জানান।’

সরকারের তৎপরতার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও আছে। সমালোচকরা বলেন, বুশ প্রশাসন আমেরিকায় আতঙ্কের পরিবেশ জিইয়ে রাখতে চায়। মাত্র শেষ হওয়া নির্বাচনে জর্জ বুশ এই তাস খেলেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন। দেশের ভেতরের অনেক সমস্যাকে আড়াল করতে এটা একটা কার্যকর ঢাল হয়ে ওঠেছে আমেরিকায়। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিটাও তো একেবারে ভিত্তিহীন নয়।

মার্কিন জনগণ তাই এখন একদিকে নিরাপত্তার বাড়াবাড়ির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আর অন্যদিকে এ কারণে হয়রানির ঘটনাও ঘটছে প্রচুর। দুই দিকের অসংখ্য যুক্তি ও নজিরের কথা এই সময়কালে জেনেছি। বর্ণবাদ, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার দিন কাটিয়ে এখন অভিবাসীবিরোধী রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে আমেরিকা। অথচ আমেরিকানরা নিজেরাই বলেন, এই দেশ অভিবাসীদের (ইমিগ্রেন্টস)। এটা এই দেশের সৌন্দর্য্য। বৈচিত্র্য আর বহুত্বের মিলনে আমেরিকা প্রতিনিয়ত পরিপুষ্ট হয়। আমেরিকা কি এখন তার সেই বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে?

গত ২ নভেম্বরের (২০০৪) নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে জর্জ বুশের দ্বিতীয় মেয়াদের বিজয় এমন একটা আশঙ্কাকেই প্রকট করে তুলেছে। তার বিভেদ এবং কট্টর রক্ষণশীল নীতি আগামী চার বছরে বিশ্বকে যেমন আরো অস্থির করে তোলার শঙ্কায় ফেলেছে, তেমনি আমেরিকাকে আরো বিভক্ত করার বিপদে ঠেলে দিয়েছে। তার বিজয়ে সারা দেশে রক্ষণশীল ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উল্লাস আর উদার ও অগ্রসর নীতির সমর্থকদের বিষাদে বারবার এই সত্যটাকেই সামনে আনে।

গতকাল সোমবারের ‘ইউএসএ টুডে’ পত্রিকায় খবর বেড়িয়েছে, সিআইএ এখন আমেরিকার অভ্যন্তরেও সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত ও তৎপরতা চালাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া ‘কাউন্টার ইটেলিজেন্স’ সংস্থা- সিআইএ’র কাজের ক্ষেত্র এতোদিন ছিল বিদেশে। আমেরিকার বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্তর্ঘাত তদন্ত ও প্রতিরোধ করে থাকে গোয়েন্দা এই সংস্থাটি।
এ খবরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আমেরিকার সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়নের অ্যাসোসিয়েট লিগ্যাল ডিরেক্টর অ্যান বেসন ওই পত্রিকাটিকে বলেছেন, তারা এইসব সংস্থার মাধ্যমে সরকারের বর্ধিত নজরদারি তৎপরতায় ভীষণ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, তারা এ সম্পর্কে খুবই কম জানেন।

‘নাইন ইলাভেনে’র পর বুশ প্রশাসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নামে আরো একটি অন্তর্ঘাত বিরোধী সংস্থা তৈরি করে তাদের লাগামহীন বাজেট দিয়েছে। আর এফবিআইসহ অন্যান্য সংস্থা তো আগে থেকেই কাজ করছে। ফলে এখানকার প্রতিটি নাগরিক চলে আসছেন সরকারের কড়া গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে। আর এসব কারণে আমেরিকান গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যে অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতা সেটিই বহুলাংশে খর্ব হতে চলেছে। এতে করে সমালোচকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, আমেরিকা কি আসলে পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে ওঠছে?

সারা আর ফাহমিদার কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে দেখা করতে এসেছিল। ওরা সাংবাদিকতা পড়ছে এদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তাদের মাথার স্কার্ফটি দুজনেই জানালো ‘নাইন ইলাভেনের’ পর ওঠেছে। যে মুসলিম পরিচয় এখানে এখন অনেকে লুকাতে চায়, তারা সেটাই সরবে প্রকাশ করছে। এতো সাহস মেয়ে দুটি পেল কোথায়?

তারা এখন যতোটা বাংলাদেশী তারচেয়ে বেশি আমেরিকান। আর আমেরিকা মানে হচ্ছে অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতার দেশ। এই স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা থাকলেও তাকে প্রতিরোধ করার শক্তিও আমেরিকার ভেতরেই আছে। এরাই এখন সংগঠিত হচ্ছে, জোট বাঁধছে। মুসলিম পরিচয়টি তাই প্রকাশ ও প্রচার করাটা ওদের কাছে এখন প্রতিবাদেও ভাষা হয়ে ওঠেছে। উদার, মুক্ত, গণতান্ত্রিক শক্তি ও সংস্কৃতিই এখন আমেরিকার ভরসা।

সানাউল্লাহ ।। নভেম্বর ০৮, ২০০৪, নিউইয়র্ক

২,৬১০ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “পাখির চোখে দেখা আমেরিকা, ২০০৪”

  1. শওকত (৭৯-৮৫)

    আমরা আমেরিকা যাই ২০০২ সালের আগেস্টর শেষ দিকে। ৯/১১ এর প্রখম বাষির্কীর দিন আমরা পুরাটাই প্লেনে। সে এক ঐতিহাসিক বিমান ভ্রমন।

    চামে খালি কই আমার কিন্তু নেভরাসকার গভর্ণরের দেয়া অনারারি সিটিজেনশীপ আছে 😀

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    আমার অনেক দেশ ঘুরার ইচ্ছে হয়, দেখার ইচ্ছে হয়।
    কিন্তু একেবারে সত্যি কথা কই, লাবলু ভাই, কেন জানি কখনো আমেরিকা যাওয়ার ইচ্ছে হয় না, দেখার ইচ্ছে হয় না। 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      জাহিদ : এই লড়াইটা সব সময় চলতেই থাকে। সেটা থেকে কিছু ফলও পাওয়া যায়। বারাক ওবামা'র বিজয়কে তারই ধারাবাহিকতায় দেখতে হবে। আর ওবামা এখন পূর্বসুরী বুশের নানা প্রতিক্রিয়াশীল নীতি ছুড়ে ফেলছেন। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছ, আমি আমার লেখায় ২০০৪ সালেই বলেছিলাম, এই স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা থাকলেও তাকে প্রতিরোধ করার শক্তিও আমেরিকার ভেতরেই আছে।

      অফটপিক : মাহমুদের মতো ভাব লইতে পারি, আমি তো তখনি ভবিষ্যত বাণী করেছিলাম!! :shy: :shy: :shy:


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  3. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আমার খুব কাছের এক আত্নীয়, আগে স্কার্ফ পড়ত, ৯/১১ এর পরে খুইল্লা ফেলছে।

    যাউজ্ঞা, আমেরিকার হলিউড মুভি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আমার আগ্রহ নাই, যদিও আমাদের বংশের একটা বড় অংশ গ্রীন কার্ড নিয়া ফালাফালি করে।

    আমেরিকারে কইষা মাইনাস


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    আমার ব্যাক্তিগত মতামত হচ্ছে, কয়েকটা দেশ এ পৃথিবীতে না থাকলে আমার মনে হয় পৃথিবী অনেক শান্তির জায়গা হতো। এক নম্বরে পাকিস্তান, দুই নম্বরে আমেরিকা 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  5. সামীউর (৯৭-০৩)
    বুশ প্রশাসন আমেরিকায় আতঙ্কের পরিবেশ জিইয়ে রাখতে চায়।

    ভাইয়া ,আমার মনে হয় যে কোন মার্কিন সরকার তাদের খুঁটি শক্ত করবার জন্য এই আতংকের পরিবেশ জিইয়ে রাখতে চায়। ওদের চলচ্চিত্রে তাই দেখায় যে আমেরিকার উপর অদ্ভুত জন্তু, রোবট, ভিনগ্রহের প্রানী, ভবিষ্যতের বিকৃত মানব সহ নানান ধরণের আক্রমণ আসে এবং কোন আমেরিকান সুপার হিরো তা প্রতিহত করে। অনেক ২য় বিশ্বযুদ্ধের সিনেমাতেও মার্কিন সেনাবাহিনীর উজ্জ্বল দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। আসলে এটা সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখার একটা কৌশল বলে আমার কাছে মনে হয়।

    আমেরিকা বৃটেন, ফরাসি, পুর্ব-ইউরোপীয় অভিবাসীদেরই গঠিত( রেড ইন্ডিয়ানদের তীর-বল্লমের বিপরীতে কোল্ট পিস্তল আর উইঞ্চেস্টার রাইফেল হাতে বীরপুরুষ রা তো ইন্ডিয়ানদের অল্প কিছু রিজার্ভের মধ্যে সীমিত করে ফেলেছে)।
    তবে

    এই স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা থাকলেও তাকে প্রতিরোধ করার শক্তিও আমেরিকার ভেতরেই আছে।

    কথাটার সাথে সম্পুর্ণ একমত।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      ভালো বলেছ সামীউর। আসলে আমেরিকানরা ফ্যান্টাসি ভীষণ পছন্দ করে। অবাস্তব একটা উদ্ভট কাল্পনিক জগত ওদের ঘিরে রাখে। জর্জ অরওয়েল সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে অ্যানিমেল ফার্ম লিখেছিলেন। এখন প্রকৃত অ্যানিমেল ফার্ম হলো আমেরিকা।

      আসলে রাষ্ট্রযন্ত্র যতো শক্তিশালী হবে নাগরিকদের যতো সেটা ততো খারাপ।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  6. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    লেখা ভাল লাগল লাবলু ভাই।
    "ফারেনহাইট ৯/১১" ডক্যুমেন্টারিটা খুব ভাল লেগেছিল। মাইকেল ম্যুরের কমিক সেন্স আর সচেতনতা খুব ছুঁয়ে গেছে। ঐখানে তো দেখিয়েছিল, বুশ পরিবার এবং তাদের মিত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক প্রসারের জন্যই বুশ "ওয়ার অন টেররিজম" শুরু করেছিল। এর মূল লক্ষ্যই ছিল, দেশের সাধারণ মানুষকে ভীত এবং অন্ধ রেখে বিশ্বব্যাপী বুশের মর্জিমাফিক অপারেশন পরিচালনা করা। সবকিছুই "বিজনেস"।
    আপনার লেখাটা পড়েও ডক্যুটার সার্থকতা টের পেলাম।

    আমি সবসময়ই চাই, আমেরিকা ইম্পেরিয়ালিস্ট রাষ্ট্র থেকে কল্যানমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হোক। কারণ আমার মনে হয়, আজকের বিশ্বে আমেরিকার ভালো হওয়াটাই সবচেয়ে বেশী জরুরী। তারা চাইলেই পৃথিবীর অনেক সমস্যা মিটে যাবে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।