খাচ্ছি দাচ্ছি এবং ভালো আছি

মানুষের জীবনে হতাশাকাল কতোটা লম্বা হয়? আমি জানি না। তবে দীঘর্, বেশ দীঘর্ এমন এক বিরক্তিকর সময় পার করছি, যেখান থেকে বের হতেই পারছি না। নাকি বের হওয়ার উপায় জানি না?

এক. বেসিক ব্যাংক নিয়ে প্রশ্নে জর্জরিত দুদক

দুই. সাংসদ লিটনকে ‘খুঁজে’ পাচ্ছে না পুলিশ

তিন. সোয়া দুই লাখ বিদেশির ‘নিরাপত্তার ব্যবস্থা’ নিচ্ছে সরকার

চার. যাজক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’

তালিকা আরো লম্বা করা যায়। কিন্তু সেটি করাও বিরক্তিকর। সিসিবি ঘাটতে ঘাটতেই পেয়ে গেলাম ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিলের একটি ব্লগ, রাখাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। কী উচ্ছাস নিয়েই না লিখেছিলাম! আর এখন সেটি পড়তে গিয়ে মনে হলো, কিসব ‘ট্র্যাশ’!

এসব ভাবনার চেয়ে ক্লাবে সময় কাটানো ভালো। মুভি দেখা আনন্দের। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মজার মজার খাবার কিম্বা পরচচর্া বেশ সুখের।

৩,৬২৫ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “খাচ্ছি দাচ্ছি এবং ভালো আছি”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    এই বিরক্তির কারণ বোধগম্য, তবে হতাশা কখনো চিরস্থায়ী হয় না।
    রাখাল বালকের কাহিনী বহু জায়গায় পড়েছি, বহুবার। তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয় বড়ভাই। কিন্তু শেয়ার মার্কেট ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা, অধীনস্থ ব্যাঙ্ক সমূহের ধ্বংসাত্মক দূর্নীতি মনিটরিং এ ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণে তাঁর প্রতি সম্মানটুকু বেশীদিন ধরে রাখতে পারিনি।

    জবাব দিন
  2. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    উলটোরথে উলটোপথে
    থমকে গ্যাছে
    জীবন যখন শুভংকরের ধারাপাতে,
    ভূতের পায়ে ত্রস্তে হেঁটে
    কিয়দ মিছে
    ভান ভনিতার ঐন্দ্রজালিক মৌতাতে,
    ভালো থাকার মন্ত্রখানি
    উচ্চারিছে
    সুরগুলি সব ভুল নোটেশন একতারাতে।

    জবাব দিন
  3. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    আমার তো ভাই শুধু ঘুরে ফিরে মনে হয় আমি খাচ্ছি দাচ্ছি জ্যামে পড়ে আছি, আর খবরের কাগজে হত্যা, ধর্ষণ, কেলেংকারীর খবর পড়ছি, আবার খাচ্ছি দাচ্ছি, জ্যামে পড়ে আছি এই লুপের মাঝে বসে আছি।


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  4. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    "খাচ্ছি দাচ্ছি এবং ভালো আছি" - শিরোনামটা দেখে যা আশাবাদ মনে ভেসে ওঠে, বর্ননাটা যে অর্থ দিল তা ততধিক হতাশার।
    অরূপের মতই বলতে চাচ্ছি, "আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিভাবে, জানি না।"


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
  5. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    আজ ক্লাস ছিল। ক্লাসে যাওয়ার আগেই আপনার ব্লগটি দেখেছিলাম। কিন্তু তাড়া থাকায় মন্তব্য করা হয়নি।

    আপনার এই হতাশা কিন্তু শুধুমাত্র আপনার নয়, আরও অসংখ্য বাংলাদেশীর। অর্থ্যাৎ, আমি বলতে চাইছি এই হতাশা সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশের পুরো সমাজেরই। এই অবস্থার কারণ নিয়ে সকলের মধ্যে সাধারণভাবে কিছু ধারণা থাকলেও এ' থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায়না। ফলে এই হতাশা ক্রমাগত বেড়েই চলে। এইটা কিন্তু বাংলাদেশ সমাজের কোন ইউনিক অভিজ্ঞতা নয়। পৃথিবীর প্রায় সকল সমাজই নানা যুগে নানা মাত্রায় এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে+যাবে। কাজেই, এর কারণ এবং এ' থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে ভাবা+চেষ্টা করা জরুরী। সমাজবিজ্ঞানের গোড়া থেকেই তা' হয়েও এসেছে। ডুর্খেইমের সময় ফ্রান্স এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে ডুর্খেইম সমাজের নর্মেটিভ কাঠামো (তথা সামাজিক নিয়মনীতি, আইনকানুন, মূল্যবোধ, ইত্যাদির) দূর্বলতা, তথা ব্যক্তিকে গাইড করার অক্ষমতাকে নির্দেশ করেছে। তার মত অনুসরণ করলে আমরা দেখবো কিভাবে আমাদের সমাজের ভেঙ্গে পড়া মূল্যবোধ, আইন+বিচার+আদালত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (পুলিশ+র‍্যাব+বিজিবি) এবং রাজনৈতিক দলগুলোর (ক্ষমতাসীন+ বিরোধী, ধর্মীয়+সেক্যুলার) স্বেচ্ছাচার, ইত্যাদি সমাজের বর্তমান অবস্থার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।

    কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারলে সমস্যার সমাধনও সম্ভব। সমাজ থেকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। কিভাবে করতে হবে, সে সম্পর্কেও আমার বিশ্বাস আমরা অনেকেই কিছু কিছু ধারণা রাখি। এখন দরকার সেই ধারণাগুলো আলোচনায় নিয়ে আসা এবং সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে, চিন্তার মধ্যে নিয়ে আসা। এর জন্য উপযুক্ত প্লাটফরম দরকার, সেইসাথে দরকার নানান মতকে শ্রদ্ধা+উদ্বুদ্ধ করার সক্রিয় প্রয়াস। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিদ্যমান অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব, এবং এটাই একমাত্র পন্থা।

    সানা ভাই,
    সিসিবি'র প্রিন্সিপাল হিসেবে এক্ষেত্রে আপনার দায়ও কিন্তু আমাদের থেকে বেশি 🙂

    (সম্পাদিত)


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      মাহমুদ,
      সব কিছু এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হলে এমনটাই হওয়ার কথা। কথা বলার মুখও বন্ধ হয়ে গেছে।
      আমাদের কারো যে পোশাক নেই সেটি বলার শিশুটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

        ভাইয়া,
        এই একটা জায়গায় এসে খানিকটা স্বস্তি পাই এই মনে করে যে, এখনো এই দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়নি আমাকে। ভাগ্যিস, ঢাবি'তে চাকরি পাই নাই। দেশে থেকে বাইরে আছি, মনের কথাগুলো প্রায় স্বাধীনভাবে বলতে পারছি। তবে আমি কিন্তু সত্যি সত্যি অনেক সময় ব্যয় করি বাংলাদেশ নিয়ে। আগামী ডিসেম্বরে দেশে যাবো, একটা কনফারেন্সে পেপার প্রেজেন্ট করবো, আরেকটা জাতীয় সেমিনারে লেকচার দিবো। আপনি সেসময় ঢাকায় থাকলে সাক্ষাত করার ইচ্ছে আছে 🙂


        There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

        জবাব দিন
  6. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    সমস্যা থাকবেই।
    বিশ্বব্যাপী সমস্যা।
    বাঙলাদেশ তো বিশ্বের বাইরে নয়।

    বিদেশি দের হত্যার সাথে যুদ্ধাপরাধ, বিশেষ করে সাকা গং জড়িত থাকা অস্বাভাবিক নয়।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        হয়তো বলা সহজ সানাউল্লাহ ভাই।
        কিন্তু ৩/৪ এর পিছনে, অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করার পিছনে সাকা/রাজপুত/রেজাকার গং এর হাত থাকা অস্বাভাবিক নয়।

        আর ১ নম্বর ব্যাংকের সমস্যা তো থাকতে পারেই। আমরা ডানে বামে সবাই দুর্নীতিবাজ। ব্যাংক এর বাইরে থাকবে ক্যানো। আর মজাটা হচ্ছে আমরা নিজেরা যে দুর্নীতিবাজ এইটা খেয়ালই করি না।

        আর দুই নম্বর, মন্ত্রী এমপিরা রা অপরাধ করে কবে সাজা পেয়েছে!
        তবে আমি বলবো চারপাশে এত্তো এত্তো চাটুকার, দলীয় দালাল থাকলেও এইসব অপরাধী মন্ত্রী এমপি দের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখি কথিত দলীয় লোকজনদেরই।

        বাঙলাদেশের অবস্থা অবশ্যই খারাপ।
        কিন্তু যখন দেখি ক্যামেরন সৌদি আরব দের কিভাবে পক্ষ নিচ্ছেন। ওবামার বছরের পর বছর আই এসের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন ব্যর্থ হয়।
        সৌদি কোন এক বান্দর মানবাধিকারের হোমড়াচোমড়া হয় তখন বলতে হয় আমরা খুব খারাপ নেই।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
  7. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    ওয়েলকাম ব্যাক টু সিসিবি, ভাইয়া 🙂

    প্রিন্সু স্যার দীর্ঘদিন ছুটি কাটিয়ে ফিরলেন ব্লগে। সুস্বাগতম আবারও।
    আশাকরি নিয়মিত পাবো আপনাকে। লিচি মারটিনি চলবে? সাথে একটা লেমনগ্রাস পানা কোটাও আছে কিন্তু 😀

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      ধন্যবাদ সাবিনা। হ্যা, বেশ দীর্ঘ বিরতি। ছুটি না অবশ্য। কারণ আমার ল্যাপটপে সিসিবি সবসময় খোলা থাকে। উঁকি দেয়া, কোনো কোনোটা পড়া- সবই চলছিল। উপস্থিতিটা শুধু জানান দেয়া হয়নি।

      সিসিবির সাথে যে আমার আত্মার বন্ধন। নিজেকে তরুণ রাখতে আমাকে শিখিয়েছিল সিসিবি।

      আর হ্যা, আবারও ধন্যবাদ লিচি মারটিনি'র জন্য।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  8. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বহুদিন পর প্রথম পাতায় আপনার লেখা আর তার শিরোনাম দেখে বেশ একটা খুশী খুশী ভাব নিয়ে লেখায় ঢুকেছিলাম, কিন্তু পড়তে গিয়ে প্রতিদিনের পরিচিত হতাশা ফিরে এলো। এমন একটা সময় যাচ্ছে যে অনেক খুঁজেও আশাবাদি হবার মত কিছু পাচ্ছি না, তাই উটপাখির মত বালিতে মুখ গুজে 'খাচ্ছি দাচ্ছি, ভাল আছি' মন্ত্রেই দিন পার করে যাচ্ছি।

    অনেক দিন পরে আপনাকে সরব পেয়ে ভাল লাগলো লাবলু ভাই, ভাল থাকবেন 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  9. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    সানা ভাই,
    সিসিবিতে অনেক দিন পর এলেন...

    একের পর এক অন্যায় কাজ করেও পার পাবার সংস্কৃতির কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
    কারো কোন জবাবদিহিতার ভয় নেই।
    মাত্র ছয় মাস যদি কোন সরকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি টাইট দিয়ে রাখতে পারত- আমরা ঠিকই লাইনে চলে আসতাম।
    সমস্যা তো ঘুরে ফিরে এক জায়গাতেই...

    এত কিছু চিন্তা না করে নিজের কথা ভাবুন, স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।
    দিন শেষে শুধু যদি নিজেও ভাল থাকতে পারেন, এটাও এখন কম প্রাপ্তি নয়...


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।