স্যার ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে

প্রেপটা রীতিমতো একটা যন্ত্রণা! এইভাবে ধইরা-বাইন্ধা কি পড়াশুনা হয়? কিন্তু কি আর করা! ক্যাডেট কলেজের নিয়ম বলে কথা। সন্ধ্যার পর সাদা ফুল শার্ট, ফুল প্যান্ট, ব্ল্যাক সু’র সঙ্গে আবার কলেজ ক্র্যাস্টের প্রিন্টে টাই গলায় ঝুলিয়ে ফুল বাবু সেজে পড়তে বসতে হবে! অ্যাকাডেমিক ব্লকে তখন চক্কর দেবেন একজন ডিউটি মাস্টার। তিনি ঘুরে ঘুরে দেখবেন ছেলেরা পড়ছে, নাকি দুস্টুমি করছে! ধরা পড়লে এক্সট্রা ড্রিল তো বান্ধা।

তখন ক্লাস নাইন কি টেনে পড়ি আমরা। ১৯৭৭ বা ‘৭৮ সাল। মানবিকের চারজনের জন্য আলাদা ক্লাস রুম ছিল না। থাকতাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসের সঙ্গে। অ্যাকাডেমিক ব্লকে সিড়ি দিয়ে ওঠে দোতলার বাম পাশের ক্লাস রুমটাই আমাদের। কোনো এক রাত। নানা সৃজনশীলতা ক্যাডেটদের মাথায় আবার খোলে বেশি। প্রেপ শেষ হলেই সোজা ডাইনিং হল। আহ্‌, কলেজের খাবারগুলো মনে পড়লে এখনো জিহ্বায় পানি চলে আসে!

তো সেই রাতে প্রেপ শেষ হতেই কেউ একজন খোলা গলায় পরিচিত গান ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় পুরো ক্লাস গলা মেলায় তাতে। কিন্তু যন্ত্র তো নাই! সঙ্গে সঙ্গে ডেস্কের কভারগুলো হয়ে গেলো যন্ত্র। গানের সঙ্গে ড্রামও যোগ হলো। তাতেও তো জমছে না। একজন ছুটে গেল সুইচ বোর্ডে। ব্যাস। গানের তালে তালে বাতি জ্বলছে, নিবছে। পুরো জমজমাট কনসার্ট।

কনসার্ট শেষে সবাই ছুটলাম ডাইনিং হলে। কিন্তু একি! আজ দেখি প্রিন্সিপালও আমাদের সঙ্গে খাবেন! হাউস ধরে ধরে লাইনে দাঁড়ানো ক্যাডেটদের সামনে গিয়ে ওস্তাদ হালিম (তোমাদের ভাষায় স্টাফ, আর ওস্তাদের নামটাও মনে নেই। আমাদের এক বন্ধুকে ওই নামে ডাকতাম বলে তার নামটাই জুড়ে দিলাম) আওয়াজ দিলেন “ক্লাস …….. ফল আউট”। ডাইনিং হলের লাইন থেকে বেরিয়ে আমরা নজরুল হাউসের সামনের রাস্তায় ফলইন হলাম।

প্রিন্সিপাল এলেন, এলেন ডিউটি মাস্টার আর ওস্তাদ হালিম। প্রিন্সিপাল জানতে চাইলেন কি হয়েছে? অ্যাকাডেমিক ব্লকে এতো চিৎকার চেচামেচি কেন?

আমরা চুপ। একজন অন্যের মুখের দিকে তাকাই। কিছু বলি না। ভেজা বেড়ালের মতো চুপসে গেছি সব। প্রিন্সিপাল জানতে চাইলেন হালিম ওস্তাদের কাছে। কি হয়েছিল?

ওস্তাদ শুরু করলেন বণর্না। “স্যার, আমি আওয়াজ শুনি দৌঁড়াইয়া গেলাম। দেখি স্যার, খালি ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে, জ্বলে আর নিভে।”

ব্যস। আমাদের সমস্ত বাহাদুরি শেষ। শুরু হলো পানিশমেন্ট (তোমাদের ভাষায় পাঙ্গা)। আর কিছু মনে নাই। স্মৃতিতে কেবল একটাই ডায়লগ বারবার হানা দেয়, “স্যার, ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে, জ্বলে আর নিভে।”

৮,৯৮১ বার দেখা হয়েছে

১২৩ টি মন্তব্য : “স্যার ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে”

  1. জিহাদ (৯৯-০৫)

    প্রথম দিকে স্টাফদের আমরাও ওস্তাদ বলতাম। পড়ে ক্যাম্নে ক্যাম্নে জানি সেটা স্টাফ হয়ে গেল।

    ডানছের পোস্টে ডান্স না দিলে ক্যাম্নে কি :tuski: :guitar: :awesome:


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  2. আহা! আমাদের একটা ট্রেডমার্ক গান ছিলো।

    সব সখীরে পার করিতে নেবো আনা আনা
    তোমার বেলায় নেবো সখী তোমার ............(সেন্সরড 😛 )

    গানের সাথে আবার কয়েকজনের লাইভ নাচ থাকতো।

    “স্যার, ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে, জ্বলে আর নিভে।”

    :khekz: :khekz:

    জবাব দিন
  3. আন্দালিব (৯৬-০২)
    স্মৃতিতে কেবল একটাই ডায়লগ বারবার হানা দেয়, “স্যার, ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে, জ্বলে আর নিভে।”

    :thumbup: :thumbup:-এই দুইটা সেই রসাত্মক মারাত্মক স্টাফের জন্যে!!

    জবাব দিন
  4. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    ওরে নারে কতদিন পরে ক্যাডেট কলেজের কাহিনী আসল। চরম। আমাদের জুনিয়র গ্রুপের লিডার ফয়েজ ভাই কই, ভাইয়া জিহাদ পাংগা খাচ্ছে, কিছু করেন আইসা... নইলে কেমনে কি ...

    জবাব দিন
  5. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ক্যাডেট কলেজে জোকসগুলা পুরা ইউনিক জোক। দুনিয়ার কোন জোকের বাপেরও সাধ্য নাই এই জোক গুলারে বিট দেয়।

    এইটা কিন্তু "ফান" জোক, রক্ত খাওয়া জোক না B-)


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  6. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    :pira: যাইয়ো না! মাসুম নাম হইলে কি হইবো, ওর কাজ-কাম মোটেও হিন্দি সিনেমার মাসুমের মতো না!! একেবারে ডাইরেক্ট!! ;;; ;;; ;;; ;;;


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  7. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
    এইটারে কয় ডাউট নেয়া। আমি লক্ষ করছি, কামরুলের ব্যাপারে সানা ভাই শুধু ডাউট নেয়। পাংগা দেয় না।

    কামরুল কি ত্যাল দিছে কে জানে 😕

    এইডা কার কমেন্ট? কামরুলরে পাঙ্গা দিতে আমারে কে উৎসাহ দিতাছে? জুনি গ্রুপে নাম লেখাইয়া তলে তলে কেডা গাছ (আমাদের বৃক্ষ না) কাটতাছে? :grr: :grr: :grr: :grr:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  8. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
    “স্যার, ডানছের ছোডে খালি বাত্তি জ্বলে আর নিভে, জ্বলে আর নিভে।”

    :khekz: :khekz:
    নস্টালজিক হইলাম। অবশ্য নস্টালজিক হওয়া ঠিক হয়নাই। কারণ কলেজে থাকতে এর কাছাকাছি একটা ঘটনা ঘটলেও আমি সেদিন ক্লাসে ছিলাম না। হাসপাতালে অ্যাডমিট ছিলাম। হাউজে এসে শুনি এই ঘটনা, ততদিনে আবার কয়েকজন ওয়ার্নিং-ইডি-ও খেয়ে গেছে।
    সে সময় নিজেরে বেশ লাকি মনে হলেও এখন আনলাকি মনে হচ্ছে। জীবন থেকে একটা ঘটনা কমে গেল। 🙁

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।