উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় : দুই

ভোটের ফলাফল দেখে-জেনে বেশ আতংকিত হয়েই পরদিন ৩০ ডিসেম্বর সিসিবিতে লিখেছিলাম, “উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায়”। এটা নিয়ে ব্লগে বেশ প্রাণবন্ত আলোচনাই হয়েছিল। অনেকে আমার মতোই সংশয় জানিয়েছিল। আবার অনেকে ছিল আশাবাদী। মনে করেছিল, অতীত থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট মন্ত্রিসভা শপথ নেয় ০৬ জানুয়ারি।

ভোটের পর সময় গেছে তিন সপ্তাহ, আর সরকার গঠনের পর দুই সপ্তাহ। একটা সরকারের কাজের মূল্যায়নের জন্য সময়টা যথেষ্ট আমিও বলবো না। কিন্তু একটা প্রবাদ আছে না, “প্রাতঃকাল দেখিয়াই দিনটি বোঝা যায়”; তারই যেন নজির দেখতে পাচ্ছি স্পষ্টভাবে।

ভোটের পরপর ছাত্রলীগের বিচি-কঞ্চিদের উদ্বাহু নাচন, প্রতিশোধে উম্মত্ত আচরণ ইতোমধ্যে দেখা হয়ে গেছে। হাজী সেলিম, শেখ হেলাল, শামীম ওসমান, হাসনাত আবদুল্লাহ, হাজী মকবুলরা নাচতে নাচতে দেশে ফিরে এসেছে। আইন ভঙ্গ করে সাজা পাওয়া আসামিরা জামিন পাচ্ছে বা দেয়া হচ্ছে! শিগগরিই নাকি দেশে ফিরছে কুখ্যাত জয়নাল হাজারি। শেখ রেহানার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাস নিয়েছে! সজীব ওয়াজেদ জয় ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের কাছে রাজনীতি নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের একজন ডেপুটি স্পিকার করা হবে বিএনপি থেকে। আমরা নেত্রীর উদারতায় বাহবা দিয়েছি। এখন শুনছি সংবিধান সংশোধন করে দুইজন ডেপুটি স্পিকার করা হবে, যাতে সরকারি দল থেকেও একজন রাখা যায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যাগ নিয়েছিল। উপজেলা পরিষদকে সংসদ সদস্যদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের হস্তক্ষেপমুক্ত করেছিল। গতকাল দেখলাম সৈয়দ আশরাফ বলছেন, উপজেলা পরিষদে সাংসদদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধন করা হবে।

ছোট আর নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা করে চমক দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। শুনছি সেটাও শিগগিরই আরো বাড়তে যাচ্ছে। মন্ত্রীর মর্যাদায় আরো ৬ জনকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।

আমি গণতন্ত্র চাই। গণতান্ত্রিক শাসন চাই। এবার ভোটের আগে ‘না’ ভোট দেয়ার চিন্তাটাই আমার মধ্যে প্রবল ছিল। কিন্তু শেষ মূহুর্তে এসে মত পাল্টাই। যুদ্ধাপরাধী আর দুর্নীতিবাজদের নিয়ে আরেকটি সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চাইনি। নিজের আর লজ্জায় ফেলতে চাইনি। তাই নৌকায় ভোট দিয়েছিলাম। একই বিপদে পরেছিলেন দেশের আরো লাখো-কোটি ভোটার। উত্তপ্ত কড়াই নাকি জ্বলন্ত চুলা- কোনটা বেছে নেবো এমন বিকল্প থাকলে আপনি কি করতেন?

মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এখন নিজেকে প্রশ্ন করছি, আমি কি ভুল করেছি?

৪,৪৬৯ বার দেখা হয়েছে

৯০ টি মন্তব্য : “উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় : দুই”

  1. শেখ রেহানার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাস নিয়েছে!

    এহেন নির্লজ্জ্ব ও অপমানজনক কাজে(নিজের চাইতে কম যোগ্যতাসম্পন্ন কারো কাছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের অনেকের এই যোগদান আমার কাছে খুব একটা সম্মানজনক বলে মনে হয়নি )অংশ না নেবার মত এবং তার প্রতিবাদ করার মত দৃপ্ত প্রত্যয়ের অধিকারী কেউই কি ছিলেন না সেখানে?

    জবাব দিন
              • সানা ভাই,কাইয়ুম ভাই ফন্ট দেওয়ায় সেইটার সাহায্যে পুরাটা পড়লাম(উনারে কল দিয়া এট্টা ছোট ধন্যবাদও দিছি,বড়টা আপনের প্রাপ্য)।

                ভাইয়া আমার মনে হচ্ছে আমি বোধহয় ওভার রিএ্যাক্ট করে ফেলেছি।সেমিনারে শেখ রেহানার মেয়ে আমেরিকায় তার নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে-এইটাকে কি আমি একটু বেশি খারাপ ভাবে দেখে ফেলিনাই তো(আমার প্রথম কমেন্ট দ্রষ্টব্য)??

                তবে হ্যাঁ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সেমিনারে শেখ রেহানার মেয়ে এই পরিচয়ে(এই মেয়ে যেই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ুক না কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেমিনারের মত ভাবগম্ভীর যায়গায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য সে কতটুকু যোগ্য,আর তার চেয়েও যোগ্য অন্য কেউ ছিল কি ছিলনা দুইটাই প্রশ্নসাপেক্ষ)এসে বিনামূল্যে জ্ঞান বিতরণ(??!!) অন্ততঃ আমার কাছে খুব রূচিকর কিছু না।আমার এন এস ইউ তেও এই জিনিস দেখছি-বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের আমেরিকা থিকা খালি ব্যাচেলর ডিগ্রি নেওয়া মাথায় স্পাইক আর চোস্ত আমেরিকান ইংরেজির অন্তঃসারশূণ্য কথাবার্তাওয়ালা পোলাপাইন আইসা ২০/২৫টা পিএইচডি ডিগ্রিওয়ালা শিক্ষকদের সামনে আজাইরা ভাব নিতাছে-শিক্ষকরাও তেলানোর জন্য সম্পূর্ণ ফাউল কথাবার্তার কোন প্রতিবাদ করতেছেনা।এইরকম এক পোলা চায়নার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নিয়া জ্ঞান দিতে আইসা মাও সে তুং রে "এ ব্যান্ডিট হু যাস্ট গট লাকি টু হ্যাভ দা পাওয়ার,ডিড নট ডু এনিথিং ফর চাইনিজ ডেভেলপমেন্ট এট অল" কওয়ার পর আমি আমার বাংলাদেশি উচ্চারণেই বেশ এক হাত নিছিলাম তার বাপের সামনেই।বিশ্বাস করেন আর নাই করেন বস-পোলার অপমান দেইখা ডিরেক্টর সাহেব এই অধমকে জিগাইছিল কুনখান থিকা পাস করছি-এন এস ইউতে কয়দিন হইছে এইসব।ক্যাডেট শুইনাই মনে হয় সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র দেইখাও বেশি একটা ঘাটায় নাই-আমি তো ভাবছিলাম লাত্থি দিয়া বাইর কইরা দিবে,মামা চাচাও নাই যে উদ্ধার করতো।

                "উদারতা" দেখাইতে গিয়াই কিছু কয় নাই মুনে হয়,আমার ডিপার্ট্মেন্টাল হেড ডাইকা আইনা হালকা ঝাড়ি দিলেও উনার চোখে স্নেহের উপস্থিতিটা লুকাইতে পারেন নাই...

                পুরান কথা মনে পইড়া গেল।অবশ্য সেকেন্ড ইয়ারের "আদর্শবাদী","প্যাশনেট" তরুণ না হয়া পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া শেষ বয়েসের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হইলে হয়তো এইসব বাইরাইতোনা এই ব্যাপারে আমি ৮০ ভাগ নিশ্চিত।

                তারপরেও বলি-অবাধ্য,অদম্য,মাথা নত করতে অস্বীকার করা কেউ কি নাই?

                জবাব দিন
                  • ইয়ে মানে এর আগে একটা মন্তব্য ছিল যেইখানে এন এস ইউ এর অনেক পিএইচডি শিক্ষকের কেবল ব্যাচেলর পাস করা বোর্ড অফ ডিরেক্টরের তনয়ের ক্লাসে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত চাপাবাজি শুনতে।এখন দেখি ওইটা উধাও 🙁 মন্তব্য যদি ডিলিট করা হয় তাইলে এডু সাহেবরে এট্টু কষ্ট কইরা আমারে যুদি কারণটা কইয়া দিতেন তাইলে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতাম আরকি।প্লিজ কেউ মাইন্ড খাইয়েন না-এইটা আমার দাবী না-অনুরোধ 🙁

                    জবাব দিন
                    • মাস্ফু
                      কোন কমেন্ট তো ডিলিট করার প্রশ্নই উঠেনা, অন্তত মন্ত্যকারীকে না জানিয়ে। তোর মন্তব্যটা কি উপরে যেতা আছে সেটাই নাকি অন্য আরেকটা ছিলো। 🙁

                      বেশি বড় মন্তব্য হলে মাঝে মাঝে স্প্যাম হিসেবে ধরে ফেলে। ওইটা খুজে বের করে তখন নন-স্প্যাম করে দিতে হয়। কিন্তু আমি অনেক খুঁজেও তোর অন্য কোন মন্তব্য পেলাম না। 🙁

                      আর একটা কথা , তুই, লগ ইন না করে কমেন্ট করিস। এই জন্যেও স্প্যামিং হতে পারে মনে হয়। লগ ইন করতে খুব সমস্যা হচ্ছে? 😀

                • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

                  মাস্ফ্যু : তোমার মন্তব্যটা নিজেই আরেকবার পড়। কিছুটা স্ববিরোধী মনে হচ্ছে না? প্রথমে বলছো 'ওভার রিঅ্যাক্ট' আবার পরে জাস্টিফাই করছো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যদি মার্কিন আর বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারের অভিজ্ঞতা জানতে হয়, তার আর কি কোনো পথ নেই? সেটা টিউলিপের মুখ থেকে জানতে হবে?

                  টিউলিপের এই অভিজ্ঞতা বিনিময় ছাত্রলীগের সঙ্গে হলে সঠিক হতো বলে আমার মনে হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পর্কে যেসব বলেছ, তা নিয়ে ভিন্নমত নেই। অন্য সব পেশায়ও একই অবস্থা। সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গিয়ে মতবিনিময় করে!! পুরো দেশটা চাটুকারে ভরে গেছে।


                  "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

                  জবাব দিন
        • একেবারে দলীয় একজনকে ঢাবি'র ভিসি করা হয়েছে যখন তখনি বুঝেছি আসলে খুব বেশি কিছু বদলাবে না এবারো। সেই পুরোনো গল্প। 🙁
          মাঝে মাঝে মনে হয় এই সব নেতাদের ধরে বঙ্গোপ্সাগরে ভাসিয়ে দেই। তারপর আমরা সবাই মিলে নিজেরদের মধ্যে থেকে নতুন একজন নেতা বের করে আনি।

          জবাব দিন
  2. মেহেদী হাসান সুমন (৯৫-০১)
    মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এখন নিজেকে প্রশ্ন করছি, আমি কি ভুল করেছি?

    সানা ভাই, আমার মনে হয়, সেই আগের দিন ফিরে আসছে আবার। সাহারা খাতুন ছাত্রলীগ control করতে পারছেন না। প্রশাসন এর সব জায়গায় শুরু হয়েছে নিঃলজ (বানান টা জানি না) দলীয় করন ...

    এই বাংলাদেশ আমারা চাই না ...

    জবাব দিন
          • আমি শিউর না এটা সত্যি কিনা তবে শুনেছি শেখ হাসিনা নাকি আমেরিকাতে একবার মন্তব্য করেছিলেন ,"দেশ চালনো অত কঠিন না , কঠিন হলো আওয়ামি লীগ চালানো। "

            নির্বাচনের পর দেশে সন্ত্রাস আবার ফিরে আসছে। লাশ পড়ছে লাশ অনেক বেশি বেশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও সাহারা খাতুন কথা বলছেন থানার ওসিদের মতো। ছাত্রলীগ তার আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলামের কথা মনে হচ্ছে বার বার। তেমন কাউকে কি দেয়া যেতো না দায়িত্বপুর্ন এই পদটি। সততা আর দক্ষতা যে একদমই আলাদা ব্যাপার ইতি মধ্যে সাহারা খাতুন তার প্রমান দিয়েছেন।

            জবাব দিন
  3. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    হমম...আলামত বেশি ভালো ঠেকতেসে না... 🙁

    ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি করাটা রীতিমত দৃষ্টিকটু...

    উপজেলা পরিষদ বানায়া আবার সাংসদদের হাতে কর্তৃত্ব ফিরায়ে দিলে সেই তো থোড় বড়ি খাড়া x-(


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)

    ঝুড়িতে দুইটা মাত্র আম ...
    দুইটাই পোকায় খাওয়া পঁচা ...
    আম তো লইতেই হবে ...
    নিজের অসহায়ত্বে, অক্ষম আক্রোশের জ্বালাই শুধু বাড়ে।


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
    • বন্য (৯৯-০৫)

      ক্যান,দরকার হইলে আমই খামুনা..
      আবার তা বইলে যে গোআ,হুমু্এর মত বাংগি খামু তাও না..

      যেই ফলটা ভালা ...সেইটাই খামু..হোক না সেটা বরই কিংবা জাম

      ইয়ে মানে,আমি কি বুঝাইতে পারলাম?? 😕
      ক্লিয়ারতো ব্যাপারটা ,না?? 😀 😀

      জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      বন্য, এবার তুমি খুব সহজ সমাধানের চেষ্টা করেছ। এটা এতোটা সরল নয়। রাজনীতি তো দেখছি। খাওয়ার মতো বরই পর্যন্ত এখানে নাই।

      সরব-সোচ্চার, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ (সিভিল সোসাইটি- শব্দটিকে দলবাজরা গালি বানিয়েছে), আপসহীন-দলনিরপেক্ষ-স্বাধীন মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের মতো দেশে মানি না মানি বিদেশী ও দাতা গোষ্ঠির প্রভাব অনেক সময় ভালো ফলও দেয়।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
      • তাইফুর (৯২-৯৮)
        খাওয়ার মতো বরই পর্যন্ত এখানে নাই।

        গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে 'ফল' খাইতেই হবে ... সমস্যা হইল খাওয়ার মত ফল নাই। সবই নষ্ট ...
        তাইলে 'গণতন্ত্র' টিকায়া রাখার উপায় কি ?? আমি কোন ভবিষ্যৎ তো দেখি না। যে'ই যায় লংকা, সে'ই হয় রাবণ ... উত্তরণের উপায় নাই ... ৫ বছর এরে সহ্য কইরা বিরক্ত হইয়া ৫ বছর ওরে ... তারপর ... যেই লাউ সেই কদু।

        টিটো'র কথা মনে পরে ...

        একজন মহাথীর প্রয়োজন


        পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
        মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

        জবাব দিন
        • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

          তাইলে শুধু মাহাথির না পুরা জাতিটারেও ইম্পোর্ট করতে হইবো। কুনু মাহাথিরের ক্ষমতা নাই বাঙ্গালিরে সাইজ করে।

          চরম আশাবাদীরা বলে, আমাদিগকে ধীরে ধীরে আগাইতে হইবে। দিনে দিনে তো দেশ এগুচ্ছে।

          আর হতাশ মানুষ বলে, আর কতো অপেক্ষা? বারবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর কতো? বারবার আশা করি, আর হতাশায় ডুবে যাই!!


          "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

          জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ ভাই আপনার লেখা পড়ে আমার সবচেয়ে খারাপ লাগল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচারদের কাহিনি। কারন এরাই কিন্তু আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল । এরাই যদি এভাবে দেওলিয়াপনা দেখায় তাইলে আসলেই আমাদের দিন বদল হবে তবে ভালর দিকে নয় বরং খারাপের দিকে । আমার আর খারাপ লাগছে এইটা ভেবে যে এদের কেও হয়ত দেশপ্রেমের মহান কোন বাণী আমাকে ক্লাসে শিখাচ্ছে । সত্যিই সেকুলাস এই দেশ ।
    আর বন্যের কথাই ঠিক । পরিবর্তনটা আমাদেরি আনতে হবে ।

    জবাব দিন
  6. বন্য (৯৯-০৫)
    আর বন্যের কথাই ঠিক । পরিবর্তনটা আমাদেরি আনতে হবে ।

    এইটুকু বস সবাই কইতে পারে,কয়ও...

    বাট বলার পরেই আবার সবাই কথামুড়ি দিয়া যেই ঘুম দ্যায়...এইটারেই আমার সবচে খ্রাপ লাগে... (আমিও এইরকমই..নাহ বদলাইতে হইবই)

    এইরকম পাবলিক সবগুলার ব্যাঞ্চাই... 😡 😡 😡 😡 😡 😡

    জবাব দিন
  7. বন্য (৯৯-০৫)

    বস,আমি বুঝাইতে পারি নাই...
    আমার ব্যাক্তিগত মত হল,
    যা খারাপ,তা বাতিল কর,আপোষের সুযোগ নাই....হ্যা অনেকক্ষেত্রে আপোষ ফল দেয় বটে কিন্তু তাতে মিসগাইডই হবার চান্স বেশি...
    খাওয়ার বরই না থাকলে অ্যাটলিষ্ট গাছটা পুইতা দিমু...অনেক কষ্ট হবে জানি..প্রচুর সার দিতে হবে..অনেক যত্ন নিতে হবে..সারাক্ষন নজরে রাখতে হবে...বাট ফলটা যেন হয় একদম পিউর..

    আপসহীন-দলনিরপেক্ষ-স্বাধীন মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করতে পারে

    ২০০% সহমত

    বিদেশী ও দাতা গোষ্ঠির প্রভাব অনেক সময় ভালো ফলও দেয়

    কেন দেয়??কেন দিবে??সেইটাই ভাবতে বলতেসি...

    ওরে আজ আমার কি হলরে..আমিতো রাজনৈতিক হয়ে গ্লামরে... :clap:

    জবাব দিন
  8. শওকত (৭৯-৮৫)

    শেখ হাসিনার প্রতি এখনো আস্থা রাখতে চাই। এর কোন বিকল্প আপাতত দেখছি না। আর মিডিয়াতো আছেই। এবার যে মিডিয়া হানিমুন পিরিয়ড রাখলো না সেটা আমাকে একটু হলোও আশ্বস্থ করলো।

    জবাব দিন
  9. জিহাদ (৯৯-০৫)

    সব ব্যাপারে হতাশা আমার মধ্যে বরাবরই বেশি কাজ করে। কিন্তু এবার আওয়ামীলীগকে ঘিরে তাও বেশ আশাবাদী মনোভাব নিয়েই ছিলাম।
    বিএনপির বদলে আওয়ামীলীগকে না হয় এবার আনা হলো দেশ চালানোর জন্য। কিছু একটা পরিবর্তনের আশায়। তারপর আওয়ামীলীগও যদি সেই বিএনপির পথ ধরেই চলে তাহলে তারাও নেক্সট ইলেকশনে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। কিন্তু তাদের চেঞ্জে কে আসবে? সেই পুরোনো বি এন পি? তাইলে লাভটা হইলো কি। এত ইলেকশন ফিলেকশন বাদ দিয়া একটা প্রোগ্রামিং লুপ করে ছাইরা দিলেই তো হয়। এক টার্মে বি এন পি তো আরেক টার্মে আওয়ামীলীগ।
    কিন্তু আমরাতো মানুষ। আর যদি পাশাপাশি সুস্থ্য চিন্তার মানুষ হই তাহলে এইরকম ব্যাপার আমরা কোনভাবেই মেনে নেবনা। তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের হাতে কোন অপশনটা রইলো? দেশটাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবার জন্য? সেক্ষেত্রে খোলা চোখে আর কোন অপশন তো দেখছিনা। খুবই কনফিউসড এবং হতাশাজনক ব্যাপার 🙁


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  10. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    সার্বিকভাবে প্রচণ্ড হতাশ, সবকিছু নিয়েই, সম্ভাব্য সকল উপায়েই। এটা কার দোষ কে জানে। কিছুই বুঝতে পারছি না যে...
    কোন ভেল্কিবাজির আশা অবশ্য করিনি। কিন্তু উল্টো ভেল্কিবাজির সম্ভাবনা যে তীব্র হয়ে উঠছে...

    জবাব দিন
  11. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    সামান্য একটু অফ টপিকঃ-

    সিমির জন্য টাকা তোলার কাজ হচ্ছে সেটা তো অনেকেই জানেন। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওপেন এয়ার কনসার্ট করা হচ্ছে। শুভ উদ্যোগ সন্দেহ নেই। কিন্তু সিমির টাকা তোলার এই জিনিস ব্যবসায় পরিনত করে ফেলেছে আমাদের কতিপয় মেধাবী ছাত্ররা।

    অলরেডি তারা দেড় লাখ টাকা স্রেফ মেরে দিয়েছে। একাউন্টে জমা দিয়ে এক লাখের কিছু বেশী। অন্যপক্ষ অর্থাৎ সিমির আত্মীয় এবং স্কুল ফ্রেন্ডরা মিলে বড় সড় কনসার্ট করতে চাইলে তারা বাধা দিচ্ছে- সব তারাই করবে। খবর পেলার এরা লীগের পোলাপান।

    আমরা কবে মানুষ হবো???

    জবাব দিন
  12. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    রাতারাতি সব ফেরেস্তা হয়ে যাবে এমন উদ্ভট কল্পনাবিলাসী আমি নই। কিন্তু যা চলছে তাতে আশাইবা রাখি কি করে?

    সুশাসন- আমরা এটাই শুধু দেখতে চাই। আইনের চোখ থাকবে অন্ধ। কাউকে রেহাই দেবে না। দোষ আমি করলেও।

    ধরে নিই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলো। নিজামী-মুজাহিদের যাবজ্জীবন হলো। কিন্তু সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে দেশ ডুবে গেল। ছাত্রলীগ আর মন্ত্রীর ছেলেরা আমাদের ঘাড়ে চেপে বসলো। আরো আরো তারেক রহমান, গিয়াস মামুন, ফালুরা হ্যামার, লেক্সাস দাপিয়ে বেড়ালো। বিরোধী দল, সাংবাদিকদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দিল।

    চলবে? খুশি হবো আমরা?


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  13. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    বস,
    আসলেই বুঝি আমাদের পরিত্রাণ নাই।
    আফসোস লাগে খুব।
    😡

    একটা লিংক দেই। সময় পাইলে পড়ে দেখেন ভাইয়া।
    খুব মন খারাপ করে লিখছিলাম বেশ কিছুদিন আগে।
    http://www.somewhereinblog.net/blog/tattik/28821469


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  14. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আশির দশকে বলিউডের একটা ফ্যান্টাসি সিনেমা হয়েছিল। অমিতাভ বচ্চন নায়ক। নামটা মনে নেই। রাজনীতিবিদদের অনিয়ম-দুর্নীতি-লুটপাটে ক্ষিপ্ত-ক্ষুব্ধ নায়ক নির্বাচনে জিতে মূখ্যমন্ত্রী হলেন। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গুলি করে সব মন্ত্রীকে মেরে ফেললেন। হা....হা...হা.....

    ভাবতে মজাই লাগে!!


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  15. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা নিয়া আওয়ামী লীগ কিছুটা লেজে গোবরে করে ফেললো দেখলাম আজকে। মিডিয়া এখন অনেক মুক্ত, সাথে সাথে বেশির ভাগ টিভি চ্যানেল আওয়ামী বিরোধী শিবিরের মালিকানায়। তাই মোটামুটি সবাইই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘটা অরাজকতাগুলো তুলে এনেছে। কমিশনাররাও দেখলাম সরাসরি তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিলেন। ইন্টেরিমদের অধ্যাদেশটা অনুযায়ী দেড় যুগ পরেরে এই নির্বাচনের বিজয়ীরা বেশ ক্ষমতাধর হবার কথা ছিলো। সেটা নাকি সরকার বদলে আবার সংসদদের হাতেই রাখার ব্যবস্থা করছে। উপজেলা চেয়ারম্যান রা স্ট্র্যাটেজিক্যালি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন দেখেই সব কয়টি দল জাতীয় নির্বাচনের আগে ইন্টেরিমদের হাতে অই নির্বাচন হতে দিতে চায়নি। এখন এই নির্বাচনটাতে মন্ত্রী এম পি দের ছোটাছুটি দেখে সেই পুরনো ভয়টাই ফিরে আসছে। সাথে সাথে সোহেল তাজের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কথাটাও হতাশার সৃষ্টি করলো।

    ঢাকা ভার্সিটির এক উঠতি ছাত্রলীগ নেতার সাথে কথা হলো, (উঠতি বললাম, কিন্তু সে আসলে মাস্টার্স দিয়েছে এইবার) যাহোক তার ভাষ্যে, হল গুলোতে যা হচ্ছে সেটা নাকি ঠিকই আছে, কারণ এতদিন ওরা অবহেলিত ছিলো খুব। এবার সেই তুলনায় নাকি তারা তেমন কোন একশনই নেয়নি এখোনো। আমার ছোট ভাই জানালো, চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে ছাত্রলীগ মিছিল করার সাহস আর অবরোধ সৃষ্টি করে পড়ালেখার ঝামেলা করলেও শিবিরের কাছ থেকে কিছুই বের করতে পারেনি। এই হল দখলের রাজনীতি থেকে কিভাবে বের হওয়া যায়? সাথে সাথে জামাতের অপশক্তির হাত থেকেই বা কিভাবে শিক্ষাঙ্গন গুলো মুক্ত করা যায়? ঢাকা ভার্সিটির সেই নেতার ভাষায় হল বা ক্যাম্পাস দখল করে। তাই কী? আমি জানিনা।

    লাবলু ভাই যে আশংকার কথা বলেছেন, আমি তাই এতে পুরোপুরি আক্রান্ত। এই অসুস্থ সংস্কৃতি থেকে বেরুতেই হবে। বার বার মন্দের ভালো পিক করতে করতে আমরা হয়তো ভালোর সংজ্ঞাই ভুলে যাবো একদিন।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      ভালো বলেছ। উপজেলায় যে চিত্র দেখলাম, আমারই কিছু সহকর্মী বলছিল- তেমন তো বেশি নয়। ৩৮ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে বড়জোর ১০০ বা ১৫০ কেন্দ্রে ঝামেলা হয়েছে। হয়তো সংখ্যাটা তাইই।

      কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনের গুণগত মান তুলনা করছি ২৯ ডিসেম্বরের সঙ্গে। ২০০১ বা এর আগের নয়। আওয়ামী লীগ বা মহাজোট সরকার যাই বলিনা কেন তাদের সব কাজের তুলনা হবে তত্ত্বাবধায়কের দুই বছরের সঙ্গে। বিএনপির আগের ৫ বছরের তুলনায় নয়।

      এই ভোটটা ডিসেম্বরে হলে এসব কিছুই হতো না। ভোটার নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতো। অধিকাংশ স্থানে আওয়ামী লীগাররা নিজেরা মারামারি, কেন্দ্র দখল করেছে। বিএনপি আগেই ভেগে গেছে। এরকম চললে সামনে কি হবে? সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তো আসছে একে একে। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র কোনোটাই সুষ্ঠু ভোটের গ্যারান্টি হবে না??

      আর ছাত্রলীগের ব্যাপার! ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এদের সবচেয়ে খাটাস (শব্দটি ব্যবহারের জন্য দুঃখিত) বলে পরিচিত। তৃতীয় শ্রেণীর মাস্তানরা এই সংগঠনের কর্মী। শিবির বা ছাত্রদল যদি অবৈধভাবে দখল করে থাকে সেটা সমাধানের বৈধ পথ নিশ্চয়ই আছে। ডাকসু, চাকসু, ইউকসু নির্বাচন হতে পারে। দখলবাজি, মাস্তানি, সন্ত্রাস দিয়ে নয়, যোগ্যতা, আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে, শিক্ষার্থীদের মন জয় করে অযোগ্যদের বিতারণের কঠিন পথে এরা যাবে না।
      ভালো রাজনীতি, সুস্থ সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করে জামাত-শিবিরের রাজনীতিকে পরাজিত করতে হবে।

      এতোদিন বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল-শ্রমিকদল-মহিলাদল সব খেয়েছে। এখন আমরা কেন ওদের ভাগ দেবো? আওয়ামী লীগ অ্যান্ড গং এখন সব একা চেটেপুটে খাবে!! এই তো চলবে! তাহলে কেন মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে? কেন এতো বিপুলভাবে লুটেরাদের তাড়িয়েছে?


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  16. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    বছরের পর বছর তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্ত্বেও এবার পরিবর্তনের নিষ্ফল আশায় থাকার কারণে আমি আমার ব্যান চাই... :bash:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  17. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    নিচের আমার মন্তব্যটা উদ্ধৃত করে বন্য কিছু প্রশ্ন তুলেছিল। আমি বলেছিলাম পরে জবাব দেব।

    বিদেশী ও দাতা গোষ্ঠির প্রভাব অনেক সময় ভালো ফলও দেয়

    কেন দেয়??কেন দিবে??সেইটাই ভাবতে বলতেসি…

    আমার জবাব : বিদেশী বা দাতাদের যে কোনো পরামর্শ কোনো বিবেচনা ছাড়াই নাকচ করে দেয়ার একধরণের মানসিকতা আমাদের কারো কারো মধ্যে আছে। আবার আরেক অংশ প্রশ্ন ছাড়াই দাতাদের সব কিছুকে গ্রহণ করে।

    আমার রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বিদেশী বা দাতাদের নিজস্ব স্বার্থ আছে। সেই স্বার্থের সঙ্গে আমাদের প্রয়োজনটা মিললে নিতে কোনো বাধা দেখি না। যেমন পাকিস্তানকে বিভক্ত করার মধ্যে ভারতের স্বার্থ ছিল। এতে পাকিস্তান দুর্বল হয়েছে। আর আমাদের স্বার্থ ছিল স্বাধীনতা, বাংলাদেশের জন্ম। তাই ভারতের সাহায্য আমরা নিয়েছি।

    ধরো বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের রাস্তা বানাতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে পয়সা দেবে। কিন্তু আমাদের চুরি, সিস্টেম লস কমাতে হবে। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে হবে। আমরা দেশের মানুষ হাজার চিৎকার করেও চুরি বন্ধ করতে পারি না। বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়না।

    ২০০৭-এর ২২ জানুয়ারি যে কোনোভাবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। নিজের সাজানো বাগানে ফুল ফুটাতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের তখনকার রাজনীতিও সবটা যথার্থ ছিল তা নয়। লাঠি-লগি, জ্বালাও-পোড়াওয়ের জঘন্য রাজনীতি। আমরা সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছিলাম। দেশ যাচ্ছিল গৃহযুদ্ধের দিকে। বিদেশী চাপ বিশেষত, মার্কিন, ব্রিটিশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ভূমিকা না রাখলে, সামরিক বাহিনীকে সবুজ সংকেত না দিলে ১/১১-এর হস্তক্ষেপ হতো না। আবার ডিসেম্বর, ২০০৮-এর নির্বাচনের ব্যাপারেও ওদের ভূমিকা ছিল।

    এর ভালো-মন্দ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আমার সঙ্গে কেউ একমত নাও হতে পারো। তবে আমার মনে হয়েছে বিদেশী হস্তক্ষেপ আমাদের স্বার্থের পক্ষে গেছে। ওদেরও স্বার্থ আছে। মার্কিনিরা সারাবিশ্বে স্বৈরতন্ত্র-অগণতান্ত্রিক শাসনের পৃষ্ঠপোষক হলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হতে চেয়েছে।

    এ ব্যাপারে তোমাদের মত জানাতে পারো। আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হতে পারে।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • কুটনৈতিক বিশ্বে স্বার্থের এমন লেন-দেন হতেই পারে। এতে আমি অন্তত দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই ধরনের নেগোসিয়েশন গুলিতে আমরা প্রায়ই আমাদের স্বকীয়তা ( ভালো শব্দটা মনে আসছে না) ভুলে দাতাদের তোয়াজ করতেই বেশি সচেষ্ট থাকি বলে মনে হয়েছে।

      ফলে প্রথম বিশ্বের তো বটেই, আমাদের আশেপাশের অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধিরাও আমাদের আভ্যন্তরীন বিষয়গুলিতে দিব্যি নাক গলিয়ে যাচ্ছেন। দাতাগোষ্টী হবার পুরোপুরি সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দল, এমনকি আমাদের স্বার্বভৌম প্রতিষ্ঠান গুলিকেও চলার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যা অনাকাঙ্খিত।

      অবশ্য এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের চাটুকার প্রবৃত্তিই বেশি ভুমিকা রাখছে বলে আমার মনে হয়। বিদেশী কুটনৈতিক দেখলে আমাদের প্রিন্ট আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা যেভাবে হামলে পড়েন দেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে তাদের মতামত জানার জন্য তা দেখে রীতিমতো লজ্জাই লাগে। আর আমলারা তো কূটনৈতিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মাঝে মাঝে নুয়ে পড়েন।

      ১/১১এর প্রক্রিয়া আর অর্জন নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে অনেক। তাৎক্ষনিক অনিবার্য সংঘাত (নাকি গৃহযুদ্ধ ?) থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে এটা একটা ভালো দিক কিন্তু তার পরবর্তীতে ১/১১এর স্রষ্টারা হাজারো বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৃথিবীর কোন দেশে সামরিক সরকার (নাকি সামরিক সমর্থিত সরকার) থাকবে এটা যেমন মেনে নেয়া যায় না তেমনি এও সত্যি আমরা যারা এর সমালোচনা করছি তারাও ওই অবস্থায়(১০ জানুয়ারী পর্যন্ত) এর বিকল্প কি ছিলো তা বলতে পারবো না।

      আবার এর পরেও অনেক প্রশ্নবিদ্ধ কাজ হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্ত এক জনকে রাজনীতিতে নিয়ে এনে নতুন শক্তি তৈরী করারা চেষ্টা, কিংস পার্টী তৈরীর চেষ্টা, একেওকে এই জেলে ভরা-এই ছাড়া, এসব কিছু। তার কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ উদ্দেশ্যে ছিলো তা এখনো আমার কাছে পরিষ্কার নয় বলে এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে যাবো না। তবে শেষপর্যন্ত ২৯ জানুয়ারী নির্বাচনকে আমি একটা বড় অর্জন বলে মনে করি।

      এবং বলতে দ্বিধা নেই , আমি একটু আশাবাদী ছিলাম (এখনো আছি কি?) এবার হয়তো কিছুটা হলেও গুনগত পরিবর্তন হবে। কিছু ঘটনায় মনে হচ্ছে আশাটা বড্ড বেশি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখন হাল ছাড়িনি।

      জবাব দিন
      • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

        কামরুল, তোমার অধিকাংশ বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তবে কিছু যোগ করি।

        এক. আমাদের মন্ত্রী-সাংসদ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকরা বিদেশীদের তোয়াজ করে নিজেদের অযোগ্যতা আর অক্ষমতায়। দর কষাকষিতে আমরা ভীষণ দুর্বল। কারণ জ্ঞান কম, হোম ওয়ার্ক করি না। আর অন্য ধান্দা তো আছেই। বিদেশ ভ্রমণের কোনো ভিক্ষা পেলে বর্তে যাই।

        দুই. অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দাতাদের নাক গলানো? নিজেরা মারামারি-ঝগড়া করে মধ্যস্ততার জন্য ওদের পায়ে পায়ে ঘুরলে শুধু নাক কেন পারলে আরো কিছুই ওরা গলাবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকলে, পায়ের নিচে মাটি থাকলে- কেউই সেটা করার সাহস দেখাবে না।

        তিন. ১/১১ সম্পর্কে নিজেই বলেছ, 'বিকল্প কি ছিল তা বলতে পারবো না'। এই সরকারের অর্জন বা ব্যর্থতা নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলবে। তুমি বলেছ, "১/১১এর স্রষ্টারা হাজারো বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন"। এটা ঢালাও হয়ে গেল না? তাদের ব্যর্থতা আছে। সেটারও অনেক কারণ আছে। সরকারের ভেতর অনেক সরকার ছিল। তবে অর্জনগুলোকে হালকা করো না। এখন এগুলো আরো বেশি করে টের পাবে। অর্জনগুলো ধরে রাখতে পারলে দেশ কিন্তু অনেকটা এগুবে। সামরিক সমর্থন বলে নাকচ করাটা ঠিক হবে না।

        চার. তুমি লিখেছ, "নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্ত এক জনকে রাজনীতিতে নিয়ে এনে নতুন শক্তি তৈরী করার চেষ্টা, কিংস পার্টী তৈরীর চেষ্টা, একেওকে এই জেলে ভরা" হয়েছে। ড. ইউনূস কারো তালে নেচেছেন বা তাকে কেউ রাজনীতিতে নামাতে চেয়েছে- এটা বেশি বড় ভাবনা হয়ে গেছে। আমি যতদূর জানি, এটা তার নিজের ভাবনার ফসল ছিল। ১/১১-তে কিন্তু তাকেই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি তাতে সম্মত হননি। রাজনীতিতে আসাও তারই নিজের সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি যদি টিকে থাকতেন, একটা মধ্যপন্থার উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল করা যেত- তাতে গণতন্ত্রই শক্তিশালী হতো। তারও অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু আজ যে আমরা দুই দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি, সেটার সুযোগ কিন্তু ওরা পদে পদে নিচ্ছে।

        তবে এটা ঠিক, কারো কারো মাথা থেকে কিংস পার্টি করার উদ্ভট পরিকল্পনা বেরিয়েছিল। সেটা চেষ্টাও চলেছে। সফল হয়নি। এর যথার্থ কারণও আছে।

        একে-ওকে জেলে ভরা- এই মন্তব্য ঢালাও হয়ে গেল না? একটা সৎ লোক কি জেলে গেছে? বলতে পারো আরো অনেক বড় দুর্নীতিবাজ জেলে যায়নি। হাসিনা-খালেদাকে জেলে পোরা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের বাইরে রেখে যদি সংস্কার করা যেত তাহলে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু এই দুই নেতা সৎ এটা নিশ্চয়ই কেউ বলবো না?

        পাঁচ. তোমার আশাবাদ নিয়ে শেষ করি, "কিছু ঘটনায় মনে হচ্ছে আশাটা বড্ড বেশি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখন হাল ছাড়িনি"। এটাই ঠিক। আমরা সম্ভবত বেশি আশা করি। আকাঙ্খার ঝুলিটা আমাদের বড়। তাই হতাশও হই তাড়াতাড়ি। আমাদের প্রকাশটা তাই কিন্তু কষ্টের প্রতিফলন। কারণ হতাশ তো হতে চাইনি, চাইনা। সুমনের গলায় বলি, "হাল ছেড়োনা বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে"। সেটাই করে যাই, যাবো।


        "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

        জবাব দিন
        • আসলে ভাইয়া আমি অর্জন গুলিকে হালকা করতে চাই নি। হয়তো সবকথা একসাথে বলতে গিয়ে গড়পরতা মন্তব্য হয়ে গেছে। দুঃখিত।

          এক. ও দুই. এর ব্যাপারে আপনার সাথে একমত।

          অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় গত ২ বছর আমাদের মতো সাধারন মানুষ অনেক শান্তিতে ছিলো । দ্রব্যমুল্য যদিও নিয়ন্ত্রনের বাইরে ছিলো, কিন্তু আমার ধারনা এর পিছনেও ব্যাবসায়ীদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি আর সিন্ডিকেট কাজ করেছে, নইলে এটাও সহনশীল পর্যায়ে আনা যেতো।

          ড. ইউনুসের ব্যাপারটা আসলে আমি পরিষ্কার ছিলাম না। সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয়েছিলো উনাকে কিছু মানুষ (১/১১ এর পিছনে যারা ছিলেন ) বিকল্প হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছেন। বিকল্প কিছু পেলে আমাদের জন্যেই সবচেয়ে ভালো হতো, কিন্তু অই যে বললেন "তারও অনেক সমস্যা আছে।" এ কারনেই আমি তাকে বিকল্প হিসেবে মেনে নিতে চাইছিলাম না।

          " একেওকে এই জেলে ভরা-এই ছাড়া" কথাটা বলে আসলে বলতে চেয়েছি ভাইয়া , জেলে ভরা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হলো কেন? তারা কি দোষী ছিলো না? চেনে জানা দূর্নীতিবাজ অনেককেই তো নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর এর ফলেই ধরাটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আমার কাছে।
          দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অনেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাতে স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ জাগে ওদের ২ বছর জেলে ভরে রাখা হয়েছিলো শুধু পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্যে, (কারন জেলের বাইরে রাখলে এদের রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে হতো ) বিচার করার জন্যে নয়।

          হাসিনা-খালেদাকে জেলে পোরা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের বাইরে রেখে যদি সংস্কার করা যেত তাহলে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু এই দুই নেতা সৎ এটা নিশ্চয়ই কেউ বলবো না?

          আমিও বলছি না এরা সৎ। কিন্তু বিদেশে পাঠানো নিয়ে নাটকটা চিন্তা করেন, বা খালেদা জিয়াকে সৌদিআরবে নির্বাসনে যেতে রাজি করানোর জন্যে চাপ দেয়ার কথাটা? দূর্নীতি করে থাকলে আপনি কেনো তাদের বিচার না করে বিদেশ পাঠিয়ে দিচ্ছেন? শুধু পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্যে?
          শেখ হাসিনার মামলাগুলির এখন কি হচ্ছে? একের পর এক জামিন হচ্ছে এখন, কেন? বাদীরা বলছে, তাদের দিয়ে মামলা করানো হয়েছিলো, সত্যি কি? মিস্টার টেনপার্সেন্ট (ওর নাম নিতে আমার ঘৃনা হয়)কে বিদেশ যেতে দেয়া হলো কেন? রাজনীতি করতে না দেয়া টা তো তার পাপের শাস্তি নয়। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই, বিচারের মাধ্যমে। নির্বাসন নয়।

          এইসব কারনে আমি ১/১১ কে কিছুটা বিতর্কিত বলেছি। কিন্তু এদের অর্জন আছে অনেক।
          রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্টানে চমৎকার কিছু নিয়োগ দেয়া হয়েছে বল আমি অন্ত মনে করি। পিএসসি, দুদক, নির্বাচন কমিশন আর রাজস্ব বিভাগের প্রধান পদে কিছু ভালো এবং সৎলোক বসানো হয়েছে। এসব সেক্টরে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সামান্য কিছু ভুল ভ্রান্তি বাদ দিলে চমৎকার একটা জাতীয় পরিচয় পত্র করা হয়েছে। মিডিয়াকে অনেক স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের কথা তো আগেই বলেছি। অর্জন হিসেবে এগুলি মোটেও কম কিছু নয়।

          আর এখন যা হচ্ছে তা করে কেউই পার পাবে না। মানুষ এখন অনেক সচেতন। এই সব সহ্য করতে করতে একদিন দেখা যাবে মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তখন মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে, সেদিন আপনি আমিও বেরিয়ে আসবো। তার আগ পর্যন্ত আমিও আপনার সাথে সুমনের গলায় বলি, “হাল ছেড়োনা বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে”।

          জবাব দিন
            • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

              মন্ত্রী মর্যাদায় আরো ৬জন উপদেষ্টাকে যোগ করো। কতো হলো? আরো নিশ্চয়ই আসিবে! আর যে সব মন্ত্রী হচ্ছে!! এদের ১০% কম্পিউটার, নেট ব্যবহার করতে পারে কিনা সন্দেহ! এই দিয়ে যে কিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে শেখ হাসিনাই মালুম!!!


              "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

              জবাব দিন
          • লাবলু ভাই হয়তো পড়ে ফেলেছেন। কিন্তু আরো অনেকে হয়তো পড়েনি। তাই লেখাটার অংশবিশেষ এখানে শেয়ার করলাম। উপ্রের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক ভেবে...

            জেনারেল মইন ইউ আহমেদ
            ওয়ান ইলেভেন

            জবাব দিন
              • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

                আরেকটা বিষয়। মইন উ'র লেখায় ইঙ্গিত থাকলেও আমি স্পষ্টই জানি, ১/১১'র পরিবর্তনের পেছনে একটা প্রধান ভূমিকা ছিল বর্তমানে ঢাকায় জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসলিয়নের।

                এই নারীর আকাঙ্খাটা ছিল যথার্থ। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশে তিনি একটা শান্তি স্থাপন ও সেনাবাহিনীকে বিতর্কে (খালেদা জিয়া চাইছিলেন সেনাদের ব্যবহার করে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনটা যে কোনোভাবে করে ফেলতে) জড়ানো থেকে বিরত রাখতে জোড়ালো ভূমিকা রেখেছিলেন। আমি তার ভূমিকার প্রশংসা করি, অনেকে এর সমালোচনা করে। বিএনপি এ কারণে তার ওপর ভীষণ খ্যাপা।

                ১/১১'র আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর কমপক্ষে তিনবার সেনাবাহিনী ব্যবহার করে নির্বাচন করার উদ্যাগের বিরোধীতা করে হস্তক্ষেপ করে। আর এর সবটাই দেশের ভেতর থেকে উদ্যাগ নিয়েছিলেন রেনাটা ডেসলিয়ন।


                "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

                জবাব দিন
  18. জুবায়ের (১৯৯৯-২০০৫)

    এভাবে আমাদের হতাশ হয়ে গেলে চলবে না।প্রবল জনমত আর মিডিয়ার ভূমিকার কারণেই কিন্তু গত নিবাচনের এই ফল।
    সেই মিডিয়ার কাছেই আবার আমার মত সাধারণ মানুষ আশা করছে।মিডিয়া কি পারেনা আমাদের সেই আশার সম্মান দিতে???
    মিডিয়া কতটুকু সফল হবে জানিনা। কিন্তু আমরা আজকে যেভাবে রাজনীতিবিদদের উপর হতাশ, তেমনি আমরা মিডিয়ার উপর হতাশ হতে চাইনা।

    জবাব দিন
  19. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ডেপুটি স্পিকার পদটা বিরোধী দলকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু আজ নিজেরাই সে পদ দলীয় সাংসদ দিয়ে পূরণ করে ফেললেন তিনি। এখন বলা হচ্ছে, বিএনপি নাম দেয়নি। প্রশ্ন হলো, বিএনপির কাছে কি নাম চাওয়া হয়েছিল?

    আবার বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধন করে ডেপুটি স্পিকার পদ বাড়িয়ে বিএনপিকে দেয়া হবে। শুরুতে এমন ব্যাখ্যামূলক ওয়াদা তো শেখ হাসিনা করেন নি। সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে রীতিমতো ফাজলামি শুরু হয়ে গেছে।

    আমি বোধহয় বেশি রেগে গেছি। ক্ষোভ লুকাতে পারছি না বা চাইছি না।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।