ক্যাম্পাসের রানী শম্পা

আমগোর আছিল শম্পা ম্যাডাম। পুরা কলেজের রানী। আন্ডা-আব্বা হুদা না সিনিয়র-জুনিয়রেরও বালাই নাই। পোলাপাইন খালি তসবি নিয়া জপে শম্পা, শম্পা। কেউ কেউ গভীর রাইতে উদাস হইয়া দরাজ গলায় হিন্দি সুরে গান ধরে “শম্পা শম্পা, ও মাই ডারলিং…..”। হাহ…

এইরকম একদিন সকাল ১০টা-১১টা অইবো। কুনু কারণে নির্ধারিত শিক্ষক ক্লাস নিতে আসে নাই। পোলাপাইন গ্যাজাইতাছে। কেউ কেউ আবার ব্ল্যাকবোর্ডে নানা সৃজনশীল আঁকাঝুকিতে ব্যস্ত। কে হইতে পারে এইডা, মিজান? হয়তো “ওয়াটার অব দ্যা ওয়ার্ল্ড” আখতারের ড্রয়িং করতাছে। তহন তো আর ব্লগ আছিল না। এমন সময় কার জানি নজর গেল প্যারেড গ্রাউন্ডে। সঙ্গে সঙ্গে কাউয়ার মতো তারস্বরে চিত্কার “শম্পা, শম্পা”!! পুরো ক্লাস হুমড়ি খাইয়া পড়লো। ডারলিং শম্পা নিবিড় সাইকেল চর্চায় ব্যস্ত। পা দিয়ে সাইকেলের প্যাডেলে হেয় এক একটা চাপ দেয় আর গুড়াইয়া যায় কচি কচি আমাগোর হৃদয়। প্যারেড গ্রাউন্ড চক্কর দিতাছে শম্পা, আর হাভাইত্যার মতো পোলাপাইনগুলা হা হইয়া দেখে তার সৌন্দর্য্য! সে সব বড়ই সৌন্দর্য্য!!

না, ঘটনা এইহানেই শেষ না, ২১তম ব্যাচের চিত্কার চেচামেচিতে পুরো কলেজে নাড়া খায়। টিকতে না পাইরা টিচার্স লাউঞ্জ থেকে বাইরাইয়া আসেন মি. বাত্তি। আবুল আশরাফ নূর। বকাঝকায় শেষ হয় না, পুরা ক্লাসের পাঙ্গা, মানে একস্ট্রা ড্রিল।

ভুইল্যাই গেছিলাম এইসব পোলাপাইন্যা কাজকামের কথা। এইগুলা কি এখন আর বলা যায়? পোলাপাইনের বাপ হইছি না! হুনলে মানুষ কইবো কি? কিন্তু হালার এই পোলাপাইন্যা ব্লগে আইস্যা পুরান কাহানি নতুন কইরা মনে পইড়া যায়। “জাগো বাহে. কুনঠে সবাই! নুরুল দিনের কথা মনে পড়ে যায়”।

না আমাগোর ক্যাম্পাসের রানী শম্পা কইলাম শিক্ষক না। শিক্ষকের কইন্যা! সত্তুরের দশকের ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসে পুরুষেরাই রাজা। সাহারা মরুভূমিও এমন শুকনা না। নারীর কোনো বালাই একাডেমিক ব্লকে নাই। নারী বলতে আছিল তরুণ শিক্ষকের ইস্ত্র্রী আর বয়সীদের কইন্যারা। শম্পা মি. নাসির চৌধুরীর কইন্যা। ওই ফৌজদারহাট দ্যাশে তহন শম্পা আর অম্ভি- দুই বোন আছিল। পুরা ক্যাম্পাস জাগাইয়া রাখছিল হেরা। মিসেস নাসিরও আছিলেন ক্যাম্পাসের আরেক আলোচিত চরিত্র। তিনি যহন মি. নাসিরকে নাম ধইরা ডাকতেন মনে হইতো পুরা ক্যাম্পাস থরথর কইরা কাঁপতাছে।

তয় আমরা অপেক্ষা করতাম মাসে একটা প্যারেন্টস ডে’র জইন্য। সেদিন সিনিয়র-জুনিয়রদের বোনরা সাজুগুজু কইরা আসতো ক্যাম্পাসে। মনে হইতো স্বর্গ থাইক্যা উর্বশী, রম্ভারা ধরণীতে নাইম্যা আইছে। হাহ, আমরা তহন রোমিও হইয়া তাগোর সামনে দিয়া ঘুইরা বেড়াইতাম, একটু সুনজরের লাইগ্যা!! তাও কি আর মিলতো??

[বি. দ্র. : ইহাকে একটি আক্ষেপ রচনা বলা যায়। ব্লগে পোলাপাইন যেভাবে সাম্প্রতিক সময়ের নারী টিচিং স্টাফদের নিয়ে প্রেম কাহানি লিখছে তাতে খালি একটা কথাই মনে হয়, হায়- কেন যে ষাটের দশকে জন্ম নিলাম!]

৪,৫৩৫ বার দেখা হয়েছে

৫৬ টি মন্তব্য : “ক্যাম্পাসের রানী শম্পা”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)
    কেন যে ষাটের দশকে জন্ম নিলাম!

    সানা ভাই, আপনে তো পুরা উলটা। আমি সিনিয়ার লোকজনদের দেখছি তারা খালি হা হুতাশ করে, তাঁদের সময়ে তাঁরা কি করতেন আর এখনকার পোলাপাইন কত নচ্ছার।

    শম্পা ম্যাডামরে :gultiঃ

    জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    লাবলু ভাই,
    বস, এই নাসির স্যার কি সেই বিখ্যাত নাসির স্যার? মানে মুনীর চৌধুরীর ভাই? উনাকে এবং উনার মেয়েদেরকে সমসাময়িক সিসিবি'য় ধারা বজায় রেখে :salute:

    নূর স্যারের ছেলে ফিদা নূর আমাদের সময় এ্যডজুটেন্ট ছিলেন। খুবই নাইস পারসন ছিলেন। উনারেও :salute:

    আর আপনারা যারা শম্পা ম্যাডামে মশগুল ছিলেন তাদেরও :salute:
    এইরকম একটা আক্ষেপ রচনার লাইগা আপনেরে একটা এক্স্ট্রা :salute:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  3. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)
    প্যারেড গ্রাউন্ড চক্কর দিতাছে শম্পা, আর হাভাইত্যার মতো পোলাপাইনগুলা হা হইয়া দেখে তার সৌন্দর্য্য! সে সব বড়ই সৌন্দর্য্য!!

    আহারে! আমরাও প্যারেড গ্রাউন্ডে চক্কর দিতাম.....পাঙ্গা লাগলে আর কি 😀 😀 । সেইটার সৌন্দর্য অবশ্য কখনও বিবেচনায় আসে নাই।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  4. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    😀 আমাগো ব্যাচের রংপুরের এক দোস্ত প্রিন্সিপালের মাইয়ার লগে পেরেম কইরা পত্রসহ(মাইয়ার) ধরা খাইছিল- সত্যি মিথ্যা জানি না,শুঞ্ছি খুব শিগগিরি আমরা চাচা হইতাছি

    জবাব দিন
  5. এইগুলা কি এখন আর বলা যায়? পোলাপাইনের বাপ হইছি না! হুনলে মানুষ কইবো কি?

    পোলাপাইনের বাপ হইছেন তো কি হইছে ? ক্যাডেট তো রইয়াই গেছেন , না? লজ্জা না কইরা বাকি কাহিনীগুলিও ঝাইরা দেন।

    জবাব দিন
  6. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    পোলারে এই ব্লগ না দ্যাকতে দিলেই হইল 😀 পোলারে(আমাগো ভাতিজা)কইবেন এইটা হইল বড় মানুষের ব্লগ,তার চাচাদের।এইখানে দেশ, রাজ নীতি,অর্থনীতি,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়া বড় বড় গবেষণা হয় এইখানে আইলে ওর বোরিং লাগবো 😛

    জবাব দিন
  7. এহসান (৮৯-৯৫)

    < তয় আমরা অপেক্ষা করতাম মাসে একটা প্যারেন্টস ডে’র জইন্য। সেদিন সিনিয়র-জুনিয়রদের বোনরা সাজুগুজু কইরা আসতো ক্যাম্পাসে। মনে হইতো স্বর্গ থাইক্যা উর্বশী, রম্ভারা ধরণীতে নাইম্যা আইছে।>

    এই অনুভুতিটাও একটা চিরনতন ক্যাডেট অনুভুতি!!

    জবাব দিন
  8. আমরা অপেক্ষা করতাম মাসে একটা প্যারেন্টস ডে’র জইন্য। সেদিন সিনিয়র-জুনিয়রদের বোনরা সাজুগুজু কইরা আসতো ক্যাম্পাসে। মনে হইতো স্বর্গ থাইক্যা উর্বশী, রম্ভারা ধরণীতে নাইম্যা আইছে। হাহ, আমরা তহন রোমিও হইয়া তাগোর সামনে দিয়া ঘুইরা বেড়াইতাম, একটু সুনজরের লাইগ্যা!!

    :(( :(( :((

    ক্যান মনে করায়া দিলেন ভাই??? নেজিউ (nsu) তে গেলে কত মাইয়া দেখি, তাও সেই (!!) ফিলিংসটা হয় না, আইজ ক্যান জানি আবার মুনে পইড়া গেল। খেলুম্না। :bash: :bash: :bash: :bash:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।