ছাপার আগে-১

[বহুদিন পর আবার অনুরোধে ঢেকি গিলছি। ফলাফল একটি ফান ম্যাগাজিনে আবারো লিখতে শুরু করেছি। ভাবছি লেখাগুলি চামে এই ব্লগে শেয়ার করব, প্রকাশের আগে]

আহা! মেলামাইনের কি সোয়াদ!

১.
ইত্যাদিতে দেখেছিলাম একবার এক ভদ্রলোক কচ কচ করে কাচ খাচ্ছেন। কাচ সম্পর্কে আমার ধারণা সেদিনই কাচের টুকরার মত ভেঙে যায়। কাচ খুবই সেনসেটিভ জিনিস। তার সাথে একটু আধটু ইতরামি করলেই রক্তারক্তি কান্ড ঘটে যায়। কিন্তু ওই ভদ্রলোক সেই কাচ খেয়েই দীর্ঘদিন বেঁচে আছেন, মাছ আর মাংসকে রীতিমত পাত্তা না দিয়ে।

আমরা বিয়ে কিংবা উৎসবে পোলাও, কোর্মা খেয়ে বোরহানী সেটে ‘আউক’ জাতীয় শব্দ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। আহা! রেজালার কি সোয়াদ! ভদ্রলোক নিশ্চয়ই সাদা কাচ খেয়ে, নীল কাচ পান করে ‘ঝনঝন ’ জাতীয় শব্দ করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। আহা! কাচের কি সোয়াদ!

হবে হয়ত।

কারণ দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা যে গুড়োদুধ খাচ্ছি স্বাদ আর পুষ্টির জন্য তা নাকি মেলামাইনে ভর্তি। নিশ্চয়ই মেলামাইন সব স্বাদ আর পুষ্টির উৎস। তা না হলে পানসে একটা জিনিস এত স্বাদের হয় কি করে? আর পুষ্টির নিশ্চয়তা তো দুধের কোম্পানীগুলিই দিচ্ছে।

২.
দুধ জিনিসটা কোন কালেই আমার ভালো লাগে না। প্রানীর গন্ধওয়ালা সাদা পানির মত লাগে। কিন্তু গুড়ো দুধ খাই। চা অথবা কফিতে। খালিও খাই। হাতের তালুতে নিয়ে জিব দিয়ে চেটেপুটে। মেলামাইন দিয়ে তৈরী বলেই না এত তার স্বাদ। আহা! মেলামাইনের কি সোয়াদ!
কেবল মেলামাইনেই যদি সকল স্বাদ আর পুষ্টি থাকে তাহলে কষ্ট করে পানসে দুধ কেন খাই? সরাসরি মেলামাইন খেলেই পারি?

বাসায় পুরোনো হয়ে যাওয়া মেলামাইনের কত প্লেট, বাটি ফেলে দিয়েছি। না জেনে, ভুল বুঝে কত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি! কত পুষ্টির করেছি অপচয়! আফসোস হয়।!কেন যে সেই কাচ খাওয়া ভদ্রলোকের মত কচ কচ করে প্লেট, গ্লাস খাইনি!

৩.
গুড়ো দুধের বিজ্ঞাপনে পরিবর্তন দেখছি আজকাল। তারা বলছে- মেলামাইনমুক্ত গুড়োদুধ। দুধ থেকে যদি স্বাদ আর পুষ্টিই বাদ পরে তাহলে থাকেটা কি? বরং তাদের মেলামাইন কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে মাঠে নামা উচিৎ। x মেলামাইন ও y গুড়োদুধের যৌথ প্রয়াস, একদম সলিড z গুড়োদুধ। ১০০% পুষ্টি, ১০০% শক্তি।

কিংবা মেলামাইন কোম্পানীগুলোই তাদের প্লেট,বাটি বা গ্লাসে কিঞ্চিত গুড়ো দুধ মিশিয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞাপনে বলল- আমাদের মেলামাইন ৫০% গুড়োদুধ দিযে তৈরী। আপনার শরীরের পর্যাপ্ত দুধের পুষ্টির অভাব মেটাতে খাওয়া শেষে ব্যবহার্য আমাদের মেলামাইন বাটিটিও খেয়ে ফেলুন। আপনার তুষ্টি, ১০০% পুষ্টি

৪.
আমি একবার গায়ের অর্ধ শিক্ষিত লোককে (তিনি মেলামাইন চেনেন না, মাটির শানকিতে ভাত খান আর তাজা হাওয়ায় পেশীবহুল বগল বাজান) জিজ্ঞাসা করেছিলাম মেলামাইন চিনেন?
তিনি জবাব দিয়েছিলেন, যেখানে অনেক(মেলা) মাইন পোতা থাকে।
কি প্রশ্ন আর কি উত্তর। মাইন মানে তো ভয়ংকর জিনিস। বার্স্ট হলে মানুষ মারা যায়। গ্রামের অর্ধশিক্ষিত মানুষ বোঝে নাই। পরে আমি তাকে মেলামাইনের একটি প্লেট দেখাই। তখন সে মন্তব্য করে- ও। প্লাষ্টিক?

শুনেছি চীনে গুড়োদুধে মেলামাইন পাওয়া গেছে এবং তাই খেয়ে অনেক শিশু মারাও গেছে। আমার শিক্ষিত(?) মন বলে- সব বাজে কথা। মেলামাইন আর মাইনের কাজ নিশ্চয়ই এক নয়।

৫.
স¤প্রতি বাংলাদেশের বেশ কিছু গুড়োদুধে মেলামাইন পাওয়া গেছে। থাইলান্ডে পাওয়া গেছে বিস্কিটে। বাংলাদেশের বিস্কিটেও নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। আরও কিসে কিসে পাওয়া যাবে কে যানে?
এত পুষ্টি দিয়ে করব কি? রাখুম কই?
এটা ভেবেই পেটের ভিতর চিন চিন ব্যাথা হচ্ছে। বাসায় গিয়ে বেশ করে বিস্কিট আর গুড়োদুধ দিয়ে চা বানিয়ে খেতে হবে।

১,৮৪৫ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “ছাপার আগে-১”

  1. আহ্সান (৮৮-৯৪)
    বাসায় গিয়ে বেশ করে বিস্কিট আর গুড়োদুধ দিয়ে চা বানিয়ে খেতে হবে।

    চা টা অবশ্যই মেলামাইনের কাপে করে খেও...।
    লেখা খুবই সুন্দর হইছে।
    যারা মেলামাইন নিয়া এরকম করতাছে ইচ্ছা করে তাবত মেলামাইন মেশানো দুধ গূলা ওরে আর ওর বাচ্চা কাচ্চা (বউ রে ও)রে খাওয়াই। তারপরে যখন মরবো, তখন বলতে হবে এখন দেখ অন্যের বাচ্চা মরলে কেমন লাগে...। শালার নাক বোচা হারামীর দল।

    জবাব দিন
  2. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    @সায়েদ ভাই

    মেলামাইনের অরিজিনাল ইনগ্রেডিয়েন্টস কি কি?
    ক্যামিকেল কনফিগারেশনই বা কি?

    আমার ঠিক জানা নাই। তবে বাংলাদেশের সব দুধেই মেলামাইন পাওয়া গ্যাছে। এমন কি বিস্কুট, চকলেট এবং কেকেও


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।