পুবের মানুষ যখন পশ্চিমে – ৫


আধুনিক দাম্পত্য চলে কতগুলো সূত্র মেনে। তার একটা হলো স্পেস। এই যেমন বর আর আমার কম্পিউটার দুটি সবসময়ই একে অপরকে পৃষ্ট-প্রদর্শন করে। মনিটরদের সাথে মালিকদের ক্রশ-কানেকশন হয়না। আমার ধারণা কি লিখি জানতে পারলে বর ক্ষেপাতে শুরু করবে। এর আগে আমি কবি না বলে রক্ষা পেয়েছিলাম। বর যেহেতু ব্লগের আগের প্রজন্ম, তাই এ সম্পর্কে তার ধারণা নেই। অন্ততঃ আমি এতোদিন তাই ভেবে এসেছিলাম। খুব দ্রুতই আমার সে ভাবনা ভুল প্র্মাণিত হলো।
বাসায় এখন মুরুব্বিরা আছেন। তাদের কল্যানে এখন সবসময় বাংলাদেশের চ্যানেল চলছে। শাহবাগের আন্দোলন পরবর্তীতে সদ্য প্রয়াত রাজীবের জন্য ব্লগার শব্দটি এখন বেশ পরিচিত। একদিন বর বললো, ‘দেখ তোমার জাতভাই ব্লগাররা আন্দোলন করছে। যাবে নাকি দেশে?’ বর তাহলে ব্লগার কি জিনিস সেটা বুঝে! বাইরে বাইরে কাঁধ ঝাঁকিয়ে ভাব দেখালাম ‘আমি আবার কবে ব্লগার হলাম?’ আসল উদ্দেশ্য’কবি’ শব্দটির মতো ‘ব্লগার’ শব্দটিও যেন বর অচিরেই ভুলে যায়। কিন্তু না, একটি ঘটনা হটাৎ করে ব্লগার শব্দটির প্র্তি আগ্রহী করে তোলে। আমি আবার কি-বোর্ড হাতে আমার শীতনিদ্রা ভেংগে হৃত ব্লগার পরিচয়টি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করি।
এ মাসের শুরুতে সান ফ্র্যান্সিসকোতে অবস্থিত এশিয়া ফাউন্ডেশন আমন্ত্রণ করেছিল। উদ্দেশ্য বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মাজিনের সাথে মধ্যাহ্নভোজন। সেখানে নিজের পরিচয় দিতে কথা প্রসঙ্গে বললাম, ‘আমি আমেরিকাতে অবস্থান করলেও ভ্যার্চ্যুয়ালি বাংলাদেশেই বেশি সময় কাটাই। আমি ব্লগ লিখি।’ আলোচনা শেষে দেখলাম প্র্তিষ্ঠানটির ডিরেক্টর, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ অনেকেই আমার কাছে এসে বাংলাদেশের ব্লগার এক্টিভিস্টের কথা জানতে চাইছে। চারপাশে ভীনদেশী সব মানুষদেরকে আমিও মন উজার করে আমার দেশের কথা বলে যাচ্ছি। কিভাবে এই দেশের মানুষ ভাষার জন্য আন্দোলন করে, স্বাধীনতার জন্য লড়ে, গনতন্ত্রের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে – সর্বোপরি বলতে থাকি ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ এই অসমাধিত অধ্যায়কে সমাধানের শেষ প্রান্তে নিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর। জীবনে এই প্র্থম অনুভব করলাম ‘ব্লগার’ শব্দটিও একটি পরিচয় বহন করে। শব্দটির এখন এমনই জোর যে বর ক্ষেপালেও তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

‘শাহবাগ’ নিয়ে আমি কোন তত্বীয় আলোচনায় যাব না। আমার চিন্তাভাবনাগুলো সব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্র্সূত। এই প্রবাসে কিন্তু আমরা অর্থাৎ প্র্থম প্র্জন্মের অভিবাসীরা পুরোপুরি দেশের লেবাস খুলে ফেলতে পারিনা। আমি যে পারি না তা তো আমার জানা। কিন্তু অন্যদের অবস্থানও যে অনেকটা আমার মতো, তা সে ডান বা বাম যে পক্ষই নিক না কেন, তা এই শাহবাগের প্র্জন্ম চত্বরের আন্দোলনের পর বুঝতে পারলাম। নিজের বাড়ির কথা দিয়েই শুরু করি। মুরুব্বীদের (৬৮+) কথা আগেই উল্লেখ করেছি। তারা ঠিক বুঝতে পারছেন না যে নতুন প্র্জন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে কিভাবে এতোটা সম্পৃক্ত হলো। গত কয়েকবছরে আর্ন্তজগতে অনেকের সাথে পরিচয় হবার সুবাদে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে জেনেছি। ওরা অর্থাৎ এই নতুন প্র্জন্ম আমাদের থেকে আলাদা। কিম্বা হয়তো ওদের বয়সে আমরাও এমন ছিলাম। কিন্তু ব্লগ বা ফেসবুক আবিষ্কার হয়নি বলে নিজেদেরকে এমনভাবে প্র্কাশ করতে পারিনি। এই বিষয়টা যদি সত্যি হয় তাহলে বলব ভবিষৎ শুভ নয়। আমাদের প্র্জন্ম তো বলতে গেলে প্রায় পরিবারের মধ্যে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেছি। ছা-পোষা জীবনযাপন করছি। শুধু আমাদের দোষ দিই কেন – কমবেশি সব প্রজন্মই এই ধারাবাহিকতার মধ্যে দিয়ে যায়। রাজনীতিতে শেষ পররযন্ত টিকে যেতে পারলে বিশের কোঠার তেজী ছাত্রনেতাকে দেখি মধ্যবয়সে এসে একটু হাঁচি-কাশি হলেই সিংগাপুরের মাউণ্ট এভারেস্ট হাসপাতালে দৌড় দেন। খেয়াল করে দেখেছেন এককালের সেই ছাত্রনেতারা কেউ তেমন একটা দেশের মাটিতে মারা যান না – অন্ততঃ মাঝপথে যদি খুন বা গুম না হয়ে থাকেন। জানি জানি, একদল আমার এই কয়েকটা লাইন পড়ে খুব খুশি হবে, আরেকদল ক্ষেপে যাবে। বরকেই যখন আর তোয়াক্কা করছি না, তখন আর আমার ভয় কি? খুব সাহস না থাকাতে আমি কখনই খুব একটা সাহসী হতে পারিনি। তবে মন থেকে ক্রমশ ভয়-ডর উড়ে যাওয়াতে কিছুটা নির্ভীক চিত্তের হতে পেরেছি। এখন পররয্ন্ত বাংলাদেশে যে আন্দোল্নগুলো হয়েছে – তার প্র্তিটিই জরুরী ছিল এবং তরুণ সমাজ এর অগ্রভাগে ছিল। আবার উল্টোদিকে দেখা যায় দূরদর্শিতার অভাবে এক-একটা আন্দোলন তার ফসল ঘরে তুলতে পারেনা। অনেকটা তীরে এসে তরী ডুববার মতো। আসলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আর আশরাফুলের ব্যাটিং একেবারে যথার্থভাবে একে অপরের প্রতিশব্দ। যখন তাদের কেউ খেয়াল করে না, তখন তারা সবচেয়ে বেশি ভালো পারফর্ম্যান্স দেখায়। আবার যখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তখনই তারা এক রানে আউট। আজকের এই আন্দোলনের ফল বিশ বছর পর বোঝা যাবে। আজকের দিনের তরুণ নেতৃত্ব একটু বদহজমের জন্য যদি সেসময়ের মাউন্ট এভারেস্ট হাসপাতালে ছুটে যায় তবে বলতে হবে আন্দোলনের ফল মাঠে মারা গেছে। সার্থক তখনই হবে যখন বাংলাদেশের মধ্যে অনেক মাউন্ট এভারেস্ট হাসপাতাল গড়ে উঠবে।
এই জীবনে তো আর কম দেখলাম না। স্বাধীন দেশে জন্মেছিলাম বটে, জীবনের প্র্থম দশকে ক্যুর মাধ্যমে দু’দুটো সরকার প্রধান নিহত হলেন; পরের দশকে চললো গনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন; এরপর অর্থাৎ নব্বইয়ের দশকে, আমাদের প্রজন্মের যখন যথার্থ যৌবনকাল, আমরা বুঝে গেছি জীবন এগোয় দেশের মাপে। আর দেশ চলে রাজনীতির চালে। সেই যে কবে এই দেশে প্র্থম দু’জন রাষ্ট্রপ্র্ধান নিহত হলেন, থাকুক তাঁদের হাজার দোষ-গুণ, সেই তো তাঁদের ছায়া নিয়ে টানাটানি করেই বাকীদের জীবন কাটলো। দেশের রাজনীতি হয়ে পড়লো ছায়াময়। মায়াময়। আজ আমি সমালোচনা করছি, তার কারণ এটা করা সহজ তাই। দেশের জন্য তো কোন পরিবর্তন বয়ে আনতে পারিনি। তাই আমি ব্যর্থ। পালিয়ে গিয়ে সপ্তাহান্তে পোলাও-কোর্মা খেয়ে সুখ খোঁজার চেষ্টা করছি। না, এতে কোন সুখ নাইরে। তাই কী-বোর্ড হাতে ব্লগিং করছি। আর কিছু না পারি, শুধু নিজের কথাটুকু তো লিখতে পারবো। জানাতে পারবো আমি কেন ব্যর্থ হলাম।
আসলে আমরা সবাই’ই কমবেশি আশরাফুলের মতো। আমাদের মধ্যে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ নদী-মাতৃক উপকূলবর্তীয় অন্চল। আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত ঢুকছে অজুত ওমেগা-থ্রী ফ্যাটি এসিড। কিন্তু যেই আমরা কেউ লাইম-লাইটে চলে আসবো অমনি ঠুস। আমাদের মানসিক পরিপক্কতা কম। অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠি। নিজেরাও সব ব্যাপারে মাথা ঘামাই – আবার আরেকজন কেন ঘামাচ্ছে না সে বিষয়েও সমালোচনা করি। এতে আমাদের ফোকাসটাও কমে যাচ্ছে। আমরা দুর্বল হয়ে পড়ছি। আমার ভিত্তির পেছনে একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেই। সার্কিট অধ্যয়নকালে আমরা পড়েছিলাম কারেন্ট বা তড়িৎ তার চলমান পথে যখন দেখে যে সামনে সমান রেজিস্ট্যান্সের তিন-চারটা পথ আছে, তখন সে সমান পরিমানে তিন-চারভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে কি হচ্ছে? প্র্তিটা পথই তিন-চারগুন কম কারেন্ট পাচ্ছে। বাস্তবিক অবস্থাটাও এর ব্যতিক্রম নয়। যথেষ্ট ফোকাসের অভাবে আমরা কোন একটি বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে পারছি না। সবাই বলবে এসব তো জানা কথা। মজার ব্যাপার হলো এই জানা কথাগুলোই যদি আমরা কোথাও না পড়ি বা আমাদের কেউ না শোনায় – আমরা কিন্তু তার গুরুত্ব বুঝতে পারি না। হ্যাঁ, এটাই আমার সর্বপ্রথম অনুধাবন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা -কি পরিবারে কিম্বা বিদ্যাপীঠে- না পেরেছে আমাদের আন্তর্জাতিক করতে, না পেরেছে সভ্যতা-ভব্যতা শিখাতে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমাদের ‘জী হুজুর’ ধরণের মানুষ বানিয়ে। তাই আমরা ক্রমশ আর রুই-কাতলা না হয়ে চুনো-পুটির ভীড়ে হারিয়ে যেতে থাকলাম। ‘ব্যক্তিত্ব’ বা ‘নিজস্বতা’ হচ্ছে এক প্রচণ্ড শক্তি। এই শক্তি ভেতরে ধারণ করে আদিমমানব তার গোত্র থেকে বেড়িয়ে এসে ধীরে ধীরে সভ্যতার এক-একটি সিড়ি তৈরি করেছিলেন। দূর থেকে মনে হতে পারে – তারা খুব অসুখী, কারণ তারা একাকী। আমাদের বড্ড অসুখী হবার ভয়। তাই আমরা সহজে একাকী হতে চাই না। অথচ জীবন সায়াহ্নে এসে ঠিকই অনুভব করি আমি আসলে সবসময়ই একাকী ছিলাম। মাঝের কিছুটা সময় অনর্থক দলে ভীড়বার জন্য নিজের ‘নিজস্বতা’ খুইয়ে এক ধরণের নিরর্থক সুখের সন্ধান করেছিলাম।


আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা তাদের জীবদ্দশায় কখনও না কখনও একটি প্রচণ্ড রকমের যুদ্ধকালীন সময় পার করেছেন। এখন পররয্ন্ত আমাদের প্র্জন্মই বোধহয় একটি যুদ্ধহীন পৃথিবী দেখার সুযোগ পাচ্ছি। এর মধ্যে পৃথিবীতে বিচ্ছিন্ন কিছু যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু শক্তির প্রচণ্ডতা এবং ভারসাম্য না থাকায় যুদ্ধ্গুলো আন্চ্লিকতার উর্ধ্বে উঠে মহাযুদ্ধ হিসেবে দানা বেঁধে উঠতে পারেনি। মহাযুদ্ধ না দেখলেও আমাদের প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে গোত্রভূক্ত মানুষের ইট-পাটকেল, ককটেল, আর গুলি ছোড়াছুড়ি। আমাদের শিক্ষার অভাবটা এই প্র্বাসে বসে আরও স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারি। পিকেটারদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর ডিগ্রীপ্রাপ্তরাও তাদের গোত্র-আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ইন্টারনেট আর কী-বোর্ড ব্যবহার করছেন। সিলিকন ভ্যালির কর্মজীবি বাংলাদেশিরা প্রায় ৯৫% ভাগ প্রফেশন্যাল – অফিসে বসে আটটা পাঁচটা(+) কাজ করেন। সমাজে মেরুকরণ থাকাটা একটি বাস্তবতা। সব দেশে, সব সমাজেই কিন্তু কমবেশি এই মেরুকরণ আছে। কেউ ডানে যায়, কেউ বা বামে চলতে চায়। সভ্যসমাজ এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে পাবলিক প্লেসে কোন বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করেন না। সমস্যা হলো উচ্চ ডিগ্রী আমাদের চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারে, কিন্তু সভ্যতা-ভব্যতা শেখাতে না। অনেক প্রবাসী-বাংলাদেশিই এই মেরুকরণের বাস্তবতাটুকু মানতে পারেন না। আমি যখন বলি বাংলাদেশী, তখন তো সেখানে জাতিয়তাবাদের প্রশ্নটিই তো প্রথম আসবে। এই জাতির পরিচয় তার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে। ‘ইয়া তুক তুক, মারহাবা, মারহাবা’ গানের থেকে ‘মেলায় যাইরে’ গানটি শুনতে আমার বেশি ভালো লাগবে। এই ভাললাগাটুকু তো স্বস্তঃফূর্ত, সহজাত। আবার মনের শান্তির জন্য স্র্ষ্ঠার আরাধনা করার মধ্যেও একবিন্দু অস্বাভাবিকতা নেই। এইসব স্বাভাবিক বিষয়গুলোকে অস্বীকার করে মেরুকরণগুলো দানা বাঁধছে। অন্যান্য ধর্মের থেকে ইসলাম ধর্মানুসারীদের সামনে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে। তার প্রধান কারণ অন্য ধর্মে নাচ এবং গানকে ঘৃণিত চোখে দেখা হয়না। মন্দির, গীর্জা এমনকি ইহুদীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করার ক্ষেত্রে নাচ এবং গানের চল আছে। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের বর্তমান প্রচলিত ধারায় নাচ এবং গানকে, অনেকাংশে হয়তো সাহিত্যকেও, খুবই গররহিত চোখে দেখা হয়। সাহিত্য, নাচ এবং গান এই তিনটিই হচ্ছে সাংস্কৃতিক উপাদান/প্রকাশ। আর প্রার্থনা হচ্ছে ধর্মীয় উপাদান/প্রকাশ। আগেই বলেছি অন্যধর্মে দেখা যায় সাংস্কৃতিক উপাদান আর ধর্মীয় উপাদানের মধ্যে তেমন বৈরীতা নেই। অনেকাংশে একসাথে মিলেমিশে গেছে। এখন পররযন্ত দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের নামে অনেকেই এর বিরোধীতা করছেন। আমি আশাবাদী সে আজ থেকে একশ বছর পর এই বিরোধ থাকবে না। এরকমটা ভাবার একটা প্রধান একটা কারণ হচ্ছে আজ থেকে একশ বছর আগে কেউ সুদের লেনদেনের কথা কল্পনাতেও ভাবতে পারতেন না। এখন কিন্তু এই সুদটাকে অনেক গোঁড়া ধার্মিকও স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। জামাতীদের মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকে তো নাম বদলে দিয়ে ঠিকই তো সুদের লেনদেন হচ্ছে। এখানে একজন বিশিষ্ট্য ব্যাক্তির উক্তি উল্লেখ করছি, “বাবার নাম বদলে গেলেও তো আর বাবা বদলে যায় না।”
আমার যে গান ভাল লাগে, আমি নিশ্চিত আমার আম্মার সে গান ভাল লাগতো না। আমার মেয়েরও তা লাগবে না। সময়ের সাথে সাথে আমাদের পছন্দের মাত্রা ভিন্ন হবে। সংস্কৃতি ক্রমশ বিবর্তিত হচ্ছে। আমরা আধুনিক মানুষেরা দেখতে চাই আমাদের ধর্মও যাতে সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়। আমি জানি ‘ধার্মিক ধার্মিক ভাব’ করা লোকেরা আমার এই লাইনটি পছন্দ করবেন না। কিন্তু কথা হলো উনারা য্দি আয়নায় উনাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খেয়াল করে দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন যে আসলে উনারাও ধর্মকে বিবর্তিত করেই লালন করছে। এই প্রবাসে হালাকা গ্রুপের বাংলাদেশিরা কিন্তু সুদ দিয়েই তাদের গাড়ি-বাড়ি কিনেছেন। এদের যুক্তি, এছাড়া আমাদের আর তো কোন উপায় ছিল না। এখন প্র্শ্ন হচ্ছে যুগের সাথে তাল মেলাতে তারাই যদি আংশিক ইসলাম পালন করে তবে অন্যদেরকে কেন সমালোচনা করবে? অনেকে হয়তো পূণ্যের আশায় ধর্ম প্র্চার করে থাকতে পারেন। কিন্তু তার জন্য তো সেই ব্যক্তির, অন্যান্য বিষয়ে প্র্ফেসরদের মতো, ধর্ম বিষয়েও একটা একাডেমিক সর্বোচ্চ ডিগ্রী থাকতে হবে। এই যুগে অসুখ হলে তো আমরা চিকিৎসকের কাছে যাই, কবিরাজের কাছে যাই না। প্রকৌশলিকে বাড়ির নক্সা করতে দিই, ড্রাফটসম্যানকে দিই না। অথচ ডিগ্রীহীন ‘হালাকা’ ধার্মিকেরা আমাদের হাতুড়ে ধার্মিক বানাবার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সুরা ফাতিহা বা সুরা কাফেরূনের কথাই ধরি। এখানে স্পষ্ট করে বলা আছে, বিচার দিনের মালিক আল্লাহ (স্র্ষ্টা) বা তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে। কিন্তু এইসব মানুষেরা আগ বাড়িয়ে এসে নিজেরা বিচারক সাজতে চায়। । যে মানুষটা খুব জোর গলায় দাবী করে যে ইসলামই যার প্র্ধান পরিচয়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী নয় – সে মানুষটি তাহলে কেন ধর্মপ্র্চারের জন্য চায়নীজ (যারা তেমন কোন ধর্মের অনুসারী নয়) বা ভারতীয়দের (যারা অধিকাংশই মূর্তিপুজক) কাছে যাচ্ছে না? অন্যজাতের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করে কেন বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে? বাংলাদেশিরা তো অন্ততঃ চায়নীজ বা ভারতীয়দের থেকে কিছুটা হলেও একটু বেশি আল্লাহ-রাসুলের নাম জানে। উত্তরটা সহজ। অন্যরা তো আর পাত্তা দেবে না, দিলে এই বাংলাদেশিরাই দেবে। না মিস্টার, বাংলাদেশিদের অতো হীনজ্ঞান করলে চলবে না। আপনি আপনার কণ্ঠস্বর অন্যের কাছে পৌছাতে চান ভাল কথা – মানুষের এই চাওয়াটাকে আমি পূর্ণমাত্রায় শ্র্দ্ধা করি। কিন্তু তার আগে আপনাকে একটি ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে হবে। এই ‘ব্যক্তিত্বে’ পরিণত হওয়ার জন্য আপনাকে কিছু মেধা ব্যয় করতে হবে। এই মেধা বলতে কিন্তু পরীক্ষায় প্র্থম হওয়া বোঝাচ্ছি না। এই মেধা মানে ‘নিজস্বতা’ চর্চা। দয়া করে তার আগে তার আগ পররয্ন্ত সমাজে মেরুকরণের বিষবাস্প ছড়ানো স্থগিত রাখুন।


আজকের এই আধুনিক সিংগাপুরের জন্ম হয়েছিল সে দেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী লী কোয়ান ইউএর হাত ধরে। একটি দেশের নিজস্ব তেমন কোন সম্পদ নেই, সেই সাথে আছে নাগরিকদের মধ্যে জাতিগত বিভেদ। তারপরও শুধুমাত্র পলিসি মেকিং করে দেশটিকে আধুনিক এব্ং উন্নত করে ফেললেন। ২০১১ সালে নেওয়া আমেরিকার বিখ্যাত টেলিভিশন সাংবাদিক চার্লি রোজের সাথে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লী কোয়ানের একটি সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। চার্লি রোজের প্রশ্নের উত্তরে লী বলছিলেন যে সিংগাপুরে কখনই আমেরিকান স্টাইলের গনতন্ত্র চলবে না। আমেরিকার লোকজন ভদ্রতাবশতই অন্যের ধর্ম নিয়ে তেমন কটাক্ষ করে না। কিন্তু সিংগাপুরে এই জিনিস রীতিমতো আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হ্যাঁ, সিংগাপুরে অন্যের ধর্মকে অবমাননা করা আইনত অপরাধ। আপনি একই সাথে একটি ধর্মহীন সমাজ চাইবেন, আবার গনতন্ত্রও চাইবেন – তা তো হতে পারে না। ধর্মহীন সমাজ চাইতে হলে আপনাকে জোর গলায় সমাজতন্ত্র চাইতে হবে। কাস্টম মেইড আবদারগুলো শুধু ড্রইংরুমের বৈঠকেই শোভা পায়। চাকা আবিষ্কারের পেছনে নতুন করে তো আর সময় দিয়ে লাভ নেই। সিংগাপুরের সফল মডেল কিভাবে দেশের উপযোগী করে প্রয়োগ করা যায় এ নিয়ে আলোচনা হলে বরং দেশের গতি বাড়ে। অনেক প্রতিভা অনর্থক কু-তর্কে সময় নষ্ট না করে বরং শিল্প-সাহিত্য, গবেষণা, কর্মসংস্থান তৈরিতে নিজেদের মেধা কাজে লাগাতে পারতো। ফরাসী বিপ্লবের পর একবার সে দেশে ধর্ম উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা কাজে দেয়নি। আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। ভলটেয়ারের তো একটা বিখ্যাত উক্তিই আছে, ‘যদি আসলেই স্র্ষ্টা না থাকে, তাকে বরং সৃষ্টি করো।’
মহাশক্তির উপর বিশ্বাস মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ যখন কথাও বলতে শিখেনি, গড়নে-গঠনে আজকের হোমো-স্যাপিয়েন্স হয়ে ওঠেনি, তখনও তারা একসাথে জড়ো হয়ে উপাসনালয় তৈরি করেছিলেন। সভ্যতা আজকের এই পররযায়ে আসার জন্য ধর্মের অনেক অবদান রয়েছে। নিজের মতো করে ধর্ম পালন করবে বলে ইউরোপ থেকে প্রোটেস্ট্যান্ট আর পিউরিটানরা আমেরিকার পূর্ব উপকূলে জাহাজ ভীড়িয়েছিল। অথচ আমেরিকা তখন ছিল একটি অজানা দেশ। পরিবেশ ছিল বৈরী। আবার পশ্চিম উপকূলে ক্যাথলিক ধর্মযাজকেরা এক-একটি মিশন (গীর্জা ভিত্তিক স্বয়ং সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকা) তৈরি করে প্রায় শূণ্য থেকে সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। মধ্যযুগে ইউরোপ যখন অন্ধ্কারাচ্ছন্ন তখন মুসলিমরা জ্ঞান চর্চা করে গেছে। ফিলসফি, আলজেব্রা, এস্ট্রনমি – এরকম আরও অনেক শব্দ তৈরি হয়েছে আরব শব্দ থেকে। একটা সময় জ্ঞান-বিজ্ঞান এগিয়েছে ধর্মসাধনার অংশ হিসেবে। ইউরোপীয়রা এখনও ‘নিউ নলেজ’ স্পেনে নিয়ে আসার জন্য মুসলমানদেরকে ক্রেডিট দেয়। এই নিউ নলেজের ধারাবাহিকতায় কোপার্নিকাস সূররয-পৃথিবীর সঠিক সম্পর্ক নিরূপন করলেন। এরপর অনেক বলী, অনেক আত্নদান, অবশেষে রেনেসার মাধ্যমে ইউরোপের জেগে উঠা – সে তো এক বিরাট ইতিহাস। এর আগে সেই খ্রীষ্টাব্দে ১০০ সালে টলেমী জ্যোতির্বিজ্ঞান সাধনা করেছেন তার একটি মূল লক্ষ্য ছিল স্বর্গের সন্ধান।

অনেক আগে ‘আমাদের প্র্তিবেশি’ নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম রাসীনের বন্ধু একজন পাকিস্তানি। টেলিভিশনে য্খন শাহবাগ আন্দোলন দেখাচ্ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে রাসীন অনেক জানে। তবে সবকিছুই সে আমেরিকার রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মিলিয়ে দেখে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প বলেছি। শেখ মুজিব নিয়ে য্দি দশটা কথা বলে থাকি তো ওসমানী নিয়ে দুটো কথা বলেছি। কিন্তু দেখলাম সে ওসমানীকে সব্চেয়ে বড় বীর বানিয়ে দিল। পরে বুঝলাম আমেরিকাতে তো জর্জ ওয়াসিংটন্কে হিরো হিসেবে দেখানো হয়। সেটা মিলিয়ে ওসমানীও রাসীনের কাছে হিরো। যুদ্ধ পরিচালনা করেছে বলে। তো সেই রাসীন আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘আমেরিকা তো চল্লিশ বছর পর কোন যুদ্ধ অপরাধীর বিচার করেনি। তবে বাংলাদেশ করছে কেন?’ আমি বললাম, ‘বাংলাদেশে যে বিচারটা হয়নি তাই। এই বিচার হলে মানুষের মনে ভয় থাকবে যে অপরাধ করে সহজে পার পাওয়া যাবে না। আর তাছাড়া বাংলাদেশিরা একটি সংকর জাতি। বিভিন্ন রকম মানুষের সমাহার এখানে। একটু সুযোগ পেলেই বাংগালি আর প্র্তিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। ধর্মের নামে সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের বিকলাংগ করে রাখা হচ্ছে। এতে আমাদের শিল্পসাহিত্য এমনকি বিজ্ঞান এব্ং প্রযুক্তিও সেভাবে বিকশিত হতে পারছে না। এইসব কিছু কিন্তু একই সূত্রে গাঁথা। কোন দেশ কতোটা উন্নত সেটা বোঝার জন্য সে দেশের সিনেমার দিকে তাকাতে হবে। সিনেমা হচ্ছে প্রযুক্তি আর সাহিত্যের সংমিশ্রণ। আমেরিকা তো আছেই, ভারত এব্ং চীন তারাও সিনেমায় এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ভারতে য্খন প্রযুক্তি তেমন উন্নত ছিল না তখনও শুধুমাত্র সাহিত্য দিয়ে যতটুকু পারে সত্য্জিৎ, মৃণালরা একটা ভীত তৈরি করে গেছেন। এখন তার উপর প্রযুক্তি জুড়ে উন্নতমানের সিনেমা হচ্ছে। ইরান বা টার্কিতে অনেক ভালো ছবি তৈরি হয়। তুলনামূলক্ভাবে এইসব দেশ মুসলিম অন্যান্য দেশের থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে। তবে ভেতরে ভেতরে একটি ব্লু-প্রিন্ট আছে যেটা মুসলিম অধ্য্সিত দেশ এগিয়ে যেতে না পারে। উন্নত বিশ্ব এখন যতটুকু সমব্যাথি মুসলিম বিশ্বের জন্য তার প্র্ধাণ কারণ মুসলিম বিশ্বের অনেক পিছিয়ে থাকা।

লেখাটা এখন শাহবাগ প্রসঙ্গ নিয়েই শেষ করি। শুরুতে শাহবাগ অনেক আশা জাগিয়েছিল। এর অগ্রভাগে ছিল নাগরিক মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজ। মিডিয়া এদেরকেই প্র্তিনিধিত্ব করে। কয়েকদিন ধরে আমার কথা হচ্ছে দেশের মুরুব্বী শ্রেনীয় মানুষদের সাথে। ‘ব্লগ’ বিষয়টি আসলে কি সে ব্যাপারে এ বি সি জ্ঞান দিতে হচ্ছে। একটা বিষয় বুঝে গেছি তা হলো মিডিয়া আর নাগরিক মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজ মানেই এরা দেশের চেতনার প্র্তিনিধিত্ব করে না। প্রায় সবার পীঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার জন্য প্রথম প্রথম শাহবাগ নিয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। আগে বাংগালি কবিতা লিখতো, এখন লেখে ফেসবুক স্ট্যাটাস। প্র্বাসে বসে আমরা সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজেরাও এর সাথে সক্রিয় সেটা বোঝানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। কেন করছিলাম? তরুণ প্র্জন্ম সব রাজাকারের ফাঁসী চায় বলে? তারপর? আমি নিজে কি চাচ্ছি? আমি চাচ্ছি ধর্মের নামে আমাদের সংস্কৃতিকে কবরে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে তার থেকে মুক্তি। বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে থেকে যাতে জীবনের উচ্ছ্বাসটুকু কেড়ে নেওয়া না হয়। শাহবাগ আন্দোলন কোন দলের বি-টীম হয়ে পড়লে এই আশা আর করা যায় না। পুরোনো কোন রাজ্নৈতিক দল থেকেই আর তেমন কিছু আশা করা যায় না। শাহবাগ জন্ম দিক একটি নতুন রাজনৈতিক দলের। প্রেতাত্মামুক্ত একটি রাজনৈতিক দল।

৩,৩৭৩ বার দেখা হয়েছে

৫৭ টি মন্তব্য : “পুবের মানুষ যখন পশ্চিমে – ৫”

    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      আমি তো কোন আপেক্ষিক তত্ব লিখি নাই। স্পষ্ঠ করেই বলেছি আমার মনে হয়েছে এখান থেকে আলাদা কোন রাজনৈতিক প্ল্যআটফর্ম না হলে দেশের রাজনীতিতে আর তেমন কি পরিবর্তন আসবে। আশা বেঁচে থাকবে একটি রাজনৈতিক প্ল্যআট ফর্ম তৈরি করার মাধ্যমে। ইতিহাস বার বারই ফিরে আসে। অতীত থেকে দেখা যায় এক সময়ের তরুণ নেতৃত্ব মাঝ বয়সে এসে তেমন আর কই ভাল পলিসি মেকার হতে পেরেছে? ব্যক্তিগতভাবে তারা শুধু মরার সময় বিদেশের হাসপাতালে মরতে পেরেছে। তরুণ বলেই কি আমি ভয়ে ভয়ে কিছু বলব না? আমার কিসের ভয়? কেউ'ই সমালোচনার উর্ধে নয়।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  1. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    প্রথমেই অফটপিক কথা। আপু আপনার লেখা পড়লে হিংসা লাগে। যদি অভিজ্ঞতা দিয়েই এইটা আসে তাহলে আমিও অপেক্ষা করছি একদিনের জন্য হলেই এইরকম করে ভাবনা চিন্তা করে লেখতে চাই। আর যদি এটা সহজাত প্রতিভা হয় তাহলে এই জনমে আর হল না।

    আপনার লেখার মধ্যে যে প্রচ্ছন্ন হতাশার সুর দেখলাম নতুন প্রজন্ম নিয়ে সেটা নিয়ে বলছি, ১ মাস বয়সী একটা বাচ্চার কাছে হেঁটে বা কথা বলে মানুষকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় । নতুন প্রজন্ম মানুষকে আশা দেখিয়েছে। প্রজন্মটাকে ইমরান এইচ সরকার কিংবা ঐ স্টেজে যারা আছে তারা ভাবলে ভুল হবে। ওরা এখন বিক্রি হয়ে গেছে কিনা এই আলোচনায় আমি আর ঘি ঢালব না কিন্তু আমি জানি তরুণ সমাজ প্রতিদিন নতুন হয়। ওরা এখন নিজেদের শক্তি চিনে, চেতনা কি জানে। এখন এত সহজে সব কিছু করে পার পাওয়া যাবে না। আমি আশাবাদী।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      তপু ধন্যবাদ প্রশংসার জন্য। আসলে জীবনকে আমি অনেকভাবে ছড়িয়ে দিই। অনেক কিছু দেখি। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী হয়ে গেলে তখন লেখা বোধহয় এমনি এমনিই চলে আসে।

      হতাশা তো আনতে চাই না। তবে আশার কথা হিসেবে তুমি যা বললে তা আমার কাছে অতোটা বাস্তবসম্মত মনে হলো না। যেমন তরুণসমাজের চেতনা যতই মজবুত থাকুক না কেন, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মতোই শেষ পর্যন্ত সব কিছু হয়। আন্দোলন সফল হয় যদি নেতৃত্বের প্রজ্ঞা থাকে, বিফল হয় যদি নেতৃত্ব ভুল পথে পরিচালিত করে। সুতরাং বেশি লোকে কি ভাবছে তার থেকে নেতা কি ভাবছে এটা একটা বিবেচ্য বিষয়।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  2. জিহাদ (৯৯-০৫)

    কবে যে আপনার মত ব্লগার হইতে পারমু, আফামণি। কেমন গড়গড়াইয়া গুছাইয়া গুছাইয়া নিজের কথা বলে ফেলেন।

    শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে আশা, হতাশা সবই আছে। আমার মনে হয় শাহবাগ আর কিছু করতে না পারুক আমাদের সবাইকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিয়ে গেছে। এখন আবার যদি আমরা ঘুমায় পড়ি সেই দায়ভার আমাদেরই।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  3. রাব্বী (৯২-৯৮)

    শাহবাগ আন্দোলনটা একটু কেচে গেছে/যাচ্ছে বা করার চেষ্টা হয়েছে/হচ্ছে ঠিকই - কিন্তু তাই বলে দাবিগুলো বাতিল হয়ে যায়নি। দাবিগুলো থাকবে। আশাবাদী নতুনদের কাছে। নিশ্চিতভাবে কিছু প্রাপ্তি রয়েছে। এটাও জানি, রাতারাতি কিছু হবে না।

    ব্লগ এবং ব্লগাররা একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে ঠিকই। কিন্তু শহুরে আর্ম-চেয়ার পলিটিকস/লেখালিখির একটিভিজম থেকে মাঠের রাজনীতি পুরোই আলাদা এবং বহুমাত্রিকভাবে জটিল। দুই বড় দলের প্রধান নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়নি গত ৩০ বছর। সামনে ছেলে, ছেলের বউ, ভাইপো, ভাইঝি সব লাইনে আছে – ভবিষ্যত কি? জামায়াত কি বস্তু সেটাও দেখলো সবাই আবার।

    নতুন নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক দল হবার মতো কিছু দেখিনাই আন্দোলনে। মূলধারার রাজনীতির এত বড় এসট্যাবলিশমেন্ট তো আর শুধু নগর কেন্দ্রিক অহিংস চেতনা আন্দোলন দিয়ে কয়েকদিনে উৎখাত সম্ভব না। গুনগত এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। কোন মিরাকল হবার আশা নেই।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  4. আমাদের প্র্জন্ম তো বলতে গেলে প্রায় পরিবারের মধ্যে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেছি। ছা-পোষা জীবনযাপন করছি।

    আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা -কি পরিবারে কিম্বা বিদ্যাপীঠে- না পেরেছে আমাদের আন্তর্জাতিক করতে, না পেরেছে সভ্যতা-ভব্যতা শিখাতে।

    ‘ব্যক্তিত্ব’ বা ‘নিজস্বতা’ হচ্ছে এক প্রচণ্ড শক্তি। এই শক্তি ভেতরে ধারণ করে আদিমমানব তার গোত্র থেকে বেড়িয়ে এসে ধীরে ধীরে সভ্যতার এক-একটি সিড়ি তৈরি করেছিলেন। দূর থেকে মনে হতে পারে – তারা খুব অসুখী, কারণ তারা একাকী। আমাদের বড্ড অসুখী হবার ভয়। তাই আমরা সহজে একাকী হতে চাই না।

    মহাযুদ্ধ না দেখলেও আমাদের প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে গোত্রভূক্ত মানুষের ইট-পাটকেল, ককটেল, আর গুলি ছোড়াছুড়ি। আমাদের শিক্ষার অভাবটা এই প্র্বাসে বসে আরও স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারি। পিকেটারদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর ডিগ্রীপ্রাপ্তরাও তাদের গোত্র-আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ইন্টারনেট আর কী-বোর্ড ব্যবহার করছেন।

    সভ্যসমাজ এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে পাবলিক প্লেসে কোন বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করেন না। সমস্যা হলো উচ্চ ডিগ্রী আমাদের চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারে, কিন্তু সভ্যতা-ভব্যতা শেখাতে না।

    শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের বর্তমান প্রচলিত ধারায় নাচ এবং গানকে, অনেকাংশে হয়তো সাহিত্যকেও, খুবই গররহিত চোখে দেখা হয়।

    আমরা আধুনিক মানুষেরা দেখতে চাই আমাদের ধর্মও যাতে সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়। আমি জানি ‘ধার্মিক ধার্মিক ভাব’ করা লোকেরা আমার এই লাইনটি পছন্দ করবেন না। কিন্তু কথা হলো উনারা য্দি আয়নায় উনাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খেয়াল করে দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন যে আসলে উনারাও ধর্মকে বিবর্তিত করেই লালন করছে।

    এই মেধা মানে ‘নিজস্বতা’ চর্চা। দয়া করে তার আগে তার আগ পররয্ন্ত সমাজে মেরুকরণের বিষবাস্প ছড়ানো স্থগিত রাখুন।

    চার্লি রোজের প্রশ্নের উত্তরে লী বলছিলেন যে সিংগাপুরে কখনই আমেরিকান স্টাইলের গনতন্ত্র চলবে না। আমেরিকার লোকজন ভদ্রতাবশতই অন্যের ধর্ম নিয়ে তেমন কটাক্ষ করে না।

    ধর্মের নামে সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের বিকলাংগ করে রাখা হচ্ছে। এতে আমাদের শিল্পসাহিত্য এমনকি বিজ্ঞান এবং প্বোরযুক্তিও সেভাবে বিকশিত হতে পারছে না। এইসব কিছু কিন্তু একই সূত্রে গাঁথা। কোন দেশ কতোটা উন্নত সেটা ঝার জন্য সে দেশের সিনেমার দিকে তাকাতে হবে। সিনেমা হচ্ছে প্রযুক্তি আর সাহিত্যের সংমিশ্রণ।

    আমি চাচ্ছি ধর্মের নামে আমাদের সংস্কৃতিকে কবরে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে তার থেকে মুক্তি। বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে থেকে যাতে জীবনের উচ্ছ্বাসটুকু কেড়ে নেওয়া না হয়।

    বিভিন্ন বইতে লেখা প্র্রস্তর যুগের মানুষের গাছের বাকল আর পাতার সাহায্যে লজ্জা নিবারনের প্রয়াসের পাশে পাশ্চাত্যের অন্ধকার গহ্বর থেকে উত্পন্ন ভাবনার ফলশ্রুতিকে যদি দাড় করানো হয়, তাহলে চট্ করে একে সেই যুগের প্রতিকৃতি সাব্যস্ত করার আগে কয়েকটি বিষয় ভাবতে হবে। সেই মানুষেরা সাধ্যের সর্বোচ্চ প্র্রয়োগ ঘটিয়ে লজ্জা নিবারনের এ অবলম্বন স্হির করেছিল। কিন্তু তাদের চেষ্টা ছিলো আরো্ ভালো ও যথার্থ ব্যবস্হা উদ্ভাবনের। যদ্দরুণ কালের ধারাবাহিকতায় তারা একদিন লক্ষ্যার্জনও করেছে।

    ইতিহাস বলছে- সভ্যতার সূচনা থেকেই মানবচৈতন্যের অন্যতম চাহিদা হিসেবে লজ্জাবোধ ও পোশাক পরিচ্ছদের চর্চা অব্যাহত। এতে কোন বিরতি ঘটেনি। বস্তুতঃ মানব স্বভাবের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে এটা সৃষ্টিগতভাবেই তাদের চরিত্রে সংগুপ্ত বলেই কোন কালেই মানুষ ও পশুর মধ্যকার পার্থক্যের প্রাচীর উত্পাটিত হয়নি। মানুষ যতই সভ্য হতে চেয়েছে এই পার্থক্যের মাধ্যমসমূহকে আরো পরিপুষ্ট করতে চেয়েছে। যখন তারা তাদের চেষ্টায় সাফল্যের ধারা অর্জন করেছে, তখন দেখা গেছে মহাকালে মাথা উত্তোলন করেছে আলোকিত সমাজ ও গৌরবময় যুগ।

    আমরা যদি আজকের পৃথিবীকে আলোকিত এবং সভ্যতাকে গৌরবময় বলে অভিহিত করতে চাই, তাহলে দেখতে হবে- পার্থক্যের এসব সূচকে আমরা কতটুকু প্রাগ্রসর? কে আমাদেরকে চালিত করে-বিবেক, না প্রবৃত্তি? আমাদের জীবনযাত্রার পথ কোনটি-সুস্হতা, না অশ্লীলতা? প্রশ্নগুলোর জবাবদানে পোশাকই যথেষ্ট। কারণ, আমাদের ইতিহাস হচ্ছে- আমাদের পূর্বপুরুষরা কখনো এমন ছিলেন না এবং আমাদের রুচিবোধ কখনো এতো নিন্মস্তর স্পর্শ করেনি। জাহিলী বন্যতার দিকে প্র্রত্যাবর্তনে পা বাড়াবে এবং মানুষ ও পশুর মধ্যখানে স্রষ্টা স্হাপিত পার্থক্যের প্রাচীরে হাতুড়ী পেটাবে, সেই মানসিকতা আমাদের নেই।

    যখন গ্রীক ও রোমান সভ্যতার ভ্রুণও অস্তিত্ব পায়নি, তখনো এখানে মানব সভ্যতার গরিয়ান পতাকা পতপত করে উড়ছিলো। তাই আমাদের জীবনবোধ বিবেক ও মূল্যবোধের রংগে রণ্জিত। এর সাথে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক ক্ষীণ। বলতে কি, পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেকবাদী জীবনী সত্যের উত্থান যখন আরবে হল, তখন পাশ্চাত্যে ভয়ানক অন্ধকার।বাংলাদেশে যখন আমরা বিশ্বনন্দিত মসলিন কাপড় তৈরী করছিলাম, পাশ্চাত্যে তখন উলংগপ্রায় থাকা অস্বাভাবিক কিছু ছিলোনা। তাদের সেই উলংগ থাকার পিছনে কারণ ছিলো দারিদ্র্য। আর আজ তাদের উলংগপনার পিছনের কারণ হলো মানসিক বিকারগ্রস্ততা। এই বিকারযজ্ঞ সাধিত হয় সিগমন্ড ফ্রয়েডের হাত দিয়ে। উন্মত্ত যৌনতাকে মানুষের উপাসক বানাবার সাধনাটা তিনি করে গেছেন জীবনভর। মানবপ্রকৃতির ভিতর তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যৌনভাবের রাজত্ব। যৌনতাকে তিনি চিত্রিত করেছেন মানব স্বভাবের অনিবার্য উত্সারণ বলে এবং মানুষের পরিচয়ের প্রথম সূত্র হিসেবে যৌনতাকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি সব অশ্লীলতা ও বিবেকহীনতার তাত্ত্বিক বৈধতা নিশ্চিত করেছেন। যার ফল দাড়ালোঁ পাশ্চাত্য জুড়ে উন্মত্ত যৌনতা। চতুর্দিকে শুরু হলো পশুমানুষিকতার আস্ফালন।

    এতে করে গোটা পাশ্চাত্য যৌন উম্মাদনায় শুধু যে নিমজ্জিত হলো, তা-ই নয়, বরং তারা এর অবাধ চর্চাকে অনিবার্য করতে সিনেমার নামে পর্ণোশিল্পের মাধ্যমে সভ্যতার ইতিহাসে কলংকজনক অনাচারের উদ্ভব ঘটালো। সেই সাথে তারা সারা বিশ্বকে বুঝাতে চাইলো-একে গ্র্রহন করা চাই, ছড়িয়ে দিতে লাগলো পর্ণো অপসংস্কৃতির সয়লাব। মিডিয়া, প্রযুক্তি,বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল্যবোধের উপর সাঁড়াশি আক্রমন শুরু করলো তারা। সুরুচির বুকে বুলডোজার চালিয়ে কামোন্মাদ ভূতকে তার উপর চাপিয়ে দিলো।

    ফলশ্রুতিতে অশ্লীলতা ও যৌনতা এখন পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তিস্তম্ভে পরিনত হয়েছে। তাদের সাহিত্য সংস্কৃতি, তাদের বাণিজ্য, তাদের রাজনীতি, তাদের চিন্তা-ভাবধারা সর্বত্রই এই কলুষদৈত্যের জয়জয়কার। তাই তাদের পোশাক ছোট হচ্ছে, আরো হবে। বিশ বছর পর যখন মুশফিকুরের মতো এদেশের আজকের প্রজন্মরা মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল নির্মান করবে তখন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী এই বিশ্ব লুন্ঠনকারীদের দেহ থেকে বিকিনীটুকুও খসে পড়াটা অসম্ভব নয়। আর উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকারী সাম্রাজ্যবাদী প্রভূত্ব চেতনা যেহেতু তাদের চরিত্রে সংযুক্ত, তাই তাদের যৌনসংস্কৃতিকে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠিকেও অমৃত বিবেচনায় গ্রহন করাতেও তারা প্রয়াসী। এক্ষেত্র্রে ইসলাম তাদের প্রতিবন্ধক। তাই ইসলামের উপর তাদের বড়ই আক্রোশ। ইসলাম মানুষের যৌনতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে বলে ইসলাম তাদের ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। ইসলাম নারী পুরুষকে যৌন প্রদমন, নিয়ন্ত্রন ও যথোচিত ব্যবহারের ব্যবস্হা নির্দেশ করে বলেই ইসলামকে তারা বলতে লাগলো প্রগতির দুশমন।

    তারা তাদের হীন উদ্দ্যেশ্য চরিতার্থে এক সময় যৌন পবিত্রতার অব্যর্থ ব্যবস্হা পরিবার সিস্টেমের উপর খরগ হস্তে ঝাপিয়ে পড়লো। পরিবার ব্যবস্হা ভাংগার চেষ্টায় শুরু করলো প্রচারণা।উদ্ভাবন করলো চটকদার বিভিন্ন শ্লোগান। পরিবার ব্যবস্হার বিরুদ্ধে দেশে দেশে নামিয়ে দিলো এনজিওদেরকে। অতঃপর এক পর্যায়ে নারীদের জন্য যৌন নিরাপত্তার অমোঘ হাতিয়ার ইসলামী হিজাবকে টার্গেট করলো। পর্দার বিরুদ্ধে এতটাই মেতে উঠলো যে, অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডার জন্য তাদের হাতে থাকা গোটা ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং পোষ্য বুদ্ধিজীবিদেরকে নিয়োজিত করলো। পর্দা ব্যবস্হার কারনে তারা স্বয়ং ইসলামকে পর্যন্ত অযৌক্তিক আক্র্রমনে তীরবিদ্ধ করলো। তাদের এই অসভ্য কর্মকান্ড বিশ্বজুড়ে অগনিত আন্তর্জাতিক বিপর্যয় ও অশান্তির জন্ম দিয়েছে। যার অতি সাধারণ একটি হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ভয়াবহ বিস্তার। সুস্হতার বাঁধন ছিড়েঁ চারদিকে বিবেকহীন কদার্যপনা চলছে। এক্ষেত্রটিকে পাশ্চিমারা চরম পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এই অসভ্য পশুরা অবাধ যৌনতাকেই শুধু স্বীকৃতি দেয়নি,শুধু সমকামিতাকেই আইন করে বৈধতা দেয়নি, বরং এখন তারা পশুর সাথে মানুষের যৌনক্রিয়ার ঘৃণ্য অপকান্ডে মেতে উঠেছে।

    পাশ্চাত্যে বসবাসকারী মুসলিমরা তাদের বিকৃত মূল্যবোধকে গ্রহন করছেনা বলে নেদারল্যান্ডসের এম পি হিরসা এ্যালির কন্ঠে শোনা গেছে- এই মুহূর্তে শুধু নেদারল্যান্ড নয়,সমগ্র ইউরোপে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা উচিত। বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে এর কারণ হিসেবে বলেছেন- কোন মুসলমান পাশ্চাত্য জীবন ব্যবস্হাকে মেনে নিচ্ছেনা। তারা সমকামিতা ও বেসবিয়ানিজমের মতো আধুনিক সামাজিক প্র্রকরণগুলো মানতে নারাজ। শুধু হিরসা এ্যালি কেন, গোটা পাশ্চাত্যজুড়ে মিডিয়া প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে- মুসলমানরা এমনই প্রতিক্র্রিয়াশীল যে, তারা কুকুরের মত সংবেদনশীল প্রাণীটিকেও চুমু দিতে রাজী নয়। সেক্স ইন্ডাষ্টিতে তারা নেই। অতএব মধ্যযুগীয়। অতএব ইউরোপের মত (আধুনিক?) সমাজে তারা বসবাস করবে কোন্ অধিকারে?

    সত্যিই তো ! যেখানে পশুর সাথে মানুষের যৌনতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আওয়াজ উচ্চারিত হয়, সেখানে পুরুষের যৌনাংগের প্রতি বীতশ্র্রদ্ধ হয়ে কুকুর, শুকর, ষাড়, ঘোড়া, খচ্চরের সাথে দলবেঁধে নারীরা যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, সেখানে মানব সভ্যতার গর্বিত উত্তরাধিকার রক্তে ও চেতনায় লালন করে মুসলমানরা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করবে কোন যুক্তিতে? কিন্তু ইসলাম যেহেতু সহনশীল ধর্ম, তাই সেক্যুলার মুসলমানরা পশ্চিমাদের অসুস্হ মূল্যবোধকে বাধা দিচ্ছেনা। কিন্তু কথা হলো, বিবেকবোধ, সুস্হতা ও মানবীয় শ্রেষ্ঠত্বের অবলম্বনসমূহকে পদপিষ্ট করে কুকুরের সাথে যৌনমগ্ন পশ্চিমারা কিভাবে নিজেকে সভ্য বলে দাবী করতে পারে? শুধু তাই নয়, কথিত আন্তর্জাতিক (বাংলাদেশী ?) মানুষের দাবী মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ আসনে নাকি তাদের বাস ! তাদের বস্তুগত উন্নয়নের অহম থেকে নিশ্চয় তারা এ দাবী উচ্চারণ করছে। কিন্তু বস্তুগত উন্নয়নকেই শ্রেষ্ঠত্ব যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি বলা যেতে পারেনা। মানব সভ্যতার লক্ষ্য বছরের অর্জন শালীনতাকে বিসর্জন করে পশুর উলংগপনাকে মানুষের দেহ ও বোধে রাজত্ব দিয়ে অন্ধকার যুগের সমস্ত কুকর্মের পুনরুথ্থান পৃথিবীকে উপহার দিয়ে একটি নির্লজ্জ জনগোষ্ঠীই কেবল তৈরী হতে পারে, সভ্য জাতি নয়।

    কিন্তু তবুও তারা সভ্যতার নামে পশুত্ব, শান্তির নামে বিশ্বজুড়ে মানবতার রক্তপাত, বস্তুগত উন্নয়নের নামে অর্থনৈতিক দখলদারীত্বেরর লুন্ঠনযজ্ঞের আস্ফালন দিচ্ছে। আজ তাদের এই আস্ফালনে বাহবা দেয়ার লোকও চতুর্দিকে কম নয়। পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে স্বীকৃতিদানের মতো ধোলাই মগজের উপস্হিতি আজ সর্বত্র। তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের কুয়াশাচ্ছন্নতা মানুষের চৈতন্যে এমনই অন্ধকার জন্মিয়েছে যে, মারাত্নক অপকর্মটিও যদি পশ্চিমারা করে থাকে, তবে একে সৃজনশীল বলে শ্লোগান দেয়া ছাড়া তাদের কোন বিকল্প থাকেনা।

    পাশ্চাত্যের ধুরন্ধিপনা এতই চৌকস যে, তারা ইহুদি ফ্রয়েডের মাধ্যমে লাগামহীন যৌনতার তাত্ত্বিক ভিত আগেই তৈরী করে নিয়েছে। এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তরুনদের মগজে সেই তত্ত্ব পুশইন করার একেকটি কদার্য কারখানা। এভাবেই নতুন প্রজন্মের চিন্তারাজ্যে তাদের দখলদারীর প্রেক্ষিত তৈরী হয় এবং এক ঘৃণ্য আলেয়াকে আলো ভেবে এর পিছনে ছুটছে। এভাবে চারিত্রিক অবক্ষয় ও নগ্ন কলুষতার জীবানু আচ্ছন্ন করে ফেলছে গোটা সমাজের চর্ম-রন্ধ্র। এখন পশুত্বের দমকা ঝরে সভ্যতার বাতিঘর ম্রিয়মান। কিভাবে কি ঘটছে- মানষকে টেরই পেতে দেয়া হচ্ছেনা। এমুহূর্তে মুসলমানগন কি আত্নভোলা থেকে পাশ্চাত্যের চোরাবালিতে নিঃশেষ হয়ে যাবেন, নাকি ইসলামী সুস্হ চেতনায় উজ্জীবিত হযে দ্বীন, ঈমান ও সভ্যতা রক্ষায় বলিষ্ঠভাবে সোচ্চার হবেন- তাদেরই নির্ধারন করতে হবে।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      আপনার এই লেখাটি পড়ার জন্য আমাকে অনেক ধৈর্য্য সঞ্ছয় করতে হবে। তবে তার আগে প্যাপিলনের পাতায় লেখাটি আবার লিখে কবুতরের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠালে ভাল হয়। ও হ্যাঁ কবুতরকে বলবেন প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ পাড়ে মিশন হিলের কাছে যেতে। মুনাফেকদের আমার বড়ই অপছন্দ। পশ্চিমের টেকনলজি ব্যবহার করবে কিন্তু আবার ওদিকে কথায় কথায় তাদের বদনাম করবে।

      বাই দ্য ওয়ে যে ছেলেরা মেয়েদেরকে তাদের কাপড়ের পরিমাণের তুলনায় মূল্য দেয় সেসব ছেলেদের আমি পুরোপুরিই এড়িয়ে চলি। এবং খেয়াল করে দেখেছি যে এদের এড়িয়ে চললে কোন অসুবিধা হয় না - তারা বড্ড বেশি কুয়োর ব্যাংগ। বিশাল পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
    • Raihan rouf

      হারুন ভাই,আমার মনের কথাগলো আপনি সুন্দর ভাবে বলে দিলেন।তবে আপনার কথায় কন মুনাফিকের গন্ধ ত পেলাম না,।আর ইস্লামি মূল্যবোধ এর প্রতি যদি কন বিশ্বাস না থাকে,তাহলে সেটা নিএ মুসলমানদের জ্ঞান দেয়ার কোন প্রয়যন নাই। ১৪০০ বছর আগের ইসলাম এখন রয়ে গেছে এবং থাকবে। যারা মানবে তারা উপক্রিত হবে,যারা মানবে না তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাতে ইসলাম এর কিছু যায় আসে না। মুল লেখাটা অনেক ধৈর্য ধরে পরতে হএছে, মনে অনেক কথা থাক্লেও উত্তর দিতে ইচ্ছা করছিল না। তবে আমার মনের কথাগুল বলে দেবার জন্য আবার ধন্যবাদ ।(সম্পাদিত)
      (সম্পাদিত) (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)

      জবাব দিন
  5. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    আমাদের নিজেদের উপর বিশ্বাস নেই, স্বপ্ন দেখতে জানি না। বিরাট এস্টাবলিস্টমেন্টের যে কথা বললে সেটা শুরু হয়েছিল কিভাবে? ইতিহাস ঘাটলে তো দেখি এসবই কিছুই তো একদিন বিরাট এস্টাবলিস্টড ছিল না। আসলে প্রথমে দরকার একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  6. তৌফিক (৯৬-০২)

    শাহবাগ দেখি নাই, তবে শাহবাগীদের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করতে ৬০-৭০ জন প্রবাসী তরুণ বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবি -৩০ ডিগ্রি উইন্ডচিলে আধাঘন্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এইটুক সফলতাই শেষ কবে দেখেছে কোন স্বতঃস্ফূর্ত জনতার আন্দোলন?

    অফটপিকঃ আপা, আপনি দেখতেছি অনেক কেষ্টু-বিষ্টুর সাথে কনুই ঘষাঘষি করেন। হিংসিত হইলাম 🙂 (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      আন্দোলনের শুরুটা স্বতঃস্ফূর্ত এ বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু জাস্ট দাঁড়ালাম বলেই এক ধরণের আত্মতৃপ্তি পেলাম - এটাই কি বড় পাওয়া?
      বাংগালির ভাব প্রকাশ করার জন্য রবীন্দ্রনাথই সবচেয়ে উত্তম -' লিখেছিনু ঢের বেশি এই তার গর্বই।'

      কেষ্টু-বিষ্টুর সাথে সাক্ষাৎ হয়ে কোন লাভ নাইরে যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন সলিড কাজ করছি।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
      • তৌফিক (৯৬-০২)

        বাংলাদেশের সুবিধাভোগী শ্রেণীর এইসব ছেলে-মেয়েরা দেশের জন্য চিন্তা করছে, সেজন্য কিছু একটা করছে, বা করার চেষ্টা করছে সেইটা আমার কাছে অন্তত ছোট না। আপনার গোল ওরিয়েন্টেড চিন্তা ভাবনা ভালো, কিন্তু ইন্টেলের কোর আই ফাইভ একদিনে হয় নাই, আস্তে আস্তে হইছে।

        জবাব দিন
  7. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    তোমার এই টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির বয়ানগুলো একটানে পড়ে ফেলা যায় - উপাদেয় লেখা হলে যা হয়, অনায়াস পাঠ।

    পশ্চিমে এসেছি বেশিদিন তো হয়নি, তবে তাঁদের দেখছি যাঁরা এসেছেন বহুকাল হলো। প্রায় সবাইকেই দেখছি - হৃদয়ে এবং পরিপার্শ্বে একটা ছোট বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা ভারত নিয়ে পড়ে আছেন।যাঁরা একেবারে আন্তর্জাতিক হয়ে যেতে পেরেছেন এমন ব্যক্তিবর্গ আছেন তো বটেই - তবে আমি এখনো দেখা পাইনি।

    ৪২ বছরের ব্যর্থতার ছাই থেকে এমন একটা স্ফুলিঙ্গ দেখা গেলো, যার মূলে ছিলো '৭১ তো দূরে থাক, ভালো করে '৯০ দেখেনি এমন একটা প্রজন্ম। আমরা, চল্লিশ এবং তার আশেপাশের বয়সের প্রজন্ম (বয়সের হিসেবে এদের সবথেকে কাছের) এবং বাকী বুড়ো ভামেরা -- বসে গেলাম খেলা দেখতে -- তাদের সংগে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিলামনা। আমাদের দালালি, আপোষকামিতার চোখ দিয়ে আমরা ভবিষ্যদ্বাণী করলাম, যার যার নিজের মতো করে, এই হবে সেই হবে -- যখন কিছু কিছু মিলেও গেলো আনন্দে বগল বাজালাম।একটা তরুণ প্রজন্ম, যারা বেড়ে উঠেছে রাজনীতিকে ঘৃণা করতে করতে, তার প্রতি নাক সিঁটকানো মনভাব নিয়ে, তাদের কাঁধে বন্দুক রেখে যে যার মতো (যুদ্ধাপরাধের বাইরেও) নানান দাবী উত্থাপনের হুজুগে মেতে উঠেছে।
    ৪২ বছর যে অথর্বদের যুদ্ধাপরাধের বিচার গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি, সেই ভামেরাই টক শো, ব্লগ-ফেসবুক ( যেমন: আমি নিজে) -এ আশা করেছি ৪২ দিনেরো কম সময়ে দেশের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আত্মপ্রতারণার একটা সীমা থাকা উচিত।

    শাহবাগের এই উত্থান থেকে রাজনীতিকরা কি শিক্ষা নেবে জানিনা, তবে এ প্রজন্মের হৃদয়ে এদের জন্যে যে বিশাল অবিশ্বাস জমে আছে তা স্পষ্ট হয়ে গেলো। এবং এরা যদি একটি ইস্যুতে এভাবে ফুঁসে উঠতে পারে, তবে আরো সংঘবদ্ধভাবে একটা দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে নিশ্চিতভাবেই।যারা মনে করছেন, এটা সময়ের একটা দাবী তারা দর্শকের সারিতে না থেকে কোন না কোন ভাবে এদের কাতারে সামিল হোন - ইতিহাস যদি কোন ডাক দ্যায় তো এটাই সেই ডাক। অমুক দল আন্দোলন হাইজাক করে নিলো, তমুক দল আসলোনা এসব হিসেব নিকেশের মায়াকান্না বন্ধ করে পথে নামুন - পথে নেমেই পথ ঠিক করুন।

    জবাব দিন
  8. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    একটা সহমত আরেকটা দ্বিমতের উল্লেখ করিঃ

    আসলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আর আশরাফুলের ব্যাটিং একেবারে যথার্থভাবে একে অপরের প্রতিশব্দ।

    আপু, যা একখানা উপমা দিলেন! আপনার এই তুলনা সত্য প্রমাণ করতেই কি আশরাফুল দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬? তবে আশ্বস্ত হওয়ার মত ব্যাপার হলো এই যে, আশরাফুল ক্লিয়ার আরেকজনের দোষে আউট হইছে, ঠিক শাহবাগ যেমন আরেকপক্ষের দোষে ম্রিয়মান হচ্ছে।

    উন্নত বিশ্ব এখন যতটুকু সমব্যাথি মুসলিম বিশ্বের জন্য তার প্র্ধাণ কারণ মুসলিম বিশ্বের অনেক পিছিয়ে থাকা।

    - সম্পূর্ণ দ্বিমত! ঐতিহাসিক কারণে। তবে সেই আলাপ এখন তোলা থাক।

    শাহবাগ নিয়ে যা' কিছু বলেছেন, বেশিরভাগের সাথেই একমত; পজিটিভ নেগেটিভ দুইয়েই।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  9. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    মানসিকভাবে অপরিপক্ক কাউকেও মাথায় তুলতে নাই। তাই 'তরুণ তরুণ' করে অতো নাচার কোন কারণ আমি দেখি না। আর অপরিপক্কতার সংজ্ঞা উৎরে যাবার প্রধান শর্তই হচ্ছে চিন্তা-ভাবনায় আন্তর্জাতিকতা থাকবে, দূরদর্শিতা থাকবে।

    যে ব্যাপারে তোমার সম্পূর্ণ দ্বিমত সে ব্যাপারেও আমি সিদ্ধান্তে এসেছি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। পরে না হয় কোন এক সময় সেটা বয়ান করবো।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  10. হায়দার (৯২-৯৮)
    বরকেই যখন আর তোয়াক্কা করছি না, তখন আর আমার ভয় কি?

    ইশ, আমার বৌকে যদি এভাবে বলতে পারতাম। 😛

    আপা, আপনার লেখাটা খুবই ভালো লেগেছে। শাহবাগ মুভমেন্ট দেখে খুব আশাবাদি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আন্দোলনটা কিভাবে যেন ছিনতাই হয়ে গেছে।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ভুল হোক আর শুদ্ধ হোক মনে মনে সবারই একটা বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত ছিল। তাই যখন আন্দোলন শুরু হলো তখন অন্যান্য সব নাগরিক সমস্যা ভুলে সবাই এতে অংশগ্রহণ করেছিল। ভেবেছিলো আন্দোলনে ঠিক তাদের মনের কথাটা উঠে আসবে। আসলে আন্দোলনটা তো ছিল নাগরিক তরুণ ব্লগারদের - যারা জোর করে ভাবতে চায় তাদের চাওয়াই সবার চাওয়া হবে।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  11. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    শান্তা,

    অনেক দিন পরে তোমার লেখা দেখলাম। প্রথমে ধাক্কা খেলাম মাত্র ৩টি তারকা দেখে - (পরেরটা আমার দেওয়া)। লেখার মান অনুসারে ১০টির বেশী তারকা আশা করছিলাম প্রায় শ'চারেক পাঠকের কাছ থেকে। পরে অনুধাবন করলাম ব্যাপারটা।

    আমার এক পুরানো বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় একটা নতুন শব্দ শিখলাম। শব্দটা হচ্ছে "নাস্তিক রাজাকার"।

    - তাও হয় নাকি?
    - আমি তো হয়ে গেছি। - বন্ধুর উত্তর।

    যুদ্ধের সময় পাকি আর্মি তাকে ধরে ছিল এবং অনেক দিন বন্দী জীবন কাটাতে হয়েছে। তাকে আজ এই কথা শুনতে হবে কেন?

    দেশ এখন এমন 'সুন্দর' ভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে যে একজন স্বঘোষিত নাস্তিক এবং যুদ্ধবন্ধী স্বাধীনতা প্রেমিককেও 'রাজাকার' বলতে মুখে আটকাচ্ছে না যেহেতু সে হাসিনার কাজের ভুল ধরিয়ে দিতে সাহস দেখিয়েছে। কোন সাহসে মানুষ আজ মুক্তি যুদ্ধের সব চাইতে বড় বীর সৈনিক কাদের সিদ্দিককে 'রাজাকার' বলতে সাহস পায়?

    সত্যকথা শুনতে এত অনিহা কেন নতুন প্রজন্মের?

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      সাইফ ভাই,
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনি ভাবছেন তিনটা ৫ স্টার কেন - আর আমি ভাবছিলাম অনেকগুলো ১ স্টার পাব। এই প্রজন্মের চিন্তাভাবনার দৌড় সম্পর্কে ধারণা আছে তো তাই। এই লেখাটা শেষ করেই রিভিশন না দিয়েই পোস্ট করেছি যাতে আরেকটু পরে পোস্ট করলে জনপ্রিয় চিন্তাভাবনার সাথে মিল রাখবার জন্য যদি লেখাটা কিছুটা বদলে ফেলি। এমনকি হাসপাতালের ভুল নামটাও (রাব্বী ধরিয়ে দিয়েছিল) ঠিক করিনি।

      (সম্পাদিত)


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      এর মধ্যে আবার কাদের সিদ্দিকী???
      যুদ্ধের মধ্যে কি মোশতাককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হয় নি???
      তাইলে???
      মুজিবরে স্বাধীনতার সাড়ে তিনবছরের মাথায় সপরিবারে জীবন দিতে হয় এবং এখনো পর্যন্ত সেই হত্যার পক্ষে বলা হয়।
      আর আপনি সাইফ ভাই পড়ে আছেন কাদের সিদ্দিকীরে নিয়া!

      কেউ বলে নাই কাদের সিদ্দিকী ৭১ এ যুদ্ধ করে নাই, তারে বলা হচ্ছে এই যুগের রাজাকার।
      আরো সোজা করে ৪৭ এর দেশপ্রেমিক, ৭১ এ শান্তিকমিটি...

      আরো ক্লিয়ার করতে হবে ভাই???


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  12. Raihan rouf

    আপু, আমার উত্তর জেনে আপনার কি কন লুভ আছে? আর ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে আমার নিজের কন মনগড়া ধারনা নেই। আমি সেতাই বিশ্বাস করি, যেটা কুরআন ও হাদিস এ বলা আছে। আর ১০০ বছর পর আপনি যে বিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন ,সেই বিবর্তন তো আপনারা করেই ফেলেছেন আপনাদের নিজের মত করে। অতএব আপনারা আপনাদের বিশ্বাস নিএ থাকুন না কেন। আপনাদের কে ত কেউ বাধা দিছছে না। তবে আধুনিকতা আর প্রগতিশীলতার নামে ইসলাম ধর্মকে অ্যাটাক করে কথা বলার ত কন প্রয়োজন নাই। যারা ইসলাম মেনে ছলতে চায় ,তাদেরকে ধার্মিক ধার্মিক ভাব মুসল্মান বলে অপমান করাটা কি খুব জরুরি? তবে ১৪০০ বছর ধরে ইসলাম যেমন পরিবরতিত হয় নি, কেয়ামত পরযন্ত তা কখনই হবে না,তবে মুসলমান নিজেদের কে পরিবরতন করতেই পারে। কারন আল্লাহ্‌ পাক কাউকে বাধধ করবেন না। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। আর প্রিথিবির সমস্ত মানুষ অমুস্লিম হলেও আল্লাহ্‌র কন ক্ষতি নাই। যে মানবে তার লাভ, যে মানে না তার ক্ষতি। আপনি আপনার বিশ্বাস নিএ থাকুন, আমি আমার। হাশরের ময়দানে ত দেখা হবেই। ধন্যবাদ ।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ধন্যবাদ তোমার উত্তরের জন্য। কথা হচ্ছে কি আমি যে প্রশ্ন করলাম তার উত্তর কিন্তু পেলাম না। তবে আমার যে বিষয়গুলো তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তার উত্তর দেওয়াটাকে আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
      "ধার্মিক ধার্মিক ভাব মুসল্মান বলে অপমান করাটা কি খুব জরুরি" - আমি আমেরিকাতে থাকি। আমেরিকার অর্থব্যবস্থা তো জানই সুদভিত্তিক। এখন একজন ইঞ্জিনিয়ার যখন সৌদিআরবে না গিয়ে আমেরিকাতে চাকরি করতে আসে এবং কথায় কথায় ইসলামের রেফারেন্সে আমেরিকার গিবত করে তখন তার সম্পর্কে কি ধারণা জন্মাবে? আমেরিকাতে আসার জন্য তো সে বাধ্য ছিল না। সুদ দিয়ে মার্সিডিজ গাড়ি কেনার তো দরকার নেই। এখন আমি যখন দেখছি এই শ্রেণীর লোকজনরা শুধু হিজাব পড়া আর হালাল খাওয়াকে ইসলাম ধর্ম হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে মিথ্যে কথা বলছে তখন আমি সত্যিই কনফিউজড হয়ে যাই। কারণ কোরান শরীফ, বোখারী শরীফ, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আমি কিন্তু অনবরত পড়ে চলছি। আমি দেখেছি কোরান শরীফে একটা বিশাল অংশ জুরেই ইতিহাসের বর্ণনা আছে। আর কিছু অংশ জুরে আছে বিভিন্ন উপদেশ, আচার-অনুষ্ঠান পালনের কথা। এখন আমি স্পষ্ঠতই দেখলাম মিথ্যা কথা বললে সরাসরি জাহান্নামে নিক্ষেপের কথা বলা আছে - যেখানে হিজাব পড়া (যা তেমন স্পষ্ঠত নেই) বা হালাল খাওয়া বরখেলাপের প্রসংগে জাহান্নামে নিক্ষেপের কথা নেই। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ইসলাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে কেন?
      তারপর দেখো এখন সারা পৃথিবীতে যে সব হোয়াইট কালার জব (যে চাকরিগুলো করলে একটা ভদ্রস্থ মধ্যবিত্তের জীবন কাটানো যায়) তৈরি হচ্ছে সেসব কিন্তু এই হিন্দু-খ্রীস্টান-ইহুদী-বৌদ্ধ-নাস্তিকদের হাত দিয়েই হচ্ছে বেশি। যার ফলে মুসলিম বিশ্ব দিনদিন তার কন্ঠস্বর হারাচ্ছে এবং মার খাচ্ছে। যদিও অনেক মুসলিম দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী। কিন্তু নিজেদের নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা তাদের নেই - কারণ প্রযুক্তি তাদের হাতে নেই। এই বিষয়ে সামাজ্যবাদী শক্তিকে দোষ দেওয়ার কোন মানে হয়না - কারণ সামাজ্যবাদী শক্তি তার ক্ষমতাতেই সামাজ্যবাদী - কারও দয়ায় নয়। ইন ফ্যআক্ট, যখন যে জাতি জ্ঞান চর্চা করেছে, সময়ের সাথে নিজেদের পরিবর্তিত করেছে তারাই কিন্তু এগিয়ে গেছে বা ইসলামিক ভাষায় বললে বলতে হয় আল্লাহর রহমত পেয়েছে। ইসলামের স্বর্ণযুগের প্রধান কারণ জ্ঞানচর্চা এবং নতুন কিছুকে গ্রহণ করা। তারপর তুমি নবীর কথাই ধরো, উনি কিন্তু উনার বাপ-দাদার মতো চিন্তা করেন নাই। নতুন একটা ধারণা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরণ সংগ্রাম করেছেন। এখন এই যুগে অনেকেই মেয়েরা কেন অর্ধেক সম্পত্তি পাবে বা অর্ধেক সাক্ষি হবে সেটা নিয়ে সমালোচনা করে। কিন্তু এই পশ্চিম বিশ্ব দু'শ বছর আগেও মেয়েরা কোন সম্পত্তির মালিক হতে পারতো না। মেয়েদের কোন ভোটাধিকার ছিল না। এমনকি আমেরিকাতে দাসদের (শুধু পুরুষ) ভোটাধিকার ছিল ৫ঃ২ রেসিওতে। মানে পাঁচজন পুরুষ দাসদের মধ্যে ২ জন ভোট দিতে পারবে। সেই তুলনায় দেখো নবী কতো এডভ্যান্স ছিল। এখন তুমি আমাকে একটা কোরানিক রেফারেন্স দেখাও যে যেখানে বলা আছে যে নিয়মকানুনগুলো বদলাতে পারবে না। আমি মূল্যবোধ ভিত্তিক নিয়মের কথা বলছি না, আইনভিত্তিক নিয়মের কথা বলছি। ইন ফ্যআক্ট নবীকে অনেকাংশে আমার সেই সময়ের তুলনায় নারীবাদী বলে মনে হয়। অনেকগুলো বিয়ের কথা সবাই বলে --- আসলে এই সত্যি কথাটা বলতে অনেকেই দ্বিধাবোধ করে যে বিয়েটা তো বলতে গেলে মেয়েদের একটা এমপ্লয়মেন্ট। আগের দিনে সম্ভান্ত মেয়েদের বাইরে কাজ করার সুযোগ ছিল না - তাই তাদেরকে ডিসপ্রোপোরশোনেটলি কারও না কারও বৌ হতে হতো। আর এলাকাভিত্তিক মানসিকতা বলেও একটা কথা আছে। আমি একটা আরব মেয়েকে চিনি যে কিনা খুবই গর্বিত শেখের চার নাম্বার বৌ হিসেবে। আমার এইটা জানা ছিল না যে ঐসব দেশে চার নাম্বার বৌ হওয়াটাও একটা সামাজিক স্ট্যআটাস - এর মানে হলো তোমার বর খুবই ধনী। যাই হোক কথা আর না বাড়াই। তবে যেটা বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হলো নবী তো তার বাপ-দাদার মতো করে পুরনো ধারণায় আটকে থাকতে চায়নি, নতুন ধারণা প্রবর্তিত করেছিলেন। তবে যারা বাপ-দাদার মতো করে সব কিছু ভাবছে না, সমাজে নতুন চিন্তা-চেতনা প্রযোগ করতে চাচ্ছেন তবে তারা কি সবচেয়ে উন্নত সুন্নত পালনকারী নয় কি? অন্যদিকে যারা বাপ-দাদার ধারণাকে আকঁড়ে ধরে যে কোন নতুনত্বকে প্রতিহত করতে চাচ্ছে তারা কি কাফেরদের প্রতিনিধিত্ব করছে না?


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
      • হায়দার (৯২-৯৮)

        আপা,
        আপনার এই কমেন্ট পড়ে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো অনেক বেড়ে গেল। তবে কিছু ব্যাপারে একটু খটকা লেগেছে। আসলে খটকা না বলে বলা উচিৎ, কিছু বিষয় বুঝতে পারিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে। আপনি যেরকম কোরান শরীফ, বোখারী শরীফ, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে পড়ে চলেছেন, আমার এখনও কোরান শরীফটাই পুরোপুরি পড়া হয়নি। কাজেই আমার বুঝার মধ্যে ভুল থাকতে পারে। যাক এবার আমার ফিলিংসটা শেয়ার করি।

        ১| আপনার বক্তব্যের অনেক কিছুর সাথেই আমেরিকান স্কলার Nouman Ali Khan এবং Yasir Quadhi 'র মতামতের মিল মনে হয়েছে।

        ২| আরেকজন আমেরিকান স্কলার Yusif Estes এর translation অনুযায়ী, মুসলিম শব্দের অর্থ হচ্ছে Submission to the will of God (one and only God)| ইসলাম ধর্মে Faith এবং Action দুটাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছাড়া অপরটি অর্থহীন। কাজেই যে ব্যক্তি খাবার এর হালাল-হারাম নিয়ে কঠোর কিন্তু সুদের লেনদেন এর ব্যপারে নীরব, সে কখনই প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় বহন করেনা মু্খে যতই ইসলামের কথা বলুক না কেন।

        ৩| আপনি ঠিকই বলেছেন যে, ইসলামের স্বর্ণযুগের প্রধান কারণ জ্ঞানচর্চা এবং নতুন কিছুকে গ্রহণ করা। মুসলিমদের উল্টো পথে যাত্রা শুরু সম্ভবত ১৪শ-১৫শ শতাব্দী থেকে যখন সুফিবাদ জনপ্রিয়তা পায়। ঐতিহাসিকভাবে সুফিবাদ তিনটি পর্যায়ে বিবর্তিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের সুফিরা বরং ক্লাসিকাল ইসলামিক সোর্সের (কুরআন ও হাদীস) স্কলার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের সুফিদের সাথে ক্লাসিকাল ইসলামিক মূল্যবোধের পার্থক্য শুরু হয়। তৃতীয় পর্যায়ের সুফিদের সাথে পার্থক্যগুলো আরো ব্যপক আকার ধারণ করে। আমাদের ভারতবর্ষে যারা ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন তাদের অধিকাংশই তৃতীয় পর্যায়ের সুফিদের অনুসারী ছিলেন। এবং এই সুফিবাদটাই সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। আমাদের দেশে প্রচলিত ইসলামিক মূল্যবোধের অনেক কিছুই এই মতবাদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

        ৪| ক্লাসিকাল ইসলামিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নতুনত্ব গ্রহণ করতে কোন সমস্যাই নেই তবে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করা আছে। তা হল, যেসব বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে বিধিনিষেধ উল্লেখ করা আছে তা যেন লংঘন করা না হয়। কারণ, সেটা হলে আল্লাহর নির্দেশকেই অমান্য করা হবে। এবং সেক্ষেত্রে মুসলিম শব্দের শাব্দিকার্থ থেকেই বিচ্যুত হয়ে যাবে।

        ৫| ক্লাসিকাল ইসলামিক সোর্স অনুযায়ী, নবী(সঃ) নিজে থেকে নতুন ধারণা প্রবর্তিত করেননি, বরং তার মাধ্যমে প্রবর্তিত করা হয়েছে এবং অনেক কিছুই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

        সবশেষে আমার একটি হতাশা দিয়ে শেষ করছি। আমরা সবাই জানি যে, নামায কায়েম করা ইসলাম ধর্মের মহাগুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু অনেকেই জানেনা যে, নামায কবুল হওয়ার একটি পূর্বশর্ত হচ্ছে সৎ উপার্জন করা। এই একটি বিষয়ও যদি আমাদের দেশের মুসলিম দাবিদাররা পালন করতো, তাহলে এত অনিয়ম, দূর্নীতি আমাদের দেশে থাকতোনা। (সম্পাদিত)

        জবাব দিন
        • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

          হায়দার আমার পড়াশোনা শুধু আমার নিজের জন্য। তবে এইসব ক্ষেত্রে মন্তব্যের খাতিরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হয় বলে এই বিষয়ে লিখছি কিছুটা বাধ্য হয়ে। আমার ক্ষেত্রে কোন কিছু ধারাবাহিকভাবে পড়ে গেলে ভালোভাবে তেমন কিছু আত্মস্থ করতে পারিনা। যেমন ধরো একটা সফটওয়ার বানানোর জন্য কোন বিশেষ প্রোগরামিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে। এখন আমি এ, বি, সি করে শুরু থেকে সেটা না শিখে সরাসরি প্রায়োগগিক ভাবে সেটা শিখব। ঠিক তেমন ধারাবাহিকভাবে কোরাণ না পড়ে (প্রথমে শুরু করেছিলাম, কিন্তু এগুতে পারিনি) বিভিন্ন ঘটনার সাপেক্ষে রিলেটেড সুরা (কয়েকটি অনুবাদ) পড়ি। আর বিভিন্ন স্কলার যাদের নাম বললে তাদের সাথে আমি পরিচিত নই। আমি শুধু আমার মতো করে নিজেকে বোঝার জন্য এবং আমার সন্তানদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পড়ি। শুধু সুদ না, দেখো লোকে নিজেরা চৌদ্দশ বছরের অপরিবর্তিত ইসলাম পালন করছে বলে গর্ব করে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখো, তারা উটে করে চলে না, তালপাতার ছাউনীযুক্ত ঘরে থাকে না, খেঁজুর আর শুষ্ক রুটি দিয়ে ডিনার সারে না - কিন্তু শুধু পোষাক অপরিবর্তিত রেখে বলে "দেখো, দেখো, আমরাই একমাত্র অপরিবর্তিত ইসলাম ধরে রেখেছি।" আরে বাবা, তুমি দশটার মধ্যে সাতটা কালচারই বদলে ফেললে - আর যে দশটার মধ্যে দশটা কালচার বদলে ফেলেছে তার দিকে দাত কিড়মিড় করে তাকিয়ে বলো - "ব্যাটা নাস্তিক।" এটা হিপোক্রেসি নয় তো কি?


          “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
          ― Mahatma Gandhi

          জবাব দিন
          • হায়দার (৯২-৯৮)

            ধন্যবাদ আপা, আপনার অবস্হান বুঝিয়ে বলার জন্য।
            এমনিতেই আপনার মূল লেখার সাথে অপ্রাসংগিকভাবে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে ফেলেছি, অন্যান্য পাঠকরা যদি এই সূত্র ধরে কমেন্টের চেইন শুরু করে দেয় তাহলে আপনার মূল লেখাটাকেই অপমান করা হবে। সেজন্য ঠিক করেছি, এই কমেন্টের পর এই প্রসংগে বলা থেকে বিরত থাকব। কোরান শরীফ পড়া এবং আপনার কমেন্টের শেষে উল্লেখিত হিপোক্রেসি প্রসংগে আমি যতটুকু জানি এবং বুঝি তা সংক্ষেপে উল্লেখ করার চেষ্টা করছি।

            ১| কোরান শরীফ ২৩ বছর ধরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অবস্হার প্রেক্ষিতে নাযিল করা হয়েছে। কখনও কখনও পুরো সুরা একসাথে, আবার অনেক সময় শুধুমাত্র কিছু আয়াত নাযিল করা হয়েছে। আবার এমনও হয়েছে যে, কোনো সুরার আয়াতগুলো অবতীর্ণ হবার মধ্যবর্তী সময়ে অন্য কোনো সুরার আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছে। বর্তমানের কোরান শরীফের সুরার ক্রমগুলো নাযিল হবার সময়ানুসারে না হয়ে বরং সাইজ অনুসারে হয়েছে। এই ফর্ম্যাটটা নবী (সঃ) এর জীবনের শেষ পর্যায়ে সরাসরি উনার তত্বাবধানেই করা হয়েছে। (কেন এভাবেই সংকলন করা হয়েছে সে সম্বন্ধে আমার জানা নেই)

            ২| কোরান শরীফে প্রায়ই দেখা যায়, একই সুরার মধ্যে এক প্রসংগ থেকে অন্য প্রসংগে চলে যাওয়া অথবা অন্য সুরায় সেটার পুনরাবৃত্তি করা। অনুবাদ পড়ার সময় এটা প্রথমেই ধরা না পরায় অনেক ক্ষেত্রে অসুবিধা মনে হতে পারে কিন্তু আরবীভাষীদের জন্য এটা খুব একটা সমস্যা না। কারণ বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হবার সাথে সাথে Rhym এর পরিবর্তন হয় এবং এটা ওদের ভাষার একটা স্টাইল।

            ৩| কোরান শরীফ পরিপূর্ণরূপে বোঝার জন্য 'কেন', 'কখন', 'কোথায়' এবং 'কোন প্রসংগে' তা নাযিল হয়েছে তা জানা দরকার। এই ইনফরমেশনগুলো তাফসীরে পাওয়া যাবে। আমি অবশ্যই তথাকথিত আল্লামা সাঈদীর তাফসীরের কথা বলছিনা (তার তাফসীর অনুসরণ করলে বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনাই বেশী)| ক্লাসিকাল ইসলামিক সোর্সের উপর ভিত্তি করে রচিত তাফসীরের কথা বলছি। এ পর্যন্ত অনেকেই তাফসীর লিখেছেন, তার মধ্যে 'Ibn Kathir' এর লেখা সবচেয়ে সমাদৃত।

            ৪| যে লোকেরা চৌদ্দশ বছরের অপরিবর্তিত ইসলাম পালন করছে বলে গর্ব করে তাদের মনের মধ্যে কি আছে তা জানিনা তবে এটা ঠিক যে ইসলাম ধর্মে সত্যি সত্যি একটি বিষয় আছে যা এখনও অপরিবর্তিত আছে। তা হল কোরান শরীফ। আমার জানা মতে কোরান শরীফ ছাড়া পৃথিবীতে আর কোনো ধর্মগ্রন্হ নেই যা কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হয়নি। তবে সত্যি সত্যি পরিপূর্ণভাবে কোরান শরীফের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করছেন এমন লোকের খোঁজ পাওয়া, বিশেষ করে আমাদের দেশে, খুবই দুরুহ ব্যাপার বলে মনে হয় আমার কাছে। এর কারণ হিসেবে আমার আগের কমেন্টের ৩নং পয়েন্টটি উল্লেখযোগ্য।

            ৫| কালচারাল পরিবর্তনের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে আমার আগের কমেন্টের ৪নং পয়েন্টটি উল্লেখ করতে চাই। উদাহরন হিসেবে আপনি উটে চড়া, তালপাতার ছাউনিতে থাকা নিয়ে বলেছেন। কিন্তু এই উদাহরনগুলোর কোনোটিই Islamic Creed (দুঃখিত, ক্রিড শব্দের ভাল বাংলা জানিনা) এর অন্তর্গত নয়।

            ৬| Islamic Creed অনুযায়ী নতুন কিছু গ্রহনযোগ্যতার বিষয়টি মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। রিচুয়াল (প্রার্থনা সম্পর্কিত) এবং কালচারাল (জীবনযাত্রা সম্পর্কিত)| কালচারাল বিষয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই গ্রহনযোগ্য শুধুমাত্র ঐগুলো ছাড়া যেগুলোর বিষয়ে কোরান এবং হাদীসে নিষেধ আছে। যেমন: এলকোহল, পর্ক ইত্যাদি।
            আরেকটা উদাহরন দেয়া যাক। নবী(সঃ) জীবনে কখনও 'ভাত' খাননি, আসলে উনি কখনও 'ভাত'ই দেখেননি। এখন কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, 'নবী কখনও ভাত খায়নি, কাজেই ভাত খাওয়া হারাম'| সেক্ষেত্রে আপনার পূর্ণ অধিকার আছে তার কাছে প্রমাণ দাবী করার। বরং এটা তার দায়িত্ব যে সত্যিই কোরান অথবা হাদীস অনুযায়ী ভাত খাওয়া নিষেধ তা প্রমাণ করা।
            কিন্তু রিচুয়াল ক্ষেত্রে এই সিস্টেমটা সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রার্থনা বিষয়ে শুধুমাত্র সেগুলোই গ্রহনযোগ্য যা কোরান অথবা হাদীসে উল্লেখ আছে।

            ৭| ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আমাদের একটা কমন মিস্টেক হল, আমরা অনেক সময় কোনো কালচারকে Islamic Creed এর অন্তর্গত মনে করি অথচ আসলে তা মোটেও সম্পর্কযুক্ত নয়। মূলত অজ্ঞতাই এর কারণ, তবে আমার দৃষ্টিতে আরেকটি কারণ হল জিজ্ঞাসু মনোভাবের অভাব। একটা উদাহরন দেই। আমাদের দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী হল রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন। এদিনে অনেক জায়গায় মিলাদ হয় এবং বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্হা করা হয়। বাস্তবে নবী(সঃ) এর সময় তো কখনোই নয় এমনকি উনি মারা যাবার ৬০০ বছরের মধ্যেও এ ধরনের কোনো কিছু হয়নি। Islamic Creed এর গ্রহনযোগ্যতার মাপকাঠিতে এটা কিন্তু ফেল। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের বিষয়গুলোকে ইসলাম ধর্মের অন্তর্গত মনে না করে 'মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার সংস্কৃতি' মনে করি।

            ৮| যারা কথা নেই বার্তা নেই একে-তাকে নাস্তিক বলে ট্যাগ লাগিয়ে দেয়, আমিও তাদেরকে এড়িয়ে চলি। তাদের বোধ-বুদ্ধি সম্পর্কে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

            লম্বা কমেন্ট করার জন্য দুঃখিত। কালচারাল বিষয়টি কেমন ভুল ধারনার জন্ম দিতে পারে সেবিষয়ে একটা প্র্যাকটিকাল জোক বলে শেষ করছি।

            কয়েক বছর আগে চীনে তৈরী বাচ্চাদের দুগ্ধজাত খাবারে বীডস মেশানোর ঘটনাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনাটি সে সময়কার। জাপানে চীন থেকে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর খাবার আমদানী করা হয়। মুসলিম কাস্টমারদের জন্য যেসকল মাংস আমদানী করা হয় তাতে সাধারনত 'আরবীতে লেখা হালাল' সিল দেয়া থাকে।
            চীনে তৈরী টিনজাত করা পর্কের ক্যানের ছবি দেখেছিলাম যাতে হালাল সিল দেয়া ছিল। 😕

            জবাব দিন
            • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

              আসলে এই বিষয়ে আর কমেন্ট করতে চাচ্ছিলাম। তবে তোমার মন্তব্যে কয়েকটি বিষয়ে চোখ আটকে গেল - সেটি উল্লেখ করছি।
              "আরবীভাষীদের জন্য এটা খুব একটা সমস্যা না। " - তুমি যদি চর্যাপদ পড়ো এখন , তাহলে বুঝতে অসুবিধা হবে। কোরান শরীফ তারও আগে। আমি আরবী জানে এমন অনেকের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে যে কোরান শরীফের ভাষা তারা ঠিক বোঝে না। অর্থাৎ আরবী ভাষারও স্বাভাবিক বিবর্তন হয়েছে।
              লিখিত অবস্থায় যে সকল প্রাচীন গ্রন্থ পাওয়া গেছে তাদেরকে অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে পালা গানের মতো যেসব মহাকাব্য সংগৃহিত হয়েছে তাদের মধ্যে অনেক সংযোজন বিয়োজন হয়েছে। আবার দেখো হোমারের অডিসিকে সেখানে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ গ্রীক অঞ্ছল ছিল দর্শনের জন্মস্থান। কিন্তু প্রায় একই ধরণের মহাকাব্য রামায়ন কিন্তু ভারতে একটি ধর্মগ্রন্থ।

              হাদিসে তো নবী কি করেছে, বলেছে তাই সংগৃহিত হয়েছে। এখন উনার পোষাক পরিচ্ছদের মতো যানবাহন নিয়ে প্রশ্ন করলে তো উটও হাদিসের একটা অংশ হয়ে যেত। মধ্যপ্রাচ্যে খুরমা দিয়ে ইফতার শুরু করা এখনও একটি কালচার। এসব ব্যাপার আমরা কিন্তু সযতনেই এড়িয়ে যাই। কোরান শরীফে বেহেস্তের বর্ণনায় শীতল ঝর্ণাধারার কথা উল্লেখ আছে। মরু অঞ্ছলের জন্য যা একটি আকর্ষণীয় পুরস্কার বটে। কিন্তু মেরু অঞ্ছলের মানুষ এই পুরস্কারের কথা শুনলে আঁতকে উঠবে। তারা চাইবে উষ্ণ জ্যাকুজি। যে কথাটি বলতে চাইছি তা হলো কোন ধর্মগ্রন্থই আঞ্ছলিক কালচারমুক্ত নয়।


              “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
              ― Mahatma Gandhi

              জবাব দিন
      • আপু, আপনার চমৎকার উত্তরের জন্য ধন্নবাদ। যদিও আপনার উত্তরের অনেক কিছুর সাথেই আমি দ্বিমত পোষণ করছি। তবে বিতর্কে আমার আগ্রহ অনেকদিনের(পুরানা স্বভাব 😛 ) কি আর করা,তাই আপনার সাথে বিতর্কের লোভ সামলাতে পারলাম না। কুরান এর যেসমস্ত নির্দেশ দেয়া আছে, এগুলোর কন পরিবর্তন হবে না। রেফারেন্স আছে,আমি specifiq আয়াত তা বলতে পারছি না,তবে বিদায় হাজ্জ এর সময় আল্লাহ পাক অহি নাযিল করেছিলেন, তার মোটামুটি মানে টা এরকম যে, আজ আমি তোমাদের দ্বীন কে পরিপূর্ণ করলাম এবং দ্বীন হিসেবে ইসলাম কে মনোনীত করলাম। তবে ইসলাম এ ইযমা এবং কিয়াস এর বিধান আছে,যেমন এখন সারা বিশ্বে সুদ,তাহলে আমরা কি করব? এখানে ইযমা /কিয়াস এর মাধ্যমে ফয়সালা হবে।(আমি কিন্তু আজ পর্যন্ত সুদে লেন্দেন করি নাই),কিন্তু সুদ হারাম ই থাকবে,এই মুলনিতির কোন পরিবরতন হবে না। পর্দা ফরয, এর ও পরিবরতন হবে না, মদ হারাম, এটা কোনদিন ও হালাল হবেনা। তবে আপু, একটা কথা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই । মানুষ যেভাবে ছলতে ছায়, আল্লাহ তাকে সেভাবেই ছলার তওফিক দেন। সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রেই আমি বিচরণ করেছি, কিন্তু শান্তি যেটা , সেতা কিন্তু ওই ইসলাম ছাড়া আর কোথাও পাই নাই। আপনার রিপ্লাই এর অপেক্ষায় থাকলাম।

        জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      তোমার আগের প্রশ্নের একটা উত্তর দেওয়া হয়নি। সেটা হলো আমরা বাংলা লিখতে গেলে প্রায়ই ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করি, দৃষ্টিকটু না হলে সেটা নিয়ে তেমন প্রশ্ন জাগে না। কিন্তু আরবি শব্দ ব্যবহার করলেই সেটা অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনা। মোনাফেক মানে কপট সাধু। কেউ পশ্চিমের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশ্চিমের গিবত করছে - ব্যাপারটা আমার কাছে কপট সাধুতা বলে মনে হয়েছে। আমি মোনাফেকের বদলে যদি হিপোক্রেট ব্যবহার করতাম তাহলে কিন্তু তুমি কোন প্রশ্ন তুলতে না। আরবি শব্দগুলো সম্পর্কে এই অতি রক্ষণশীলতা কেন? বিষয়টা খুবই মোজায়েশ। মোজায়েশ মানে বিরক্তিকর।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
      • হায়দার (৯২-৯৮)

        আপা,
        ক্যাডেট কলেজে থাকতে আমাদের মধ্যেও ইংরেজী ভাষা নিয়ে একই রকম সমস্যা ছিল।
        আমরা বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে প্রচুর গালাগালি করতাম (এখন বুঝি, সেটা মোটেও ভাল কোন অভ্যাস ছিল না)।কাউকে হা***দা বলে গালি দিলে কিছুই মনে করত না, কিন্তু B*****D বললে খেপে যেত। হা***দা গালিটাকে একেবারে শা* পর্যায়ের মনে করা হত।আমার ধারনা এই ধরনের ফিলিংসের পেছনে একটা অদৃশ্য কালচারাল ব্যাকগ্রাউন্ড কাজ করে। দুষ্টামির ছলেও যেহেতু হা***দা ব্যবহার করা হত, সেকারণে কেউ সত্যি সত্যি খেপে গিয়ে বললেও গায়ে লাগত না। নিজেদের কথাবার্তায় যেহেতু B*****D অত প্রচলিত ছিলনা, এজন্য কেউ সেটা বললে খুব গায়ে লাগত। (সম্পাদিত)

        জবাব দিন
  13. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    শান্তা,

    তোমার লেখার সূত্র ধরে আবার এখানে আসতে হল। বাংলাদেশের বর্তমান বিভক্তি দেখে আমি একটু চিন্তিত। প্রায় দেড় মাস আগে এক জন আমাকে বলেছিলঃ

    - শাহবাগ মুভমেন্ট নিয়ে আপনার কিছু লেখা উচিত

    - এত দূরে থাকি - সঠিক কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। শুধু এটুকু বুঝতে পারছি নতুন প্রজন্ম শেষ জীবনে আমাদেরকে হতাশার মধ্যে রাখবে না। আপাতত এটুকু শুধু বলবো আন্দোলনের নেতৃত্ত যেন প্রজন্মের হাতে থাকে - রাজনীতিকদের হাতে চলে না যায় - সেটা যে দলেরই হোক। আজ শুধু শুরু...

    লিখতে চাই, অনেক কিছু লিখতে চাই। অন্যরা অনেক কিছু লিখেছে - সব এখনো পড়ে শেষ করতে পারিনি। আর ১৫ মিনিটের মধ্যে তৈরী হতে হবে কাজে যাবার জন্যে। কাজ না করলে খাওয়াবে কে? তবুও মনটা বার বার ছুটে যাচ্ছে শাহবাগের মোড়ে। রাতে স্বপ্নও দেখলাম। '৬৯-এর গণ-আন্দোলনের কথা বার বার মনে এলো। মনে এল সেই ঘটনার কথা - এক পুলিশ দৌড়াতে যেয়ে রাস্তায় পড়ে যাবার পর সবাই যে যার মত তাকে মারতে এল। ওই সময় হলিক্রস স্কুলের এক মেয়ে পুলিসের মাথাটা আগলে নিলো যাতে কেউ মাথায় বেশী আঘাত দিয়ে একেবারে মেরে না ফেলে।"

    এর পর অনেক দিন পার হয়ে গেছে। অনেক কিছু জানছি, দেখছি, বুঝতে চেষ্টা করছি নিজের মত করে। কিন্তু একি দেখছি আজ? এত অসহনশীলতা কেন আজ? দোষ যার হোক - শ'খানেক মানুষকে কেন মরতে হবে? এতদিনে কেমন সভ্য হলাম আমরা?

    বিচার যদি সঠিক ভাবে না হয়ে থাকে - তবে কি তার জন্যে সরকার দায়ী হবেন না? আইন তৈরী করেছিলেন এই সরকার, বিচারপতী নিয়োগ করেছেন সরকার, ফলাফল ঠিক মত না হলে প্রতিবাদ মুখর হওয়া উচিৎ সরকারের বিরুদ্ধে। সেখানে অনীহা কেন?

    তবে কি আমার উপরের লেখা কথাটা - "শুধু এটুকু বুঝতে পারছি নতুন প্রজন্ম শেষ জীবনে আমাদেরকে হতাশার মধ্যে রাখবে না" - সঠিক হবে না?

    জবাব দিন
  14. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    নাচ-গান-কবিতার সাথে ধর্মে সমস্যা নাই। ইসলাম মিন করতেছি আপা।
    পরে হাদীস নিয়া আসবো।
    ইভেন কোরানের কোন কোন অংশ কবিতা।

    প্রব্লেম হইলো ১৫০০ বছর পরে আইসা আজকে এরা মুহাম্মদের চাইতে বড় মুসলমান হইতে চায়। :grr: :grr: :grr:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      না থাকলে তো ভালই হয়। আধুনিক মানুষদের জীবনযাত্রার সাথে ধর্মের কোন বোঝাপরা না থাকলে তারা তো তাহলে এই ব্যাপারটা পাশ কাটিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা ধর্মকে বর্জন করলো বলার থেকে ধর্ম তাদের বর্জন করলো বলাটাই শ্রেয় হবে।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  15. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    আমার এক আত্নীয়ের এই লেখাটা ভাল লেগেছে। রেফারেন্স হিসেবে এখানে জুড়ে দিলাম।

    শ্রদ্ধেও সম্পাদক, জনকন্ঠ।

    মুহম্মদ শফিকুর রহমান এর বক্তব্যের সাথে আমি দ্বিমত নই। আমার কিছু মন্তব্য আছে:

    জামাত, এবং সম্প্রতি হেফাজত, ক্রমাগত ইসলাম বিরোধী কাজ করে চলেছে। কিন্ত সব সরকার এ বিষয় নিরব। এক মুসলমান যখন অন্য মুসলমান কে অমুসলমান বলে তখনই যে মুসলমান কথাটা বলে, সে নিজেই মুরতাদ হয়ে যায়। কিন্তু কথাটা কেউ বলেনা কারণ, এখানে প্রথম পক্ষ জামাত বা হেফাজত। এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক আত্মবিশ্বাসের সমস্যা। ক্রিকেটে এটা সার্থক ভাবে প্রয়োগ করে অস্ট্রেলিয়া।
    আমার মসজিদের ইমামের আমার ওপরে একটা মনস্তাত্ত্বিক কর্তত্ব থাকে। আমি যদি গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হই, গ্রামের কোনো প্রভাবশালী যদি আমার স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয, তখন তার নির্দেশে গ্রামের ইমাম সাহেব ফতওয়া দিতে পারেন যে আমার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। আমরা এর ভুরি ভুরি উদাহরণ জানি। বাংলাদেশে এবিষয় আইন হয়েছে। আদালত প্রশংসনীয় সাহসী ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক অবস্থা এখনো মধ্যযুগীয়। জামাত হেফাজত, ক্রমাগত এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে চলেছে।

    প্রতিকার: সময় এসেছে এ বিষয় রাষ্ট্র একটা বেবস্থা নেবে। ধর্ম মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে (অধীনে নয়) একটা কর্তিপক্ষ চাই। সেখানে সব ধর্মের প্রতিনিধি, মানবাধিকার, মিডিয়া, আইন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় সংসদ, আইন প্রয়োগ কর্তিপক্ষ, সরকার ও বিরোধী দল সকলের একজন প্রতিনিধি থাকবে। (প্রয়োজনে শক্তি বৃদ্ধির জন্য সামরিক বাহিনীর একজন প্রতিনিধি).
    এই কর্তিপক্ষ স্বাধীন ভাবে কাজ করবে (Statutory body), যেমন করে নির্বাচন কর্তিপক্ষ বা দুর্নীতি দমন কমিসন।
    সব ধর্মের প্রতিনিধিদের উচ্চশিক্ষা থাকতে হবে এবং মানবিক গুনাবলীর সনদ (Charachter certificate) থাকবে। উচ্চশিক্ষা অর্থাৎ ধর্মীয় ডিগ্রির পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সনদ থাকবে। প্রধান (সভাপতি বা চেয়ারম্যান ইত্যাদি) কে অবশ্ব্যই ধর্মের পাশাপাশি দর্শন, বা ইতিহাস বা সমাজ বিজ্ঞান, বা বেবহার বিজ্ঞান (Social and/or Behavioral Health), বা নৃত্তাতিক বিজ্ঞানে পি এইচ ডি থাকতে হবে। বাকি ধর্ম বিশেহজ্ঞদের ও পি এইচ ডি থাকেল অগ্রাধিকার থাকবে।
    কে মুরতাদ আর কে মুরতাদ নয়, এই কর্তিপক্ষ সেটা নির্দাহারণ করবে। একটা ব্যক্তি বা দল যদি বেআইনি ভাবে কাউকে মুরতাদ বলে, তখন সেই দল বা ব্যক্তি কে এই কর্তিপক্ষ প্রয়োজনে মুরতাদ ঘোষণা করতে পারবে। এটা হবে ধর্মের মনোপলি বন্ধ করা। দেশের মানুষ যদি মুরতাদ চায় , তবে সিদ্ধান্ত টা নেবে একটি রাষ্ট্রীয়, প্রতিনিধিত্বশীল বিশেষজ্ঞ কর্তিপক্ষ। বর্তমানে যে ধর্মীয় নৈরাজ্জ্যবাদ চলছে, সেটা চলতে থাকলে, শুধু যে রাষ্ট্র ও সমাজ বিপন্ন হবে তাই নয়, ইসলাম ও বিপন্ন হবে। এটা আমি নিচে ব্যাখ্যা করছি।

    বিগত তিন সপ্তাহ জামাত হেফাজতের তান্ডব দেখে কাল আমি আমেরিকা ফিরেছি। এখন তাদের দাবির সাথে তালেবান দের সমাজ বেবস্থার কোনো পার্থক্য নেই। মুসলমানরা এমনিতেই রাষ্ট্র-সামাজিক মানদন্ডে বর্তমান পৃথিবীর সর্বাধিক পশ্চাদপদ ধর্ম। পৃথিবীর প্রধান সকল ধর্মই রিফর্ম বা সংস্কারের মাধ্যমে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। কিন্তু মুসলমান ধর্মপ্রধানরা সংস্কার শব্দটিকে ইসলাম বিরোধিতার সাথে সমার্থক করে তুলেছেন। ওহাবী ও তাদের শাখা গুলি এক ধাপ এগিয়ে আরবের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবার বেবস্থা করেছে। পরিনতি হবে এই যে একসময় পৃথিবী থেকে ইসলাম ধর্মের অস্তিত্ব মুছে যাবে। এ বিষয়টি আমি সর্বশেষে ব্যাখ্যা করছি।
    প্রসঙ্গত: কোরান অনুযায়ী মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় প্রধানের প্রয়োজন নেই। একজন ইমাম নামাজের সময় তাত্ক্ষণিক ভাবেও নির্মাচন করা যায়, মেধা ইত্যাদির ভিত্তিতে। আমাদের সাহাবারা সকলেই গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত। তাঁদের হত্যাকান্ড গণতন্ত্র ছিলনা। সেটা ছিল প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, যার মধ্য দিয়ে মুসলিম রাজতন্ত্রের আবির্ভাব। এখন শরিয়া এবং বাকি যেসব পশ্চাদমুখী সমাজ বেবস্থা মুসলিম দেশগুলিতে চলছে, সেগুলি রাজতন্ত্রের আবিষ্কার। আরব দেশ গুলির এখন যে পরিমান সম্পদ আছে, তারা ইচ্ছা করলে পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারে যদি তারা শিক্ষা ও উন্নয়নে তা ব্যয করে। কিন্তু আমরা দেখি তারা তা ব্যয করে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে: ১) নিজেদের বিলাস-ব্যসনে; ২) সন্ত্রাস রপ্তানিতে।

    আমরা দুটি প্রশ্ন: ১) এই পশ্চাদমুখী বিশ্বাসে মুসলমানদের কি লাভ? ২) আমেরিকা এবং পশ্চিম এখনো কেন ওহাবীদের মূল শক্তি ও অর্থ সরবরাহ কারীদের সমর্থন করে (সৌদি আরব)? আজ যদি ওবামা সৌদি রাজাকে একটি মাত্র টেলিফোন করে, জামাত হেফাজত এক বছরের ভেতরে ধুলায় মিশে যাবে, টাকার অভাবে।

    উত্তর: ১) আরব রাজারা জানে রাজতন্ত্র পৃথিবী থেকে উঠে গেছে। তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের একটি বিশাল গ্লোবাল জনসমর্থ চাই। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসা ছাত্র আজ ওহাবী দর্শনে বিশ্বাস করে। তারা আজ আরব রাজাদের শক্তির ভিত্তি।
    ২) আমেরিকা নিজের দেশের মানুষের জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশ। কিন্তু তাদের পররাষ্ট্র নীতি একেবারে হৃদয়হীন। আমেরিকার স্বার্থে তারা পৃথিবীর যে কোনো দেশের ধ্বংসে বিশ্বাসী। আমি ভাবতাম, নিজের দেশের স্বার্থে ই তো আমেরিকার উচিত মৌলবাদ রুখে দাঁড়ানো। তাহেল তারা তা না করে উল্টো কাজটা কেন করছে? আমার বিভ্রান্তির উত্তর পাই একটি বইতে। জর্জ ফ্রিডম্যান তার Next Hundred Years গ্রন্থে এটা ব্যাখ্যা করেছেন সুন্দর ভাবেই। তিনি বলেছেন, "আমেরিকার একটি Grand Strategy আছে। সেটা এই যে, আমেরিকা দীর্ঘ দিন অন্য কোনো দেশ দখলে রাখবেনা। কিন্তু তারা শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে পৃথিবীর প্রতি দেশকে অস্থিতিশীল (DESTABILIZE) করে রাখবে কম-বেশি, যেন কোনো দেশ কোনো দিন আমেরিকার ওপর উঠতে না পারে। (প্রসঙ্গত George Friedman এই দর্শনের বিরোধী নয়। সে আমেরিকার ক্রমাগত শ্রেষ্ঠ বিশ্ব শক্তি তে বিশ্বাসী).
    ওপরের ১ ও ২ যোগ করে আমরা বিশ্বাস, secular বা moderate মুসলমান রা যদি হেরে যায়, তাহলে পৃথিবী থেকে মুসলমানরা বিলুপ্ত হবে। ইতিমধ্যেই এদেশে সকল ধর্মের মধ্যে মুসলমানরা সবচাইতে ঘৃণিত ধর্ম। তালেবান দের কারনে অন্যরা বিশ্বাস করে যে কোরান এবং আমাদের নবী, হত্যা সহ যাবতীয় অমানবিক কাজের সমর্থক।
    বিনীত,
    শেলী শাহাবুদ্দিন।
    প্রাক্তন অধ্যাপক, সরকারী স্বাস্থ্য বিভাগ।
    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদ্সেঃ সরকার।
    (বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী).


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  16. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    রাব্বীর পাঠানো এই লিংকটাও বেশ যুগোপযোগিঃ
    http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/04/06/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%97%E0%A6%A4-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A6%AE/


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।