আগামীকাল ১৭ জুন

আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে আমরা ছোট দুই জন একেবারে পিঠাপিঠি,নাহ আমাদের পিঠ একসাথে লেগে থাকতো না কিন্তু পিচ্চি কালে সকল কান্ড আর অকান্ডের সাথী আমরা দুইভাই।খালি বাসায় বিছানার উপরে কোলবালিশ দিয়ে মারামারি খেলা আর আম্মু বাসায় আসলে ঘর এলোমেলো করার অপরাধে হালকা মাইর খেতে তখন থেকেই ভালো লাগতো।এই আনন্দের বাধ সাধলো যখন থেকে আমাদের বড় ভাইটা একটু বড় হয়েই আম্মুর খুব বাধ্যগত হয়ে ঘর টর গোছানো শুরু করলো।বড়ভাইয়ার যন্ত্রনায় বিছানার উপরে বসাতো দুরের কথা সোফায় বসার সাহসও পেতাম না।অগত্যা মাটিতে বসে থাকতে হতো আমাদের দুইজন কে।এইটা নিয়ে বড়ভাইয়া এতই অত্যাচার করতো এখনো আমি সাজানো বিছানা অথবা সোফায় বসতে ভয় পাই কখন যেন বড়ভাইয়া চলে আসে।বড়ভাইয়ের এহেন অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস আমার কখনো হয়ে উঠেনি কিন্তু তপু ভাইয়াকে দেখতাম মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করে জোর করেই বিছানায় শুয়ে যেত ,আর শুরু হতো সিডর।সেই সিডর এবং সিডর পরবর্তি সময়টাতে আমারই সবচেয়ে সমস্যা হতো।সমস্যাটা হত আমি কাকে সাপোর্ট করবো তা নিয়ে।কারন তিন ভাইয়ের মধ্যে দুইজনের গ্যাঞ্জাম লাগলে অন্যজন যেইদল নিবে সেই দলই জয়ী তাছাড়া আম্মুর জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও আমার সেই সাপোর্টএর একটা ভূমিকা ছিলো।সুবিধাবাদী আমি তখন সিডর পূর্ববর্তি সময়ে
আমার সাথে যার খাতির বেশি থাকতো আম্মুর মাইরের হাত থেকে তাকেই বাঁচায় দিতাম।
আমার যাবতীয় কাজ ও অকাজের শিহ্মক ও কিন্তু আমার সেই পিঠের উপরের ভাইটা।আমার মনে আছে মন্ত্রী ছাড়া দাবা খেলে আর বাম হাতে ক্যারম খেলে আমাকে হারিয়ে ও যে কি রকম এর মজা পেতো তা বলার মত না।এমন করতে করতেই হঠাত করেই একদিন ওকে দাবায় হারিয়ে দিলাম,হারিয়ে দিলাম ক্যারাম খেলায়।সেইসব সময়গুলো ছিলো আমার কাছে অন্যরকম একটা প্রাপ্তি।আরেকটু বড় হয়ে আমরা দুই ভাই বাসায় বসে
বসে ক্রিকেট খেলতাম।ছোট একটা প্লাস্টিকের বল আর খাতার মলাট দিয়ে বানানো ব্যাট। ছোট একটা ক্রিস্টালের বল আর কলম দিয়ে খেলা হত ফুটবল।আমাদের সেই ছোট্ট বাসাটা কখনো লর্ডস,কখনো ইডেন গার্ডেন।এক টাকার একটা পাইপ আইস্ক্রিম কিনে দুইভাগ করে দুইভাই মহাআনন্দে তা সাবাড় করতাম।দুর্দান্ত সেইসব দিনগুলি কি করে যে চলে গেলো বুঝতেই পারলাম না।
হটাত করেই ভাইয়া ক্যাডেট কলেজে টিকে গেলো।ভাইয়াকে দিয়ে আসতে বাবা আর মা’র সাথে আমিও গেলাম ।মুগ্ধ আমি চারপাশে শুধু চেয়েই থাকলাম।আর হয়ত তখন থেকেই মনে মনে ঠিক করে নিলাম আমাকেও এইখানে আসতে হবে।আসার পথে আব্বু আমাকে বলছিলো আমাকেও টিকতে হবে এই জায়গায়।আমি উত্তর দিলাম তাহলে যে আমাকে একটা ফুটবল কিনে দিতে হবে নইলে ত আমি টিকবো না।বাবা অবাক,মা ও অবাক আমার কথা শুনে।বিজ্ঞের মত আমি বললাম আমার হাটু লেগে যায় তাই ফুটবল খেললে ওইটা আলাদা হতে পারে।(এই চান্সে যদি একটা ফুটবল পাওয়া যায় এই আশায়) বাবা মুখ টিপে একটু হাসলো আর বললো ঠিক আছে বাবা বাসায় গিয়েই তোকে আমি বল কিনে দিবো।আমাকে ফুটবল কিনে দিবার সময় বাবা আর পায়নি।বাসায় এসেই কিছু দিনের মধ্যেই বাবা অসুস্থ হয়ে পরলো।আর আমি হাটুর জোড়া খোলার জন্যে সারাদিন মোটামোটা বই পায়ের ফাকে নিয়ে বসে থাকি।আমাকে যে ক্যাডেট হতে হবে।
প্রতি সপ্তাহে ভাইয়ার চিঠি আসে,ও কি করে ,কি খায়,কি খেলে সব কিছু আমাকে লিখে পাঠায়।আমি আরও স্বপ্ন দেখতে থাকি।ভাইয়া ছুটিতে আসলে আবার আমরা দুই ভাই মিলে একসাথে খেলি।
খালারা সবাই ওর সাথে ছবি তুলে,ওর ক্যাডেট ড্রেস পরা ছবি।ও কি সুন্দর পোজ দিয়ে ছবি তুলে।অনেকে তখন আমাকে বলে তুইও ওর ড্রেস পরে ছবি তুলে ফেল সবাই কি আর ক্যাডেট হইতে পারে।
আমার আর সহ্য হয় না,আমি ক্যাডেট হবই।

অবশেষে সেইদিন আসে।ক্যামন করে যেন আমিও ক্যাডেট হয়ে যাই,খাকি ড্রেস পরে ঘুরে বেড়াই,ছবি তুলি,পোজ দেই।কি আনন্দ…..!!

আগামীকাল ১৭ জুন।আমার সেই ক্যাডেট হবার দিন।আমাদের সবার ক্যাডেট হবার দিন।তাই সবাইকে জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা।সবাই ভালো থাকুক সবসময়।

২,১১০ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “আগামীকাল ১৭ জুন”

  1. আলম (৯৭--০৩)

    "এখনো আমি সাজানো বিছানা অথবা সোফায় বসতে ভয় পাই কখন যেন বড়ভাইয়া চলে আসে।"
    ৩ ভাইয়ের ছবিটা এতো সুন্দর করে আঁকছো! অপূর্ব।

    ভাইয়া, পরপর ২ বাক্যের মাঝে খেয়াল করে একটা space দিয়ে দিবা। তাইলে আরো সুন্দর লাগবে।
    Happy birthday to '98-'04 batch.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।