মৃত্যুর মতো তুমি তিলোত্তমা

মরনের মত তুমি , তুমি সুন্দর- পিয়াসী হিম গরল
গরলের মত তুমি- কী সুন্দর ! সুন্দরী তুমি !
ঘোর লাগা চাহনি , চালতার মতো বক্ষ বন্ধনী
আহা ! কী সুন্দর তুমি। জানালার পাশে ওড়াওড়ি করা দুষ্ট টুনটুনি।
চঞ্চলা খরগোশ। অস্থির প্রজাপতি।
তুমি অদ্ভুত- সুবাসিত বকুল কুঁড়ি , রঙ জড়ানো সন্ধ্যামনি।
আমার একখন্ড উর্বরা স্বপ্ন জমি।

ঘাস ধুয়ে দেয়া শীতের সুন্দরী শিশির- ঘেমে ক্লান্তি তুমি,
নাগীনের মতো হিস হিসস। ফোঁস ফোঁস বায়বীয়তায় ঢাকে ঘড়ির কাঁটার টিক টিক টিক-
তারপর একদম চুপ। নিথর সন্দর তুমি- নিরব সুন্দরী।
অ্যাকুরিয়াম ফিসের ছটফটানি শেষে শীতল ডেড বডি।
মৃত্যুর মতো শীতল তুমি- মরনের মতো পরম প্রশান্তি।
শবের মতো শান্ত সুন্দরী। দপ করে জ্বলে ওঠা মৃত্যুপুরীর আগ্নেয়গিরি।

দূর দালানের উপর থেকে দ্যাখা- তুমি আমার মধ্যরাতের ঢাকা।
তুমিই আমার নিয়ন রাতের- নগর তিলোত্তমা।

তুই আমার ধরলা নদীর ভাঙ্গন খেলা – তুই-ই মোর শব ভাসানো মরা তিস্তা।
মৃত্যুর মতো তুই- মরণের মতো তুই।

কী স্নিগ্ধতা ! কী পবিত্রতা ! আমার ধ্রুপদ ভালোবাসা !

৩৪৫ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “মৃত্যুর মতো তুমি তিলোত্তমা”

  1. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    বয়স কম আর সহি সালামতে কোন মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওনি - তাই মৃত্যুকে তিলোত্তমার মতো দেখছো। আরো আরো লেখা চাই। কবিতা বিশেষজ্ঞ নূপুরদা তোমার কবিতার বিশ্লেষণ করবে আশা রাখছি। ভালো থেক।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    তোমার লেখাটা প্রথমদিনেই পড়ে নিয়েছিলাম।ছোট্ট ছোট্ট যেসব ছবিগুলো দিয়েছো, সেগুলো ভালো লেগেছে আলাদা আলাদা ভাবে। কিন্তু পুরো কোলাজটা কেন যেন মনে ধরলোনা।
    তবে তোমার একবছর আগেকার লেখাগুলোকে পাশে রেখে মনে হলো, শব্দ আর এক্সপ্রেশন নিয়ে মরণপণ এক্সপেরিমেন্টাশন চলছে -- এটাই আশার কথা। আগে যেভাবে বলতে, সেভাবে বলতে আর ভাল্লাগছেনা কি? একটি আনকোরা স্টাইলে গিয়ে পৌঁছুবার এ যাত্রা তবে সফল হোক।
    তোমার সর্বশেষ গদ্যটি (উপন্যাসের প্রথম পর্ব) কিন্তু আমার বেশ লেগেছে।গদ্যের হাতও তোমার ভালোই পাকছে।
    :thumbup:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।