নিউটন,আইনস্টাইন,হিটলারদের সাথে দেখা !!!!

রুয়েটে পরে সোহাগ ।ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র ।প্রথম সেমিস্টার এ ভাল রেজাল্ট করছে ।২য় সেমিস্টারে একটু খারাপ করছে । সোহাগ এর এই ভাল রেজাল্ট করার পিছনে তার বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য । তার বাবা-মা তাকে পড়াশুনার ব্যাপারে খুব তাগিদ দেয়।৩য় সেমিস্টার এর ক্লাস টেস্ট,ল্যাব-রিপোর্ট,অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদির কারণে জীবন যখন দিশেহারা ঠিক তখনি চলে এলো রমযান মাসের ৪৫ দিন এর

ছুটি ।স্বভাবতই বাসায় প্রত্যাবর্তন । তারপর শুরু হয় শেষ রাত্রিতে সেহেরী খাওয়া,সারাদিন রোযা রাখা আর সন্ধ্যায় ইফতারি খাওয়া ।ইফতারি খাবার পর শরীর এক অদ্ভুত ক্লান্তিতে ভরে ওঠে আর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আসে সোহাগ এর দুইটি চোখ । সোহাগ এর বাবা-মায়ের কথা হচ্ছে এই ৪৫ দিন তাকে সময় নষ্ট করা যাবে না।পড়াশুনা করে এগিয়ে যেতে হবে । বাবা-মায়ের চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রতিদিন পড়তে বসে সোহাগ ।

একদিন পড়তে পড়তে সে টেবিলে ঘুমিয়ে পরে ।ঘুমিয়ে দেখে একটি মজার স্বপ্ন । স্বপ্নে সোহাগ দেখে যে সে এরিস্টটলের কাছে প্রাইভেট পড়ছে ।তার লেকচার শুনে সোহাগ এর মনে হয়,”জীবন মানে শুধু গালে হাত দিয়ে চিন্তা করা।”

কিছুক্ষণ পরে এলেন আইনস্টাইন ।তিনি সোহাগকে “THEORY OF RELATIVITY” বুঝাতে শুরু করলেন ।অনেকক্ষণ লেকচার দিবার পর সোহাগকে আইনস্টাইন “THEORY OF RELATIVITY” বুঝাতে ব্যর্থ হলেন ।তারপর সোহাগ এর গালে একটা চড় মেরে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন ।

কিছুক্ষণ পর সোহাগ শুনতে পেলো বাইরে খুব চেঁচামেচি ।বাইরে যেয়ে সোহাগ দেখল যে নিউটন তার বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছেন।সোহাগ দেখল যে নিউটন বিভিন্ন law,formula আর উপাত্ত দিয়ে রিকশাওয়ালাকে বুঝাতে চাচ্ছেন যে রিকশাভাড়া ১৫ টাকা । কিন্তু রিকশাওয়ালা চাচ্ছে ২৫ টাকা । পরে সোহাগকে দেখতে পেয়ে আর কথা না বাড়িয়ে রিকশাওয়ালাকে ২৫ টাকা দিয়ে সোহাগকে পড়াতে সোহাগ এর রুমে চলে এলেন ।রুমে এসে নিউটন উনার বিখ্যাত ৩টা সূত্র বুঝাতে শুরু করলেন ।বুঝানোর পূর্বে সোহাগ নিউটনকে বললো,” আইনস্টাইন স্যার এর কাছে “THEORY OF RELATIVITY” বুঝিনি বলে উনি আমাকে চড় মেরে চলে গেছেন ।” তখন নিউটন বললেন যে,” আমার 3rd law হচ্ছে :EVERY ACTION HAS ITS EQUAL AND OPPOSITE REACTION…এই LAW অনুযায়ী তোমারও আইনস্টাইনকে চড় মারার কথা ।কিন্তু আমার এই LAW এর একটা limitation আছে । এই LAW সিনিয়রদের ক্ষেত্রে applicable নয় ।” তারপর নিউটন সোহাগকে ৩টা LAW বুঝিয়ে ওইদিন এর মতো বিদায় নিলেন ।

এরপরে আসলেন বিজ্ঞানী প্যাসকেল । তিনি কিছুক্ষণ সোহাগকে পড়ালেন ।যাওয়ার সময় সোহাগকে বললেন ,”আমি কাল থেকে তোমাকে indirectly পড়াতে আসব ।” সোহাগ প্রত্যুত্তরে বললেন,” স্যার ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না ।” প্যাসকেল বললেন,”1 PASKEL=1 NEWTON/(METER)² এইটা তো জানো?” সোহাগ উত্তরে বললো হ্যাঁ ।তখন প্যাসকেল বললেন ,” কাল থেকে আমার পরিবর্তে নিউটন আসবেন ।নিউটনকে 1 (METER)² জায়গায় বসিয়ে দিবা ।এই ভাবে আমি indirectly পড়াতেআসব ।”

কিছুক্ষণ পরে এলেন পিথাগোরাস সাহেব ।তিনি সোহাগকে তার বিখ্যাত সূত্র

(HYPOTENUSE)²=(PERPENDICULAR)²+(BASE)² বুঝাতে শুরু করলেন ।বুঝাতে গিয়ে তিনি সোহাগকে বললেন,”এই সূত্র কিভাবে আমার মাথায় এসেছে জানো?” সোহাগ বললো,”কিভাবে?” আমার সাথে একটা মেয়ের ছিল ত্রিভুজ প্রেম ।সে আর একটা ছেলেকে ভালবাসত।ধরি মেয়েটার নাম X আর ছেলেটার নাম Y।পরে আমি ওই মেয়েটাকে একটা একটা সূত্র প্রমাণ করে দেখালাম যে,(X এর প্রতি আমার ভালবাসা)²=(X এর প্রতি Y এর ভালবাসা)²+(Y এর প্রতি X এর ভালবাসা)²।

যদিও কোন লাভ হয় নি। তারপরেও এই ভালবাসার ফলে আমি একটা সূত্রতো আবিষ্কার করতে পারছি ।শোনো সোহাগ প্রেম করতে হবে।প্রেম না করলে মাথা দিয়ে সূত্র বের হবে না।”

কিছুক্ষণ পর ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দুলিয়ে এলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।সোহাগকে বললেন,” চলো সোহাগ বাইরে থেকে ঘুরে আসি ।বাইরে ঘুরলে অনৈতিক কাজকর্মগুলো চোখে পড়বে ।আর তখনি আমার ভিতর থেকে বিদ্রোহী কবিতা বের হয়ে আসবে ।”কাজী নজরুল ইসলাম এর সাথে সোহাগ বাইরে গেলো।

বাইরে ঘুরতে ঘুরতে যেয়ে সোহাগ দেখলো যে একটা মাঠে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে।মাঠের ভিতর থেকে গিলক্রিস্ট সোহাগকে খেলার জন্য ডাক দিলো।গিলক্রিস্ট সোহাগকে স্লিপে দাঁড়াতে বললেন ।সোহাগ দেখলো যে ব্যাটিং এ স্ট্রাইকে আছেন টেন্ডুলকার ।বোলিং আক্রমণে আছেন ওয়াসিম আকরাম, সাকিব-আল-হাসান,মুরালি,শের্নওয়ার্ন ইত্যাদি ।আর পয়েন্টে ফিল্ডিং করছে জন্টি রোডস ।স্কোর বোর্ড এর দিকে তাকিয়ে সোহাগ দেখে যে  টেন্ডুলকার ৪০০ রান করছেন ।সোহাগ এর মনে প্রশ্ন জাগে ,” টেন্ডুলকার বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ।কিন্তু এত শক্তিশালী বোলিং আর ফিল্ডিং থাকতে ৪০০ রান হয় কিভাবে ?” সোহাগ গিলক্রিস্টকে এই প্রশ্নটি করে ।গিলক্রিস্ট সোহাগকে আম্পায়ার এর দিকে তাকাতে বলেন।  আম্পায়ার এর দিকে তাকিয়ে সোহাগ এর চোখ বড় বড় হয়ে ওঠে। কারণ আম্পায়ার ছিলেন হিটলার ।কিছুক্ষণ পরে একটা ক্যাচ আসল । সোহাগ ক্যাচটি ধরে ফেললো ।জন্টি রোডস এসে সোহাগকে জড়িয়ে ধরল ।সোহাগ তো আনন্দে আত্মহারা ।কিছুক্ষণ পর সোহাগ কানে ব্যথা অনুভব করলো। সোহাগ এর মা সোহাগ এর কানে ধরে বলছেন,” পড়া বাদ দিয়ে এত ঘুম কিসের?”………………………….

১,৫৭৮ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “নিউটন,আইনস্টাইন,হিটলারদের সাথে দেখা !!!!”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এই পোস্ট থেকে পুরো রস আস্বাদন করতে হলে আমাকে বহুত পড়াশুনা করতে হবে 🙁


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    হায়রে মানবিকের ছাত্র হইয়া কিছুই বুঝবার পার্লাম্না 😕 😕 😕


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।