সাব্বাস বাংলাদেশ তোমাদের এই অশ্রু গর্বের

জ্ঞান বুদ্ধি হবার পর থেকে আব্বু -আম্মু আত্মীয়স্বজনেরা বলতো আমি নাকি কান্না কাটি খুব কম করি । জীবনের বিভিন্ন সময়ে আমিও নিজেও অনেক উপলব্ধি করেছি যে আমি অনেক কম কান্না কাটি করি । নানা-নানী,দাদা মারা যাবার পরেও আমার চোখে জল আসে নি ।শুধু মন খারাপ হয়েছিল ।আশেপাশের সবার কান্না কাটি দেখে কাঁদার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সফল হয় নি। হয়ত সবাই জীবনে কে কে কয়বার কেঁদেছে জ্ঞান বুদ্ধি হবার পর থেকে হয়ত সঠিক ভাবে বলতে পারবে না । কিন্তু আমি সঠিক ভাবে বলতে পারবো । ক্যাডেট কলেজে যখন প্রতিটা ব্যাচ এক এক করে বিদায় নিয়েছিল তখন ভাইয়াদের সৃতির কথা মনে পড়ে চোখে জল এসে গিয়েছিল । আমি সিরাজী(লাল) হাউসে ছিলাম ।কলেজে যাওয়ার পর শুনতে পাই যে আমাদের সিরাজি হাউস সুইমিং এ নাকি সব সময় চ্যাম্পিয়ন । এবং সব সময় দেখতাম সব চেয়ে ভাল ভাল সুইমার গুলো আমাদের হাউসে আসতো । আমাদের হাউস একটানা ১৪ বার সুইমিং এ চ্যাম্পিয়ন হবার পর ১৫ বারের সময় অল্পের জন্য রানারআপ হয় ।ওই মুহূর্তে আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল । তখন বলেছিলাম ইশ একটুর জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে পারলাম না আমরা । তারপরে যেদিন আমরা কলেজ বিদায় নেই সেইদিনটা সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলাম । তারপরে কলেজ থেকে বের হয়ে আমার ব্যাচমেট জিসান এর অকাল মৃত্যুতে কেঁদেছিলাম ।

কালকে আবার কাঁদলাম । তবে এই কান্না ছিল গৌরবের । আসলে মুসফিক , সাকিবদের কান্না দেখে আমার নিজেরই চোখে কান্না চলে এসেছিল । কালকে বাঙালিরা আবারো প্রমাণ করলো তারা মাটি কামড়ে লড়তে যানে ,শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লড়তে যানে । শুধু কাপ জিতলেই বিজয় হয় না ।বিজয় একটা অনুভূতি যা বাঙালিরা কাল অর্জন করেছে । কোটি কোটি মানুষের ভালবাসা অর্জন করেছে ।বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা শুধু তারা নিজে কাঁদে নি কোটি কোটি মানুষকে কাঁদিয়েছে । এক সময় আমরা বলতাম বাংলাদেশের সহজ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া(যদিও তারা এক সময় বাংলাদেশের কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল ।কিন্তু কালের আবর্তনে সহজ প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে) আর কঠিন প্রতিপক্ষ ভারত , পাকিস্তান , শ্রীলংকা ,অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি । কিন্তু এখন বাংলাদেশের কাছে কঠিন প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই এবং বাংলাদেশের কাছে হারলে অবাক হবার কিছু নেই ।আপনাদের কি মনে হয় কালকে বাংলাদেশ শিরোপা জিততে পারেনি বলে কেঁদেছে ?না ওরা কেঁদেছে আপনি কেঁদেছেন বলে এবং এদেশের কোটি কোটি মানুষের ভালবাসার স্বীকৃতি দিতে ।খেলাটি ছিল অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর ।শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের পরাজয়ে স্টেডিয়াম পুরো স্তব্ধ । মুসফিক ,সাকিবেরা ভেঙ্গে পরেন কান্নায় ।

এই কান্নাতে লজ্জা নেই । আছে গর্ব ।স্বপ্নের এশিয়া একাদশে বাংলাদেশের ৫ জন প্লেয়ার জায়গা করে নিয়েছেন । স্বপ্নের এশিয়া একাদশঃ

১. মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)
২. তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)
৩. বিরাট কোহলি (ভারত)
৪. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)
৫. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)
৬. উপুল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)
৭. নাসির হোসেন (বাংলাদেশ)
৮. উমর গুল (পাকিস্তান)
৯. আবদুর রাজ্জাক (বাংলাদেশ)
১০. সাঈদ আজমল (পাকিস্তান)
১১. মাশরাফি বিন মুর্তজা (বাংলাদেশ)

এদিকে তামিম করলেন এক বিরল কীর্তি । প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ওয়ানডে ইনিংসে ছুঁলেন ফিফটি। টানা তিন ইনিংসে আছে কেবল মোহাম্মদ আশরাফুল (২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি), হাবিবুল বাশার (২০০৬ সালে কেনিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) ও শাহরিয়ার নাফীসের (২০০৬ জিম্বাবুয়ে ও ২০০৮ আয়ারল্যান্ড সিরিজে)

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চতুর্থ সেঞ্চুরি করার এই ভাবে ৪ আঙ্গুল দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি লোটাস কামাল এর ভুল সিন্ধান্তের চূড়ান্ত জবাব দেন ।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি প্রাথমিকভাবে তামিমকে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডে রাখতে চান নি । চতুর্থ সেঞ্চুরি করার পর তিনি দেখিয়ে দিলেন যে তার সিন্ধান্ত ভুল ছিল ।

সবাই হয়ত এই ভুলটি লক্ষ করে থাকবেন যে বিটিভি লিখেছে : Bangladesh won by 2 runs. হয়ত বিটিভিও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এই ভুলটি করেছে ।

এর ভিতরে ঘটে গেলো এক দুর্ঘটনা ।এশিয়া কাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বাংলাদেশের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি পঞ্চগড়ের ক্রিকেটপ্রেমী আজিজুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রিয় দলের পরাজয়ের দৃশ্য দেখার পর তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আজিজুলের বাড়ি পঞ্চগড় শহরের জালাসীপাড়া গ্রামে। তিনি পানের দোকানদার ছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, গতকাল নিজের দোকানে বসেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান দলের ফাইনাল খেলা দেখছিলেন আজিজুল। দুই রানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের সমর্থকদের অবদান কোন অংশেই কম না। তাদের ভালবাসা আর সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে এতো দূর আসতে পেরেছে ।বাংলাদেশের জয়ের জন্য বাংলাদেশের সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ ঈশ্বর এর কাছে প্রার্থনা করেছে ।বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে সমর্থন করেছে ।কেউবা খেলার মাঠে,কেউবা টিভিতে । তারা সব সময় বাংলাদেশের সাথে ছিল এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে ।

বাংলাদেশের এই বিজয়ের পথ কেবল শুরু ।একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতবে ।

::salute::

১,৩৩০ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “সাব্বাস বাংলাদেশ তোমাদের এই অশ্রু গর্বের”

  1. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    সাময়িক :bash: আর ~x( তো থাকবেই...

    তবে এই খেলা কাপ না জেতার দুঃক্ষ কে ভুলায় দেওার মত একটা খেলা ছিল :-* :hug: :thumbup: :boss:

    বুঝায় দিসি সবাইরে আমরা :gulli2: :duel: :chup:

    এখন খালি দরকার একটু কন্সিস্টেন্সি। :-/ (সম্পাদিত)


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।