কয়েকটি সাম্প্রতিক কবিতা

কেন ভালোবাসি,কেন নিভে যাই,
কেন ফিরে আসি,শুধু ক্ষতি বাড়াই।

তুমি তো জানো, কেন এ ক্রন্দন,
তুমি তো জানো প্রেম কেন হয়ে যায় ক্লিশে।
আমাদের অনুযোগ
প্রাত্যহিক মিলনে যায় মিশে।

আর যা মেশে না, আর যা অমিল হয়ে রয়,
কিছু তা তোমার মতো,
সত্য কিন্তু অবধারিত নয়।


আত্মবিনাশের পথ পেলে অবশেষে,
ক্ষতি নেই, ক্ষতও থাকে না এমন বসন্ত
প্রত্যাশার পাথর ভেঙে দেয়।

একই টেক্সট, ভিন্ন পাঠোদ্ধার,
অজৈবিক আকাঙ্ক্ষার নৃত্য-নৃতত্ত্ব।
তখন যৌথ জীবন, অন্ন-প্রেম,
পৃথক পাদটীকা।

ট্রিপল ট্যাপেস্ট্রিতে আমাদের ইতিহাস,
বুননে-শিল্পে-ঐতিহ্যে
নাগরিক নৈঃশব্দ্যের নিঃসঙ্গ ন্যারেটিভ৷


তবু কিছু ক্ষত জমে।
প্রত্যাশার পাথর ভেঙে যারা আসে,
অসময়ে, অন্য বসন্তের আগমন
ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের শুষ্ককরুণ জনপদে।

তবু ক্যানো এই ভালোবাসাবাসি?
অনেক স্বপ্ন ভেঙে গেছে,
আর যা ভাঙেনি এখনও,
নির্মম রাতের তৃণমূল তারা হয়ে
তারা ঝরে পরে।

প্রাত্যহিক পৌণপুনিক দিন, ব্যস্ততার বীজ,
জনপদে একা তবু ভরা মজলিশ।


মাঘ চলে যায়, প্রেম ও প্রত্যাশার নিকটে
আমাদের সেই ঘুরেফিরে আসা।
কারা যেন বাসায় চলে যাচ্ছে,
কারা যেন বাড়ি যেতে চায়।

আমরা কোথাও যাবো না,
আমাদের বাসা বাড়ি এক হয়ে গেছে,
রক্তে, কোলনে, কমায়,
সাইটেশন, কোট ও ক্ষমায়
এই তো প্যারাফ্রেজ জীবন।


প্রেমিকার অপেক্ষা নেই এমন শীতকাল চলে যায়।
আমরা ক্রমশ পুরুষ হয়ে উঠি।
আমাদের মহান স্ত্রীগণ এইসব শীতে আরও প্রসূতি হোন৷
আমরা পাশাপাশি বালিশে শুয়ে উদযাপন করি বিবাহপ্রাত্যহিক।

আমাদের কেউ কেউ ভালোবাসতো,
আমাদের অনেকেই ভালোবাসতো না।
আমরাও অনেককেই ভালোবাসতাম।
কিন্তু এখন আমরা নিজ নিজ স্ত্রী ভালোবাসি।
আমরা তাদের প্রতি মনোযোগী হই,
কুশলাদি জিজ্ঞেস করি এবং ঋতুস্রাবের সময়
সতর্ক ব্যবহার করি।
প্রেমিকাদের বদনাম করি
এবং নিজেদের মধ্যে কোন রহস্য রাখি না।
ফলে স্ত্রীগণের সঙ্গে আমাদের আপেক্ষিক বিবাদ মিটে যায়।

এখন আমরা মনোগ্যামি চর্চা করি
এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করি না।
পরস্ত্রীকে ভগ্নি জ্ঞান করি৷
এবং পবিত্র গ্রন্থের কথা মেনে
হত্যার চেয়ে জঘন্য অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত করি।
আর বহুগামি ও উচ্ছনে যাওয়া যুবকদের
বিয়ে করে পুরুষ হবার পরামর্শ দেই।

আমরা বলি, বিয়ে একটা উপলব্ধির বিষয়
এবং আমাদের সকলের বিয়ে করে
এই উপলব্ধি নেয়া জরুরি।

এতে যুবকেরা আমাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়
এবং তারা জানায় আমরা তাদের ভুল পথে পরিচালিত করছি।
আমরা তখন তাদের সঙ্গে কোন তর্কে যাই না
এবং পুরুষ হবার উপলব্ধির আনন্দ থেকে
যুবকদের বঞ্চিত হতে দেখি।

এরপর আমরা নিজ নিজ সংসারে মনোযোগী হই
এবং আমাদের স্ত্রীগণ এতে খুশি হোন।
তখন তারা আমাদের প্রেমিকাদের কথা ভুলে যান
এবং আমাদের মনে পড়ে
এই শীতে আমাদের জন্য কোথাও
কোন প্রেমিকার অপেক্ষা থাকার কথা না।


ভালোবাসা থেকে বহুদূর চলে গেছি।
তবে কি তুমুল প্রেম,
আপনি আসিবেন না আর?
আমাদের বনভূমি উজাড় হোল,
ইনডোর বৃক্ষের মৌনতা ধার করে
এই শুষ্ক মরুর কোলাহলে,
ক্লান্তকরুণ বেঁচে আছি।
কিছুই থাকবে না, থাকে না জেনেও তো আসে।
কেউ কেউ ভালোবাসতেই ভালোবাসে।
রাতের পোশাক পরে অন্ধকার আসে,
আলোর বোরকা পরে
সূর্য আনে রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিন।
আমরাও আসি পৃথক পথ ধরে,
একাকি অন্তর্গত যাত্রায়
অনাদি, অন্তহীন।


স্মৃতির চৌকাঠে দিয়ে নাড়া,
জেগে থাকে কারা?
পৃথিবী ঘুমিয়ে যায় তবু
কারা থাকে জেগে?
কিসের আবেগে
কান্না পায়?
ধীর পায়
চলে যায় দূর,
ব্যথার সমুদ্দুর।
ওঠে ঝড়,
ফুরায়
মৃত ডিসেম্বর।


দেখলাম, একটা পাখি মরে পড়ে আছে মহাখালির এক ভ্যানের ওপর। এমন দুপুর ছিল আজ। সারাদিন উদ্ভ্রান্ত, বিভ্রান্ত, কোথাও স্থিরতা নেই। টিকে থাকার নিশ্চয়তাও মিলছেনা পৃথিবীর কোন প্রান্ত থেকে। সারাদিন ধূসর, মলিন। ডিসেম্বর চলে যাচ্ছে, আমাদের বিশ্রাম নেই। জানুয়ারি চলে আসবে, আমাদের বিশ্রাম থাকবে না। বছরক্রান্তিতে গিয়ে এই একই উপলব্ধি হলে মনে হবে জীবনের দৃশ্যত কোন উন্নয়ন নেই। সাফল্য শব্দটাকে ইদানিং মনে হয়৷ যে মাপকাঠিতে আমরা অন্যের সফলতাকে মাপতে চাই, সে মাপকাঠি সর্বদা সঠিক মনে নাও হতে পারে৷ একটা পাখির মৃত্যু দৃশ্য এইসব চিন্তা-অপচিন্তার মাঝে কোন আবেদন তৈরি করে নি। মনে হয়েছে, একটা পাখি যে উড়তে জানে না, টিকে থাকতে পারেনি তারতো মরে পড়ে থাকারই কথা। মানুষের মৃত্যুর জন্যেই যখন কোথাও কোন ক্রন্দন থাকে না। উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম রাত আজ। কীভাবে এই রাত উদযাপন করবো তবে? মৃত পাখির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করবো? নাকি টিএসসির সব মৃত বৃক্ষের? মৃত গাছের জন্য, মৃত পাখির জন্য, মৃত হৃদয়ের জন্য আজ তবে কুলখানি হোক। আমাদের নিঃশ্বাস নেয়ার কোন জায়গা নেই কোথাও।


আমরা দু’জন দূরের যানবাহনে,
দূরে চলে গেছি যতটুকু যাওয়া যায়।
মলিন গন্তব্য ঠিকানাবিহীন পথ,
অনেক কথাই হয়নি বলা,
তুমিও তো কিছু বলো নি।

দশক ফুরিয়ে গ্যাছে, আরেক দশকের কাছে
কী চাইতে পারি বলো? প্রেম? প্রত্যাশা? বিচ্ছেদ?

জীবনকে নিয়ে কী করবো এই দশকে? ছেলেখেলা করবো?
হাওয়ায় উড়িয়ে দেবো?
বিভ্রান্ত বেড়ালের মতো অপেক্ষা করবো
আরও এক জন্মদিনের?

ত্রিশে পড়ছি, অথচ অনেক আগেই
ভেবে রেখেছি ত্রিশেই আমার
মরে যাওয়া জরুরি।
কিন্তু ত্রিশেই যদি মরে যাই,
এই আত্মহননের দায়ভার
আমি কাকে দেই
তুমি না তাকে?
ভুল দেবতার প্রার্থনার মত
এতকাল ভালোবেসে গিয়েছি যাকে।

১০
শব্দ ছাড়া কোন সঞ্চয় নেই,
নৈঃশব্দ্য ছাড়া কোন ঋণ।
বেঁচে থাকার ক্লান্ত-এ ভারে,
অলক্ষ্যে মরে যাই প্রতিদিন।

৩৬৫ বার দেখা হয়েছে

১টি মন্তব্য “কয়েকটি সাম্প্রতিক কবিতা”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।