স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা -২


আমেরিকাতে এখন লাইফকোচিং (জীবনোন্নয়নধর্মী) ধরণের বইগুলো খুব জনপ্রিয় হচ্ছে। এদেশের দুটো বড় বইয়ের দোকান বার্নস এন্ড নোবেল আর বডার্সের দুটো আইল এ ধরনের বইয়ে ঠাসা। বেস্ট সেলারের তাকেও এ ধরনের বইগুলোর জ্বলজ্বল উপস্থিতি। কী নগর, কী গ্রাম – যেখানে জীবন, সেখানেই চাওয়া-পাওয়ার হালখাতা। জীবন গড়িয়ে চলে হালখাতার শেষ সারিতে – যেখানে সর্বমোট লিখে একটা সমান সমান চিহ্ন বসাতে হয় – সেজায়গাটাতে একটা ধনাত্মক শব্দ বসাতে। তাই জীবনভেদে কখনও ধর্ম কখনও দর্শন কখনওবা শুধুই জ্ঞানচর্চা অথবা কাজ জীবনের আঁকেবাঁকের নানান শূন্যস্থানপূরণের জায়গাটিতে বসে যায়। লক্ষ্য ঐ একটাই। হিসেব মিলিয়ে শেষবেলার দীর্ঘনিশ্বাস এড়ানো। দিন দিন জীবন জটিল হচ্ছে। তাই হিসেব মেলাতে এদেশে সাউথবেল্টের লোকজন দলে দলে চার্চে ভীড় করছে আর নগরে জীবনোন্নয়ধর্মী বইগুলোর কাটতি বাড়ছে।

জীবন উন্নয়নমূলক ইংরেজী বইগুলো পড়তে বেশ ভালোই লাগে। কিছুদিন আগে একটা বই পড়লাম – উইম্যান, ফুড এন্ড গড। এ বইটাতে খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে খাবার হচ্ছে আরেক ধরনের ফিলার বা জীবনের শুন্যস্থান পূরক। এদেশে দারিদ্র আর স্থূলত্বের সম্পর্কটা সমানুপাতিক। সবচেয়ে গরিব স্টেট মিসিসিপি। আবার এ স্টেটের অধিবাসীদের গড় ওজন আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

গত পর্বে আমি একটা বইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলাম ‘আই উইশ আই নিউ হ্যোয়েন আই ওয়াজ টোয়েন্টি’। পড়া শেষে মনে হলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর অধিকাংশ উপাদানগুলোই খাটবে না। দুদেশের মধ্যে একটা বড় রকমের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য রয়েছে। একারণে একেবারে মৌলিক অনুভূতিগুলো অভিন্ন হলেও তার বাহ্যিক প্রকাশ ভিন্নরকমের। একটা বাস্তব উদাহরণ দিই। আমার আগের অফিসে বইপ্রেমী কয়েকজন মিলে একটা বুক ক্লাব খুলেছিলাম। দেড়মাস পর পর কোন বই নিয়ে আলোচনা করার জন্য এখনও আমরা একসাথে হই। আগের অফিস বলছি কারণ কয়েকমাস হলো আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। সেই বুক ক্লাবের এক মিটিঙ্গে আমাদের শখ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেখানে আমেরিকান মেয়ে ক্রিস্টিন বললো তার অনেক দিনের ইচ্ছা ছাগল পোষার। কথায় কথায় জানতে পারলাম লোকে যে ছাগল খায় আর ছাগল যে সব খায় এ সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। ছাগল দেখলে তার নাকি কুকুরের থেকেও বেশি মায়া লাগে। এমন তুলতুল, সুশ্রী আর আদুরে প্রাণী সে খুব কমই দেখেছে। আমি তার চোখ দেখে নিশ্চিত হয়েছিলাম যে কথাগুলো সে হৃদয় থেকে বলছে। ওরা এরকমই। আবার আমেরিকার মধ্যে এতো সুন্দর সুন্দর জায়গা থাকতে ক্রিস্টিন মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়েছিল কানাডার কোন ইগলু হাউজে। সেখানে বিছানাটাও নাকি বরফের। এসব শুনি আর অনুধাবন করি আমাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের।

এর আগে ডঃ লরার কথা উল্লেখ করেছিলাম। দাম্পত্য সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম উপদেশটি ছিল যে কেউ কারো কাছে কোন গোপনীয়তা রাখতে পারবে না। এখন বইয়ে দেখি প্রথম উপদেশটির সাপেক্ষে এক লোক তার সমস্যা জানাচ্ছে,’আমি একসময় একটি পতিতালয় চালাতাম। এই তথ্যটি কি আমার হবু বৌয়ের কাছে প্রকাশ করবো?’ সমস্যার ধরণ দেখেতো আমার চোখ ছানাবড়া।
আমেরিকা বড় দেশ। এর সমস্যাগুলোও বড় বড়। আমরা ছোট দেশের বাসিন্দা। আমাদের সমস্যাগুলোও ছোট ছোট। এই যেমন শহিদ ভাই তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বললেন স্ত্রীর কাছে বিয়ের আগের প্রেমের কথা প্রকাশ করে বিপদে পড়েছেন। আমি আমার এক বান্ধবীর কথা জানি সে এই একই সমস্যায় সত্যিকার অর্থেই বড় রকমের বিপদে পড়েছিলো। বুয়েটে থাকতে তার একটি ছেলের সাথে এফেয়ার ছিল। আমাদের সময়ে বুয়েটে অধিকাংশ জোড়গুলোই আঠা আচরণ প্রদর্শন করতো। সারাক্ষণ একসাথে। স্বভাবতই সবাই তাদের এফেয়ারের কথা জানতো। পরবর্তীতে সে ছেলেটির সাথে তার বিয়ে হয়নি। হয়েছিলো তিন বছরের এক সিনিয়রের সাথে। দুঃখজনক হলো একটি মেয়ে হওয়ার পর তাদের সম্পর্ক ভেংগে যায়। মূল কারণ তাদের দাম্পত্যে আগের সম্পর্কটির প্রসংগ প্রায়ই উঠে আসতো।
সমস্যার ধরণটা বেশ দৃষ্টব্য – কোথায় ছুটকো প্রেম আর কোথায় পতিতালয় চালানো! কোথায় দুর্নীতিবাজ দেশ নাম্বার ওয়ান আর কোথায় দাজ্জাল নাম্বার অদ্বিতীয় (যেহেতু দাজ্জাল একজনই)।


টিনা সীলিগের বইয়ে আবার ফিরে আসি। তার ব্যর্থতার ঠিকুজি রাখার ধারণাটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

টিনা সীলিগ

পেশাগত ব্যর্থতা

অভিনিবেশী না হওয়াঃ চাকরির প্রথম দিকে অজ্ঞের মতো একটা সংস্থা কিভাবে কাজ করে ব্যাপারটায় সবজান্তা ভাব কাজ করতো। খুব সহজেই কর্পোরেট কালচার সম্পর্কে আমি উপসংহারে চলে আসতাম যা ছিলো ভুল। এখন মনে হয় খুব ভালো হতো যদি আমি আরো বেশি মনোযোগ দিতাম আর কম ভাবতাম।

সহজেই হাল ছেড়ে দেওয়াঃ যখন নিজের ব্যবসা চালাচ্ছিলাম তখন খুব দ্রুতই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। কারিগরী আর সাংগঠিক দুভাবেই এটা বেশ দূরুহ হয়ে উঠে,হাজার চেষ্টা করেও আমি কোন সমাধানের কূল-কিনারা করতে পারছিলাম না। এখন মনে হয় আমার এতো সহজে হাল ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হয়নি।

লেখাপড়ার ব্যর্থতা

আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাইনিঃ প্রথম দুবছর লেখাপড়াতে আমি তেমন মনোযোগী ছিলাম না। ক্লাস থেকে যে সর্বোচ্চ সুবিধা আমি নিতে পারতাম তা আমি হেলায় হারালাম – এটা ছিল এমন একটা সুযোগ যা আর কোনদিন ফিরে আসবে না।

সম্পর্কোন্নয়নঃ আমার পিএইচডি প্রফেসরের সাথে একটা টানাপড়েন সম্পর্ক ছিলো। আমি চাইতাম শ্রেনীকক্ষে শিক্ষাদানের পেছনে বেশি সময় দিতে আর প্রফেসর চাইতো ল্যাবে বেশি সময় কাটাতে। এখন মনে হয় দুটোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে এবং আমার লক্ষ্যের সাথে মিলে যায় এমন একটা উপায় খুঁজে বের করতে পারতাম।

ব্যক্তিজীবনের ব্যর্থতা

সংঘর্ষ এড়িয়ে যাওয়াঃ কলেজে আমার একজন বন্ধু ছিলো। যতোই পাশ করবার সময় এগিয়ে আসছিলো ততই আমরা ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম যে এরপর কী করবো। সরাসরি এই প্রশ্নটার জবাব না খুঁজে আমি সম্পর্কটাকে উড়িয়ে দিলাম। এখন মনে হয় আসলেই কী হচ্ছিল সে বিষয়টা নিয়ে আমি সৎ ভাবে আলাপ আলোচনা করতে পারতাম।

নিজেকে না শোনাঃ ক্যালিফোর্নিয়া থাকতাম। আংকেল মারা গেল নিউ ইয়ার্কে। অনেকেই যেতে মানা করলো। তাই গেলাম না। এখন খুব অনুতাপ হয়। অতীত কখনই ফিরে আসে না। তাই নিজেদের অনুতাপও আমরা মুছে ফেলতে পারি না। জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে শুনতে হয়, অন্যলোকে কি পরামর্শ দিল তাতে কান না দিয়ে।

মহিলার ব্যর্থতার ফর্দ দেখে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর এক নাম্বার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরোসার্জনের মতো বিষয়ে পিএইচডি করে সেখানেই এখন একটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান। আমরা বরং এই ভেবে পুলকিত হতে পারি যে উনাদের জীবনেও কিছু কিছু দীর্ঘনিশ্বাস আছে। ব্যর্থতার ফর্দ করার বিষয়টা নতুনত্ব ঠেকলো।

আমরা আমাদের সফলতা নিয়ে যত মেতে উঠি; ব্যর্থতা নিয়ে ঠিক ততটাই আহত হই, একে লুকিয়ে রাখতে চাই। ব্যর্থতা নিয়ে আরো আলাপ আলোচনাটা হওয়া দরকার। অনুভূতিগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারলে মনের ভেতরে তৈরী হওয়া চাপ অনেকটাই কমে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে দেবদাসের কথা ধরি। সেই বিংশ্ব শতকের গোড়ার দিকে পার্বতীকে হারানোর ভাষা জানতো না বলে গ্যালন গ্যালন মদ খেয়ে দেবুদা ডুবেছে। এ যুগে এ ঘটনা ঘটলে চূণীলালকে ‘পার্বতীর জন্য আমার একটা সময় খুব ক্রাশ হয়েছিলো।’ বলেই ফেসবুকে হিমালয়ার ছবি দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো।

তেমনি ছাত্রজীবনে ‘যা পড়ছি তা পড়তে ভালো লাগে না’ এ অনুভূতিটার একটা সঠিক ভাষা খুঁজে পাওয়া দরকার। এটা একটা খুব সাধারণ সমস্যা। আমি নিজেও এ সমস্যার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তারপরও সময়মত পড়াশোনা শেষ করে বেশ অনেক বছর চাকরি-বাকরি করে এই লেইট থার্টিজে এখন একটা ব্রেক নিয়েছি নিজের ভালোলাগার কিছু করবো বলে। আমি বলতে চাই এটা আমার জীবনের রিচার্জ পর্ব। এখানে আমার কিছু সহপাঠী বললো, ‘তুমি মেয়ে বলেই এমনটা করতে পারছো। কারণ পরিবারের প্রধান রুটি-রুজির বাহক তো তুমি নও।’ আমি বলবো আমি মেয়ে বলেই অনেকদিন ধরে একটা না আড়াইটা চাকরিতে আটকে ছিলাম। প্রবাসে শুধু সংসার এবং বাচ্চা সামলানোতোই দেড়টা চাকরির সমান। আর প্রধান রুটি-রুজির বাহক তো আরো বড় স্বপ্নবাজ। তার স্বপ্ন আমাকেও স্পর্শ করে। আমি তাকে সময় করে দিই যাতে সে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। পুরো বিষয়টাই একটা টিমওয়ার্ক। শুধু প্রতিভা দিয়ে আমরা হয়তো জিততে পারি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পুরো টিমকে সাথে নিয়ে চলতে হয়।


অনেকেই ভাববে বাজারে চাকরি আছে এমন বিষয় নিয়ে যারা পড়ছে তাদের দুঃখ করাটা একধরনের দুঃখবিলাস। যুতসই চাকরি পাওয়া যায় না এমন বিষয়ে লেখাপড়া যারা করছে হতাশা যেন তাদের মৌলিক অধিকার। আমার মতে হতাশ ব্যাপারটা আপেক্ষিক। বিষয়টা অনেকটাই ব্যক্তিচরিত্রের সাথে সম্পর্কিত। প্রতিভা বা মেধার সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং মেধাবী বা প্রতিভাধারীদের হতাশ হয়ে ভেংগে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। মনের মধ্যে বাইরের পৃথিবী দেখার জানলাটা যার যতো বড় সে তত বেশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। অনাবশ্যক অহমিকা অনেক সময় আমাদের মনের মধ্যেকার জানালাটা বন্ধ করে রাখে। কোথায় জানি লেখাটা পড়েছিলাম – ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের বড়জোর একটা চাকরি দিতে পারে, কিন্তু স্বশিক্ষা আমাদের ভাগ্যবান করে তোলে।’ আসলে আমরা যত বেশি স্বশিক্ষিত হবো, তত বেশি আমাদের মনের ভেতরকার জানালা খুলে যাবে, ঠিক তত বেশিই আমাদের সামনে সুযোগ তৈরী হবে।

আমরা বাংগালি। চাকরি ছাড়া কিছু বুঝি না। টিনা সীলিগের বই থেকে এখানে আরেকটা উদাহরণ দিচ্ছি যেখানে দেখানো হয়েছে একজন কিভাবে নিজের চাকরির বাজারে চাহিদা তৈরি করেছে।

নাথান ফার – ইংরেজীতে লেখাপড়া করেছে। সে পড়তে আর লিখতে ভালবাসে। বাইরের পৃথিবীতে এসে দেখলো যে ইংরেজী (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাংলা পড়তে হবে। বাংলাদেশে ইংরেজীর শিক্ষকদের চাহিদা অনেক) প্রফেসরদের মার্কেট খুব ছোট। চাকরি পেলেও বেতন কম। সে অন্যভাবে ভাবতে শুরু করলো কিভাবে সে তার দক্ষতা আর প্যাশনকে কাজে লাগাতে পারে। অনেক পর্যবেক্ষণের পরে সে ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং বেছে নিলো যেখানে সে তার গবেষণা এবং লেখার দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবে সেই সাথে শেখার আনন্দটাও পাবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই ক্ষেত্রটিতে প্রথম কাজ যোগাড় করা। তাই প্রথমে সে একবছর ব্যয় করলো নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। সে তার কলেজের বিভিন্ন সংগঠনে যোগ দিলো এবং কনসাল্টিং সম্পর্কে জানতে লাগলো। একটা চাকরির ইন্টারভিয়ের সময় ছাত্রদেরকে যেভাবে প্রস্তুত করতে উপদেশ দেওয়া হয় তা সে নিজে নিজে অনুশীলন করতে লাগলো। এক বছর পরে নাথান একটা বড় ফার্মে ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টেন্ট হিসেবে যোগ দিলো।

আমি জানি উপরের উদাহরণটা অনেকের কাছেই তেমন পরিষ্কার হবে না। তাই এক্ষেত্রে আরেকটু বিশ্লষন করছি। আমি যখন সান হোজে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করছিলাম তখন সেখানে দেখেছি যে ছাত্র-ছাত্রীদের চাকরি খোঁজা এবং ভবিষত পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ আলোচনার জন্য বিভিন্ন কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে একটা কেরিয়ার সেন্টার। সেখানে প্রায়ই ওয়ার্ক শপ আয়োজন করা হয়। সেই ওয়ার্কশপে কিভাবে রেজুমি/সিভি লিখতে হয়, কিভাবে ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হতে হয় – মোটামুটি ইন্টারভিউ বোর্ডের পেশাগত প্রশ্ন ছাড়া বাদবাকি অন্য বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়। নাথানের লেখা থেকে যা বুঝলাম তা হলো নাথান হয়তো এরকম কোন চাকরি খুঁজছিলো যেখানে কোন ব্যক্তি বা দলকে কোন বিষয়ের উপর ধারনা দেওয়া হবে। আমি এই আমেরিকায় ছোট, মধ্যম এবং বড় এই তিন ধরনের কোম্পানিতে কাজ করেছি। প্রতিটা কোম্পানিতেই এই ধরনের অনেক উপদেষ্টার চাকরি থাকে। বড় কোম্পানিতে তো এ ধরনের চাকরি অনেক। কারো গবেষণা থাকবে ইরগোনমিকসের উপর। কম্পিউটারের সামনে অনেকক্ষণ বসে কাজ করলে কারপ্যাল ট্যানেল সিনড্রম সমস্যা হতে পারে। অনেকদিন ধরে কম্পিটারের সামনে বসে কাজ করলে আমাদের কবজির ভেতর দিয়ে কারপ্যাল নামে যে রগটা গিয়েছে তা সংকুচিত হয়ে কবজি ব্যথার কারণ হতে পারে। এ বিষয়ের ম্যানেজমেন্ট এনালিস্ট কী কী সাবধানতা অবলম্বন করলে এই সমস্যা কাটানো যায় তার উপর কিছু ডকুমেন্টেশন আর প্রেজেন্টেশন করে। অর্থাৎ এখানে যোগ্যতা হচ্ছে কোন একটা বিষয়ে পড়াশোনা করে তার উপর ভিত্তি করে গণসচেতনধর্মী কিছু উপস্থাপন করা/লেখা।
চলবে …

৭৯৮ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা -২”

  1. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    শান্তা,
    বেশ অনেকদিন পরে এই দ্বিতীয় পর্ব এল - আগ্রহ করে অপেক্ষা করছিলাম। আসলে তোমার লেখা শেষ হবার পর এক সাথে মন্তব্য লিখবো এমন একটা ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছাটা ভাংলাম কারন তোমার সাথে কথা বলার সময় মনে হলো তুমি চাও যে তোমার লেখার শুধু প্রসংশা নয়, বরং 'ক্রিটিক' আশা করছো। তাই এই লেখা।

    যারা আমেরিকা বা অন্য ইউরোপিয়ান দেশে আছে তাদের পক্ষে যতটা সহজে তোমার বলা কথাগুলি বোঝা সহজ হবে, ততটা কি বাংলাদেশের জেলা শহরের পাঠকের পক্ষে সহজ হবে? এক্স-ক্যাডেট ছাড়াও লেখার সময় মনে রেখো তোমার লেখার পাঠক অনেকে হতে পারে।

    এটা উল্টা ভাবেও কাজ করে। তোমার সাথে চাইনীজ লেখিকা লিজিয়ার কথা বলছিলাম সেদিন। আমার লেখা 'ভিন্ন জানালা দিয়ে দেখা'-র ইংরেজী প্রথম পর্ব পড়ে সে আমাকে যা লিখেছিল তার কিছুটা এখানে ইংরেজীতেই উঠিয়ে দিলাম, যাতে বুঝতে পারো আমি কি বলার চেষ্টা করছিঃ

    "now your piece. it seems to me that you've gone through a lot in life and have plenty of good materials to write.
    a few things:

    excellent start. we became interested and intrigued. watch a war from one's balcony. is this part of the book? if so, you'll have the space to explain the background. and very importantly, you must almost bear in mind who are your readers. if you write for the western market, then you need to explain more. in para. 2, when you first mention Chittagong, you should add something like 'the main seaport in Bangladesh."

    in para 5, "I was very excited and made Pink join my excitement'.

    how were you excited about the broadcast? you need to explain. when and how to explain is a tricky issue. you need to offer enough yet not too much to interupte the flow of the narrative.

    also, try to avoid sentence such as "I made Pink join my excitement". it it telling. we need showing. how did you do that? grab her hand and dragged to the balcony?

    remember always use details. what kind of balcony? cramped, concrete, with a few plantes Pink was growing,

    what kind of bridge it was?

    use adjectives sparingly.

    again, thanks for everything, Saif. you are a kind man."

    ভাল কথা - লিজিয়ার শেষ বাক্যটা অবশ্য সঠিক নয় - 'আমি বাঙ্গালী', 'দয়ালু' হবো কি করে?

    শেষ কথা - খুব আগ্রহ ভরে তোমার লেখাটা পড়ছি।

    সুভেচ্ছা রইল নির্ঝর ও তোমার প্রতি।

    সাইফ ভাই

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। লিজিয়ার we need showing কথাটা বেশ পছন্দ হয়েছে। আবার যতটা ডিটেইল লিজিয়া াশা করছে ততটা আমাদের জন্য প্রয়োজন নেই। অতিমাত্রার ডিটেইলের কারণে এখন আমি আর ঝুম্পা লাহিড়ীর বই পড়তে পারি না। আমি এই লেখাটার সময় বুঝতে পারছিলাম দুই-একটা জায়গায় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে তারপরও পরিচিত পাঠক বলেই হয়তো একটু এক্সপেরিমেন্ট করতে ইচ্ছে করে।
      ইংরেজীতে চিন্তা করলে ব্রেন অন্য প্যারাডাইমে চলে যায় আবার বাংলায় চিন্তা করলে আরেক প্যারাডাইম। আমি নিজে পাঠকের কথা ভেবে লিখতে পছন্দ করি। কারণ কেউ লেখা পড়বে এই আশা নিয়েই তো লেখা। পাঠকের কথা ভেবে লেখাকে অনেকে আবার খুব সমালোচনা করে। আবার লেখার আন্তর্জাতিকতা বেশ আপেক্ষিক। যেমন এক ইন্ডিয়ান আর আমেরিকান বন্ধুকে The Renaissance shifts man's gaze from heaven to earth কথাটার মানে বোঝাতে অনেক সময় ব্যয় করতে হলো।

      যাইহোক আবারো ধন্যবাদ াপনার সুন্দর কমেন্টের জন্য।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  2. শেখ আলীমুজ্জামান (১৯৭০-৭৬)

    ওয়াহিদা,
    চমৎকার লেখা। উপভোগ্য।
    তবে ছাগল বিষয়ে একটা মন্তব্য।

    ছাগল দেখলে তার নাকি কুকুরের থেকেও বেশি মায়া লাগে। এমন তুলতুল, সুশ্রী আর আদুরে প্রাণী সে খুব কমই দেখেছে।

    আমার কিন্তু ছাগল প্রাণীটাকে মোটেই সুশ্রী মনে হয় না, বরং দেখতে একটু ভয়ই লাগে। ছোট বেলায় কোন এক ছবিতে যেন দেখেছিলাম, Devil এর মাথাটা ছাগলের, সম্ভবত সেখান থেকেই ভীতির সূত্রপাত। পরে মনে হয়েছে, ছাগলের চোখ, বিশেষ করে চোখের মনি এর- horizontal slit অস্বস্তিকর।

    লেখা ফলো করছি।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      আলীম ভাই মন্তব্যের জন্য খুব ধন্যবাদ।
      আমরা অনেক সময় আন-ইনফর্মড সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করে বসি। আমি চাচ্ছি এই নতুন জেনারেশনের সামনে কিছু ইনফরমেশন তুলে ধরতে। বিষয়টা কঠিন এবং নিজেও ততটা ইনফর্মড না। আপনিও আপনার কিছু অভিজ্ঞতার কথা অথবা কোন ইনফরমেশন তুলে ধরতে পারেন।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  3. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    সমস্যা হল, আমি সিরিয়াস মন্তব্য করতে পারি না। কস্ট কস্ট লাগে :((

    ব্যক্তিগত ভাবে আমি হিসেব-টিসেব তেমন একটা মিলাই না। সবচেয়ে সফল যে মানুষ তারও ব্যর্থতার অনেক নজির আছে, আর সবচেয়ে ব্যর্থ মানুষটিও অনেক সফল কাজ করছেন। তাই আমার মধ্যে এই বোধ কাজ করে না। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না আপু। 😀

    আপনার প্রতি সিরিয়ালের শেষ লাইনটুকু অসাধারন। লেখাটা উপভোগ্য, আরও মজা পাচ্ছি আপনার দার্শনিক হয়ে উঠা দেখে।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ভাইডি সফল-ব্যর্থ এই জিনিসটা আমারে অতো টানে না। কারণটা তো বলেই দিয়েছো সবই আপেক্ষিক। পয়েন্ট টেকেন - পরের সিরিজে আসতেছে।

      তুমি কঞ্জুস মানুস। যাওবা একখান ভাল কথা লিখলা তাও বুঝলাম না। তুমি কি আমার "চলবে" লাইনটাকে অসাধারন বললে।
      তুমি আমারে দার্শনিক ঠাওড়াচ্ছো? সাহস করে তাই দর্শন ট্যাগ লাগিয়ে দিলাম।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        😀

        আরে না না। চলবে টলবে এইসব আমার ভালো লাগে না।

        এই যেমন একনম্বর সিরিয়ালের শেষে লিখেছেন

        সমস্যার ধরণটা বেশ দৃষ্টব্য – কোথায় ছুটকো প্রেম আর কোথায় পতিতালয় চালানো! কোথায় দুর্নীতিবাজ দেশ নাম্বার ওয়ান আর কোথায় দাজ্জাল নাম্বার অদ্বিতীয় (যেহেতু দাজ্জাল একজনই)।

        এর পরে দুইনম্বর এর পরে

        শুধু প্রতিভা দিয়ে আমরা হয়তো জিততে পারি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পুরো টিমকে সাথে নিয়ে চলতে হয়।

        এই লাইনগুলো অনেক অর্থ বহন করে, সারাংশ টাইপ আরকি।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
  4. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    কি আর বলব? 🙁
    এইরকম ব্লগে মন্তব্য করার মত বয়স হয় নাই।।
    তবে, পড়তে খুব মজা লাগতাছে।। 😀


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন
  5. এহসান (৮৯-৯৫)

    আমি বেশ অনিয়মিত পাঠক। কিন্তু ঢুঁ মারা হয়। গত দুই তিন ধরে চিন্তা করছি এই লেখাটা পড়বো... অবশেষে পড়া হলো।

    আমারও আপনার লেখাগুলো দর্শন মার্কা মনে হয়। কিন্তু লেখাগুলো আমি কম Detailing হলেও জীবনের সাথে Relate করতে পারছি। এখন আর হয়তো হোটেল গ্রেভারিন কিংবা মে ফ্লাওয়ার মার্কা বইগুলো ভালো লাগবে না কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের ঘটনাপুঞ্জ আপনার লেখনীতে মজা লাগছে।

    শুধু প্রতিভা দিয়ে আমরা হয়তো জিততে পারি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পুরো টিমকে সাথে নিয়ে চলতে হয়।

    অসাধারণ!!!

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ধন্যবাদ এহসান। হুমায়ন আহমেদ ইতিমধ্যেই আমাদের আমেরিকা চিনিয়েছেন (যদিও আমেরিকা এসে বুঝতে পারছি কোথায় কোথায় চাপা মারছেন), ঐ সময়ে উনার আমেরিকার ভ্রমনকাহিনী গুলো গোগ্রাসে গিলেছি। মানুষ আমার প্রিয় বিষয়বস্তু বলেই হয়তো যা লিখি তার মধ্যে মানুষ চলে আসে।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  6. সামিয়া (৯৯-০৫)

    আপনার লেখা পড়ে জীবনটাকে মেলাতে চেষ্টা করি। রিচার্জ পর্বে আপনার প্ল্যান কি, সেটা নিয়ে, আর কি করছেন সেটা নিয়ে অবশ্যই অবশ্যই ব্লগ চাই।
    রিচার্জ পর্বের কথাটা শুনে দারূণ মজা পেলাম। আমার অবশ্য জীবনে চার্জ পর্বই এখনোও আসে নাই, ঘুমায় ঘুমায় দিন কাটাই, জানি একসময় এর জন্য আপসোস করতে হবে। অলসতা কাটানোর কি উপায় আপা বলতে পারেন?

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      রিচার্জ পর্বে ব্যাপক প্ল্যান। প্রথমে শুধুই পেরেন্টং করে দেখলাম আমার দ্বারা হেলিকপ্টার পেরেন্টিং হবে না। আস্তে আস্তে অন্য কিছু ভাবতেছি।

      চার্জ পর্ব হচ্ছে লেগে থাকার পর্ব। বোঝার আগেই এসে যায় - যদিও সময়টা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী মনে হয়।
      সুখী মানুষের ঘুম বেশি। অকারণে সুখ নষ্ট করতে চাও কেন?


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  7. রাব্বী (৯২-৯৮)

    আজ পড়লাম আপনার লেখাটা, শান্তা আপা। ব্যর্থতার লিস্টি রাখার ব্যাপারটা আমারো ভাল লাগলো। হয়তো রাখি, কিন্তু সচেতনভাবে রাখি না।

    মনের মধ্যে বাইরের পৃথিবী দেখার জানলাটা যার যতো বড় সে তত বেশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

    আমারো তাই মনে হয়।

    শুধু প্রতিভা দিয়ে আমরা হয়তো জিততে পারি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পুরো টিমকে সাথে নিয়ে চলতে হয়।

    কথা সত্যি।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।