একুশে ফেব্রুয়ারি

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। নানাভাবে উৎযাপন করা হয় এ বিশেষ দিনটি। তাদেরই কিছু অনুচিত্র নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

ক্লাস ৮ থেকেই হাউজের জাতীয় মুরগী হিসেবে যোগদান করলাম (পড়ুন করানো হল) ওয়াল ম্যাগাজিন পার্টিতে। যদিও কোন আর্টিস্টিক প্রতিভা ছিল না, খুচরা কাজকর্মে সাহায্য করতাম আর কি। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে হাউসে ট্রেডিশনাল মুড়ি পার্টি হত। শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং টাচ দেয়ার কাজ চলত এদিন। সকল কাজ কোনমতে শেষ করে পাঞ্জাবিটা গায়ে জড়িয়েই দৌর দিতাম মস্কে “বিশেষ নামাজ”এ শামিল হয়ে নিজেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু কিসের কি? মসজিদে গিয়েই সব ঘুম। আর কেন যেন আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক আবু তাহের সাহেব (পড়ুন আবু টায়ার) এসকল বিশেষ নামাজের দিনে সুরা বাকারা কিংবা সুরা ইয়াসিন দিয়েই শুরু করতেন, নামাজ আর থামতই না। নামাজ শেষে মুনাজাত। ” হে আল্লাহ ………আসমানী বালা, জমীনী বালা থেকে আমাদের হেফাযত করুন……… এক্স ক্যাডেট নবী রাসুল সকলের কবরকে জান্নাতের বাগিচা বানাইয়া দিন………… যেসকল ক্যাডেট অসুস্থ আছে, তাদের সুস্থ করে দিন………. সকল এসএসসি পরীক্ষারথীকে কামিয়াবি দান করে দিন…………..কলেজের সুনাম ও সমৃদ্ধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে দিন……………” – এরকম কিছু স্ক্রিপ্টেড মুনাজাত তাহের সাহেবের মুখস্ত ছিল। নামাজ শেষে প্রভাত ফেরি বের হত । একাডেমিক ব্লকের সামনে থেকে এডজুট্যান্ট অফিসের সামনে দিয়ে শহীদ মিনার। ওখানে একদফা বক্তৃতা । প্রতিবছর এসময়টা পুরো ঘুমিয়ে কাটিয়েছি বলে কিছু মনে করতে পারছিনা। এরই মাঝে পিছে বসা কোন ভদ্র সহপাঠি সামনের দুইজনের পাঞ্জাবিতে গিট্টু মেরে দিত। এরপর হাউসে এসে সাধের দেয়াল পত্রিকা নিয়ে যাওয়া হত একাডেমিক ব্লকের নিচে। ঘুরে ঘুরে দেখতাম অন্য হাউজ কি কি আইডিয়া ইস্তেমাল করেছে। কেন যেন আর্টস এন্ড ক্রাফটসের স্যারটা রবীন্দ্র হাউসেরই টিউটর থাকতেন। উনার মুখ থেকে একতু পর পর বুলেটিন বের হত – “আমি আমার হাউস কে কোন ভাবে সাহায্য করি নাই, খালি এজ এ হাউচ তিউতর হালকা গাইড দিসি আর কি, হে হে হে।” বাকীটা বোঝার দায়িত্ব পাঠকের। এরপর হাউজে এসে এক লম্বা ঘুম। এভাবেই শেষ হত প্রতিবারের একুশে ফেব্রুয়ারি।

বিএমএ তে একুশে ফেব্রুয়ারি যথারীতি পিটির পরিবর্তে ফজরের নামাজ। নামাজ শেষে ব্যাটালিয়ান রোডে ফার্স্ট টার্ম এর ফলইন। জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে জাতীয় সংগীত থুক্কু আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি গাওয়া শুরু। এরপর ডিসপোজাল দেয়া হল – সারাদিন বাংলায় কথা বলতে হবে। সকল পারমিশন বাংলায় ট্রান্সলেট করা ছিল অনেক ঝামেলার একটা কাজ। উদাহরন – “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক জনাব, আমাকে ক্ষমা করুন জনাব, আমি কি ভেতরে প্রবেশ করতে পারি জনাব? আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক জনাব”। সারাদিন কোন রুটিন না থাকলেও এই বাংলায় কথা বলতে না পারায়/পারমিশনের ভুল অনুবাদ করায় ফিজিক্যাল মোটিভেশন সহ ফলইন লেগেই থাকত।

আজ বিএনএ তে নামাজের পর জুনিয়রমোস্ট টার্ম ফলইন করে হানাদার বাহিনী ভার্সেস ভাষা শহীদ একটা ফ্যামিলি ড্রামা পরিবেশন করল । এখানে শহিদ মিনার নাই। কি আর করা? গাঁদাফুল গুলা খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ওদের। বাকি রুটিন নরমাল।
এভাবেই চলছে একেকটা একুশে ফেব্রুয়ারি

১টি মন্তব্য “একুশে ফেব্রুয়ারি”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    তোমাদের কলেজে শহীদ মিনার কবে করা হয়েছে এই বিষয়ে জানো কিছু?
    ক্যাডেট কলেজে শহীদ মিনার বিষয়ক রাজনীতি আছে।
    গত বছর কাকতালীয়ভাবে জানতে পারি।

    আমাদের সময় প্রভাত ফেরি, ফুল দেয়া হতো বেদিতে।
    ভোরে নামাজ পড়া হতো না।
    এছাড়া মিলাদ হতো কিনা সেটা কোন ভাবেই মনে করতে পারছি না।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।