কে হায় হৃদয় খুঁড়ে – ১

বেশ কিছুদিন হয়ে গেল আমার শুধু ব্লগ দেখে আর পড়ে ।আর সেই সাথে কিছুদিন আগেই পার করলাম আমাদের আত্মার আত্মীয়তার বারটি বছর । লেখার একদম শুরুতেই যে মানুষটির কথা না মনে করলেই নই, সে হল বন্ধুবর কাউসার আহমেদ। যার সাথে না থাকলে জানতেই পারতাম না যে ” বাসন্তী এখন বিহারে ডাকাত স্বামীর ঘরে চার সন্তানের জননী হয়েছে… অথবা হাত না বাড়িয়ে মন বাড়িয়েও কাউকে ছোঁয়া যায়( হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে , মন বাড়িয়ে ছুঁই )”। আর এইসব না জানলে হয়তো এইচ এস সি’র টেস্ট পরীক্ষায় ” প্রিয় কবি” রচনায় কাজী নজরুল, রবীঠাকুর, শঙ্খচিলের কবি, সবাইকে একপাশে সরিয়ে রেখে নির্মলেন্দু কে নায়ক বানানো হতো না। খাতা দেখার পর অধ্যাপক জয়েন উদ্দীনের সেই ভাব গম্ভীর প্রশ্ন ” কাকে বানিয়েছ হে প্রিয় কবি ?? “…তাকে তখন বলিনি যে এই প্রিয় কবির কবিতার প্রেমে উন্মাদ হয়েই আমিও ” বারহাট্টায় নেমে রফিজের চায়ের স্টলে চা খেয়েছি “…কিন্তু আমি হয়ত রফিজ কে পাইনি। এসব পাগলামিরও বয়স আমাদের আত্মীয়তার সমান।

হাউস বেয়ারা মোবারক মিয়ার চুল পেকেছে।বয়স হয়েছে বোঝা যায়। অথচ একসময় এই মানুষটি আর ০০৭ ইউনুস বন্ড কি দুর্দান্ত প্রতিযোগিতাটাই না করত আমাদের সাথে।আমাদের ইনডোর স্টেডিয়ামের ম্যাচ গুলো কোন স্টেডিয়ামটাতে হবে তার নীতি নির্ধারক মোটামুটি এরাই ছিল । তবে বোধকরি তখন মিডিয়ার একটু সাহায্য পেলে মোবারক মিয়াকে খুব সহজেই ঘুষ কেলেঙ্কারীতে জড়াতে পারতাম।আর এক ঘুষখোর ছিল বারবার টিয়া আলি। এই আধুনিক যুগে কোন মানুষ যে ডাইনিং হলের টি ব্রেকের কমলা ঘুষ নিতে পারে সেটা তাকে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না । বাহ বাহ কত রকম মানুষ ,কত কিসিমের মানুষ, তাই না??

সবাই ভাবছেন ” এই স্মৃতি রোমন্থন তো কত দেখলাম কত শুনলাম…” মজার বিষয় হচ্ছে আমার এই লেখার বিষয়বস্তু কিন্তু মোটেও তা নয়। তবে কি? খুবই মারাত্মক এবং খতরনাক প্রশ্ন । একটু ধীরেই আগাই, কি বলেন? এলোপ্যাথির মাত্রা কম কাজ দ্রুত, আর হোমিওপ্যাথির মাত্রা বেশি, সময় বেশি , ধীর কিন্তু চিরস্থায়ী।( ডাক্তার ভাই বোনরা দয়া করে অপরাধ নেবেন না, শুধু কথার কথা) । নিজেই এখন নিজেকে আমার জায়গাই দাঁড় করান তো দেখি । লেখাপড়া তো বাইরেও হয়। পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্যতো বাইরের প্রতিষ্ঠান ও দাবী করে, কি করে না ? সেই প্রতিষ্ঠান গুলোতেও কিন্তু আয়া, বুয়া, দারওয়ান, ড্রাইভার, কেয়ার টেকার , সবই আছে যা কিনা  অনেক ক্ষেত্রে আমার এই ছোট কিন্তু আবার অনেক বড় দ্বিতীয় জন্মস্থান থেকে কম নয় বরং বেশীই । প্রতিষ্ঠানের চৌকাঠ পার হবার ছয়টি বসন্ত পেরিয়ে যাবার পর সেই দ্বিতীয় জন্মস্থান একটু নজর বোলাতে গেলে কোন কেয়ার টেকার মোবারকের মত এসে জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলে ” হা-মীম ভাই ,গ-১০৬৫”, অথবা মেস ওয়েটার নাজিম ভাই এর মত কে মনে রাখে যে আপনি ৬ কিম্বা তার ও সহস্র কোটি গুন বছর আগে “কড়া ভাজা চাপাতি” পছন্দ করতেন ?

 

কেউ মনে রাখে না। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি ” হয়তো সামাজিকতায় এই মানুষ গুলো আজ আমার চেয়ে আনেক নীচে…… কিন্তু কোথায় , এদের সাথে বুক মেলাতে তো আমার কোন কুণ্ঠাবোধ কাজ করেনা !!! বরং হয়ত মেস ওয়েটার হিরন ভাইয়ের সাথে বুক মেলাতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে অজান্তেই চোখের কোন ঘেঁষে দুফোটা পানি পড়ে যায়” কেন হয় এমন?? আমি যদি বাইরে অন্যকোন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়তাম , তবে কোথা থেকে জানতাম , এই স্তরের মানুষ গুলোও যে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে এমন হৃদয়ংগম ভালোবাসা দিতে পারে আমাকে ? কেউ পেতেন কিনা আমার জানা নেই, আমি পেতাম না । আমি কিন্তু একটু একটু করে আমার বিষয় বস্তুতে ঢুকে পড়ছি। টের পাচ্ছেন?? আজতো কেবল বিশাল সাগর পাড়ের নুড়ি পাথরের ব্যবচ্ছেদ করলাম। বাকিটুকু না হয় ধীরে ধীরেই করি। আর শিরোনামটা তো এতক্ষনে দৃষ্টিগোচর হয়েইছে আশা করি। এখানেই শেষ নই………

২,১২৫ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে – ১”

  1. হায়দার (৯৮ - ০৪)

    গরম পানি, কেমন আছিস? গতবছর একবার বৌ কে নিয়ে শালবন ঘুরতে গেসিলাম। আমাদের এক রিটায়ার্ড সুইপার এর সাথে দেখা। ওনার নামটাও জানটাম না। অথচ আমার নাম, হাউস সব উনি মনে রেখেছেন। জোর করে বাসায় নিয়ে গেলেন। নিজের গাছের ডাব খাওয়ালেন। আমার বৌ তো তাঁর আতিথেয়তায় মুগ্ধ। আর আমার চোখে জল। এত ভালোবাসা আমরা কেন পেলাম ! কোন বিরাট পুণ্যে এমন পাওয়া যায়!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।